Barta24

মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

ভূমির শ্রেণিবিন্যাস ১৫৩ থেকে ১০ করা হচ্ছে

ভূমির শ্রেণিবিন্যাস ১৫৩ থেকে ১০ করা হচ্ছে
ছবি: সংগৃহীত
আসিফ শওকত কল্লোল
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ব্যবসায়ী ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সুবিধার জন্য দেশের ভূমির ১৫৩টি শ্রেণীর পরিবর্তে ১০টি করতে চাচ্ছে সরকার। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ইতোমধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়কে আগামী দুই মাসের মধ্যে ভূমির শ্রেণী ১৫৩টি থেকে কমিয়ে ১০টি বা তারও কমে নিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয় বলছে, দেশব্যাপী চলমান সার্ভে শেষ না হলে ভূমি শ্রেণিবিন্যাস কমানো সম্ভব হবে না। সার্ভে শেষ হলেই বুঝা যাবে দেশের জমির শ্রেণিবিন্যাস কিভাবে কত কমানো সম্ভব হবে।

বিডা সূত্র জানায়, জমির শ্রেণী সংখ্যা কমানো হলে দেশের শিল্প এলাকার জমির সংখ্যা বেড়ে যাবে ফলে বিদেশে ও দেশি বিনিয়োগকারীরা শিল্প প্রতিষ্ঠান করার জন্য সহজে জমি খুঁজে পাবেন। বিনিয়োগকারীদের জন্য জমি খুঁজে পাওয়া একটা বড় সমস্যা হয়ে দেখা যায়।

তবে বাংলাদেশ ইকনমিক জোন অর্থরিটি (বেপজা) অবশ্য বিদেশি ও স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৬০টি ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা করেছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, জমির শ্রেণিবিন্যাস দুই ভাগে ভাগ করা হয়। কৃষি জমি আর অকৃষি জমি। এছাড়া বিল, নদী, শিল্প, ও আবাসিক কাম বাণিজ্যিক শ্রেণীর জমি রয়েছে।

সরকারী হিসেবে, দেশের খাদ্যের ঘাটতি না হওয়ার জন্য মোট জমির ৫৫ শতাংশ জমি অবশ্যই কৃষি জমি হতে হবে। বাকি জমির মধ্যে শ্রেণী বিন্যাস করা হবে যেমন শিল্প শ্রেণীর জমি ও আবাসিক জমি।

সূত্র আরো জানায়, ভূমির শ্রেণী পরিবর্তনের ফলে দেশের নাগরিকদের নানাভাবে অসুবিধা সম্মুখীন হতে হয়। ভূমি শ্রেণী পরিবর্তনের ফলে পঞ্চাশের দশকে গড়ে তোলা তেজগাঁও শিল্প এলাকা ও এর আশপাশের অঞ্চলে যানজট অচিরেই আরও বাড়বে।

শ্রেণী পরিবর্তন করে শিল্প এলাকার পরিবর্তে আবাসিক কাম বাণিজ্যিক করায় তেজগাঁও এলাকায় ইতোমধ্যেই অনেক বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এর ফলে যানজট আরও প্রকট হয়ে উঠবে।

ভূমির শ্রেণী পরিবর্তনের কারণে এর আগে ধানমণ্ডি, উত্তরা, গুলশান, বনানীসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একই পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। তবে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, ভূমির শ্রেণী পরিবর্তন করা উচিৎ ছিল ঢাকা থেকে অনেক দূরে। তা না হলে ঢাকা শহরের যানজট কমানোর সম্ভব হবে না।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মোঃ মাকছুদুর রহমান পাটওয়ারী বার্তা২৪কে বলেন, ‘দেশের বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য বিডা ভূমির শ্রেণিবিন্যাস কমানোর অনুরোধ করেছে। ভূমির শ্রেণিবিন্যাস বেশি হলে, যারা বিদেশ থেকে বিনিয়োগ করতে আসবে তারা বেকায়দার পড়ে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘ধরেন জার্মানি থেকে একজন বিনিয়োগকারী কক্সবাজারে বিনিয়োগ করতে চান। কিন্তু যখন তিনি জমির শ্রেণিবিন্যাস দেখবেন, তখন তিনি খেই হারিয়ে ফেলবেন। তার ফ্যাক্টরির জন্য জমি কিনতে জমিটা কী শ্রেণীর হবে তা নিয়ে ভাবনায় পড়ে যাবেন।’

ভূমি সচিব বলেন, ‘ফলে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হবে। এজন্য দেশের জমির শ্রেণিবিন্যাস কমানো দরকার। আর শ্রেণিবিন্যাসের নামগুলো মাতৃভাষায় অর্থাৎ বাংলা ভাষায় করা হবে। এখন দেশব্যাপী একটা সার্ভে হচ্ছে। সেই সার্ভে শেষে সেই হিসেবে জমির শ্রেণিবিন্যাস কমানো হবে।’

তিনি বলেন, ‘এটা অবশ্যই বিদেশি বিনিয়োগ আনার ক্ষেত্রে কাজ করবে।’

আপনার মতামত লিখুন :

