Barta24

বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯, ৯ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

চীনের ৪শ’ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেননি ডিএসইর শতাধিক সদস্য

চীনের ৪শ’ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেননি ডিএসইর শতাধিক সদস্য
ছবি: সংগৃহীত
মাহফুজুল ইসলাম
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা: কথা রাখেননি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ১০৭ সদস্য। গত বছর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, চীনা কনসোর্টিয়ামের কাছে বিক্রি করা ডিএসইর ২৫ শতাংশ শেয়ারের অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করবেন। আর তার জন্য সরকারকে দিতে হবে কর ছাড়।

সে অনুযায়ী সরকার ১০ শতাংশ কর ছাড় দিলেও কথা রাখেননি তারা। পুঁজিবাজারের ক্রান্তিকালে তারা এই টাকা অন্যখাতে বিনিয়োগ করছেন। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে এখন নতুন ফান্ডের বড় সংকট চলছে। এই সংকট থেকে উত্তোরণের জন্য অন্তত ৫-১০ হাজার কোটি টাকার ফান্ড প্রয়োজন। কিন্তু সেখানে খোদ ডিএসইর সদস্যরাই শেয়ার বিক্রি করে পুঁজিবাজার থেকে চলে যাচ্ছেন। ফলে পুঁজিবাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

ডিএসই সূত্র মতে, ডিএসইর শেয়ারের মালিক ২৫০ জন শেয়ারহোল্ডার। অর্থাৎ ২৫০ জন সদস্য। এর মধ্যে গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল পর‌্যন্ত ১৪৩ জন সদস্য পুঁজিবাজারে টাকা বিনিয়োগ করবে, এই শর্তে ১০ শতাংশ কর ছাড়ে ডিএসই থেকে টাকা ৫৩৭ কোটি উত্তোলন করেছেন।

তার মধ্যে ৫০-৬০ জন তাদের পুরো টাকাই বাজারে বিনিয়োগ করেছেন। বাকিরা বিনিয়োগ শর্ত মেনে বিনিয়োগ করছেন। কিন্তু ৯০ জন সদস্য পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করবেন না বলে ডিএসই থেকে টাকা উত্তোলন করেছেন। তাদের টাকার পরিমাণ সোয়া ৪শ’ কোটি টাকা।

অথচ বছরের প্রথম দিকে ডিএসই ও ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বলেছিলেন, কর ছাড় পেলে চীনা কনসোর্টিয়ামের কাছে শেয়ার বিক্রির ৯৪৭ কোটি টাকাই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করবেন। কিন্তু পুঁজিবাজারের এই ক্রান্তিকালে তারা অন্যত্র বিনিয়োগ করছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসইর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বার্তা২৪.কম-কে বলেন, পুঁজিবাজারের স্বার্থে গত বছর সবাই বলেছিলাম (১৫ শতাংশ) গেইন ট্যাক্স সম্পূর্ণ মওকুফ করলে বাজারে বিনিয়োগ করবো। কিন্তু সরকার তো সম্পূর্ণ কর মওকুফ করেনি। দ্বিতীয়ত, আমরা যারা বিনিয়োগ করেছি, তাদের সবারই টাকা এখন ১৫-২০ শতাংশ লস। তাহলে জেনে বুঝে ক্ষতির জায়গায় কেন বিনিয়োগ করতে আসবে মানুষ?

নাম না প্রকাশের শর্তে ডিএসইর ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তরা বলেন, এখনও পর‌্যন্ত ২৩৩ জন সদস্য চীনা কনসোর্টিয়ামের টাকা তুলে নিয়েছেন। বাকি রয়েছেন ১৭ জন। তাদের নানা জটিলতা রয়েছে। বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে টাকা না দিতে কমিশন নিষেধ করেছে। আর কয়েকজনের পারিবারিক বাধা রয়েছে। তবে ৯০ জন সদস্য চীনা কনসোর্টিয়ামের টাকা তুলে নিয়েছেন এবং তারা অন্য খাতে বিনিয়োগ করেছেন।

উল্লেখ্য, ডিমিউচ্যুয়ালাইজড স্টক এক্সচেঞ্জের কৌশলগত বিনিয়োগাকরী হিসেবে ডিএসইর ২৫ শতাংশ শেয়ার কিনে নেয় চীনের সেনজেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ। যা টাকার অংকে শেয়ারের মূল্য সাড়ে ৯শ’ কোটি টাকা। বাজারের চলমান আস্থা ও তারল্য সংকট দূর করে একটি স্থিতিশীল বাজার তৈরির লক্ষ্যে গত বছর এই টাকা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় ডিএসইর শেয়ারহোল্ডররা। তার জন্য তারা ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে এ টাকার ওপর থাকা ১৫ শতাংশ গেইন ট্যাক্স পুরোপুরি প্রত্যাহারের দাবি করেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের কাছে।

তিনি ন্যূনতম তিন বছর পুঁজিবাজারে বিনিয়োগসহ ছয়টি শর্ত মানলে ১০ শতাংশ কর মওকুফ দেওয়া হবে বলে নীতিমালা করেন দেন।

আপনার মতামত লিখুন :

