রফতানি শিল্পে ৪ ধরনের সেবায় ভ্যাট অব্যাহতি

ছবি: সংগৃহীত

রফতানিমুখী তৈরি পোশাক খাতের অভ্যন্তরীণ খরচের ক্ষেত্রে ৪ ধরণের সেবায় মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট ছাড় দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। চারটি খাতে শতভাগ ভ্যাট অব্যাহতির পাশাপাশি ৬টি সেবায় রেয়াত সুবিধা দিয়েছে সংস্থাটি।

সম্প্রতি অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও এনবিআর’র চেয়ারম্যান  মো. মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া স্বাক্ষরিত একটি স্ট্যাটেটরি রেগুলেটরি অর্ডার (এসআরও) বা প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, মূল্য সংযোজন কর আইন-১৯৯১ এর ১৪ নম্বর ধারায় উপধারা ১-এর প্রদত্ত ক্ষমতা বলে মূসক আইনের সংশোধন করে রফতানি খাতে এ ছাড় দেয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তৈরি পোশাকসহ রফতানিমুখী শিল্পের অভ্যন্তরীণ ব্যয়ের মধ্যে কোম্পানিগুলোর পণ্যের ল্যাবরেটরি টেস্ট, তথ্য প্রযুক্তি সেবা, শ্রমিক কল্যাণ তহবিল ও বিনোদন ব্যয়, বাংলাদেশের ভৌগলিক সীমানার মধ্যে পরামর্শ সেবা, যানবাহন ভাড়া, পরিবহন ঠিকাদারী, সিকিউরিটি সার্ভিস ও যোগানদার সেবায় ভ্যাটের ক্ষেত্রে শতভাগ রেয়াত সুবিধা প্রাপ্ত হবে। অর্থাৎ এসব সেবায় ভ্যাট দিতে হবে না রফতানিকারকদের। এর বাইরে বিদ্যুৎ ব্যয়ের ক্ষেত্রে মোট ৮০ শতাংশ ও ওয়াসার বিলের ক্ষেত্রে মোট ভ্যাটের ৬০ শতাংশ রেয়াত পাবে কোম্পানিগুলো।

এনবিআর’র কর্মকর্তারা বলেন, উৎসে কর কমানোর পাশাপাশি রফতানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পে উৎপাদন ও বিক্রয় পর্যায়ে শুরু থেকেই ভ্যাট অব্যাহতি দিয়ে আসছে সরকার। প্রচ্ছন্ন রফতানি হিসেবে উপকরণ সংগ্রহ পর্যায়ে পণ্য-সেবাতে কিছু কিছু খাতেও এ সুবিধা দেয়া হয়েছে। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্ল্যাব ভিত্তিক প্রত্যর্পণ মাধ্যমে ভ্যাট অব্যাহতির সুযোগ দেয়া হয়েছে আগেই। তবে বিজিএমইএ’সহ রফতানিকারকদের দাবির প্রেক্ষিতে এ সুবিধা আরো বাড়ানো হয়েছে। নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে চারটি খাতে শতভাগ ভ্যাট ছাড় দেয়া হয়েছে।

এনবিআর’র ভ্যাট নীতি বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, রফতানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উল্লেখ করে বেশ কয়েকটি সেবা খাতে ভ্যাট অব্যাহতির দাবি করেছে তৈরি পোশাক রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ। সংগঠনটির দাবির প্রেক্ষিতে রাজস্ব আহরণ চিত্র পর্যালোচনা করে এ ১০টি খাতে ভ্যাট ছাড় দেয়া হয়েছে। রেয়াতের ভিত্তিতে এ সুবিধা পাবেন রফতানিকারকরা।

২০০৫ সালে পণ্য উৎপাদন, রফতানি কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট মোট ১৬ ধরনের সেবার ওপর রফতানিকারকদের ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা দেয়া হয়। এর মধ্যে পণ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিলে ৮০ শতাংশ, ওয়াসার পানিতে ৬০ শতাংশ; যোগানদার, সিকিউরিটি সার্ভিস, পরিবহন ঠিকাদার ও বিদেশি সেবা গ্রহণের বিপরীতে শতভাগ ভ্যাট অব্যাহতি দেয়া আছে। রফতানি পণ্যের কাঁচামাল আমদানি ও রফতানি বিদেশে পাঠানো ক্ষেত্রে বন্দর সেবার ক্ষেত্রে শতভাগ ভ্যাট অব্যাহতি দেয়া আছে। বন্দর সেবা, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডাস, ক্লিয়ারিং ও ফরোয়াডিং সংস্থা, বীমা কোম্পানি ও শিপিং এজেন্ট বিলের ওপর শতভাগ অব্যাহতি সুবিধা পায় রফতানিকারকরা।

এর বাইরে দুটি টেলিফোন, একটি টেলেক্স ও একটি ফ্যাক্স বিলের ওপর শতভাগ ভ্যাট অব্যাহতি দেয়া আছে, যা ২০০৫ সাল থেকে পেয়ে আসছেন রফতানিকারকরা। রফতানিমুখী প্রতিষ্ঠানের অগ্নিবীমার প্রিমিয়ামে শতভাগ, বিদেশে নমুনা পাঠানোর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত কুরিয়ার সার্ভিস সেবায় শতভাগ অব্যাহতি আছে। এছাড়া রফতানির বিপরীতে প্রাপ্ত কমিশন, ফি ও চার্জের ওপর ভ্যাট অব্যাহতি রয়েছে। এসব সুবিধা স্থানীয় বাজারে জন্য পণ্য উৎপাদনকারীরা পান না।

জানা গেছে, বিজিএমইএ দীর্ঘদিন যাবত রফতানি সংশ্লিষ্ট সব ধরনের সেবা থেকে ভ্যাট অব্যাহতি দাবি করে আসছে। তারা বলছে, রফতানি শিল্পে সব সেবার বিপরীতে শতভাগ ভ্যাট অব্যাহতি দেয়া উচিত। বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিলে ৮০ শতাংশ ও পানির বিলে ৬০ শতাংশ হারে ভ্যাট অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এ অব্যাহতির সুবিধা উদ্যোক্তারা নিতে পারছে না। কারণ অব্যাহতি অর্থ পেতে সব প্রতিষ্ঠানকে শুল্ক রেয়াত ও প্রত্যর্পণ পরিদপ্তরের (ডেডো) যেতে হয়। সেখান থেকে অর্থ ফেরত পেতে দীর্ঘদিন অপেক্ষায় থাকতে হয়। এ সমস্যা সমাধানে রফতানিমুখী তৈরি পোশাক খাতকে শতভাগ ভ্যাট অব্যাহতি দেয়া দরকার।

অর্থনীতি এর আরও খবর

//election count down //sticky sidebar