Alexa

খেলাপি ঋণ আদায় বাড়াতে বিশেষ বেঞ্চ গঠনের পরামর্শ

খেলাপি ঋণ আদায় বাড়াতে বিশেষ বেঞ্চ গঠনের পরামর্শ

খেলাপি ঋণ আদায় বাড়াতে বিশেষ বেঞ্চ গঠনের পরামর্শ। ছবি: সংগৃহীত

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, ঢাকা, বার্তা২৪.কম

খেলাপি ঋণ আদায় বাড়াতে হাইকোর্টে রিট করা কমানোসহ একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর অস্বাভাবিক ঋণ আদায় বাড়াতে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে অর্থমন্ত্রণালয়।

বুধবার (২৬ ডিসেম্বর) অর্থমন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে রাষ্ট্রায়াত্ত ৪টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) নিয়ে অনুষ্ঠিত ঋণ পর্যালোচনা সভায় এসব নির্দেশনা দেয়া হয়। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় সোনালী, রুপালী, জনতা, অগ্রণী ব্যাংক, রাষ্ট্রায়ত্ত্ব বিশেষায়িত ব্যাংক ও অর্থমন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, প্রতি মাসে সরকারি ব্যাংক এবং দুই মাস পর পর বেসরকারি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সাথে সভা হয়। আজকের সভায খেলাপি ঋণ আদায়ের ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। একই সঙ্গে ঋণ আদায়ে আগামী বছরের জন্য বাস্তবসম্মত ও ব্স্তাবায়নযোগ্য একটি পরিকল্পনা চাওয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে সোনালী ব্যাংকের ঋণ সবচেয়ে বেশি। তাই তাদের ওপর চাপও বেশি। চাপ দেয়া হলে আদায় কিছুটা বাড়ে। তবে মামলার কারণে ঋণ আদায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি গ্রাহকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে খেলাপি ঋণ আদায় হয় না। এজন্য সভায় ব্যাংকাররা ঋণ আদায়ে হাইকোর্টে রিট না করে একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওবায়দুল্লা মাসুদ বলেন, ‘বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে সাড়ে ৮ লাখ কোটি টাকার ঋণ আছে। এর মধ্যে খেলাপি রয়েছে প্রায় এক লাখ কোটি টাকা। এবছর আদায় হয়েছে মাত্র ২৭ হাজার কোটি টাকা। এজন্য সভায় আমাদের কাছে খেলাপি ঋণ আদায় বাড়াতে একটি পরিকল্পনা চাওয়া হয়েছে। আমরা আমাদের সাজেশন শিগগিরই দেবো, সেখানে আমরা ঋণ আদায়ে হাইকোর্টে রিট করা কমানোসহ একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করার পরামর্শ দেবো। কারণ রিট পিটিশনের কারণে বড় বড় ঋণ আদায় করতে পারছি না।’

সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানান, খেলাপি ঋণের বিষয়টি সমাধান করা কঠিন। খেলাপি ঋণ ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা। তবে ১০ শতাংশের নিচে রাখাটা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। এজন্য খেলাপি ঋণ কিভাবে আদায় করা যায় এ বিষয়ে একটা প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে। যা আগামী সরকারের জন্য রেখে যাবো। সেখানে ১০ শতাংশ খেলাপি ঋণ হলেই অ্যাকশনে যাওয়ার পরামর্শ থাকবে।

তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করে ব্যাংকগুলো। এর মধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে ৯৯ হাজার কোটি টাকার বেশি, যা মোট ঋণের ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ। গত জুন পর্যন্ত খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৮৯ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা, যা খুবই উদ্বেগজনক বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করেছে এক লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ৪৮ হাজার কোটি টাকা খেলাপি হয়েছে, যা মোট ঋণের প্রায় ২৩ শতাংশ। একই সময়ে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করেছে ৬ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ৪৩ হাজার কোটি টাকা খেলাপি হয়েছে, যা মোট ঋণের ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

জানা গেছে, বেসিক ব্যাংকে জালিয়াতি হওয়ায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রায় সবটাই খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। জনতা ব্যাংকে বড় ধরনের জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা খেলাপি হয়েছে। অন্য দুটি ব্যাংকেও খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ছে।

অর্থনীতি এর আরও খবর