Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

নির্বাচনের আগে ব্যাংকখাতের সাফল্য তুলে ধরলেন এমডিরা

নির্বাচনের আগে ব্যাংকখাতের সাফল্য তুলে ধরলেন এমডিরা
ছবি: সংগৃহীত
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ব্যাংকখাত থেকে গত ১০ বছরে ২২ হাজার ৫০২ কোটি টাকা লুট হয়েছে- সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এমন তথ্য প্রকাশের তিন দিন পর বুধবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করেছে ব্যাংকের এমডিদের সংগঠন এসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি)।

সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকের এমডিরা গত ১০ বছরে ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন সাফল্য তুলে ধরেন। তবে এক লাখ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ ও সংঘটিত অনিয়ম সম্পর্কে তারা কোনো তথ্য দেননি। এসব বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, ব্যাপক অর্জনের মধ্যে কিছু অনিয়ম হয়েছে।

গত ৮ ডিসেম্বর শনিবার এক সংলাপে গত ১০ বছরে ১৪টি ব্যাংক থেকে ২২ হাজার ৫০২ কোটি লুট হওয়ার তথ্য প্রকাশ করে সিপিডি। এছাড়া খেলাপি ঋণ, লোকসান, মূলধন ঘাটতি, সরকারি ব্যাংকের মূলধন যোগান দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

সিপিডির অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ব্যাংকিং খাত যেকোনো সময়ের তুলনায় সবচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থানে রয়েছে। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে ব্যাংকিং খাতে এ বিপর্যয় নেমে এসেছে। সংলাপে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন ও ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদসহ বিভিন্ন ব্যাংকের এমডিরা উপস্থিত ছিলেন।

সিপিডির প্রকাশ করা তথ্য নিয়ে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করা হয়নি দাবি করলেও এবিবির নেতারা বলেন, ‘গবেষক ও বিশ্লেষকদের নেতিবাচক বিশ্লেষণ আমাদের পীড়া দেয়। তাদের উচিত আমাদের অর্জন নিয়েও কথা বলা।’
ব্যাংকের কোনো ইস্যুতে সাধারণত এবিবি এ ধরনের সংবাদ সম্মেলন করে না, নির্বাচনের আগে কেন এই সংবাদ সম্মেলন এমন প্রশ্নের জবাবে এবিবি সভাপতি ও ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এর সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। বিজয়ের মাসে স্বাধীনতার ৪৫ বছরের অর্জন সম্পর্কে জানানোর জন্য এটির আয়োজন করা হয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে সৈয়দ মাহবুবুর রহমান জানান, প্রথম বাজেট ছিল ৭৮৬ কোটি টাকা। ১০ বছর আগে ছিল ৮৭ হাজার ১৩৭ কোটি টাকা। এই বাজেটের আকার বেড়ে হয়েছে চার লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা। অর্থনীতির আকার বহুগুণ বেড়েছে। ব্যাংকখাতসহ সবাই মিলে এ উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু সবসময় নেগেটিভ দিক নিয়ে আলোচনা হয়। কাজ করতে গেলে ভুলভ্রান্তি হতেই পারে। যেসব খবর সংবাদমাধ্যমে আসে সেগুলো একটি নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করে। ব্যাংকখাতে অনেক সাফল্য আছে সেগুলো নিয়েও কথা বলা উচিত।
ব্যাংক এশিয়ার এমডি মো. আরফান আলী বলেন, ‘ব্যাংকের আকার অনেক বড় হয়েছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাংকিং চালু করার ফলে অনেক মানুষ সেবা পাচ্ছেন। ব্যাংকগুলোর ১০ হাজার শাখা, ৭৫৮টি ক্ষুদ্র ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান, ৩৩টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ১৭টি বিমা ও ৮২ হাজার ৩৪৬টি সমবায় সমিতি  গড়ে উঠেছে। এর ফলে ব্যাংকিংয়ে সবাই আসছে।

‘২০১৩ সালে এক লাখ মানুষের জন্য শাখা ছিল আটটি, এখন বেড়ে হয়েছে নয়টি, এটিএম ছিল পাঁচটি থেকে বেড়ে হয়েছে আটটি, মোবাইল আউট ছিল ১৮৬টি এখন বেড়ে হয়েছে ৬৬৭টি। বর্তমানে ৫০ শতাংশ মানুষের অ্যাকাউন্ট আছে, যেখানে ২০১৪ সালে ছিল ৩১ শতাংশ। মোট অ্যাকাউন্টের ৩৫ শতাংশ নারীদের। অর্থাৎ সবক্ষেত্রে উন্নয়ন হয়েছে।’
হলমার্ক ও বেসিক ব্যাংকসহ দুর্নীতির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘হলমার্ক গ্রুপের জমি ছিল, কারখানা ছিল, বিদেশি ক্রেতা ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে কোনো কারণে ‘হায় হায়’ করতে করতে সব চলে গেলো। স্বল্প মেয়াদী ঋণগুলোকে দীর্ঘমেয়াদী করতে গেলে কিছু সমস্যা হয়।’

