Barta24

সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬

English

খেলাপি ঋণ আদায় বাড়াতে বিশেষ বেঞ্চ গঠনের পরামর্শ

খেলাপি ঋণ আদায় বাড়াতে বিশেষ বেঞ্চ গঠনের পরামর্শ
খেলাপি ঋণ আদায় বাড়াতে বিশেষ বেঞ্চ গঠনের পরামর্শ। ছবি: সংগৃহীত
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
ঢাকা
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

খেলাপি ঋণ আদায় বাড়াতে হাইকোর্টে রিট করা কমানোসহ একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর অস্বাভাবিক ঋণ আদায় বাড়াতে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে অর্থমন্ত্রণালয়।

বুধবার (২৬ ডিসেম্বর) অর্থমন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে রাষ্ট্রায়াত্ত ৪টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) নিয়ে অনুষ্ঠিত ঋণ পর্যালোচনা সভায় এসব নির্দেশনা দেয়া হয়। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় সোনালী, রুপালী, জনতা, অগ্রণী ব্যাংক, রাষ্ট্রায়ত্ত্ব বিশেষায়িত ব্যাংক ও অর্থমন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, প্রতি মাসে সরকারি ব্যাংক এবং দুই মাস পর পর বেসরকারি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সাথে সভা হয়। আজকের সভায খেলাপি ঋণ আদায়ের ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। একই সঙ্গে ঋণ আদায়ে আগামী বছরের জন্য বাস্তবসম্মত ও ব্স্তাবায়নযোগ্য একটি পরিকল্পনা চাওয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে সোনালী ব্যাংকের ঋণ সবচেয়ে বেশি। তাই তাদের ওপর চাপও বেশি। চাপ দেয়া হলে আদায় কিছুটা বাড়ে। তবে মামলার কারণে ঋণ আদায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি গ্রাহকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে খেলাপি ঋণ আদায় হয় না। এজন্য সভায় ব্যাংকাররা ঋণ আদায়ে হাইকোর্টে রিট না করে একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওবায়দুল্লা মাসুদ বলেন, ‘বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে সাড়ে ৮ লাখ কোটি টাকার ঋণ আছে। এর মধ্যে খেলাপি রয়েছে প্রায় এক লাখ কোটি টাকা। এবছর আদায় হয়েছে মাত্র ২৭ হাজার কোটি টাকা। এজন্য সভায় আমাদের কাছে খেলাপি ঋণ আদায় বাড়াতে একটি পরিকল্পনা চাওয়া হয়েছে। আমরা আমাদের সাজেশন শিগগিরই দেবো, সেখানে আমরা ঋণ আদায়ে হাইকোর্টে রিট করা কমানোসহ একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করার পরামর্শ দেবো। কারণ রিট পিটিশনের কারণে বড় বড় ঋণ আদায় করতে পারছি না।’

সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানান, খেলাপি ঋণের বিষয়টি সমাধান করা কঠিন। খেলাপি ঋণ ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা। তবে ১০ শতাংশের নিচে রাখাটা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। এজন্য খেলাপি ঋণ কিভাবে আদায় করা যায় এ বিষয়ে একটা প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে। যা আগামী সরকারের জন্য রেখে যাবো। সেখানে ১০ শতাংশ খেলাপি ঋণ হলেই অ্যাকশনে যাওয়ার পরামর্শ থাকবে।

তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করে ব্যাংকগুলো। এর মধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে ৯৯ হাজার কোটি টাকার বেশি, যা মোট ঋণের ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ। গত জুন পর্যন্ত খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৮৯ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা, যা খুবই উদ্বেগজনক বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করেছে এক লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ৪৮ হাজার কোটি টাকা খেলাপি হয়েছে, যা মোট ঋণের প্রায় ২৩ শতাংশ। একই সময়ে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করেছে ৬ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ৪৩ হাজার কোটি টাকা খেলাপি হয়েছে, যা মোট ঋণের ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

জানা গেছে, বেসিক ব্যাংকে জালিয়াতি হওয়ায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রায় সবটাই খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। জনতা ব্যাংকে বড় ধরনের জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা খেলাপি হয়েছে। অন্য দুটি ব্যাংকেও খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ছে।

আপনার মতামত লিখুন :

প্রাইম ব্যাংক-উত্তরা মোটরস-এর সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

প্রাইম ব্যাংক-উত্তরা মোটরস-এর সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, ছবি: সংগৃহীত

