Alexa

সরকারি চাকরিজীবীদের গৃহঋণ দেওয়া শুরু

সরকারি চাকরিজীবীদের গৃহঋণ দেওয়া শুরু

সরকারি চাকরিজীবীদের গৃহঋণ দেওয়া শুরু, ছবি: সংগৃহীত

আসিফ শওকত কল্লোল, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম

অর্থ বিভাগ থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের গৃহঋণ দেওয়া শুরু হয়েছে। স্বল্প পরিসরে দু’জন উর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাকে গৃহঋণ প্রদানের মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু হয়।

যদিও অক্টোবর মাস থেকে গৃহঋণ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এ পর্যন্ত ৪টি সরকারি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জমা নেওয়া আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই ও গৃহনির্মাণ ঋণ সেলের কার্যক্রম ঠিকমতো শুরু করতে তা পিছিয়ে যায়। অবশেষে ডিসেম্বরে দু’জন অতিরিক্ত সচিবকে সরকারের গৃহঋণ প্রদানের সরকারি আদেশ (জিও) জারি করে অর্থ বিভাগ।

সে হিসেবে বলা চলে, সরকারের গৃহঋণের কার্যক্রম ডিসেম্বর থেকে শুরু হলো। অর্থ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, আপাতত স্বল্প পরিসরে এ কার্যক্রম শুরু করছে অর্থ বিভাগ। অচিরেই বৃহৎ আকারে ঋণ প্রদান কার্যক্রম শুরু করা হবে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড: ভূষণ চক্র বিশ্বাস এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ঋণ নিয়েছেন। তন্মধ্যে ড: ভূষণ চক্র বিশ্বাস ৩৫ লাখ টাকা ও আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ৬৫ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেছেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমরা এখন স্বল্প পরিসরে ঋণ দিচ্ছি। ইতোমধ্যে আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন ২ জন চাকরিজীবীকে গৃহঋণ দেওয়ার বিষয়টি অনুমোদন দিয়েছে আর অর্থ বিভাগ সেই ঋণ অনুমোদন দিয়ে জিও করেছে। ওই দুইজনই প্রথম ঋণ পাবেন।’

তিনি আরও বলেন, ঋণ পাওয়া একজন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব, আরেকজন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব।

তিনি আরও বলেন, ‘গৃহঋণ নিতে ব্যাংক ও হাউজ বিল্ডিংয়ের কাছে প্রায় ২০ হাজার মতো আবেদন জমা পড়েছে। যদিও তাদের মধ্যে কতজন ঋণ পাওয়ার যোগ্য হবেন সে বিষয়ে অনেকে সন্দেহ পোষণ করেছেন।’

তিনি বলেন কর্মকর্তারা যেমন সহজে ঋণগ্রহণ করতে পারবে কিন্তু কর্মচারীরা এ ঋণ গ্রহণ করতে পারবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, কর্মচারীরা গৃহঋণ নিতে পারবে না। কারণ তাদের বেতন কম। এ ছাড়া সুদের হার ও কিস্তির পরিমাণ বেশি হওয়ার কারণে কর্মচারীরা এ ঋণ নিতে পারবে না।

এ দিকে সদ্য স্থাপিত গৃহ নির্মাণ ঋণ সেলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে দু’জন কর্মকর্তা যোগ দিয়েছেন। তারা হলেন, জনপ্রশাসনের মন্ত্রণালয়ের যুগ্ন-সচিব সৈয়দ নাসির এরশাদ ও সিনিয়র উপ-সচিব এলিস শরমিন।

জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীদের গৃহঋণ আবেদন এ পর্যন্ত ২০ হাজার ছাড়িয়েছে। নির্ধারিত ৪টি সরকারি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে। সম্প্রতি এসব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণ আবেদনের সংখ্যাসহ সামগ্রিক তথ্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। আর ব্যাংকগুলোর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব আবেদন যাচাই-বাছাই শুরু করেছে। কিছু আবেদন অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোও হয়েছে। আবেদন অনুযায়ী নির্দিষ্ট স্থানে রেডি ফ্ল্যাট আছে কি-না তা যাচাই করতে ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে নির্ধারিত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বোর্ড থেকে সেটার অনুমোদন নিয়ে অর্থ বিভাগের গৃহঋণ সেলে পাঠানো হবে। পরে সেখান থেকে ঋণের ভর্তুকি নির্ধারণ করে অর্থ বিভাগের সম্মতি নিতে হবে।

প্রসঙ্গত, সরকারি চাকরিজীবীদের কম সুদে গৃহঋণ দিতে সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, রূপালী এবং বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফিন্সাস কর্পোরেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করে অর্থ মন্ত্রণালয়। ওই ঋণের সরল সুদহার হবে ১০ শতাংশ। যার মধ্যে ৫ শতাংশ ভর্তুকি দেবে সরকার। ইতোমধ্যে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ভর্তুকি বাবদ ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে সরকার। দেশে মোট ২১ লাখ সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী আছে, যাদের মধ্যে প্রায় ৭০ ভাগ কর্মচারী।

গত ১ অক্টোবর থেকে অনলাইনে গৃহ নির্মাণ ঋণের জন্য আবেদন জমা শুরু হয়। অভিন্ন আবেদনপত্রে ২৮টি তথ্য চাওয়া হয়, যার মধ্যে ই-টিন নম্বর দেওয়া বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া প্রাইভেট প্লটের জন্য ৪-৬টি দলিল এবং সরকারি বা লিজ পাওয়া প্লটের জন্য ৪-৭ দলিল দিতে হচ্ছে আবেদনকারীদের।

উল্লেখ্য, গত ৩০ জুলাই সরকারি কর্মচারীদের গৃহনির্মাণ ঋণ নীতিমালা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করে অর্থ বিভাগ। নীতিমালা অনুযায়ী, চাকরি স্থায়ী হওয়ার পাঁচ বছর পর থেকে এবং সর্বোচ্চ ৫৬ বছর বয়স পর্যন্ত গৃহঋণের জন্য আবেদন করা যাবে। বেতন স্কেলের গ্রেডভেদে সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ এবং সর্বনিম্ন ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়া যাবে। ছয় মাস গ্রেস পিরিয়ডসহ ২০ বছরে ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

অর্থনীতি এর আরও খবর