Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

রাজস্ব আয় কমায় বাজেট কমেছে ২২ হাজার ৩৬ কোটি টাকা

রাজস্ব আয় কমায় বাজেট কমেছে ২২ হাজার ৩৬ কোটি টাকা
ছবি: সংগৃহীত
আসিফ শওকত কল্লোল
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

চলতি অর্থবছরের জন্য সরকার চার লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার মূল বাজেট থেকে ২২ হাজার ৩৬ কোটি টাকা কাটছাট করে সংশোধিত  বাজেটের আকার দাঁড়িয়েছে চার লাখ ৪২ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা।

প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, শেয়ার মূলধন খাতে ১৫ হাজার টাকা সরকারি শেয়ার কিনতে কাজে লাগেনি আর বর্তমান অর্থবছরে দেশের রাজস্ব আয়ের পরিমাণ কমেছে অনেক বেশি।

সোমবার (১ এপ্রিল) ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে সংশোধিত বাজেট আদেশ জারি করেছে অর্থমন্ত্রণালয়। গতকাল রোববার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সংশোধিত বাজেট আদেশে স্বাক্ষর করেন। পরবর্তীতের সংশোধিত বাজেটটি পার্লামেন্টে বিল আকারে পাশ করে নেওয়া হবে।

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়  কমে যাওয়া ও উন্নয়ন বাজেটে বিদেশি ঋণের প্রত্যাশিত রাজস্বের চেয়ে কম বাজেটের আকার হ্রাস করার প্রধান কারণ হতে পারে জুন মাসে সরকারের নতুন বাজেট ঘোষণার।

রাজস্ব বোর্ড চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে এক লাখ ৫১ হাজার ২০৪ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য্য করা হলেও এক লাখ ১৬ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে পেরেছে।

চলতি অর্থবছরে মোট জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের লক্ষ্যমাত্রা ছিল দুই লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকার এর  বিপরীতে প্রথম সাত মাসে মোট আয়  বৃদ্ধির হার মাত্র সাত দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ। সংশোধিত বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে মাত্র দুই লাখ ৮০ হাজার টাকা।

সরকার ইতোমধ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার বিদেশি প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ কমানো হয়েছে।

এখন বছরে ৫১ হাজার কোটি টাকা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি প্রকল্প সহায়তা বিদেশি উৎস থেকে আসবে এবং দেশীয় উৎস থেকে এক লাখ ১৪ হাজার টাকা সরবরাহ করা হবে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির সংশোধিত বরাদ্দ দাঁড়াচ্ছে এক লাখ ৬৬ হাজার কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, সামগ্রিক বাজেট আকার প্রস্তাবিত সংশোধন পূর্ববর্তী আর্থিক বছরের তুলনায় কখনই বড় ছিল না।

২০১৭-১৮ সালে মূল বাজেট চার লাখ ২৬৬ টাকা সংশোধিত হয়েছে এক লাখ ৭১ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘গত কয়েক বছরে সরকার একটি বড় মার্জিন দ্বারা বাজেট সংশোধিত করা মানেই হচ্ছে সরকার লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।’

অর্থ বিভাগের নথি অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ সালে তিন লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকার মূল বাজেট সংশোধিত হয়েছে তিন লাখ ১৭ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা। এক বছর পরে বাস্তবায়নে দেখা যায় যে, মোট ব্যয় হয়েছে দুই লাখ ৬৯ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকা।

২০১৫-১৬ সালে বাজেট বাস্তবায়ন দুই লাখ ৬৪ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকার সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ও দুই লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা আসল অভিক্ষেপের বিপরীতে দুই লাখ ৩৮ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকা ছিল।

মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম উচ্চাভিলাষী বাজেটের অভিক্ষেপ ও বাস্তবায়নের হারের বড় দুর্যোগের জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষমতার অভাবকে দায়ী করছেন।

এসব অপরিকল্পিত পরিস্থিতির কারণে বাজেটের গুণগত মান হ্রাস পেয়েছে বলে মনে করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষমতা ও বাস্তববাদী অনুমান সরকারকে পরিস্থিতি যাচাই করতে সহায়তা করতে পারে।’

আপনার মতামত লিখুন :

এমডি খুঁজছে ডিএসই ও সিএসই

এমডি খুঁজছে ডিএসই ও সিএসই
পুঁজিবাজার ছবি: সংগৃহীত

ব্যবস্থাপনা পরিচালক অর্থাৎ (এমডি) খুঁজছে দেশের দুই পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ডিএসই কর্তৃপক্ষ এমডি নিয়োগে পত্রিকার পাশাপাশি ডিএসইর ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।

অন্যদিকে সিএসই দুই দফা বিজ্ঞাপন দেওয়ার পর এখনো তিন মাস সময় চেয়ে আবারও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কাছে আবেদন করেছে এমডির খুঁজে।

