জিডিপির প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ: এডিবি

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সৈয়দ মেহেদী

ছবি: সৈয়দ মেহেদী

  • Font increase
  • Font Decrease

চলতি অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার হবে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। অভ্যন্তরীণ চাহিদার উপর ভিত্তি করেই এই প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের অর্থনীতিকে চার ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।

সোমবার (৪ মার্চ) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘উদীয়মান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং বাংলাদেশে এর প্রভাব' শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব তথ্য দেয় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। একই সঙ্গে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বেশ কয়েকটি পরামর্শ দেয় সংস্থাটি।

এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টও মনমোহন প্রকাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব ফরিদা নাসরিন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এডিবির চিফ ইকোনমিষ্ট ড. ইয়াসুকি সোয়াদা।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, আগামীতে ঋণের উচ্চ সুদের হার বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি। এর ফলে মূলধন অন্যত্র চলে যাচ্ছে। এছাড়া ব্রেক্সিট কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অস্থিরতার প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে পড়তে পারে। বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষিতে তেলের দাম বৃদ্ধি ও প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে পোশাক খাতে কর্মসংস্থান কমে আসার কারণেও অর্থনীতি ঝুঁকিতে পরতে পারে।

কর্মবাজারে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে বিনিয়োগের পরিমাণ আরও বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে এডিবি। এজন্য শ্রম নীতিমালা হালনাগাদ করা ও তাদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও তাগিদ দিয়েছে সংস্থাটি।

দেশের অর্থনীতির উন্নতিতে আগামীতেও পোশাক খাতের সম্ভাবনাকেই বড় করে দেখছে এডিবি। পাশাপাশি চামড়া শিল্প ও তথ্য প্রযুক্তি খাত ঘিরে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা দেওয়া হয়েছে প্রবন্ধটিতে।

এ সব খাতে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও উপ আঞ্চলিক সহযোগিতা ও যোগাযোগ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে এডিবি। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক জোট সাসেক ও বিমসটেক আরও জোরদার করার তাগিদও দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনটিতে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ২০১৯ সালের শেষে প্রবৃদ্ধি হবে ৭.৫ শতাংশ। যদিও এটি আগের বছরের চেয়ে কিছুটা কম। ২০১৮ সালে ৭ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল সংস্থাটি।

পূর্বাভাস কমানোর কারণ হিসাবে বলা হয়, দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার উপর ভিত্তি করে এই প্রবৃদ্ধি হবে। এশিয়ার অর্থনীতিতে বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে চীন- মার্কিন বাণিজ্য যুদ্ধ। এর প্রভাব বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধিতেও পড়তে পারে।

আপনার মতামত লিখুন :