পুঁজিবাজারে আবারো পতন

পুঁজিবাজারে আবারো পতন
ছবি: প্রতীকী

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস বুধবার (২৪ জুলাই) সূচক কমে লেনদেন চলছে। তবে গত কার্যদিবসে উভয় পুঁজিবাজারে সূচকে বড় উত্থান হয়। এদিন বেলা ১১টা পর্যন্ত ডিএসই’র প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৫ পয়েন্ট এবং সিএসইর প্রধান সূচক সিএসসিএক্স কমেছে ১১ পয়েন্ট।

এছাড়াও একই সময়ে ডিএসইতে মোট ৫৬ কোটি ২৭ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে এবং সিএসইতে এক কোটি ৭৩ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে।

ডিএসই ও সিএসই’র ওয়েবসাইট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ডিএসই

এদিন ডিএসইতে লেনদেনের শুরুতে সূচক কমে। লেনদেনের শুরু হয় সকাল সাড়ে ১০টায়, শুরুতেই সূচক কমে যায়। প্রথম ৫ মিনিটেই ডিএসইএক্স সূচক কমে ৫ পয়েন্ট। ১০টা ৪০ মিনিটে সূচক কমে ৯ পয়েন্ট। ১০টা ৪৫ মিনিটে সূচক কমে ২২ পয়েন্ট। ১০টা ৫০ মিনিটে সূচক ২৫ পয়েন্ট কমে যায়। এরপর থেকে সূচক কমার প্রবণতা কমতে থাকে। ১০টা ৫৫ মিনিটে সূচক ৯ পয়েন্ট কমে যায়। আর বেলা ১১টায় সূচক মাত্র ৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৭২ পয়েন্টে।

অন্যদিকে, ডিএসই-৩০ সূচক ১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করেছে এক হাজার ৮১২ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহসূচক ৪ পয়েন্ট কমে অবস্থান করেছে এক হাজার ১৬০ পয়েন্টে।

এদিন বেলা ১১টা পর্যন্ত ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৫৬ কোটি ২৭ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের। একই সময়ে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ১১৭টির, কমেছে ১৬২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪০টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।

এদিন বেলা ১১টা পর্যন্ত ডিএসইতে দাম বৃদ্ধি পাওয়া শীর্ষ দশ কোম্পানির তালিকায় আছে- সিএপিএম আইবিবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড, এটিসিএসএলজিএফ, সি পার্ল বিচ অ্যান্ড রিসোর্ট, ফরচুন সু, মুন্নু সিরামিকস, পিএফ ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড, এনএলআই ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড, সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ, রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং ফাস ফাইন্যান্স।

সিএসই

অন্যদিকে, একই সময়ে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সাধারণ সূচক (সিএসইএক্স) ১১ পয়েন্ট কমে ৯ হাজার ৪২২ পয়েন্টে, সিএসই-৩০ সূচক ২৪ পয়েন্ট কমে ১৩ হাজার ৭৪৯ পয়েন্টে এবং সিএএসপিআই সূচক ২০ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৪৯৩ পয়েন্টে অবস্থান করে।

এদিন বেলা ১১টা পর্যন্ত সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১ কোটি ৭৩ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের।

একই সময়ে দাম বাড়ার ভিত্তিতে সিএসই’র শীর্ষ কোম্পানিগুলো হলো- পিএফ ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড, সিএপিএম বিডিবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড, প্রাইম ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড, এইএমএল আইবিবিএল সভরেন ফান্ড, স্কয়ার টেক্সটাইল, এসইএমএলএলইসিএমএফ, ব্যাংক এশিয়া, এনএলআই ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড, সামিট পাওয়ার এবং ফারইস্ট নিটিং।

৫ ট্রেকহোল্ডারদের বিষয়ে জানতে চেয়েছে কমিশন

৫ ট্রেকহোল্ডারদের বিষয়ে জানতে চেয়েছে কমিশন
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

 

নিয়ম ভঙ্গকরা ৫ ট্রেকহোল্ডারদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। তা আগামী ৫ দিনের মধ্যে ডিএসইকে জানাতে বলেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) বিএসইসির ৬৯৪ তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিএসইসির নির্বাহী পরিচারক সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস, ১৯৮৭ এর রুলস ৩(৪) ভঙ্গ করা ৫ সিকিউরিটিজ হাউজ হল- সিনহা সিকিউরিটিজ হাউজ, এমডি ফখরুল ইসলাম সিকিউরিটিজ হাউজ লিমিটেড, এ এন এফ ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড, কমার্স ব্যাংক সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট এবং পিএইচপি স্টকস অ্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেড।

সংবাদ বিজ্ঞাপ্তিতে বলা হয়, ৩০ জুন ২০১৯ সমাপ্ত সময়ের নেট ক্যাপিটাল ব্যালেন্স রিপোর্ট স্টক এক্সচেঞ্জে দাখিল না করে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস, ১৯৮৭ এর রুলস ৩(৪) ভঙ্গ করেছে এই ৫ ট্রেকহোল্ডার।

সিকিউরিটিজ সংক্রান্ত বিধি ভঙ্গের জন্য সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস, ১৯৮৭ এর রুলস ৩(৫) অনুযায়ী উক্ত ট্রেকহোল্ডারদের বিরুদ্ধে ডিএসই কি ব্যবস্থা গ্রহন করেছে তা আগামী ৫ দিনের মধ্যে কমিশনকে জানাতে বলা হয়েছে।

 

 

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র