Alexa

মেঘনাঘাটে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করবে সামিট-জিই

মেঘনাঘাটে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করবে সামিট-জিই

মেঘনাঘাটে সামিট-জিই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অতিথিরা/ ছবি: বার্তা২৪.কম

নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাটে ৫৮৩ মেগাওয়াট (ডুয়েল ফুয়েল) বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন কেন্দ্র স্থাপন করবে সামিট-জিই কনসোটিয়াম। এই লক্ষ্যে ক্রয় চুক্তিসহ (পিপিএ) পাঁচটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এই কনসোর্টিয়াম।

বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) বিদ্যুৎ ভবনে পিডিবির সঙ্গে ক্রয় চুক্তি (পিপিএ) ও ভূমি ইজারা চুক্তি (এলএলও), তিতাস গ্যাসের সঙ্গে গ্যাস সরবরাহ চুক্তি (জিএসএ), বিপিসির সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ চুক্তি (এফএসএ) এবং পিজিসিবির সঙ্গে বাস্তবায়ন চুক্তি (আইএ) সই করা হয়। সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কর্মকর্তারা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

২২ বছর মেয়াদী এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি গ্যাস, এলএনজি অথবা ডিজেল দিয়ে চালানো হবে। গ্যাসে চালানো হলে প্রতি ইউনিট দুই দশমিক ৯৫ টাকা, এলএনজি হলে পাঁচ দশমিক ৪৪ টাকা ও ডিজেলে ১২ দশমিক ৬০ টাকা দর ধরা হয়েছে।

সামিট গ্রুপ মেঘনাঘাটে ইতোপুর্বে একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করেছে। সেখানে গ্যাসের অভাবে বেশিরভাগ সময়ে ডিজেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। সে কারণে ব্যয়বহুল ডিজেল ব্যবহারের সম্ভাবনা বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

২০২২ সালে উৎপাদনে আসার কথা রয়েছে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির। সামিট গ্রুপের শেয়ার রয়েছে ৮০ শতাংশ অন্যদিকে আমেরিকান কোম্পানি জিই এর শেয়ারের পরিমাণ ২০ শতাংশ।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী বলেন, ‘দশ বছর আগে বিশ্বব্যাংক বলেছিলো, অন্ধকার দূর করতে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করছে। এখন সময় বদলে গেছে, এক সময় অনেকে বিদ্যুৎ খাতের সমালোচনা করতো। এখন আর সমালোচনা নেই।’

বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, ‘সর্বশেষ বছরটি বিদ্যুৎ খাতের জন্য খুবই উল্লেখযোগ্য ছিল। এই বছরে চার হাজার ২৬ মেগাওয়াট নতুন বিদ্যুৎ যুক্ত হয়েছে গ্রিডে। এর মধ্যে ৫৬ শতাংশ এসেছে বেসরকারি খাত থেকে।

আমেরিকান রাষ্ট্রদূত রবার্ট আর মিলার বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা রয়েছে। খুব শিগগিরই মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে।’

পিডিবি চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ বলেন, ‘দুই পক্ষের বিশেষ করে পিডির লোকজনের দরাদরির কারণে কম দরে চুক্তি হয়েছে।’

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ খান, জ্বালানি বিভাগের সচিব আবু হেনা রহমাতুল মুনিম জিই গ্যাস পাওয়ারের চেয়ারম্যান জন রাইস প্রমুখ।

সামিট গ্রুপ দেশের প্রথম বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করে ১৯৯৮ সালে। বর্তমানে কোম্পানিটি দুই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। ২০১৭ সালের হিসেব অনুযায়ী, বেসরকারি খাতে উৎপাদিত বিদ্যুতের মধ্যে সামিট গ্রুপ একাই উৎপাদন করছে ২০ শতাংশ। যা দেশের মোট উৎপাদনের ৬ শতাংশের সমান।

আপনার মতামত লিখুন :

অর্থনীতি এর আরও খবর