Alexa

পুঁজিবাজার

আইপিওর বাজার চাঙ্গা, শেয়ার পেলেই কয়েক গুণ লাভ

আইপিওর বাজার চাঙ্গা, শেয়ার পেলেই কয়েক গুণ লাভ

ছবি: বার্তা২৪.কম

প্রায় এক দশক ধরে দেশের দুই পুঁজিবাজার ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই ও সিএসই) সেকেন্ডারি মার্কেটে মন্দা অব্যাহত থাকলেও প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) বাজার চাঙ্গা রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের ফলে দিনদিন আইপিওর বাজার জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তাতে পুঁজিবাজারের সাড়ে ২৮ লাখ বিনিয়োগকারীর মধ্যে এখন ১৭ লাখই আইপিওতে আবেদন করছেন।

ডিএসই সূত্রের তথ্যমতে, এ সময়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানিগুলোতে সর্বনিম্ন সাত গুণ থেকে ৫৪ গুণ পর্যন্ত আবেদন জমা পড়েছে। লেনদেন শুরু হওয়ার পর সর্বনিম্ন পাঁচ গুণ থেকে ১৪ গুণের বেশি টাকা মুনাফা পেয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। অর্থাৎ ১০ টাকার শেয়ার (বিবিএস ক্যাবলস) ১৫৫ টাকা বিক্রি করেছে বিনিয়োগকারীরা।

২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ২০ মার্চ পর্যন্ত পুঁজিবাজারে এই চিত্র দেখা গেছে।

অপরদিকে ২০১০ সালের ভয়াবহ ধসের পর থেকে সেকেন্ডারি মার্কেট মন্দা অব্যাহত রয়েছে। ফলে দীর্ঘ দশ বছর ধরে মুনাফার পরিবর্তে বিনিয়োগকারীরা পুঁজি হারাচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্রোকারেজ হাউজ এবং বাজার সংশ্লিষ্ট অন্যরা। চাকরি হারাচ্ছেন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউজগুলোর ট্রেডাররা।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুঁজিবাজার মন্দা কিংবা চাঙ্গা যেমনই থাকুক না কেন প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের শেষ নেই। আইপিওতে আসা কোম্পানিগুলোর ব্যবসা কেমন যাচ্ছে,আগামীতে কেমন হবে, কোন দামে কেনা উচিত- কোনো দিকেই ভ্রুক্ষেপ নেই বিনিয়োগকারীদের।

তারা বলছেন, সেকেন্ডারি মার্কেটে উত্থান-পতন নিয়ে অনেক বিনিয়োগকারীর মধ্যে শঙ্কা কাজ করে। বিপরীতে প্রায় শূন্য ঝুঁকির বিনিয়োগ আইপিওতে তাদের আগ্রহ অনেক বেশি। সেটি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান সব শ্রেণীর বিনিয়োগকারীর ক্ষেত্রেই কম বেশি সত্য। কারণ আইপিওতে বিনিয়োগ করলে কোনো লোকসান নেই। বরং শেয়ার পেলেই কয়েগুণ মুনাফা।

ডিএসইর পরিচালক রকিবুর রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আইপিওতে বিনিয়োগ ঝুঁকিমুক্ত। পেলে অনেক লাভ। আর না পেলে লোকসান নেই, তাই বিনিয়োগাকারীদের অধিকাংশই আইপিওতে বিনিয়োগ করেন। ফলে ভাল-খারাপ দুই প্রকার কোম্পানিতে আবেদনের হিড়িক পড়ে।‘

ডিএসইর তথ্যমতে, ২০১৬ সালে ডাগন সোয়েটার অ্যান্ড স্পিনিং লিমিটেড কোম্পানির শেয়ারে ২১ দশমিক ৮৯ গুণ আবেদন পড়ে বিনিয়োগকারীদের।

একই বছর আরও সাতটি কোম্পানি আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আসে। তার মধ্যে ডরিন পাওয়ার জেনারেশন ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড সিস্টেমের শেয়ারে ১১ গুণ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির শেয়ারের ৩৯ দশমিক ৯৮ গুণ, ইভেন্সি টেক্সটাইলের ৩২ দশমিক ৯৯ গুণ, দ্যা একমি ল্যাব্রোটারিজে ছয় দশমিক ৭৪ গুণ, ইয়াকিন পলিমারে ৪৪ দশমিক ৫৫ গুণ, ফরচুন সুজের ৪২ দশমিক ১৯ গুণ ও প্যাসিফিক ডেনিমসে ২১ দশমিক ১১ গুণ আবেদন জমা পড়ে।

এর পরের বছর ২০১৭ সালে ছয়টি কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। এ বছরে প্রয়োজনের তলনায় ২২৭ দশমিক ৫০ গুণ বেশি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে শিপইয়ার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের শেয়ার পেতে ৫৪ দশমিক ৩৭ গুণ বেশি আবেদন জমা পড়ে।

একইভাবে নূরানী ডাইং অ্যান্ড সোয়েটারে শেয়ারে ২৮ দশমিক ১২ গুণ, বিবিএস ক্যাবলসের শেয়ার পেতে ৪৮ দশমিক শূন্য চার গুণ, আমরা নেটওয়াকর্স এর শেয়ার পেতে ১৮ দশমিক শূন্য সাত গুণ ও ওইমেক্সের শেয়ার পেতে ৪১ দশমিক ৪৭ গুণ আবেদন জমা পড়ে।

২০১৮ সালে ১৩ কোম্পানিতে ৩০০ গুণের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে কুইন সাউথ টেক্সটাইলের শেয়ার পেতে ৪৩ দশমিক ৪৪ গুণ, এডভেন্ট ফার্মার ৩৫ দশমিক ২৮ গুণ, ইনটাকো রিফিউলিং স্টেশন ২৫ দশমিক ৫৫ গুণ, বসুন্ধরা পেপার মিলসে ৯ দশমিক ১১ গুণ, এসকে স্ট্রিম অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের ২১ দশমিক ৮০ গুণ।

একইভাবে আমান কটন ফাইবারর্সের ১১ দশমিক ৬৪ গুণ, ভিএফ্স থ্রেড ডাইংয়ে ২৯ দশমিক ৭০ গুণ, এমএল ডাইং লিমিটেডে ৩১ দশমিক ৩০ গুণ, সিলভা ফার্মায় ২৫ দশমিক ৭৭ গুণ, ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালসে ৩৪ দশমিক ২৪ গুণ, কাট্টালি টেক্সটাইলে ২৫দশমিক ১৮ গুণ, এসএস স্টিল লিমিটেডে ১৬ দশমিক ২৪ গুণ ও জেনেক্স ইনফোসেস প্রায় ৩৮ গুণ আবেদন জমা পড়ে।

এছাড়াও এসকোয়্যার নিট কোম্পজিটে ৯ গুণ, সিলকো ফার্মাসিটিউক্যালসের কয়েক গুণ বেশি আবেদন জমা পড়ে। এছাড়াও নিউ লাইন ক্লোথিং লিমিটেডে ২৮ গুণ আবেদন ও রানার অটোমোইলে ২০ গুণ বেশি আবেদন জমা পড়ে ২০১৯ সালের আইপিওগুলোতে।

এদিকে ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সময়ে সর্বনিম্ন আট দশমিক ১৯ গুণ থেকে সবোর্চ্চ ৭৩ দশমিক ৯৩ গুণ আবেদন জমা পড়েছে বলে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

আপনার মতামত লিখুন :