Alexa

পুঁজিবাজার থেকে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা হাওয়া!

পুঁজিবাজার থেকে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা হাওয়া!

ছবি: বার্তা২৪

মাহফুজুল ইসলাম, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম

আস্থা ও তারল্য সংকটে আবারও বড় ধরনের সংকটে পড়েছে দেশের পুঁজিবাজার। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অনৈতিকভাবে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার বিক্রি এবং প্লেসমেন্ট বাণিজ্যসহ বেশকিছু ইস্যুতে এ সংকট তৈরি হয়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) তথ্য মতে, গত ২৭ জানুয়ারির পর থেকে এ পর্যন্ত উভয় পুঁজিবাজারের মূলধন কমেছে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ডিএসই’র কমেছে ৬ হাজার ১৬ কোটি ৯৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা ও সিএসই’র কমেছে ৬ হাজার ৬১২ কোটি ৮২ লাখ ৫ হাজার টাকা।

বাজার সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পুঁজিবাজারের এই সংকটে বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশসহ (আইসিবি) সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো ধরনের সাপোর্ট দিচ্ছে না। আর তাই সম্প্রতি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষকে আইসিবি’র মতো আরও ২-৩টি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ)। তবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বাজার পর্যবেক্ষণ করায় নতুন ফান্ডও আসছে না। বিপরীতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে অনেক কোম্পানি পুঁজিবাজার থেকে টাকা তুলছে।

তারা আরও অভিযোগ করেন, গত জানুয়ারি মাসে একটি কারসাজি চক্র বেশি দামে শেয়ার বিক্রি করে আবারও সুযোগের অপেক্ষায় বসে আছে। এই সময়ের মধ্যে তারা বিভিন্ন গুজব ছড়াচ্ছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা দিশেহারা হয়ে পড়ছেন।

ডিএসই ও সিএসই’র তথ্য মতে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে গত ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত পুঁজিবাজারে টানা উত্থান হয়েছে। এ সময় ডিএসই’র প্রধান সূচক ৫ হাজার পয়েন্ট থেকে বেড়ে ৬ হাজার পয়েন্টে পৌঁছায়। আর লেনদেন ৫০০ কোটি থেকে এক হাজার কোটি টাকা ছাড়ায়। কিন্তু গত ২৮ জানুয়ারি মুদ্রানীতির ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পুঁজিবাজারে দরপতন শুরু হয়। যা ফেব্রুয়ারি পেরিয়ে মার্চ মাসেও অব্যাহত রয়েছে। তবে এই দরপতন বড় সংকটে রূপ নিয়েছে গত ২০, ২১ এবং ২৪ মার্চ। এই তিনদিনে ডিএসই’র সূচক কমেছে ১১৯ পয়েন্ট। লেনদেন কমে ৪০০ কোটি টাকার নিচে নেমেছে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড একচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান ড. এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'এভাবে কোনো পুঁজিবাজার চলতে পারে না। এভাবে চললে পুঁজিবাজারের লক্ষ অর্জিত হবে না ও দেশের অর্থনীতিতে পুঁজিবাজার অবদান রাখতে পারবে না। তাই দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে একটি স্থিতিশীল পুঁজিবাজার গঠন করতে হবে।'

বিএসইসি’র নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সাইফুর রহমান বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'পুঁজিবাজারে উত্থান-পতন হবেই। এর পেছনে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কোনো ভূমিকা নেই। কারণ নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে কোনো ফান্ড নেই যে তারল্য সংকটের সময় বাজারে সাপোর্ট দেবে।'

তিনি আরও বলেন, 'বেশ কিছুদিন ধরে বাজারে তারল্য সংকট চলছে। হয়তো এ অবস্থা আরও কিছুদিন চলবে। কারণ রেগুলেটর তো আর মার্কেট মেকার না। তারপর বাজার স্থিতিশীল করতে যত ধরনের পলিসি দরকার তা করা হবে।'

ডিএসইর সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আহমেদ রশিদ লালী বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'তিন কারণে পুঁজিবাজারে মন্দা অব্যাহত রয়েছে। কারণগুলো হলো- উদ্যোক্তা-পরিচালকদের অনৈতিকভাবে শেয়ার বিক্রির ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়া, ব্যাংকের আমানতের সুদ হার বেশি হওয়ায় ডিপোজিট বাড়া এবং প্লেসমেন্ট বাণিজ্য।'

বিএসইসি’র নির্বাহী পরিচালক মো. মাহবুবুল আলম বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'বাংলাদেশর বিনিয়োগকারীরা এককভাবে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। বিভিন্ন গুজব কিংবা বড় বিনিয়োগকারীদের অনুসরণ করে তারা বিনিয়োগ করে, ফলে প্রতিনিয়তই বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।'

ডিবিএ’র সভাপতি শাকিল রিজভী বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'বাজার তারল্য সংকট থাকলেও একের পর এক আইপিও অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। তাতে কোম্পানির উদ্যোক্তারা বাজার থেকে শেয়ার ছেড়ে টাকা তুলে নিচ্ছেন। অথচ নতুন করে কোনো ফান্ড আসছে না। ফলে দরপতন অব্যাহত রয়েছে। তাই বাজারের স্বার্থে আপাতত আইপিওর অনুমোদন বন্ধ রাখা উচিৎ।'

অর্থনীতি এর আরও খবর