বিজিএমইএ’র নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা!

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা শুরু করেছে বর্তমান কমিটি। সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে তৃতীয়বারের মতো পরিচালনা কমিটির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেছে বিজিএমই’র কমিটি। এর আগে দুই দফায় যথাক্রমে ৬ মাস ও এক বছর করে কমিটির মেয়াদ বাড়ানো হয়। ফলে আবারও পিছিয়ে যেতে পারে নির্বাচন। আর তাতেই অস্থিরতা বিরাজ করছে বিজিএমইএ’তে।

বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২২ ডিসেম্বরের মধ্যে তফসিল ঘোষণার কথা বর্তমান কমিটির। কিন্তু কমিটির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন অনেকে। এমনকি আবার নির্বাচন পেছানো হলে অনেক সদস্য ও নেতা অবস্থান ধর্মঘট ও প্রতিবাদ সমাবেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও শোনা যাচ্ছে।

বিজিএমইএ’র এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘দুই বছরের জন্য নির্বাচিত কমিটি প্রায় চার বছর ক্ষমতায় আছে। নির্বাচন এলেই কোনো না কোনো অজুহাতে তা পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কারণ তারা জানেন, নির্বাচন হলে জয়ী হতে পারবে না। এমনকি বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে।’

অন্যদিকে, আগামী নির্বাচন নিয়ে ছাড় দিতে রাজি না ফোরাম ও স্বাধীনতা পরিষেদের নেতারা। ফলে তারা ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন।

এসব বিষয়ের সত্যতা স্বীকার করেণ বিজিএমইএ’র স্বাধীনতা পরিষদের আহ্বাবায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘বিজিএমইএ’র বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হবে ২০১৯ সালের ২২ মার্চ। এরপর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন কার্যক্রম শেষ করে নতুন কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে হবে। সে অনুযায়ী নির্বাচনের ৩ মাস আগে আগামী ২২ ডিসেম্বরের মধ্যে তফসিল ঘোষণা করতে হবে। কিন্তু বর্তমান কমিটি তফসিল ঘোষণার কাজ না করে আবারও মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেছে। এটা হতে পারে না! সংগঠনে গণতন্ত্র বজায় রাখতে হলে অবশ্যবই নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে সচল রাখতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এবারও যদি নির্বাচন ব্যহত করা হয় তাহলে আমরা সেটা মেনে নেব না। ২২ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না করা হলে আমরা অবস্থান কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো। প্রতিবাদ করবো। এভাবে অন্যায় মেনে নেওয়া যায় না ‘

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিজিএমইএ’র বর্তমান সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দায়িত্ব গ্রহণ করে বিজিএমইএ’র বর্তমান কমিটি। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের কথা থাকলেও পোশাক শিল্পের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে ছয় মাসের মেয়াদ বাড়ানো হয়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের মার্চ মাসে দ্বিতীয়বাড়ের মতো এক বছরের জন্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণ দেখিয়ে মেয়াদ বাড়ায় বর্তমান কমিটি। কিন্তু তৃতীয়বারের মতো মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করায় যেন জল ঘোলা হয়েছে। এখন পানি কতো দূর গড়ায় সেটা দেখার বিষয়।

অর্থনীতি এর আরও খবর

//election count down