Barta24

রোববার, ১৬ জুন ২০১৯, ২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

আর্থিক ক্ষমতা না থাকলেও গৃহ ঋণ নিচ্ছেন কর্মচারীরা

আর্থিক ক্ষমতা না থাকলেও গৃহ ঋণ নিচ্ছেন কর্মচারীরা
ছবি: সংগৃহীত
আসিফ শওকত কল্লোল
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতিগুলোর প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ১০ গ্রেডের এক কর্মচারী অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ মন্ত্রণালয়ের গৃহ ঋণ নির্মাণ কোষে আবেদন করেছেন। সংগঠনের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও সরকারি কর্মচারীরা ব্যাংক ব্যবস্থা মাধ্যমে গৃহ নির্মাণ ঋণ নেওয়া শুরু করেছেন।

অর্থ বিভাগ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুনিরুল আলম বলেন , ‘এতো বেশি সুদ ও কিস্তিতে সরকারি গৃহ ঋণ নেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আমরা চাই, বাংলাদেশ ব্যাংক যেমন নিজস্ব কর্মচারী ও কর্মকর্তাকে মাত্র ৪ শতাংশ সুদে গৃহ ঋণ দেয় । আমরাও সে রকম একটা সুযোগ চাই ।‘

তিনি বলেন, ‘কর্মকর্তারা কোন সুদ ছাড়াই গাড়ি কিনেছে। আর গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রতিমাসে ৫০ হাজার টাকা পেয়ে থাকে। তারা ৭৫ হাজার টাকা গৃহ ঋণ নিলে কিস্তিটা চালাতে পারে। আমরা বেতনের টাকা দিয়ে এ গৃহ ঋণের কিস্তি শোধ করতে পারি না। যদি দরকার পড়ে আমরা এই ব্যাপারে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করব।‘

অর্থ বিভাগ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি এনামুল হক বলেন, ‘এ ঋণের কর্তন পদ্ধতিও আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্তৃক গৃহীত ঋণের আসল কর্তন শেষে সুদ কর্তন করা হয়। কিন্তু, আমাদের জন্য উক্ত ব্যবস্থা রাখা হয়নি। আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায় অভিন্ন নীতিমালার আলোকে গৃহ নির্মাণ ঋণ পেতে চাই।‘

মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মোঃ রফিকুল ইসলাম ৫ শতাংশ সুদে অগ্রণী ব্যাংক রমণা কর্পোরেট শাখা থেকে ৩০ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার জন্য গৃহ নির্মাণ ঋণ কোষে আবেদন করেছেন। তিনি মিরপুরের পূর্ব কান্দা মাজার রোড ৯ তালা বিল্ডিংয়ের সপ্তম তালা ১১৫০ বর্গফুট ফ্ল্যাটটা কিনতে চাচ্ছেন। তার মাসিক বেতন ২১ হাজার ৪৭০ টাকা। আর তার গৃহ ঋণের হিসেব অনুযায়ী মাসিক কিস্তি আসবে ১৯ হাজার ৪১৮ টাকা। এখন পর্যন্ত সরকারি সোনালী , জনতা , অগ্রণী , রূপালী এবং বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফিন্যান্স কর্পোরেশনের কাছ থেকে ৩৪ জন কর্মকর্তা ও একজন কর্মচারী ঋণ গ্রহণ করার জন্য আবেদন করেছেন। প্রায় ৩০ জন কর্মকর্তা ঋণ গ্রহণ করেছেন।

২০১৮ সালের অক্টোবরের ১ তারিখে সরকারের চালু করা গৃহ ঋণের সুবিধার আওতায় মাত্র ৫ শতাংশ সরল সুদে তারা ৭৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা গৃহ নির্মাণ ঋণ নিতে পারছেন।

গত বছর ৩০ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয় থেকেসরকারি কর্মচারীদের জন্য ব্যাংকিং-ব্যবস্থার মাধ্যমে গৃহ নির্মাণ ঋণ প্রদান নীতিমালা-২০১৮প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হয়।

সেখানে বলা হয়, ‘চাকরি স্থায়ী হওয়ার পাঁচ বছর পর থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা এই ঋণ পাওয়ার যোগ্য হবেন। আর আবেদনের জন্য সর্বোচ্চ বয়সসীমা হবে ৫৬ বছর।‘

এ ঋণের সীমা ঠিক করা হয়েছে ২০ লাখ থেকে ৭৫ লাখ টাকা। ঋণ পরিশোধের জন্য সর্বোচ্চ সময় হবে ২০ বছর।

এর আগে গত বছর গৃহ নির্মাণ ঋণের ওয়ার্কিং কমিটির কর্মচারীরা অভিযোগ করেছেন এ ঋণ গ্রহণের আর্থিক ক্ষমতা তাদের নেই। তারা বলেছেন, ‘মাসিক বেতন থেকে ঋণের কিস্তি দেয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আর কিস্তি প্রদান করলে সারা মাস জুড়ে না খেয়ে থাকতে হবে। মোট ২১ লাখ সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে প্রায় ৭০ ভাগ কর্মচারী।‘

১০তম গ্রেডের এক কর্মচারী বলেন, ‘প্রস্তাবিত গৃহ ঋণ নীতিমালা ৩০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে প্রতিমাসে ২০ হাজার টাকা কিস্তি দিতে হলে প্রতি মাসে বেতন বাকি থাকে ৭৮৬৬.৮০ টাকা। অন্যদিকে ২০ গ্রেডের কর্মচারী প্রস্তাবিত গৃহ ঋণ নীতিমালা আওতা সর্বনিম্ন ২০ লাখ টাকা ঋণ নিলে প্রতিমাসে তাকে ১৩ হাজার ৩৩৫ টাকা ঋণের কিস্তি দিলে প্রতি মাসে বেতনের অবশিষ্ট থাকবে ২৬৮১ টাকা।‘

