Barta24

বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

গ্রাহকের অনুপস্থিতিতে অ্যাকাউন্ট খুলেছে সাউথ বাংলা ব্যাংক!

গ্রাহকের অনুপস্থিতিতে অ্যাকাউন্ট খুলেছে সাউথ বাংলা ব্যাংক!
সাউথ বাংলা ব্যাংক
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য কোন ব্যাংকের শাখায় গেলে ওই ব্যাংকের অ্যাকাউন্টধারী কোন ব্যক্তিকে দিয়ে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার আবেদনপত্রে শনাক্তকারীর স্বাক্ষর করাতে হয়।

শুধু শনাক্তকারীর স্বাক্ষরই যথেষ্ট নয়। অ্যাকাউন্টে একজন নমিনী মনোনীত করতে আবেদনপত্রের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র ও এক কপি পাসপোর্ট আকারের ছবি দিতে হয়।

এসব তথ্যের বাইরেও অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন প্রতিরোধে মানতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী অ্যাকাউন্ট খোলার আগে গ্রাহক সর্ম্পকে বিস্তারিত তথ্য নির্ধারিত কেওয়াইসি ফর্মে দিতে হবে।

আর এসব বিধি নির্দেশ উপেক্ষা করে এনআরবি কমার্সিশিয়াল ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালক আমির হোসেনের ভুয়া স্বাক্ষরের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট অ্যাকাউন্ট খুলেছে বেসরকারিখাতের সাউথ বাংলা এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের গুলশান শাখা।

শুধু নির্দেশনা উপেক্ষা নয়। হিসাব খোলার সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দেশে ছিলেন, নাকি বিদেশে অবস্থান করেছেন তার স্বপক্ষে উপযুক্ত কোন প্রমাণ দিতে পারেনি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। আমির হোসেনের অ্যাকাউন্ট খোলার আবেদনপত্রের শনাক্তকারী মো. সওকত হোসেনও চেনেন না।

এসব কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, অ্যাকাউন্টধারী আমির হোসেনের অনুপুস্থিতিতেই সাউথ বাংলা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলেছে। সেই অ্যাকাউন্টে মাধ্যমে একটি ঋণ আবেদন করা হয়েছে। তুলে নেওয়া হয়েঠে প্রায় ২৫ কোটি টাকা। এই ঋণকে বেনামী বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ মতামত দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, আটলান্টিক রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আমির হোসেনের নামে একটি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে ব্যাকের গুলশান শাখায়। আমির হোসেন এনআরবি কমার্সিশিয়াল ব্যাংকের একজন উদ্যোক্তা পরিচালক।

আমির হোসেনের মালিকানাধীন আটলান্টিক রিসাইক্লিং ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেডের নামে সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কর্মাস ব্যাংকের গুলশান শাখায় অ্যাকাউন্ট খোলার তিনদিনের মাথায় ২০ কোটি টাকার একটি ঋণ আবেদন করা হয়। মঞ্জুরিপত্রের শর্ত শিথিল করে একদিন পর ঋণের পরিমাণ আরও ৫ কোটি টাকা বাড়ানোর সুপারিশ করে পরিচালনা পর্ষদ।

অনুমোদনের পর মঞ্জুরিপত্রের শর্ত ভঙ্গ করে ক্রেডিট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ডিভিশনের লিখিত অনুমতি ছাড়াই ঋণের ১০ কোটি ছাড় করা হয়েছে। ঋণের ২৫ কোটি টাকার মধ্যে মাত্র ৭ লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে আটলান্টিক রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের অ্যাকাউন্টে।

বাকি ২৪ কোটি ৯৩ লাখ টাকা সাউথ বাংলা এগ্রিকালচা অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের পরিচালক মাকসুদুর রহমানের মালিকানাধীন রতনপুর গ্রুপের একাধিক কর্মকর্তা বিভিন্ন শাখা হতে নগদ উত্তোলন করেছেন। এর মধ্যে কিছু অর্থ আবার রতুনপুর গ্রুপের মালিকানাধীন রেক্স মটরস’র হিসাবে জমা করা হয়েছে।

