Alexa

পেট্রাপোলে শতভাগ পণ্য পরীক্ষার সিদ্ধান্ত স্থগিত

পেট্রাপোলে শতভাগ পণ্য পরীক্ষার সিদ্ধান্ত স্থগিত

বেনাপোল/ছবি: বার্তা২৪.কম

বেনাপোল (যশোর): বেনাপোল বন্দর দিয়ে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে আমদানি-রফতানি পণ্যের চালান খালাস হওয়ার আগে আনলোড করে শতভাগ পরীক্ষার যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল তা স্থগিত করেছেন কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

বন্দরে পর্যাপ্ত জনবল, জায়গা ও পণ্য ওঠানো-নামানোর যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা না থাকায় পেট্রাপোল কাস্টমস শতভাগ পণ্য পরীক্ষার সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে বলে জানা গেছে। এতে ব্যবসায়ীরা আপাপত খুশি হলেও দূঃচিন্তা মুক্ত হতে পারছেন না।

আমদানিকারকরা জানান, বিভিন্ন অব্যবস্থাপনায় এমনিতেই একটি পণ্য চালান ভারত থেকে আমদানি করে আনতে পাঁচ থেকে ক্ষেত্রবিশেষে ১৫ দিন পর্যন্ত লেগে যায়। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া পেট্রাপোল বন্দরে প্রতিটি পণ্য চালান আনলোড করে শতভাগ পরীক্ষা করতে গেলে ভোগান্তি আরও কয়েকগুণ বেড়ে যেত। এর ফলে পণ্য খালাস একদিকে যেমন কঠিন হয়ে পড়তো, তেমনি আমদানি খরচও বেড়ে যেত। যার প্রভাব পড়তো দেশীয় বাজারে। ব্যবসায়ীরা এই বন্দর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতেন। ভারতীয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষের হটকারি সিদ্ধান্ত স্থগিতে বাণিজ্যে আবার গতি ফিরবে।

জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল ভারতের পেট্রাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সেখানকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেয়, আমদানি-রফতানি পণ্য চালান খালাসের আগে পেট্রাপোল বন্দরে শতভাগ পরীক্ষা করতে হবে। ওই চিঠির স্মরক নম্বর ১১(২৬)১১৩/পিটিপিএল-আরডি/আইএমপি/এমআইএসসি/২০১৮-১৯/২৭২৫। এতে পরের দিনে ভারত থেকে বেনাপোল বন্দরে পণ্য চালান প্রবেশে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এতে টনক নড়ে ব্যবসায়ীদের।

বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের বাণিজ্যের সঙ্গে সংশিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে ১৮ এপ্রিল অনলাইন নিউজ পোর্টাল বার্তা২৪.কমে একটি অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। এমন সিদ্ধান্ত নিলে কী হবে তারও ব্যাখ্যা দেওয়া হয় নিউজটিতে। এর পরই নড়ে চড়ে বসেন সবাই। পরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনা করে আপাতত শতভাগ পরীক্ষণের নির্দেশনা স্থগিত করে।

যশোরের আমদানিকারক ইদ্রিস আলী বলেন, ভারতীয় পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক পরিশোধ করতে হয় বেনাপোল বন্দরে। এখানে পরীক্ষণ মানায়। কিন্তু পণ্য চালান আমদানির আগে পেট্রাপোল বন্দরে শতভাগ পরীক্ষণের সিদ্ধান্ত হটকারি ছাড়া আর কিছুই না।

ব্যবসায়ী আতাউর রহমান বলেন, আমদানি পণ্যের শতভাগ পরীক্ষণ বন্ধের সিদ্ধান্ত অস্থায়ী। সেটা যে কোনও সময় আবার কার্যকর হতে পারে। তাই বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের বাণিজ্য সংশিষ্টদের মধ্যে পাকা বৈঠকের দরকার। তা না হলে পরে ব্যবসায়ীরা আবার একই সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন।

ভারতের পেট্রাপোল কাস্টমস অ্যান্ড স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চন্দ্র দাস বার্তা২৪.কমকে জানান, বাংলাদেশের মতো পণ্য রাখার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা পেট্রাপোল বন্দরে নেই। ফলে এমনিতেই সেখানে সারা বছর পণ্য জট লেগে থাকে। মালপত্র আমদানি-রফতানিতে সমস্যা হয়। শতভাগ পরীক্ষার যেসব সমস্যা হবে তা ব্যবসায়ীরা কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে বোঝাতে পারায় এ সিদ্ধান্ত স্থগিত করে আগের নিয়মেই পণ্য খালাস সচল রাখা হয়েছে।

বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্মস কার্গো শাখায় কর্মরত ওয়ারহাউজ সুপারেন্টেন্ড মতিনুল হক বার্তা২৪.কমকে জানান, শনিবার(২০ এপ্রিল) দিনভর ভারত থেকে আমদানি হয়েছে ২৫৬ ট্রাক পণ্য আর ভারতে রফতানি হয়েছে ১২৬ ট্রাক পণ্য।

 

আপনার মতামত লিখুন :