নির্বাচনী বছরে রিজার্ভের উত্থান-পতনের কারণ কী?

ছবি: প্রতীকী

আসিফ শওকত কল্লোল, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, ঢাকা, বার্তা২৪.কম

বাংলাদেশে নির্বাচনী বছরেই সাধারণত বৈদেশিক রিজার্ভের উত্থান-পতন লক্ষ্য করা যায়। তবে নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠন হলে আবারও রিজার্ভ বাড়তে থাকে। কিন্তু এর কারণ কী?

সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্বাচনী বছরে দেশ থেকে কালো টাকা পাচার হয়। এজন্য ওই বছর আমদানি ব্যয় বাড়ে এবং রফতানি আয় দেশে আসে না। এছাড়াও ডলারের দাম ওঠানামা করায় রিজার্ভে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য মতে, গত সেপ্টেম্বরে আমদানি ব্যয় বেড়েছে ২৪ শতাংশ। গত অর্থবছরে একই সময়ে বেড়েছিল ১৭.৫ শতাংশ। আমদানি ব্যয়সহ অন্যান্য খাতে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় বাড়ায় রিজার্ভে চাপ পড়ে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ সালে নির্বাচনের আগে ও পরে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে উত্থান-পতন লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচনী বছরের শুরুর দিকে রিজার্ভ বেকর্ড পরিমাণ বাড়লেও নির্বাচনের ৬ মাস আগ থেকে সেটা কমতে থাকে। তবে নির্বাচনের পর আবারও সেটা বাড়তে শুরু করে। আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে এবারও টাকা পাচারের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জা আজিজুর ইসলাম বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘দেশে সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশের নিশ্চয়তা নেই। ফলে আস্থার সংকটে পড়ে নির্বাচনী বছরে দেশ থেকে টাকা পাচার বাড়ে। এ কারণেই রিজার্ভে চাপ পড়ে। এছাড়াও নির্বাচনী বছরে বেসরকারি ঋণের হার কমে যাওয়ায় দেশের ব্যবসা বাণিজ্য কিছুটা থমকে যায়।’

তিনি আরো বলেন, ‘সুস্থ্য ও সহনশীল রাজনৈতিক চর্চ্চা গড়ে উঠলে এবং রাজনৈতিক ধরাবাহিকতা থাকলে দেশের অর্থনীতির অবস্থা খারাপ হবে না।’

প্রসঙ্গত, গত ৩০ জুনে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ৩১৭ কোটি ডলার। ২৯ আগস্ট তা কমে ৩ হাজার ২৮০ কোটি, ১৮ অক্টোবর ৩ হাজার ২১২ কোটি, ৩১ অক্টোবর ৩ হাজার ২০৮ কোটি, ২০ নভেম্বর ৩ হাজার ১০৫ কোটি ডলারে দাঁড়ায়।

প্রাপ্ত্য তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে ২০১৩ সালের আগস্টে রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়ায় এক হাজার ৬২৫ কোটি ডলারে। কিন্তু সেপ্টেম্বরে সেটা কমে এক হাজার ৬১৫ কোটি, অক্টোবরে এক হাজার ৭৩৪ কোটি, নভেম্বরে এক হাজার ৭১০ কোটিতে দাঁড়ায়। কিন্তু ওই নির্বাচনে অনেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হওয়ায় নির্বাচনী উত্তাপ ছিল না। ফলে ডিসেম্বরেই রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়ায় এক হাজার ৮০৯ কোটি ডলার। আর নির্বাচনী মাসের (জানুয়ারি-২০১৪) শেষে রিজার্ভ দাঁড়ায় এক হাজার ৮১২ কোটি ডলার।

এছাড়া ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে জুনে রিজার্ভ ছিল ৬১৫ কোটি ডলার। জুলাইয়ে সেটা কমে ৫৮২ কোটি, আগস্টে ৫৯৬ কোটি, সেপ্টেম্বরে ৫৮৬ কোটি, অক্টোবরে ৫৫৫ কোটি, নভেম্বরে ৫২৪ কোটি এবং ডিসেম্বরে ৫৭৯ কোটি ডলারে দাঁড়ায়।

২০০১ সালের নির্বাচনের আগে ও পরে রিজার্ভে উত্থান-পতন লক্ষ্য করা যায়। ওই বছরের জুলাইয়ে রিজার্ভ ছিল ১১৪ কোটি, আগস্টে ১২৫ কোটি, সেপ্টেম্বরে ১১৫ কোটি, অক্টোবরে ১০৮ কোটি, নভেম্বরে ১১১ কোটি এবং ডিসেম্বরে ১৩০ কোটি ডলার।

অর্থনীতি এর আরও খবর