পণ্য না দিয়েও টাকা নিচ্ছে আগোরা

পণ্য না দিয়েও টাকা নিচ্ছে আগোরা
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার পশ্চিম মালিবাগ এলাকার বাসিন্দা রাশেদ শাহরিয়ার পলাশ। আগোরা সুপারশপের নিয়মিত ক্রেতা। শনিবার (৮ জুন) রাজধানীর মগবাজারে আগোরার আউটলেট থেকে ডাল, তেল, মশলা, সাবানসহ বেশ কিছু পণ্য কিনে ক্যাশ কাউন্টারে বিল পরিশোধের জন্য আসেন। বিল দিতে গিয়ে দেখেন, বিলের পরিমাণ বেশি।

তারপর বিল পরিশোধ করলেও সন্দেহ হওয়ায় কাউন্টারে দায়িত্বে থাকা কর্মীকের বিলটা একটু পরীক্ষা করে দেখতে বলেন তিনি। কিন্তু কাউন্টার থেকে বলা হয়, ‘বিল তৈরিতে আগোরার কোনো ভুল হয় না।’ হাতে সময় কম থাকায় তাড়াহুড়া করে দ্রুত বাসায় চলে আসেন তিনি। বাসায় গিয়ে পণ্যের লিস্টের সঙ্গে পরিশোধ করা ক্যাশ মেমো মেলাতে গিয়ে হতবাক হন। তিনি ইলিশ না কিনলেও বিলে ইলিশ মাছ বাবদ চার হাজার ১৪৫ টাকা অতিরিক্ত ধরা হয়েছে।

এ প্রতারণার অভিযোগে গত ১১ জুন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরে মগবাজার আউটলেটের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন রাশেদ শাহরিয়ার পলাশ। আগোরা সুপারশপ রহিম আফরোজ গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান।

অভিযোগে বলা হয়, ‘মগবাজার আউটলেট থেকে ৮ জুন নানা পণ্য কিনে বাসায় এসে দেখি, আমি ইলিশ মাছ না কিনলেও আমার কাছ থেকে চার কেজি ৩৬৪ গ্রাম ইলিশের দাম চার হাজার ১৪৫ টাকা রাখা হয়েছে। কিন্তু এ নিয়ে আউটলেটে অভিযোগ দিলে তারা জানান, তাদের কাছে ইলিশ মাছ নেই। পণ্য না দিয়েও মূল্য রাখায় আমি শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।’

bill
অভিযোগ, ছবি: বার্তা২৪.কম 

 

ভুক্তভোগী রাশেদ শাহরিয়ার বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘বিষয়টির সুরাহা করতে আউটলেটের ব্যবস্থাপককে জানালে, তিনি জানান, তাদের আউটলেটে ইলিশ মাছই নেই। এরপর মগবাজার আউটলেটের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ দেখে প্রমাণ হয় যে ইলিশ মাছ না দিয়েই আমার কাছ থেকে মূল্য রাখা হয়েছে। এরপর এমন ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন ওই আউটলেটের ব্যবস্থাপক ফারুকুল আলম।’

তিনি জানান, আউটলেটে ইলিশ না থাকা সত্ত্বেও বিলের সফটওয়্যারে ইলিশের কোড এসেছে কীভাবে? এমন প্রশ্ন করলে ব্যবস্থাপক সঠিক জবাব দিতে পারেননি। এরপর তার বিগত দুই বছরের বিলের স্ট্যাটাস প্রিন্ট দেখতে চান ব্যবস্থাপকের কাছে। কিন্তু ব্যবস্থাপক তাতেও অস্বীকৃতি জানান এবং বলেন, ‘আমাদের কাছে নিয়মিত ক্রেতাদের মাত্র দুই মাসের বিলের ডাটা সংরক্ষিত থাকে।’

এ ধরনের উত্তরে ক্রেতাদের অভিযোগ বাড়ছে সুপারশপ আগোরার বিরুদ্ধে। এ সুপারশপের নিয়মিত অনেক ভোক্তার এখন অভিযোগ, দুই মাসের বেশি সময়ের বিলের ডাটা সংরক্ষণ না করে আগোরা গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। কারণ আগোরার মেম্বারশিপ নিয়ে যারা নিয়মিত কেনাকাটা করেন, তাদের জন্য ডিসকাউন্ট পয়েন্ট সংরক্ষণ করার অফার দেয় প্রতিষ্ঠানটি। তাহলে কেউ দুই মাসের মধ্যে ডিসকাউন্ট পয়েন্ট সমন্বয় না করলে সেটা বাতিল হয়ে যায়! যা কোনো ক্রেতাকেই জানায় না আগোরা। আগোরায় যারা নিয়মিত বাজার করেন, হয়তো তারা পরে আর বিল মিলিয়ে দেখেন না। এতে প্রতারণার সুযোগ পাচ্ছে আগোরা। এভাবেই কী এসব সুপারশপে এমন প্রতারণার শিকার হচ্ছেন ক্রেতারা?

