Barta24

বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

English

আরপিওতে টাকা উত্তোলনের চেষ্টায় ইউনাইটেড এয়ার!

আরপিওতে টাকা উত্তোলনের চেষ্টায় ইউনাইটেড এয়ার!
ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ লিমিটেড, ছবি: সংগৃহীত
মাহফুজুল ইসলাম
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
ঢাকা
বার্তা ২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

প্রাইভেট প্লেসমেন্ট ও বন্ড ছেড়ে অর্থ উত্তোলনে সাড়া পায়নি ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ লিমিটেড। তাই এখন রিপিট পাবলিক অফারিংয়ের (আরপিও) মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলনের পরিকল্পনা করছে কোম্পানিটি।

এখানে বিনিয়োগে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের যথেষ্ট আস্থা আছে বলে কোম্পানি কর্তৃপক্ষের দাবি। আর সেই আশায় শেয়ার ছেড়ে এই টাকা উত্তোলন করতে চায় মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা ইউনাইটেড এয়ার।

২০১৪ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া উড়োজাহাজকে উড়ানোর লক্ষ্যে ২০১৬ সালে কোম্পানিটিকে প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে ৪০ কোটি সাধারণ শেয়ার বিক্রি করে ৪০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা সংগ্রহের অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

একইবছর বন্ড ছেড়ে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে আরও ২২৪ কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু কোম্পানির প্রতি দেশিও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি বিদেশিদের আস্থা কম থাকায় সব টাকা উত্তোলন করতে পারেনি।

প্রাইভেট প্লেসমেন্টের ৪০০ কোটি টাকার মধ্যে প্রায় দেড়’শ কোটি টাকা উত্তোলন করতে পেরেছে। কিন্তু বাকি অর্থ বিদেশি প্রতিষ্ঠান সুইফট এয়ার কার্গো, ফিনিক্স এয়ারক্রাফট লিজিং ও টিএসি অ্যাভিয়েশনের কাছ থেকে টাকা উত্তোলন করতে পারেনি।

অন্যদিকে দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে বন্ড ছেড়ে টাকার উত্তোলন করতে চেয়ে সাড়া মেলেনি।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ থাকায় কোম্পানির অনেক ঋণ জমেছে। পাশাপাশি দেশ-বিদেশে থাকা সম্পদগুলোও নষ্ট হচ্ছে।

বিভিন্ন কারণে সংকটের মধ্য দিয়েই যাচ্ছে বিমান পরিবহন খাত। দেশি-বিদেশি অনেক খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানও বন্ধ হয়ে গেছে। ইউনাইটেডের ভবিষ্যৎ নিয়ে দেশি-বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সন্দিহান। এ অবস্থায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের খুব বেশি সাড়া নিয়ে অনেকেই সন্দিহান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইউনাইটেড এয়ারওয়জের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বার্তা২৪কমকে বলেন, ‘প্লেসমেন্টের কিছু টাকা পেয়েছি। তা দিয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) প্রকৃত ঋণ পরিশোধ করেছি। উড়োজাহাজগুলো চলাচল শুরু করলেই বাকি টাকা আস্তে আস্তে পরিশোধ করে দিতে চাই।’

তিনি দাবি করেন, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের প্রতি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের যথেষ্ট আগ্রহ আছে। কোম্পানিটাকে রান করাতে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি, বিনিয়োগকারীরাও আমাদের সহযোগিতা করবে বলে আশা করছি।

আমরা আরপিওর মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করতে প্রস্তাব রেডি করছি। অতিদ্রুত স্টক এক্সচেঞ্জ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে দেবো কোম্পানিটিকে দাঁড় করানোর জন্য।

২০১০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির শেয়ারের বর্তমান মূল্য ২দশমিক ৬০ টাকা। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যর কোম্পানিটির উদ্যোক্তা-পরিচালকের হাতে এখন মাত্র ৪ দশমিক ১৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ১৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ আর বাকি ৭০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

কোম্পানির দীর্ঘ মেয়াদী ঋণ রয়েছে ১৭৬ কোটি ৩৭ লাখ ৮ হাজার টাকা। স্বল্প মেয়াদি ঋণ রয়েছে ১১৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের সর্বশেষ ২০১৫ সালে ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ দিয়েছে।

২০১১ সালে একটি শেয়ারের বিপরীতে ১টি শেয়ার ছেড়ে টাকা উত্তোলন করেছে। অর্থাৎ প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আসার ১ বছর পর রাইট শেয়ার ছেড়ে টাকা উত্তোলন করেছে।

আপনার মতামত লিখুন :

এমডি খুঁজছে ডিএসই ও সিএসই

এমডি খুঁজছে ডিএসই ও সিএসই
পুঁজিবাজার ছবি: সংগৃহীত

ব্যবস্থাপনা পরিচালক অর্থাৎ (এমডি) খুঁজছে দেশের দুই পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ডিএসই কর্তৃপক্ষ এমডি নিয়োগে পত্রিকার পাশাপাশি ডিএসইর ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।