রতনপুর গ্রুপের মালিক মাকসুদুর রহমানের কন্যা আটলান্টিক রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের একজন পরিচালক। আটলান্টিক রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মালিক আমির হোসেনের নামে ঋণ নিয়ে বেনিফিশিয়ারী হয়েছেন রতনপুর গ্রুপের মালিক মাকসুদুর রহমান।

মাকসুদুর রহমান আমির হোসেনের অনুপুস্থিতিতে ব্যাংক হিসাব খুলে এনআরবি কর্মাসিশিয়াল ব্যাংকের বেনামী শেয়ার বিক্রি বন্ধকের নাম করে নিজের ব্যাংক থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ভিন্নখাতে অর্থ স্থানান্তর করেছেন।

এসব তথ্য উঠে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে।

মাকসুদুর রহমান নিজের ব্যাংকে প্রভাব খাটিয়ে বেনামী প্রতিষ্ঠান আটলান্টিক রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নামে গ্রহণ করা ঋণের কোন টাকা ফেরত দেন নাই। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, অবিলম্বে আদায় না হলে তা মন্দমানে পরিণত হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেছেন, সর্বশেষ অনুমোদন পাওয়া ব্যাংকগুলোর মধ্যে সাউথ বাংলা এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড কর্মাস ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখা ছাড়াও ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বেশ কয়েকটি শাখায় ঋণ বিতরণে অনিয়ম হয়েছে। 

এবিষয়ে সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যান্ড কর্মাস ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) গোলাম ফারুক বলেন, গুলশান শাখার ঋণ হিসাবই এখন নিয়মিত আছে। আটলান্টিক রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে কিনা তা খোঁজ নিয়ে জানাতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

প্রস্তাবিত দরেই শেয়ার কিনতে হবে নিলামে অংশগ্রহণকারীদের

প্রস্তাবিত দরেই শেয়ার কিনতে হবে নিলামে অংশগ্রহণকারীদের
ছবি: সংগৃহীত

 

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) বুক বিল্ডিং পদ্ধতির বিডিংয়ে অংশগ্রহণকারীদেরকে প্রস্তাবিত দরেই শেয়ার কিনতে হবে। একই সঙ্গে যে পরিমাণ শেয়ার কেনার জন্য দর প্রস্তাব করবে, সেই পরিমাণ কিনতে হবে।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ৬৯৩তম সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের দুই পুঁজিবাজার ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই ও সিএসই) এবং ডিএসই ব্রোকাস অ্যাসোসিয়েশনের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন এই সিদ্ধান্ত নেয়।

বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে নিলামে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দকৃত শেয়ার সম্পূর্ণ বিক্রি না হলে, সেই ইস্যু বাতিল করা হবে। এই পদ্ধতিতে বিডারদের নাম ও তাদের প্রস্তাবিত দর প্রদর্শন করানো যাবে না। আর বিডিংয়ের জন্য নিলামকারীদেরকে শতভাগ অর্থ সংশ্লিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দিতে হবে।

এক্ষেত্রে শেয়ার সর্বোচ্চ দর প্রস্তাবকারী থেকে বিতরণ শুরু হবে, যা ক্রমান্বয়ে নিচের দিকে নামবে। যে মূল্যে বিতরণ শেষ হবে, সেটাই কাট-অব প্রাইস হবে। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সেই মূল্য থেকে ১০ শতাংশ কমে শেয়ার ক্রয় করবেন। আর কাট-অব প্রাইসে যদি একাধিক বিডার থাকেন, তাহলে যে বিডার আগে বিড করবেন তাকে আগে শেয়ার দেওয়া হবে।

বিডিংয়ের চূড়ান্ত ফল, মূল্য ও বরাদ্দকৃত শেয়ারের সংখ্যাসহ যারা শেয়ার পেয়েছেন, তাদের ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠানো হবে। একইসঙ্গে ইস্যুয়ার, ইস্যু ম্যানেজার এবং এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। অকৃতকার্য বিডারের টাকা পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে ফেরত দেবে স্টক এক্সচেঞ্জ। আর কৃতকার্য বিডারের টাকা পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে ইস্যুয়ারের ব্যাংক হিসাবে জমা দেবে।