মোটরসাইকেল ফাইন্যান্সিং ও কার লোনে ক্রেতাদের বিশেষ সুবিধা দিতে উত্তরা মোটরস লিমিটেডের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে প্রাইম ব্যাংক।

সম্প্রতি, প্রাইম ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এ স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।

প্রাইম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী রাহেল আহমেদ এবং উত্তরা মোটরস লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউর রহমানের উপস্থিতিতে প্রাইম ব্যাংকের কনজিউমার ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান এএনএম মাহফুজ এবং উত্তরা মোটরস-এর পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) এবিএম হুমায়ুন কবির, এফসিএমএ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। এ সময় উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এই চুক্তির ফলে প্রাইম ব্যাংক ও উত্তরা মোটরস যৌথভাবে মোটরসাইকেল ফাইন্যান্সিং ও কার লোনে ক্রেতাদের বিশেষ সেবা ও সুবিধা প্রদান করবে। উত্তরা মোটরস বাংলাদেশে ভারতের বাজাজ অটো লিমিটেড-এর একমাত্র পরিবেশক।

৭ দিনের মধ্যে ৪ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংককে পরিকল্পনা জমা দেওয়ার নির্দেশ

৭ দিনের মধ্যে ৪ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংককে পরিকল্পনা জমা দেওয়ার নির্দেশ
চার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর সভা/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ব্যাংকের উচ্চ পর্যায়ে নতুন নেতৃত্ব এসেছে। আগামী দিনে নতুন নেতৃত্ব কিভাবে ব্যাংক পরিচালনা করবে, তার একটি পরিকল্পনা পরবর্তী সাতদিনের মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

রোববার (২৫ আগস্ট) দুপুরে শেরে ই বাংলা নগরস্থ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে চার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সোনালী, রূপালী, জনতা ও অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে আলোচনা সভায় এ নির্দেশ দেন অর্থমন্ত্রী। সভা শেষে বিকালে সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

মুস্তফা কামাল বলেন, ‘দুই সপ্তাহ পর তাদের দেওয়া কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আবার বসে বিস্তারিত আলোচনা করব। যদিও সংখ্যা চারটি কিন্তু ব্যাংকিং সেক্টরে তাদের অবস্থান বড়। যেমন আমানত খাতে প্রায় ২৫ শতাংশ এ চারটি ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘চার ব্যাংকের কাছে সরকারের চাহিদা হলো খেলাপি ঋণ বাড়াতে পারবে না। ন্যূনতম ১৫ শতাংশ মুনাফা করতে হবে। তারা যে ঋণ দেবে, তার জামানতগুলো যেন এনক্যাশেবল হয় দায়িত্ব নিয়ে সেই কাজটি করবে।’

তিনি জানান, এবার বাজেটে ব্যাংকগুলোর জন্য বরাদ্দ আছে। তবে সামনে আর বরাদ্দ রাখা হবে না। জনগণকে সেবা দিয়ে আয় করেই ব্যাংকগুলোকে চলতে হবে।

ব্যাংকের তারল্য সংকট নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এক্সচেঞ্জ খাতে আজ পর্যন্ত আমাদের তারল্য প্রায় ৯২ হাজার কোটি টাকা।’

খেলাপি ঋণের বিষয়ে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘নন-পারফর্মিং লোন কমার কোনো সুযোগ নেই। কারণ নন-পারফর্মিং লোনের জন্য যে এক্সিট প্লানটা দিয়েছিলাম সেটি এখনো কার্যকর করতে পারিনি। কিছুটা জটিলতা আছে।’

আগামীতে রফতানি কমার শঙ্কার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনীতিতে যদি কোনো সংকট আসে, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় আপার এন্ডগুলো। মিড ও লোয়ার এন্ড ততটা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। আমাদের অর্থনীতিকে মিড ও লোয়ার এন্ডে দেখি। এজন্য এখানে ক্ষতি হওয়ার কারণ নেই। আমাদের পুঁজি বাজারেও বাইরের কোনো পুঁজি নেই। সুতরাং আমাদের ক্ষতি হওয়ার শঙ্কা নেই।’

সভায় উপস্থিত ছিলেন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম, ইআরডি সচিব মনোয়ার আহমেদ, অর্থ-সচিব আবদুর রউফ তালুকদার, সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জিয়াউল হাসান সিদ্দিকী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আতাউর রহমান প্রধান, জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান জামালউদ্দিন আহমেদ, রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ, অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ শামস উল ইসলাম প্রমুখ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র