জানা গেছে, বিভিন্ন সময় ক্রেতাদের আকর্ষণীয় অফার দেয় আগোরা। আর সেই অফারে ছাড় দেওয়া অর্থের অংশ নানা কৌশলে ক্রেতাদের থেকেই আদায় করা হয়। এছাড়া কারওয়ান বাজার থেকে বিভিন্ন ফল ও সবজি সংগ্রহ করে তা চড়া দামে আগোরার নিজস্ব ফার্মের অর্গানিক পণ্য বলে চালিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।

একাধিক ক্রেতার অভিযোগ, এমন করে নিয়মিত ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে আগোরা।

শাহরিয়ার বলেন, ‘প্রতারণা ধরা পড়ার পর আমি তাদের কাছে গত দুই বছরের বিলের প্রিন্ট কপি চাইলে তারা সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় চান। এরপর সন্ধ্যায় শিলা নামে একজন আগোরা থেকে ফোন করে জানান, তাদের কাছে মাত্র দুই মাসের বিল রয়েছে। আমি এ কথা শোনার পর তাদের বিকল্প তিনটি প্রস্তাব দেই- হয় তারা আমার গত দুই বছরের বিল দেবে, যাতে আমি মিলিয়ে দেখতে পারি এ রকম ভুতুরে কোনো বিল আমার নামে আগে করা হয়েছে কিনা, না হয় এ অপকর্মের সঙ্গে জড়িত কর্মীকে যথাযথ শাস্তি দিয়ে তা মিডিয়ায় প্রচার করতে হবে অথবা আমার সঙ্গে প্রতিমাসে পাঁচ হাজার টাকার প্রতারণা করা হয়েছে, এটা ধরে নিয়ে দুই বছরে এক লাখ ২০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে তা সমাজের অসহায় সুবিধা বঞ্চিতদের মধ্যে বিতরণ করে মিডিয়ায় প্রচার করতে হবে। কিন্তু তারা এর কোনোটিই পালন করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ব্যবস্থাপক আমাকে জানান, দুই বছরের বিল পেতে হলে তাদের এক মাস সময় দিতে হবে। তখন আমি বুঝতে পেরেছি, এটা কালক্ষেপণ করার কৌশল এবং প্রতারণার নতুন কোনো ফাঁদ। এর ফলে আমি শারীরিক এবং মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। তাই এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরে লিখিত অভিযোগ করেছি।’

এনামুল হক নামে এক ক্রেতা বার্তা২৪.কমকে জানান, তিনি আগোরার মগবাজারের ওই আউটলেট থেকে নিয়মিত কেনাকাটা করতেন। কিন্তু আগের তুলনায় সেবার মান কমে যাওয়ায় তিনি এখন আগোরা থেকে আর কেনাকাটা করেন না।

এ বিষয়ে আউটলেটের ব্যবস্থাপক ফারুকুল আলম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘প্রতিদিন মগবাজার আউটলেটে আটশ’ থেকে ১২শ’ ক্রেতা কেনাকাটা করেন। এটা ভুলবসত হয়েছে। আমরা ক্রেতাকে টাকা ফেরত দিয়ে দিয়েছি।’

bill
সেই বিল, ছবি: বার্তা২৪.কম 

 

আর চার হাজারেরও বেশি নিবন্ধিত ক্রেতা রয়েছেন এই আউটলেটে। অনেক ক্রেতা মনে করেন, যদি ১০ শতাংশ ক্রেতার সঙ্গে এমন ভুল করা হয়ে থাকে, তাহলেও চারশ’ ভোক্তা এ প্রতারণার শিকার হয়েছেন। ভুলটা ধরা না পড়লে বিষয়টি সবার অজানাই থেকে যেত।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ও উপ-সচিব মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমাদের কাছে আগোরার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ এসেছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়েছে। তারপরও আমরা অভিযোগটি প্রমাণিত হলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেব।’

এস্কোয়ার আইসিএলের ফান্ডের খসড়া অনুমোদন

এস্কোয়ার আইসিএলের ফান্ডের খসড়া অনুমোদন
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ভবন, ছবি: সংগৃহীত

এস্কোয়ার আইসিএল এপারেল ফান্ডের খসড়া প্রসপেক্টাস অনুমোদন করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) কমিশনের ৬৯১তম সভায় প্রতিষ্ঠানটির বে-মেয়াদী মিউচ্যুয়ালন্ড ফান্ডের অনুমোদন দেওয়া হয়। নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, ফান্ডটির প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ২৫ কোটি টাকা। ফান্ডটির উদ্যোক্তার অংশ ১০ কোটি টাকা। আর বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৫ কোটি টাকা। যা ইউনিট বিক্রয়ের মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়। ফান্ডটির ইউনিট প্রতি অভিহিত মূল্য ১০ টাকা। ফান্ডটির উদ্যোক্তা এসকোয়ার নীট কমপোজিট লিমিটেড এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনা ক্যাপিটাল লিমিটেড।

এছাড়াও ফান্ডটির ট্রাস্ট্রি হিসেবে কাজ করছে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ এবং কাস্টডিয়ান হিসেবে কাজ করছে ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র