কমিশন বুক বিল্ডিংয়ে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কোটা ৬০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫০ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কোটা ৩০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪০ শতাংশ করা হবে।

অন্যদিকে, ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কোটা ৪০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩০ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কোটা ৪০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হয়েছে।

আইপিওতে যোগ্য বিনিয়োগকারী হিসেবে কোটা সুবিধা পেতে সেকেন্ডারি মার্কেটে বিনিয়োগ থাকতে হবে। এই বিনিয়োগের পরিমাণ কি হবে, কমিশন তা প্রত্যেক পাবলিক ইস্যুর সম্মতিপত্রে উল্লেখ করবে। অন্যথায় সংরক্ষিত শেয়ারের কোটা সুবিধা পাবেন না। পূর্বের ইস্যুকৃত মূলধনের ৮০ শতাংশ ব্যবহার না করে পাবলিক ইস্যুর প্রস্তাব করা যাবে না। আইপিওতের ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে কমপক্ষে ৩০ কোটি টাকা বা পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশ উত্তোলন করতে হবে।
যেটির পরিমাণ বেশি, সেই পরিমাণ তুলতে হবে। আর বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ৭৫ কোটি টাকা বা পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশ উত্তোলন করতে হবে। এক্ষেত্রেও যেটির পরিমাণ বেশি, সেই পরিমাণ উত্তোলন করতে হবে।

ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে সম্মিলিতভাবে আবেদন ৬৫ শতাংশের কম হলে ইস্যু বাতিল করা হবে। আর ৬৫ শতাংশের বেশি এবং ১০০ শতাংশের কম হলে, বাকি শেয়ার অবলেখক (আন্ডাররাইটার) গ্রহণ করবে।

এদিকে আইপিও’র আবেদনের সময় ইস্যুয়ারকে পূর্বে নগদে উত্তোলিত মূলধনের ক্ষেত্রে ব্যাংকের অথবা অডিটরের সার্টিফিকেট এবং ব্যাংক স্টেটমেন্ট দাখিল করতে হবে। আর নগদ ব্যতিত উত্তোলিত মূলধনের ক্ষেত্রে যৌথ মূলধনী কোম্পানির রেজিস্টারের সার্টিফাইড ভেন্ডর এগ্রিমেন্ট এবং সম্পদের মালিকানা সংক্রান্ত টাইটেল ডকুমেন্ট কমিশনে জমা দিতে হবে।

ব্যাংক এশিয়ার ৫০০ কোটি টাকার বন্ড অনুমোদন

ব্যাংক এশিয়ার ৫০০ কোটি টাকার বন্ড অনুমোদন
ছবি: সংগৃহীত

পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত ব্যাংক এশিয়ার ৫০০ কোটি টাকার নন-কনভার্টেবল সাবঅর্ডিনেটেড বন্ডের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) কমিশনের ৬৯৩তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, সাত বছর মেয়াদী এই বন্ডের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে নন-কনভার্টেবল, আনলিস্টেড, ফুল্লি রিডেম্বল, ফ্লাটিং রেটেড এবং সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড। সাত বছরে বন্ডটি পূর্ণ অবসায়ন হবে। যা শুধুমাত্র স্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা কোম্পানি, করপোরেট বডি এবং যোগ্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে ইস্যু করা হবে।

উল্লেখ্য, এই বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ উত্তোলন করে ব্যাংক এশিয়ার টায়ার-টু মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী করবে। এই বন্ডের প্রতিটি ইউনিটির অভিহিত মূল্য এক কোটি টাকা। এই বন্ডের ম্যানডেটেড লিড অ্যারেঞ্জার এবং ট্রাস্টি হিসাবে যথাক্রমে স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংক এবং গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স কাজ করছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র