Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

মালামাল সরিয়ে নিতে আবেদন করবে বিজিএমইএ

মালামাল সরিয়ে নিতে আবেদন করবে বিজিএমইএ
বিজিএমইএ ভবন ভাঙার প্রস্তুতি চলছে, বার্তা২৪.কম
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
ঢাকা
বার্তা ২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

হাতিরঝিলের বিষফোড়া খ্যাত বিজিএমইএ ভবন সরিয়ে নিতে কাজ শুরু করেছে রাজউক। ইতোমধ্যেই এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে সরকারি এই সংস্থাটি। তবে ভবন সিলগালা করার সময় বিজিএমইএ’সহ ভবনটির ভেতরে থাকা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালামাল থেকে যায় ভেতরেই। আর সেই মালামাল সরিয়ে নিতে রাজউক বরাবর আবেদন করবে বিজিএমইএ।

বিজিএমইএ এর সূত্রে জানা যায়, ১২ এপ্রিলের মধ্যে ভবন খালি করে দেওয়ার বিষয়ে মুচলেকা দিয়েছিল বিজিএমইএ। তারপরও নানা কারণে সব মালামাল সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে, ডিবিএলসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান যাদের কার্যালয় ছিল বিজিএমইএ ভবনে তারা তাদের সব মালামাল সরিয়ে নিতে পারেনি ১৬ এপ্রিল সন্ধ্যার মধ্যে। অনেকের মালামাল ভবনের নিচের তলায় পরে রয়েছে। এর মধ্যে অনেক মূল্যবান মালামালও রয়েছে। আর তাই বিজিএমইএ এর পক্ষ থেকে মালামাল সরিয়ে নিতে আবেদন করা হবে রাজউকের কাছে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ঊর্ধ্বতনরা।

ঘটনার সত্যতার কথা জানা যায় বিজিএমইএ এর বর্তমান সভাপতি মো: সিদ্দিকুর রহমানের বক্তব্যেও। তিনি বুধবার বিজিএমইএ’র এর উত্তরার নতুন ভবনে গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, ভবনের ভেতরে থাকা মালামাল নিরাপদে সরিয়ে নিতে রাজউকের কাছে আবেদন করা হবে। শুধু তাই নয় এ বিষয়ে রাজউক সহায়তা করবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।

এসব বিষয়ে রাজউকের পরিচালক (প্রশাসন) খন্দকার অলিউর রহমান বিজিএমইএ ভবন সিলগালা করার সময়ই জানিয়েছিলেন যে, বিজিএমইএ এর ভেতরে থাকা মালামাল পুলিশ হেফাজতে থাকবে। এসব মালামালের বিষয়ে আইনগতভাবে সকল সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তবে উচ্চ আদালতের নির্দেশ ছিল ১২ এপ্রিলের মধ্যেই ভবন খালি করার। কিন্তু তারপরও বিজিএমইএ ভবন পুরোপুরি খালি না করায় সমালোচনার তৈরি হয়েছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে।

রাজউক থেকে জানা যায়, ভবন অপসারণের জন্য ২৪ এপ্রিলের মধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। শুধু তাই নয় দরপত্র জমা হওয়ার পর এক সপ্তাহের মধ্যেই উপযুক্ত প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করীম। পাশাপাশি তিন মাসের মধ্যেই অপসারণ হওয়া ভবনের ধ্বংসাবশেষও সরিয়ে ফেলা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি ।

প্রসঙ্গত ২০০৬ সালের ৮ অক্টোবর বিজিএমইএ ভবন উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। কিন্তু রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই কারওয়ান বাজার সংলগ্ন বেগুনবাড়ি খালে বিজিএমইএ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে উল্লেখ করে ২০১০ সাল ৩ অক্টোবর বিজিএমইএ ভবন কেন ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হবে না, তার কারণ জানতে চেয়ে হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে (সুয়োমোটো) রুল জারি করেন। ২০১১ সালের ০৩ এপ্রিল বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ তার রায়ে বিজিএমইএ ভবন ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন।

আপনার মতামত লিখুন :