আপনার মতামত লিখুন :

প্রাইম ব্যাংক-উত্তরা মোটরস-এর সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

প্রাইম ব্যাংক-উত্তরা মোটরস-এর সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, ছবি: সংগৃহীত

মোটরসাইকেল ফাইন্যান্সিং ও কার লোনে ক্রেতাদের বিশেষ সুবিধা দিতে উত্তরা মোটরস লিমিটেডের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে প্রাইম ব্যাংক।

সম্প্রতি, প্রাইম ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এ স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।

প্রাইম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী রাহেল আহমেদ এবং উত্তরা মোটরস লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউর রহমানের উপস্থিতিতে প্রাইম ব্যাংকের কনজিউমার ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান এএনএম মাহফুজ এবং উত্তরা মোটরস-এর পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) এবিএম হুমায়ুন কবির, এফসিএমএ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। এ সময় উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এই চুক্তির ফলে প্রাইম ব্যাংক ও উত্তরা মোটরস যৌথভাবে মোটরসাইকেল ফাইন্যান্সিং ও কার লোনে ক্রেতাদের বিশেষ সেবা ও সুবিধা প্রদান করবে। উত্তরা মোটরস বাংলাদেশে ভারতের বাজাজ অটো লিমিটেড-এর একমাত্র পরিবেশক।

৭ দিনের মধ্যে ৪ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংককে পরিকল্পনা জমা দেওয়ার নির্দেশ

৭ দিনের মধ্যে ৪ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংককে পরিকল্পনা জমা দেওয়ার নির্দেশ
চার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর সভা/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ব্যাংকের উচ্চ পর্যায়ে নতুন নেতৃত্ব এসেছে। আগামী দিনে নতুন নেতৃত্ব কিভাবে ব্যাংক পরিচালনা করবে, তার একটি পরিকল্পনা পরবর্তী সাতদিনের মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

রোববার (২৫ আগস্ট) দুপুরে শেরে ই বাংলা নগরস্থ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে চার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সোনালী, রূপালী, জনতা ও অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে আলোচনা সভায় এ নির্দেশ দেন অর্থমন্ত্রী। সভা শেষে বিকালে সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

মুস্তফা কামাল বলেন, ‘দুই সপ্তাহ পর তাদের দেওয়া কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আবার বসে বিস্তারিত আলোচনা করব। যদিও সংখ্যা চারটি কিন্তু ব্যাংকিং সেক্টরে তাদের অবস্থান বড়। যেমন আমানত খাতে প্রায় ২৫ শতাংশ এ চারটি ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘চার ব্যাংকের কাছে সরকারের চাহিদা হলো খেলাপি ঋণ বাড়াতে পারবে না। ন্যূনতম ১৫ শতাংশ মুনাফা করতে হবে। তারা যে ঋণ দেবে, তার জামানতগুলো যেন এনক্যাশেবল হয় দায়িত্ব নিয়ে সেই কাজটি করবে।’

তিনি জানান, এবার বাজেটে ব্যাংকগুলোর জন্য বরাদ্দ আছে। তবে সামনে আর বরাদ্দ রাখা হবে না। জনগণকে সেবা দিয়ে আয় করেই ব্যাংকগুলোকে চলতে হবে।

ব্যাংকের তারল্য সংকট নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এক্সচেঞ্জ খাতে আজ পর্যন্ত আমাদের তারল্য প্রায় ৯২ হাজার কোটি টাকা।’

খেলাপি ঋণের বিষয়ে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘নন-পারফর্মিং লোন কমার কোনো সুযোগ নেই। কারণ নন-পারফর্মিং লোনের জন্য যে এক্সিট প্লানটা দিয়েছিলাম সেটি এখনো কার্যকর করতে পারিনি। কিছুটা জটিলতা আছে।’

আগামীতে রফতানি কমার শঙ্কার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনীতিতে যদি কোনো সংকট আসে, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় আপার এন্ডগুলো। মিড ও লোয়ার এন্ড ততটা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। আমাদের অর্থনীতিকে মিড ও লোয়ার এন্ডে দেখি। এজন্য এখানে ক্ষতি হওয়ার কারণ নেই। আমাদের পুঁজি বাজারেও বাইরের কোনো পুঁজি নেই। সুতরাং আমাদের ক্ষতি হওয়ার শঙ্কা নেই।’

সভায় উপস্থিত ছিলেন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম, ইআরডি সচিব মনোয়ার আহমেদ, অর্থ-সচিব আবদুর রউফ তালুকদার, সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জিয়াউল হাসান সিদ্দিকী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আতাউর রহমান প্রধান, জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান জামালউদ্দিন আহমেদ, রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ, অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ শামস উল ইসলাম প্রমুখ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র