আপনার মতামত লিখুন :

৫১ কোটি টাকার স্বর্ণ বৈধ করেছেন ব্যবসায়ীরা

৫১ কোটি টাকার স্বর্ণ বৈধ করেছেন ব্যবসায়ীরা
স্বর্ণ মেলায় ব্যবসায়ীরা, ছবি: বার্তা২৪.কম

তিন দিনব্যাপী ‘স্বর্ণ মেলা-২০১৯'র প্রথম দুদিনে মোট ৫১ কোটি টাকার সোনা, রূপা ও ডায়মন্ড বৈধ করেছেন ব্যবসায়ীরা। ঢাকা ও চট্টগ্রামের ৩৬৬ জন ব্যবসায়ী ভরি প্রতি এক হাজার টাকা করে কর দিয়ে অবৈধ স্বর্ণ বৈধ করেছেন। এছাড়া ডায়মন্ডের ভরি প্রতি কর হচ্ছে ৬ হাজার ও রুপার ৫০ টাকা।

বিষটি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা। তিনি বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'স্বর্ণ মেলায় কেবল ঢাকাতেই ২৫০ জন স্বর্ণ ব্যবসায়ী ৫০ কোটি টাকার বেশি স্বর্ণ বৈধ করেছেন। এর মধ্যে সোমবার ১৭৮ জন ২৫ কোটি টাকার বেশি দিয়েছেন।'

মেলার প্রথমদিন রোববার (২৩ জুন) বাজুস সভাপ‌তি গঙ্গা চরণ মালাকার, সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়ালাসহ ৭২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ২৫ কোটি টাকার স্বর্ণ বৈধ করেছেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য (কর ও প্রশাসন) কানন কুমার রায়।

তিনি বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'মেলায় ব্যবসায়ীদের সাড়া পেয়েছি। প্রথমদিন ব্যবসায়ীরা কর দিতে নয়, বুঝতে এসেছেন। অনেকে ফরম নিয়েছেন। আগামী দুদিন প্রত্যাশা অনুসারে মেলায় কর দেবেন ব্যবসায়ীরা।'

আরও পড়ুন: ২৫ কোটি টাকার স্বর্ণ বৈধ করেছেন ব্যবসায়ীরা

এ ছাড়াও বাণিজ্যিক নগরী চট্টগ্রামে ৬৬ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান মোট ৬৫ লাখ ৬৪ হাজার টাকার স্বর্ণ বৈধ করেছেন। এনবিআর ও বাজুসের যৌথভাবে আয়োজিত মেলায় ৪০০ কোটি টাকা কর আহরণ হবে বলে প্রত্যাশা করা হয়েছে।

২৩ জুন শুরু হওয়া এ মেলা চলবে মঙ্গলবার (২৫ জুন) পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মেলা চলবে। দেশের আট বিভাগে এই স্বর্ণ মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

রোববার সকালে মেলার উদ্বোধন করেন এনবিআরের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। তিনি বলেন, 'তৈ‌রি পোশাক ও চামড়া শি‌ল্পের মতো যারা স্ব‌র্ণের কাঁচামাল রফতা‌নির উদ্দেশে আমদা‌নি কর‌বেন, তা‌দের বন্ড সু‌বিধা‌ দেওয়া হবে।'

এ সময় এন‌বিআর চেয়ারম্যান আরও ব‌লেন, 'যারা বন্ড সু‌বিধা পা‌বেন, তাদের আমদানি করা সব স্বর্ণ রফতা‌নি কর‌তে হ‌বে। বন্ড সু‌বিধায় আনা স্বর্ণ খোলা বাজা‌রে বি‌ক্রি করা যা‌বে না।'

সাধারণ মানুষ বি‌দেশ থে‌কে স‌র্বোচ্চ ১০০ গ্রাম স্বর্ণ আমদা‌নি কর‌তে পার‌বেন। এর চে‌য়ে এক গ্রামও বে‌শি আ‌নলে তা বা‌জেয়াপ্ত করা হ‌বে। ত‌বে ব্যবসায়ীরা বি‌দেশ থে‌কে স্বর্ণালঙ্কার আমদা‌নি কর‌তে পার‌বে না ব‌লে জানান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া।

প্রতারণার উদ্দেশে ‘ক্যারিয়ার বিডি’র বিজ্ঞাপন

প্রতারণার উদ্দেশে ‘ক্যারিয়ার বিডি’র বিজ্ঞাপন
ছবি: সংগৃহীত

‘ক্যারিয়ার বিডি লিমিটেড প্রকল্পের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিভাগে চাকরি’ শিরোনামে বিভিন্ন পদে ১৯০ জন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। যা দৈনিক জনকণ্ঠে মার্চের ১৯ তারিখে প্রকাশিত হয়।

এ বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগের কোনো সম্পর্ক নেই। দেশের নিরীহ মানুষের সঙ্গে প্রতরণা করাই এর উদ্দেশ্য বলে দাবি করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

‘ক্যারিয়ার বিডি লিমিটেডে’র এ হীন প্রচেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের সুনির্দিষ্ট তথ্যসহ নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থায় বা থানায় এবং বিদ্যুৎ বিভাগের ৯৫১৩৩৬৪ নম্বরে অথবা [email protected] ই-মেইলে জানানোর জন্য অনুরোধ করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

এছাড়া গত ১৯ মার্চ দ্যা ডেইলি স্টার ও দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকায় প্রকাশিত বিদ্যুৎ বিভাগের বিভিন্ন পদে ১৭টি শূন্য পদ পূরণের জন্য দেওয়া বিজ্ঞপ্তি অনুসারে নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র