অন্যদিকে সিএসই দুই দফা বিজ্ঞাপন দেওয়ার পর এখনো তিন মাস সময় চেয়ে আবারও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কাছে আবেদন করেছে এমডির খুঁজে।

দুই স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ডিএসই সূত্র মতে, চলতি বছরের ১১ জুলাই ডিএসই’র এমডি পদ শূন্য হয়। গত ৭ আগস্ট ডিএসই কর্তৃপক্ষ নতুন এমডি নিয়োগের জন্য ডেইলি অবজারভার, প্রথম আলো পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে। তাতে আগামী ১ সেপ্টেম্বর রোববারের মধ্যে আবেদন করতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ দুই দফা সময় বৃদ্ধির পর আবারও আবেদনের সময় বাড়ানোর জন্য কমিশনের কাছে আবেদন করেছে। বিষয়টি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে নিশ্চিত করেছেন সিএসই’র ভারপ্রাপ্ত এমডি গোলাম ফারুক।

আবেদনের জন্য ক্লিক করুন: https://www.dsebd.org/pdf/dse-md-2019.pdf

সূচক কমেছে উভয় পুঁজিবাজারে

সূচক কমেছে উভয় পুঁজিবাজারে
শেয়ার বাজারের প্রতীকী ছবি

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস বুধবার (২১ আগস্ট) সূচক কমে শেষ হয়েছে এ দিনের লেনদেন কার্যক্রম। এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৪ পয়েন্ট এবং সিএসইর প্রধান সূচক সিএসসিএক্স কমেছে ৩ পয়েন্ট।

এদিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৫৪২ কোটি ৫৫ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। গত কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৪৭২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। আর সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ২১ লাখ টাকা। গত কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৪৪ কোটি ২০ লাখ শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট।

ডিএসই ও সিএসইর ওয়েবসাইট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ডিএসই

এদিন ডিএসইতে লেনদেনের শুরুতে সূচক বাড়ে। লেনদেনের শুরু হয় সাড়ে ১০টায়, শুরুতেই সূচক কমে যায়। প্রথম ৫ মিনিটেই ডিএসইএক্স সূচক বাড়ে ৬ পয়েন্ট। বেলা ১০টা ৪০ মিনিটে সূচক বাড়ে ৯ পয়েন্ট। বেলা ১০টা ৪৫ মিনিটে সূচক ১৪ পয়েন্ট বাড়ে। বেলা ১০টা ৫০ মিনিটে সূচক ১৭ পয়েন্ট বাড়ে। বেলা ১০টা ৫৫ মিনিটে সূচক ১৮ পয়েন্ট বাড়ে। এরপর থেকে সূচক বাড়ার প্রবণতা কমতে থাকে। বেলা ১১টায় সূচক ১২ পয়েন্ট বাড়ে। বেলা সাড়ে ১১টার পর সূচক নেতিবাচক হতে শুরু করে। বেলা ১২টায় সূচক কমে ৫ পয়েন্ট। বেলা সোয়া ১২টায় সূচক গত কার্যদিবসের চেয়ে নেতিবাচক হয়ে যায়। এ সময়ে সূচক কমে ৫ পয়েন্ট। এরপর সূচক ওঠানামা করতে থাকে। বেলা ১টায় সূচক ২ পয়েন্ট বাড়ে। বেলা ২টায় সূচক ১ পয়েন্ট কমে। কিন্তু বেলা আড়াইটায় লেনদেন শেষে ডিএসইএক্স সূচক ৪ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২২৩ পয়েন্টে অবস্থান করে।

অন্যদিকে, ডিএসই-৩০ সূচক ৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে এক হাজার ৮৪১ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক প্রায় এক পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে এক হাজার ২০৪ পয়েন্টে। এদিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৫৪২ কোটি ৫৫ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড।

লেনদেন শেষে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ১২৩টির, কমেছে ১৯৪টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৭টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।

বুধবার দাম বৃদ্ধির ভিত্তিতে ডিএসই’র শীর্ষ দশ কোম্পানির তালিকায় আছে- ইউনাইটেড পাওয়ার, ওরিয়ন ইনফিউশন, জেএমআই সিরিঞ্জ, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, মুন্নু সিরামিকস, বিকন ফার্মা, কেপিসিএল, সিলকো ফার্মা এবং আলহাজ টেক্সটাইল।

সিএসই

অন্যদিকে, লেনদেন শেষে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রধান সূচক সিএসইএক্স ৩ পয়েন্ট কমে ৯ হাজার ৬৯৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। সিএসই-৩০ সূচক ১৫ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৩২ পয়েন্টে এবং সিএএসপিআই সূচক এক পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ৯৭৭ পয়েন্টে অবস্থান করে।

লেনদেন শেষে সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ২১ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট।

এদিন দাম বাড়ার ভিত্তিতের সিএসই’র শীর্ষ কোম্পানিগুলো হলো- আরএকে সিরামিকস, সায়হাম টেক্সটাইল, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, বিচ হ্যাচারি, জেনেক্সিল, মোজাফফর হোসেন স্পিনিং, ফ্যামিলি টেক্সটাইল, কেয়া কসমেটিকস, তুংহাই নিটিং এবং স্টান্ডার্ড সিরামিকস।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র