Alexa

ভূমির শ্রেণিবিন্যাস ১৫৩ থেকে ১০ করা হচ্ছে

ভূমির শ্রেণিবিন্যাস ১৫৩ থেকে ১০ করা হচ্ছে

ছবি: সংগৃহীত

আসিফ শওকত কল্লোল, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম

ব্যবসায়ী ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সুবিধার জন্য দেশের ভূমির ১৫৩টি শ্রেণীর পরিবর্তে ১০টি করতে চাচ্ছে সরকার। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ইতোমধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়কে আগামী দুই মাসের মধ্যে ভূমির শ্রেণী ১৫৩টি থেকে কমিয়ে ১০টি বা তারও কমে নিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয় বলছে, দেশব্যাপী চলমান সার্ভে শেষ না হলে ভূমি শ্রেণিবিন্যাস কমানো সম্ভব হবে না। সার্ভে শেষ হলেই বুঝা যাবে দেশের জমির শ্রেণিবিন্যাস কিভাবে কত কমানো সম্ভব হবে।

বিডা সূত্র জানায়, জমির শ্রেণী সংখ্যা কমানো হলে দেশের শিল্প এলাকার জমির সংখ্যা বেড়ে যাবে ফলে বিদেশে ও দেশি বিনিয়োগকারীরা শিল্প প্রতিষ্ঠান করার জন্য সহজে জমি খুঁজে পাবেন। বিনিয়োগকারীদের জন্য জমি খুঁজে পাওয়া একটা বড় সমস্যা হয়ে দেখা যায়।

তবে বাংলাদেশ ইকনমিক জোন অর্থরিটি (বেপজা) অবশ্য বিদেশি ও স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৬০টি ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা করেছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, জমির শ্রেণিবিন্যাস দুই ভাগে ভাগ করা হয়। কৃষি জমি আর অকৃষি জমি। এছাড়া বিল, নদী, শিল্প, ও আবাসিক কাম বাণিজ্যিক শ্রেণীর জমি রয়েছে।

সরকারী হিসেবে, দেশের খাদ্যের ঘাটতি না হওয়ার জন্য মোট জমির ৫৫ শতাংশ জমি অবশ্যই কৃষি জমি হতে হবে। বাকি জমির মধ্যে শ্রেণী বিন্যাস করা হবে যেমন শিল্প শ্রেণীর জমি ও আবাসিক জমি।

সূত্র আরো জানায়, ভূমির শ্রেণী পরিবর্তনের ফলে দেশের নাগরিকদের নানাভাবে অসুবিধা সম্মুখীন হতে হয়। ভূমি শ্রেণী পরিবর্তনের ফলে পঞ্চাশের দশকে গড়ে তোলা তেজগাঁও শিল্প এলাকা ও এর আশপাশের অঞ্চলে যানজট অচিরেই আরও বাড়বে।

শ্রেণী পরিবর্তন করে শিল্প এলাকার পরিবর্তে আবাসিক কাম বাণিজ্যিক করায় তেজগাঁও এলাকায় ইতোমধ্যেই অনেক বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এর ফলে যানজট আরও প্রকট হয়ে উঠবে।

ভূমির শ্রেণী পরিবর্তনের কারণে এর আগে ধানমণ্ডি, উত্তরা, গুলশান, বনানীসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একই পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। তবে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, ভূমির শ্রেণী পরিবর্তন করা উচিৎ ছিল ঢাকা থেকে অনেক দূরে। তা না হলে ঢাকা শহরের যানজট কমানোর সম্ভব হবে না।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মোঃ মাকছুদুর রহমান পাটওয়ারী বার্তা২৪কে বলেন, ‘দেশের বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য বিডা ভূমির শ্রেণিবিন্যাস কমানোর অনুরোধ করেছে। ভূমির শ্রেণিবিন্যাস বেশি হলে, যারা বিদেশ থেকে বিনিয়োগ করতে আসবে তারা বেকায়দার পড়ে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘ধরেন জার্মানি থেকে একজন বিনিয়োগকারী কক্সবাজারে বিনিয়োগ করতে চান। কিন্তু যখন তিনি জমির শ্রেণিবিন্যাস দেখবেন, তখন তিনি খেই হারিয়ে ফেলবেন। তার ফ্যাক্টরির জন্য জমি কিনতে জমিটা কী শ্রেণীর হবে তা নিয়ে ভাবনায় পড়ে যাবেন।’

ভূমি সচিব বলেন, ‘ফলে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হবে। এজন্য দেশের জমির শ্রেণিবিন্যাস কমানো দরকার। আর শ্রেণিবিন্যাসের নামগুলো মাতৃভাষায় অর্থাৎ বাংলা ভাষায় করা হবে। এখন দেশব্যাপী একটা সার্ভে হচ্ছে। সেই সার্ভে শেষে সেই হিসেবে জমির শ্রেণিবিন্যাস কমানো হবে।’

তিনি বলেন, ‘এটা অবশ্যই বিদেশি বিনিয়োগ আনার ক্ষেত্রে কাজ করবে।’

অর্থনীতি এর আরও খবর