Alexa

নির্বাচনের আগে ব্যাংকখাতের সাফল্য তুলে ধরলেন এমডিরা

নির্বাচনের আগে ব্যাংকখাতের সাফল্য তুলে ধরলেন এমডিরা

ছবি: সংগৃহীত

ব্যাংকখাত থেকে গত ১০ বছরে ২২ হাজার ৫০২ কোটি টাকা লুট হয়েছে- সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এমন তথ্য প্রকাশের তিন দিন পর বুধবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করেছে ব্যাংকের এমডিদের সংগঠন এসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি)।

সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকের এমডিরা গত ১০ বছরে ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন সাফল্য তুলে ধরেন। তবে এক লাখ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ ও সংঘটিত অনিয়ম সম্পর্কে তারা কোনো তথ্য দেননি। এসব বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, ব্যাপক অর্জনের মধ্যে কিছু অনিয়ম হয়েছে।

গত ৮ ডিসেম্বর শনিবার এক সংলাপে গত ১০ বছরে ১৪টি ব্যাংক থেকে ২২ হাজার ৫০২ কোটি লুট হওয়ার তথ্য প্রকাশ করে সিপিডি। এছাড়া খেলাপি ঋণ, লোকসান, মূলধন ঘাটতি, সরকারি ব্যাংকের মূলধন যোগান দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

সিপিডির অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ব্যাংকিং খাত যেকোনো সময়ের তুলনায় সবচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থানে রয়েছে। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে ব্যাংকিং খাতে এ বিপর্যয় নেমে এসেছে। সংলাপে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন ও ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদসহ বিভিন্ন ব্যাংকের এমডিরা উপস্থিত ছিলেন।

সিপিডির প্রকাশ করা তথ্য নিয়ে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করা হয়নি দাবি করলেও এবিবির নেতারা বলেন, ‘গবেষক ও বিশ্লেষকদের নেতিবাচক বিশ্লেষণ আমাদের পীড়া দেয়। তাদের উচিত আমাদের অর্জন নিয়েও কথা বলা।’
ব্যাংকের কোনো ইস্যুতে সাধারণত এবিবি এ ধরনের সংবাদ সম্মেলন করে না, নির্বাচনের আগে কেন এই সংবাদ সম্মেলন এমন প্রশ্নের জবাবে এবিবি সভাপতি ও ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এর সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। বিজয়ের মাসে স্বাধীনতার ৪৫ বছরের অর্জন সম্পর্কে জানানোর জন্য এটির আয়োজন করা হয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে সৈয়দ মাহবুবুর রহমান জানান, প্রথম বাজেট ছিল ৭৮৬ কোটি টাকা। ১০ বছর আগে ছিল ৮৭ হাজার ১৩৭ কোটি টাকা। এই বাজেটের আকার বেড়ে হয়েছে চার লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা। অর্থনীতির আকার বহুগুণ বেড়েছে। ব্যাংকখাতসহ সবাই মিলে এ উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু সবসময় নেগেটিভ দিক নিয়ে আলোচনা হয়। কাজ করতে গেলে ভুলভ্রান্তি হতেই পারে। যেসব খবর সংবাদমাধ্যমে আসে সেগুলো একটি নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করে। ব্যাংকখাতে অনেক সাফল্য আছে সেগুলো নিয়েও কথা বলা উচিত।
ব্যাংক এশিয়ার এমডি মো. আরফান আলী বলেন, ‘ব্যাংকের আকার অনেক বড় হয়েছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাংকিং চালু করার ফলে অনেক মানুষ সেবা পাচ্ছেন। ব্যাংকগুলোর ১০ হাজার শাখা, ৭৫৮টি ক্ষুদ্র ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান, ৩৩টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ১৭টি বিমা ও ৮২ হাজার ৩৪৬টি সমবায় সমিতি  গড়ে উঠেছে। এর ফলে ব্যাংকিংয়ে সবাই আসছে।

‘২০১৩ সালে এক লাখ মানুষের জন্য শাখা ছিল আটটি, এখন বেড়ে হয়েছে নয়টি, এটিএম ছিল পাঁচটি থেকে বেড়ে হয়েছে আটটি, মোবাইল আউট ছিল ১৮৬টি এখন বেড়ে হয়েছে ৬৬৭টি। বর্তমানে ৫০ শতাংশ মানুষের অ্যাকাউন্ট আছে, যেখানে ২০১৪ সালে ছিল ৩১ শতাংশ। মোট অ্যাকাউন্টের ৩৫ শতাংশ নারীদের। অর্থাৎ সবক্ষেত্রে উন্নয়ন হয়েছে।’
হলমার্ক ও বেসিক ব্যাংকসহ দুর্নীতির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘হলমার্ক গ্রুপের জমি ছিল, কারখানা ছিল, বিদেশি ক্রেতা ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে কোনো কারণে ‘হায় হায়’ করতে করতে সব চলে গেলো। স্বল্প মেয়াদী ঋণগুলোকে দীর্ঘমেয়াদী করতে গেলে কিছু সমস্যা হয়।’

অর্থনীতি এর আরও খবর