Alexa

এত সুদে ব্যবসা সম্ভব নয়: অর্থমন্ত্রী

এত সুদে ব্যবসা সম্ভব নয়: অর্থমন্ত্রী

প্রাক-বাজেট আলোচনায় বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল / ছবি: বার্তা২৪

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, `ব্যাংকিং ব্যবস্থা খুব ভালো আছে এটা বলব না। তবে খুব খারাপও নেই। এ খাতের উন্নয়নে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি হচ্ছে। অনেকেই খেলাপি ঋণের বিপরীতে কোনো উদ্যোগ নিতে পারছে না। মামলা করতে পারছে না। এ সব বিষয়ে উদ্যোগ নিবে আসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি। ব্যাংক ঋণে সুদেও হার বেশি। এত বেশি সুদ দিয়ে কখনো ব্যবসা করা যাবে না। নতুন করে সুদ আরোপ করা হচ্ছে। আগামীতে সুদের হার অনেক কমিয়ে নিয়ে আসা হবে। যাতে ঋণ খেলাপি না হয়। এছাড়া বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য প্রণোদনা থাকবে।’

বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনইসির সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘কেউ ঋণ গ্রহণ করে সেখান থেকে বেরিয়ে আসে। এর ফলে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। ব্যবসা করলে লাভ বা লোকসান হতে পারে। যারা লোকসান দেয় তাদের জন্য কিছু করার ব্যবস্থা থাকে না। ঋণ খেলাপি হওয়ার পরও সব ব্যবসায়ীদের জেলে পাঠালে তো হবে না। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার ওপর বিশ্বাস রাখুন। অসততা আমাকে স্পর্শ করেনি, করবেও না। আমি অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করেছি। সাধারণ মানুষের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা রয়েছে। আমি অনুরোধ করব, এমন কিছু করবেন না যাতে আমাদের দেশের ক্ষতি হয়, দেশের মানুষের চলার পথে যাতে প্রতিবন্ধকতা না হয়। এ জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে। সবাই সবার জায়গা থেকে কাজ করতে হবে।’

আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে যেসব পণ্য বিদেশ থেকে আসবে সেগুলো শতভাগ স্ক্যানিং হয়ে আসবে। আবার যেসব পণ্য রফতানি হবে সেগুলোও শতভাগ স্ক্যানিং করা হবে। তাছাড়া র‌্যান্ডম শ্যাম্পলিং এর মাধ্যমে পরিদর্শন করে ব্যবস্থা করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘যারা আয়কর দেয় তারা শুধু কর দেবে, আর যারা কর দেয় না তারা দেয়ই না। দেশের ৪ কোটি মানুষ কর দেয়ার যোগ্য হলেও কর দেয় মাত্র ২৯ লাখ। এ জন্য ভ্যালু এ্যাডেড ট্যাস্ক নির্ধারণ করা হবে।’

প্রাক-বাজেট আলোচনায় প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, ‘সংবাদপত্রের পাঠক সংখ্যা ক্রমেই কমে আসছে। এর ফলে আয়ও কমে যাচ্ছে। অনলাইনেও আয় তেমন নেই। সংবাদপত্র প্রকাশে বিভিন্ন খাতে ব্যয় বাড়ছে। ভ্যাট আইনে সংবাদ পত্রে ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া আছে। এর পরও এ খাতে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায় করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এ কর প্রত্যাহার করতে হবে।’

সাংবাদিকদের বাড়িভাড়া হিসেবে পরিশোধিত অর্থেও শতভাগ করমুক্ত রাখার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মূল বেতনের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ি ভাড়ায় করমুক্ত রয়েছে। বর্তমান বেতন কাঠামোতে সাংবাদিকদের বাড়িভাড়া দেওয়া হয় ৭০ শতাংশ। অবশিষ্ট ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়ায় কর প্রত্যাহারের দাবি জানচ্ছি।’

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক বদিউর আলম মজুমদার বলেন, ‘স্থানীয় সরকার জোরদারের বিষয়ে কারও কোনো মনোযোগ নাই। এখন স্থানীয় সরকার ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চা, এটা হতে পারে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের পুঁজিবাজার ও ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সুশাসন ফিরিয়ে আনতে হবে। ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে দুর্নীতি রোধ করে যারা দুর্নীতি করছে তাদের বিরুদ্বে ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে এ খাতে সুশাসন ফিরে আসবে না।’

মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে যাচ্ছে। এটা যে কোনো উপায়ে রোধ করতে হবে। পাচার হওয়া অর্থ দিয়ে মালয়েশিয়া, কানাডা এবং যুক্তরাজ্যে বাড়ি ঘর কিনছে। এ পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে না পারলে অর্থনীতি ভাল করা যাবে না।’

আরও পড়ুন: বাজেটে সঞ্চয়পত্রের সুদে পরিবর্তন আসবে না

আপনার মতামত লিখুন :