এসবিসির পাওনা পরিশোধে ৪০ বিমা কোম্পানির গড়িমসি

এসবিসির পাওনা পরিশোধে ৪০ বিমা কোম্পানির গড়িমসি
সাধারণ বিমা করপোরেশন

সরকারি প্রতিষ্ঠান সাধারণ বিমা করপোরেশনের (এসবিসি) পাওনা পরিশোধে গড়িমসি করছে ৪০টি নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি। বিমা কোম্পানিগুলোর কাছে ৫৭২ কোটি ৫৯ লাখ ৬৬ হাজার ৫০১ টাকা পাওনা রয়েছে এসবিসির।

পুনঃবিমার প্রিমিয়ামের এই টাকা ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে পরিশোধের কথা ছিল। কিন্তু চলতি বছরের ১৫ জুলাইয়ের মধ্যেও তা পরিশোধ করেনি বিমা কোম্পানিগুলো।

পাওনা টাকা আদায়ে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কাছে অভিযোগ করেছে এসবিসি কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তাতেও খুব বেশি ফল পায়নি সরকারি প্রতিষ্ঠানটি।

নিময় অনুসারে ঝুঁকি কমাতে কোম্পানিগুলোর বিমার ওপর শতভাগ পুনঃবিমা করার বিধান রয়েছে। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ সাধারণ বিমা করপোরেশনে করা বাধ্যতামূলক। বাকি ৫০ শতাংশ পুনঃবিমা কোম্পানি ইচ্ছা করলে বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে করতে পারে।

পুনঃবিমার এ আইন অনুসারে ৪০টি বিমা কোম্পানির কাছে ৫৭২ কোটি ৫৯ লাখ ৬৬ হাজার ৫০১ টাকা পাবে এসবিসি কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বিমা কোম্পানিগুলো দীর্ঘদিন ধরে টাকা পরিশোধ করছে না। এতে এসবিসির পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিমাখাতও। বিমা কোম্পানির প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন গ্রাহকরা।

এসবিসি’র ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) জাকির হোসেন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, নিয়ম অনুসারে কোম্পানিগুলো এসবিসিকে পুনঃবিমার প্রিমিয়াম বাবদ এই টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কোম্পানিগুলো টাকা দিতে গড়িমসি করছে।

তিনি বলেন, আমরা পাওনা টাকা দ্রুত আদায়ের লক্ষ্যে চেষ্টা করছি। পাশাপাশি বিমা কোম্পানিগুলোর ক্লেইমগুলো পরিশোধ করছি। যাতে বিমা কোম্পানিগুলো দ্রুত প্রিমিয়াম পরিশোধ করে। আইডিআরএ’র মনিটরিং টিমকে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত তথ্য অনুসারে, এসবিসি’র সবচেয়ে বেশি বকেয়া রয়েছে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের কাছে ৫৬ কোটি ৫০ লাখ ৬ হাজার ৫৯ টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা প্রগতি ইন্স্যুরেন্সের কাছে ৪৭ কোটি ৮৬ লাখ ৩৮ হাজার ৭৫৯ টাকা, তৃতীয় অবস্থানে থাকা কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্সের কাছে ৪২ কোটি ১২ হাজার ৩১ হাজার ৬৪৭ টাকা পাওনা রয়েছে।

এছাড়াও চতুর্থ স্থানে থাকা ইসলামিক ইসন্স্যুরেন্সের কাছে ৩৩ কোটি ৭১ লাখ ৭৬ হাজার ৮৩টাকা ও পঞ্চম স্থানে থাকা ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্সের কাছে ৩৩ কোটি ৫৭ লাখ ২৩ হাজার ৯৬৪ টাকা পাওনা রয়েছে।

ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের কাছে ৩৩ কোটি ৭৬ লাখ ১৭ হাজার ৮৩ টাকা, জনতার কাছে ৩৩ কোটি ৪২ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকা, পিপলস ইন্স্যুরেন্সের ৩২ কোটি ৭ লাখ ৩১ হাজার ৮৭৩ টাকা, কর্ণফুলীর কাছে ২৬ কোটি ৬৬ লাখ ১২ হাজার ৩৫৪ টাকা, মেঘনার কাছে ২৬ কোটি ৯৮ লাখ ৬২ হাজার ৭৮০ টাকা, রূপালী ইন্স্যুরেন্সের কাছে ২৪ কোটি ৫৯ লাখ ৮১ হাজার ৪০৬ টাকা, ইস্ট ল্যান্ডের কাছে ১৮ কোটি ৫৫ লাখ ৩৬ হাজার ১২৯ টাকা, এশিয়ার কাছে ১৮ কোটি ৪১ লাখ ৫৭ হাজার ৬২৪ টাকা, ইসলামী কমার্শিয়ালের কাছে ১৭ কোটি ৩৩ লাখ ৬৫ হাজার ১১ টাকা, বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কাছে ১৬ কোটি ৩৮ লাখ ৯২ হাজার টাকা, গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের কাছে ১৫ কোটি ৫৮ লাখ ২ হাজার ৪৩৭ টাকা পাওনা রয়েছে এসবিসির।

এছাড়াও এশিয়া প্যাসিফিকের কাছে ১৪ কোটি ৫৬ লাখ ২২ হাজার ১৯১ টাকা, এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সের কাছে ১৪ কোটি ৫৩ লাখ ৩৮ হাজার ৯৯১ টাকা, সোনার বাংলার কাছে ২ কোটি ৭৮ লাখ২০ হাজার ৯৭ টাকা, রিপাবলিকের কাছে ১৩ কোটি ২০ লাখ ৮৫ হাজার ২৫০ টাকা, মার্কেন্টাইলের কাছে ১৪ কোটি ৫৪ লাখ ৮৯ হাজার ৩৮০ টাকা, সিটি’র কাছে ৮ কোটি ৬৪ লাখ ৩ হাজার ৯০৮ টাকা, প্রভাতীর কাছে ১০ কোটি ৮৯ লাখ ১৭ হাজার ৭৬২ টাকা, দেশ ইন্স্যুরেন্সের কাছে ৮ কোটি ৮৪ লাখ ৯ হাজার টাকা ও রিলায়েন্সের কাছে ১২ কোটি ৯৪ লাখ ৩১ হাজার ৭৬৫ টাকা পাবে এসবিসি।

১০ কোটি টাকার নিচে পাওনা কোম্পানিগুলোর মধ্যে অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স, বিডি করপোরেশন, বিডি ন্যাশনাল, সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স, ক্রিস্টালের, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স, ইস্টার্ন, ফেডারেল,গ্লোবাল, নিটলের, নর্দান, প্যারামাউন্ট, ফনিক্সের, প্রাইম, তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, ইউনাইটেড, ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স, স্ট্যান্ডার্ড, সাউথ এশিয়ার, সিকদার ইন্স্যুরেন্স, সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্স, পূরবী ইন্স্যুরেন্স এবং সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের পাওনা রয়েছে এসবিসি'র।

নাম না প্রকাশের শর্তে একাধিক কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, সাধারণ বিমা করপোরেশনের কাছে বিমা দাবি পাওনা রয়েছে। পাওনাগুলো সমন্বয় করা হলে খুব বেশি টাকা বাকি থাকবে না।

প্রাইম ব্যাংক ও এসএসএস-এর মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর

প্রাইম ব্যাংক ও এসএসএস-এর মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর
প্রাইম ব্যাংক ও এসএসএস-এর মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান

প্রাইম ব্যাংক ও সোসাইটি ফর সোশ্যাল সার্ভিস (এসএসএস)-এর মধ্যে আর্থিক অন্তর্ভূক্তি কার্যক্রমের আওতায় ১০ টাকার হিসাবধারীদের মাঝে ঋণ বিতরণের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

সম্প্রতি প্রাইম ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চীফ বিজনেস অফিসার মো: তৌহিদুল আলম খান, এফসিএমএ এবং সোসাইটি ফর সোস্যাল সার্ভিস (এসএসএস)-এর নির্বাহী পরিচালক মো: আব্দুল হামিদ ভূইয়া নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তি স্বাক্ষর করেন।

এ সময় উভয় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র