দুই স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ডিএসই সূত্র মতে, চলতি বছরের ১১ জুলাই ডিএসই’র এমডি পদ শূন্য হয়। গত ৭ আগস্ট ডিএসই কর্তৃপক্ষ নতুন এমডি নিয়োগের জন্য ডেইলি অবজারভার, প্রথম আলো পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে। তাতে আগামী ১ সেপ্টেম্বর রোববারের মধ্যে আবেদন করতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ দুই দফা সময় বৃদ্ধির পর আবারও আবেদনের সময় বাড়ানোর জন্য কমিশনের কাছে আবেদন করেছে। বিষয়টি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে নিশ্চিত করেছেন সিএসই’র ভারপ্রাপ্ত এমডি গোলাম ফারুক।

আবেদনের জন্য ক্লিক করুন: https://www.dsebd.org/pdf/dse-md-2019.pdf

সূচক কমেছে উভয় পুঁজিবাজারে

সূচক কমেছে উভয় পুঁজিবাজারে
শেয়ার বাজারের প্রতীকী ছবি

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস বুধবার (২১ আগস্ট) সূচক কমে শেষ হয়েছে এ দিনের লেনদেন কার্যক্রম। এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৪ পয়েন্ট এবং সিএসইর প্রধান সূচক সিএসসিএক্স কমেছে ৩ পয়েন্ট।

এদিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৫৪২ কোটি ৫৫ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। গত কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৪৭২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। আর সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ২১ লাখ টাকা। গত কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৪৪ কোটি ২০ লাখ শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট।

ডিএসই ও সিএসইর ওয়েবসাইট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ডিএসই

এদিন ডিএসইতে লেনদেনের শুরুতে সূচক বাড়ে। লেনদেনের শুরু হয় সাড়ে ১০টায়, শুরুতেই সূচক কমে যায়। প্রথম ৫ মিনিটেই ডিএসইএক্স সূচক বাড়ে ৬ পয়েন্ট। বেলা ১০টা ৪০ মিনিটে সূচক বাড়ে ৯ পয়েন্ট। বেলা ১০টা ৪৫ মিনিটে সূচক ১৪ পয়েন্ট বাড়ে। বেলা ১০টা ৫০ মিনিটে সূচক ১৭ পয়েন্ট বাড়ে। বেলা ১০টা ৫৫ মিনিটে সূচক ১৮ পয়েন্ট বাড়ে। এরপর থেকে সূচক বাড়ার প্রবণতা কমতে থাকে। বেলা ১১টায় সূচক ১২ পয়েন্ট বাড়ে। বেলা সাড়ে ১১টার পর সূচক নেতিবাচক হতে শুরু করে। বেলা ১২টায় সূচক কমে ৫ পয়েন্ট। বেলা সোয়া ১২টায় সূচক গত কার্যদিবসের চেয়ে নেতিবাচক হয়ে যায়। এ সময়ে সূচক কমে ৫ পয়েন্ট। এরপর সূচক ওঠানামা করতে থাকে। বেলা ১টায় সূচক ২ পয়েন্ট বাড়ে। বেলা ২টায় সূচক ১ পয়েন্ট কমে। কিন্তু বেলা আড়াইটায় লেনদেন শেষে ডিএসইএক্স সূচক ৪ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২২৩ পয়েন্টে অবস্থান করে।

অন্যদিকে, ডিএসই-৩০ সূচক ৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে এক হাজার ৮৪১ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক প্রায় এক পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে এক হাজার ২০৪ পয়েন্টে। এদিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৫৪২ কোটি ৫৫ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড।

লেনদেন শেষে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ১২৩টির, কমেছে ১৯৪টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৭টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।

বুধবার দাম বৃদ্ধির ভিত্তিতে ডিএসই’র শীর্ষ দশ কোম্পানির তালিকায় আছে- ইউনাইটেড পাওয়ার, ওরিয়ন ইনফিউশন, জেএমআই সিরিঞ্জ, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, মুন্নু সিরামিকস, বিকন ফার্মা, কেপিসিএল, সিলকো ফার্মা এবং আলহাজ টেক্সটাইল।

সিএসই

অন্যদিকে, লেনদেন শেষে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রধান সূচক সিএসইএক্স ৩ পয়েন্ট কমে ৯ হাজার ৬৯৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। সিএসই-৩০ সূচক ১৫ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৩২ পয়েন্টে এবং সিএএসপিআই সূচক এক পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ৯৭৭ পয়েন্টে অবস্থান করে।

লেনদেন শেষে সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ২১ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট।

এদিন দাম বাড়ার ভিত্তিতের সিএসই’র শীর্ষ কোম্পানিগুলো হলো- আরএকে সিরামিকস, সায়হাম টেক্সটাইল, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, বিচ হ্যাচারি, জেনেক্সিল, মোজাফফর হোসেন স্পিনিং, ফ্যামিলি টেক্সটাইল, কেয়া কসমেটিকস, তুংহাই নিটিং এবং স্টান্ডার্ড সিরামিকস।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র