বিজিএমইএ নির্বাচন: জয় পেতে মরিয়া দুই পক্ষই

ঊর্মি মাহবুব, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

পাঁচ বছর পর নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালনা পর্ষদ। আর তাই নির্বাচনে জয় পেতে মরিয়া ফোরাম-পরিষদ জোট ও স্বাধীনতা পরিষদ। ভোটার টানতে দুই পক্ষেরই তৎপরতা রয়েছে চোখে পড়ার মতো।

এরই মধ্যে পোশাক শিল্পের মালিকদের সঙ্গে ওয়ান টু ওয়ান বৈঠক করছেন ফোরাম-পরিষদ জোট ও স্বাধীনতা পরিষদের নেতৃবৃন্দ। কেউ বা বৈঠকের জন্য বেছে নিচ্ছেন পাঁচ তারকা হোটেল কেউ বা আবার যাচ্ছেন ভোটারদের নিজ কার্যালয়েই।

শুধু তাই নয় নির্বাচনে জয় পাওয়ার জন্য প্রার্থীরা বিপুল অঙ্কের অর্থও ব্যয় করছেন বলে জানা যায়। নাম না প্রকাশ করার শর্তে বিজিএমইএ এর ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মূলত অর্থ ব্যয় করছেন দুই প্যানেলের নেতারা।

ফোরাম-পরিষদ জোটের প্যানেলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মোহাম্মাদী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবানা হক। অন্যদিকে স্বাধীনতা পরিষদের প্যানেলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডিএসএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: জাহাঙ্গীর আলম।

জানা যায়, ফোরাম-পরিষদ জোটের প্রার্থীদের অনেককেই আর্থিক সহায়তা করছেন রুবানা হক। ঠিক তেমনি স্বাধীনতা পরিষদের ২৬ জন প্রার্থীর প্রায় বেশিরভাগেরই নমিনেশন ফরম ও সদস্যপদ নবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সরবরাহ করেছেন মো: জাহাঙ্গীর আলম। বিজিএমইএ এর সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, ইতোমধ্যে প্রার্থীরা অর্ধ কোটি টাকারও বেশি অর্থ খরচ করেছেন।

তবে এসব বিষয় সত্য নয় বলে দাবি করেছেন স্বাধীনতা পরিষদের নেতা মো: জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘আমাদের দিক থেকে যারা প্রার্থী হয়েছেন তারা নিজেরাই নিজেদের নমিনেশন ফরম কিনেছেন। সবাই এক সাথে গিয়ে ফরম কেনায় অনেকেই ভেবেছেন যে, সবার টাকাই আমি দিয়েছি। আমি শুধু চেয়েছিলাম বিজিএমইএ-তে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ফিরে আসুক।’

অন্যদিকে আগে যখন বিজিএমইএ-তে নির্বাচন হতো, তখন ঢাকা কেন্দ্রিক যে উত্তেজনা বিরাজ করতো তা এখন ছড়িয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম অঞ্চলেও। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৯ পরিচালকের ভোটের জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন উভয় পক্ষই। এত যেন বেশ কিছুটা স্বস্তিওপাচ্ছেন চট্টগ্রামের পোশাক শিল্পের মালিকা।

তবে ফোরাম-পরিষদ জোটের চট্টগ্রাম অঞ্চলের ভোট ব্যাংকে ভেঙে দিতে চায় স্বাধীনতা পরিষদ। কিন্তু স্বাধীনতা পরিষদের এই ইচ্ছা কখনোই বাস্তবে রূপান্তরিত হতে দেবেন না বলে জানিয়েছেন ফোরাম-পরিষদ জোটের প্যানেল লিডার রুবানা হক।

তিনি বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘ফোরাম ও পরিষদের সমঝোতা আগেও ছিল এখনো আছে। স্বাধীনতা পরিষদ নির্বাচন করবে ভালো কথা। কিন্তু জয় আমাদেরই হবে, এখানে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ সাধারণ ভোটাররা আমাদের চেনেন, জানেন। আমরা যে পোশাক শিল্পের কল্যাণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো, তাও তারা নিশ্চিত। তাই তারা আমাদের পক্ষেই রয়েছেন।’

আসছে ৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে বিজিএমইএ এর নির্বাচন। সাধারণ ভোটাররা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন ঢাকা অঞ্চলের ২৬ জন পরিচালককে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৯ জন পরিচালক ইতোমধ্যেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করছেন। আর এই ৩৫ জন পরিচালক মিলে ১৪ এপ্রিল নির্বাচিত করবেন বিজিএমইএ এর নতুন সভাপতি।

আপনার মতামত লিখুন :