Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

নির্বাচনী বছরে রিজার্ভের উত্থান-পতনের কারণ কী?

নির্বাচনী বছরে রিজার্ভের উত্থান-পতনের কারণ কী?
ছবি: প্রতীকী
আসিফ শওকত কল্লোল
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
ঢাকা
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশে নির্বাচনী বছরেই সাধারণত বৈদেশিক রিজার্ভের উত্থান-পতন লক্ষ্য করা যায়। তবে নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠন হলে আবারও রিজার্ভ বাড়তে থাকে। কিন্তু এর কারণ কী?

সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্বাচনী বছরে দেশ থেকে কালো টাকা পাচার হয়। এজন্য ওই বছর আমদানি ব্যয় বাড়ে এবং রফতানি আয় দেশে আসে না। এছাড়াও ডলারের দাম ওঠানামা করায় রিজার্ভে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য মতে, গত সেপ্টেম্বরে আমদানি ব্যয় বেড়েছে ২৪ শতাংশ। গত অর্থবছরে একই সময়ে বেড়েছিল ১৭.৫ শতাংশ। আমদানি ব্যয়সহ অন্যান্য খাতে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় বাড়ায় রিজার্ভে চাপ পড়ে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ সালে নির্বাচনের আগে ও পরে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে উত্থান-পতন লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচনী বছরের শুরুর দিকে রিজার্ভ বেকর্ড পরিমাণ বাড়লেও নির্বাচনের ৬ মাস আগ থেকে সেটা কমতে থাকে। তবে নির্বাচনের পর আবারও সেটা বাড়তে শুরু করে। আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে এবারও টাকা পাচারের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জা আজিজুর ইসলাম বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘দেশে সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশের নিশ্চয়তা নেই। ফলে আস্থার সংকটে পড়ে নির্বাচনী বছরে দেশ থেকে টাকা পাচার বাড়ে। এ কারণেই রিজার্ভে চাপ পড়ে। এছাড়াও নির্বাচনী বছরে বেসরকারি ঋণের হার কমে যাওয়ায় দেশের ব্যবসা বাণিজ্য কিছুটা থমকে যায়।’

তিনি আরো বলেন, ‘সুস্থ্য ও সহনশীল রাজনৈতিক চর্চ্চা গড়ে উঠলে এবং রাজনৈতিক ধরাবাহিকতা থাকলে দেশের অর্থনীতির অবস্থা খারাপ হবে না।’

প্রসঙ্গত, গত ৩০ জুনে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ৩১৭ কোটি ডলার। ২৯ আগস্ট তা কমে ৩ হাজার ২৮০ কোটি, ১৮ অক্টোবর ৩ হাজার ২১২ কোটি, ৩১ অক্টোবর ৩ হাজার ২০৮ কোটি, ২০ নভেম্বর ৩ হাজার ১০৫ কোটি ডলারে দাঁড়ায়।

প্রাপ্ত্য তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে ২০১৩ সালের আগস্টে রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়ায় এক হাজার ৬২৫ কোটি ডলারে। কিন্তু সেপ্টেম্বরে সেটা কমে এক হাজার ৬১৫ কোটি, অক্টোবরে এক হাজার ৭৩৪ কোটি, নভেম্বরে এক হাজার ৭১০ কোটিতে দাঁড়ায়। কিন্তু ওই নির্বাচনে অনেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হওয়ায় নির্বাচনী উত্তাপ ছিল না। ফলে ডিসেম্বরেই রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়ায় এক হাজার ৮০৯ কোটি ডলার। আর নির্বাচনী মাসের (জানুয়ারি-২০১৪) শেষে রিজার্ভ দাঁড়ায় এক হাজার ৮১২ কোটি ডলার।

এছাড়া ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে জুনে রিজার্ভ ছিল ৬১৫ কোটি ডলার। জুলাইয়ে সেটা কমে ৫৮২ কোটি, আগস্টে ৫৯৬ কোটি, সেপ্টেম্বরে ৫৮৬ কোটি, অক্টোবরে ৫৫৫ কোটি, নভেম্বরে ৫২৪ কোটি এবং ডিসেম্বরে ৫৭৯ কোটি ডলারে দাঁড়ায়।

২০০১ সালের নির্বাচনের আগে ও পরে রিজার্ভে উত্থান-পতন লক্ষ্য করা যায়। ওই বছরের জুলাইয়ে রিজার্ভ ছিল ১১৪ কোটি, আগস্টে ১২৫ কোটি, সেপ্টেম্বরে ১১৫ কোটি, অক্টোবরে ১০৮ কোটি, নভেম্বরে ১১১ কোটি এবং ডিসেম্বরে ১৩০ কোটি ডলার।

