Alexa

অটোমেশন পদ্ধতিতে সঞ্চয়পত্র বিক্রি শুরু

অটোমেশন পদ্ধতিতে সঞ্চয়পত্র বিক্রি শুরু

ছবি: সংগৃহীত

অটোমেশন (অনলাইন) পদ্ধতিতে সঞ্চয়পত্র বিক্রির কার্যক্রম শুরু করেছে জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদফতর। মূলত, কালো টাকা এবং অতিরিক্ত বিনিয়োগ বন্ধ করতে পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার। রোববার (৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অর্থ বিভাগের সভাকক্ষে সচিব আব্দুর রউফ এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

জানা গেছে, এই অটোমেশন প্রক্রিয়ায় জাতীয় পরিচয়পত্রের ডাটাবেজের সঙ্গে লিংক রয়েছে। ফলে কেউ অতিরিক্ত সঞ্চয়পত্র কিনছেন কি-না, সেটি সহজেই ধরা পড়বে। একইসঙ্গে কেউ ৫০ হাজার টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে চাইলে চেকের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করতে হবে। প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল শাখা, সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল শাখা, জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের ব্যুরো অফিস (গুলিস্তান) এবং বাংলাদেশ পোস্ট অফিসের প্রধান কার্যালয়ে এ অটোমেশন (অনলাইন) পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।

সূত্রে জানা গেছে, ব্যয় ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম শক্তিশালী করতে এ প্রকল্প চালু করতে চায় সরকার। এরই অংশ হিসেবে ১২ জানুয়ারি অর্থবিভাগে ‘পাবলিক এক্সপেনডিচার ম্যানেজমেন্ট স্ট্রেনদেনিং প্রোগ্রামম’র অধীনে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়। আগামী ৩ মাস প্রথমিকভাবে ৪টি অফিস থেকে অটোমেশন পদ্ধতিতে সঞ্চয়পত্র বিক্রি করা হবে। একই সঙ্গে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণও দেয়া হবে। আগামী ১ জুলাই থেকে দেশব্যাপী এই প্রকল্প চালু করা হবে। এজন্য ‘ন্যাশনাল সেভিং সার্টিফিকেটস অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ নামে অনলাইন ডাটাবেজ তৈরির কাজ চলছে।

আরো জানা গেছে, নতুন এ ডাটাবেজ চালু হলে সঞ্চয়পত্র কেনার জন্য নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্র ও ই-টিন সনদ জমা দিতে হবে। আর ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র কেনা যাবে। এর বেশি হলে অবশ্যই ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করতে হবে। এজন্য সঞ্চয়কারীর ব্যাংক হিসাব নম্বর, মোবাইল নম্বর দিতে হবে।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতর এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে যারা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করেছেন তাদেরও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ই-টিন সনদ জমা দিতে হবে। এ উদ্যোগের ফলে প্রকৃত বিনিয়োগকারীরা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করবে। একই সঙ্গে কালোটাকা চিহ্নিত করা সহজ হবে।

তারা আরো জানিয়েছেন, সঞ্চয়পত্রের ঋণের সুদবাবদ সরকারকে বছরে ৫৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। যা সরকারি চাকরিজীবীদের মোট বেতন-ভাতার চেয়ে এক হাজার কোটি টাকা বেশি। ফলে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের লাগাম টানতে চায় সরকার। এ জন্য এই খাতে বিনিয়োগে কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) সঞ্চয়পত্র থেকে নিট বিনিযোগ এসেছে ২১ হাজার ৬৬১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। যা পুরো বছরের লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৮৩ শতাংশ। সরকার চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ১২ মাসে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা।

আপনার মতামত লিখুন :