আপনার মতামত লিখুন :

প্রাইম ব্যাংক-উত্তরা মোটরস-এর সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

প্রাইম ব্যাংক-উত্তরা মোটরস-এর সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, ছবি: সংগৃহীত

মোটরসাইকেল ফাইন্যান্সিং ও কার লোনে ক্রেতাদের বিশেষ সুবিধা দিতে উত্তরা মোটরস লিমিটেডের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে প্রাইম ব্যাংক।

সম্প্রতি, প্রাইম ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এ স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।

প্রাইম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী রাহেল আহমেদ এবং উত্তরা মোটরস লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউর রহমানের উপস্থিতিতে প্রাইম ব্যাংকের কনজিউমার ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান এএনএম মাহফুজ এবং উত্তরা মোটরস-এর পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) এবিএম হুমায়ুন কবির, এফসিএমএ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। এ সময় উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এই চুক্তির ফলে প্রাইম ব্যাংক ও উত্তরা মোটরস যৌথভাবে মোটরসাইকেল ফাইন্যান্সিং ও কার লোনে ক্রেতাদের বিশেষ সেবা ও সুবিধা প্রদান করবে। উত্তরা মোটরস বাংলাদেশে ভারতের বাজাজ অটো লিমিটেড-এর একমাত্র পরিবেশক।

৭ দিনের মধ্যে ৪ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংককে পরিকল্পনা জমা দেওয়ার নির্দেশ

৭ দিনের মধ্যে ৪ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংককে পরিকল্পনা জমা দেওয়ার নির্দেশ
চার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর সভা/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ব্যাংকের উচ্চ পর্যায়ে নতুন নেতৃত্ব এসেছে। আগামী দিনে নতুন নেতৃত্ব কিভাবে ব্যাংক পরিচালনা করবে, তার একটি পরিকল্পনা পরবর্তী সাতদিনের মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

রোববার (২৫ আগস্ট) দুপুরে শেরে ই বাংলা নগরস্থ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে চার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সোনালী, রূপালী, জনতা ও অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে আলোচনা সভায় এ নির্দেশ দেন অর্থমন্ত্রী। সভা শেষে বিকালে সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

মুস্তফা কামাল বলেন, ‘দুই সপ্তাহ পর তাদের দেওয়া কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আবার বসে বিস্তারিত আলোচনা করব। যদিও সংখ্যা চারটি কিন্তু ব্যাংকিং সেক্টরে তাদের অবস্থান বড়। যেমন আমানত খাতে প্রায় ২৫ শতাংশ এ চারটি ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘চার ব্যাংকের কাছে সরকারের চাহিদা হলো খেলাপি ঋণ বাড়াতে পারবে না। ন্যূনতম ১৫ শতাংশ মুনাফা করতে হবে। তারা যে ঋণ দেবে, তার জামানতগুলো যেন এনক্যাশেবল হয় দায়িত্ব নিয়ে সেই কাজটি করবে।’

তিনি জানান, এবার বাজেটে ব্যাংকগুলোর জন্য বরাদ্দ আছে। তবে সামনে আর বরাদ্দ রাখা হবে না। জনগণকে সেবা দিয়ে আয় করেই ব্যাংকগুলোকে চলতে হবে।

ব্যাংকের তারল্য সংকট নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এক্সচেঞ্জ খাতে আজ পর্যন্ত আমাদের তারল্য প্রায় ৯২ হাজার কোটি টাকা।’

খেলাপি ঋণের বিষয়ে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘নন-পারফর্মিং লোন কমার কোনো সুযোগ নেই। কারণ নন-পারফর্মিং লোনের জন্য যে এক্সিট প্লানটা দিয়েছিলাম সেটি এখনো কার্যকর করতে পারিনি। কিছুটা জটিলতা আছে।’

আগামীতে রফতানি কমার শঙ্কার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনীতিতে যদি কোনো সংকট আসে, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় আপার এন্ডগুলো। মিড ও লোয়ার এন্ড ততটা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। আমাদের অর্থনীতিকে মিড ও লোয়ার এন্ডে দেখি। এজন্য এখানে ক্ষতি হওয়ার কারণ নেই। আমাদের পুঁজি বাজারেও বাইরের কোনো পুঁজি নেই। সুতরাং আমাদের ক্ষতি হওয়ার শঙ্কা নেই।’

সভায় উপস্থিত ছিলেন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম, ইআরডি সচিব মনোয়ার আহমেদ, অর্থ-সচিব আবদুর রউফ তালুকদার, সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জিয়াউল হাসান সিদ্দিকী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আতাউর রহমান প্রধান, জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান জামালউদ্দিন আহমেদ, রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ, অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ শামস উল ইসলাম প্রমুখ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র