হাইকোর্ট ঘোষিত ভেজাল পণ্যগুলোর দেদারছে বিক্রি বাজারে

তৌফিকুল ইসলাম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
হাইকোর্ট ঘোষিত ভেজাল পণ্যগুলোর দেদারছে বিক্রি বাজারে/ছবি: বার্তা২৪.কম

হাইকোর্ট ঘোষিত ভেজাল পণ্যগুলোর দেদারছে বিক্রি বাজারে/ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এর পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে নামিদামি প্রতিষ্ঠানের ৫২টি পণ্য ভেজাল ও নিম্নমানের। হাইকোর্ট এ পণ্যগুলো বাতিল ঘোষণা করে বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

হাইকোর্টের নির্দেশের পরও এখনো বাজারে সিটি গ্রুপ, এসিআই, ড্যানিশ, প্রাণসহ নামিদামি এসব প্রতিষ্ঠানের পণ্যগুলো নিম্নমানের প্রমাণিত হওয়ার পরেও বাজারে পাওয়া যাচ্ছে ও দেদারছে বিক্রি হচ্ছে।

সোমবার (১৩ মে) সকালে রাজধানীর টাউন হল এবং মোহাম্মদপুরের বাজার ঘুরে এইসব নিম্নমানের পণ্য মজুদ ও বিক্রি করতে দেখা গেছে। বাজারে সিটি গ্রুপের তীর সরিষার তেল, এসিআই এর লবণ, মসলা, মোল্লা লবণ, প্রাণের হলুদ গুঁড়া, ড্যানিশের হলুদ গুঁড়া, কাশেন ফুডের সান চিপস, বনফুলের লাচ্ছা সেমাই, প্রাণের লাচ্ছা সেমাইসহ হাইকোর্ট ঘোষিত ৫২টি ভেজাল পণ্যই বিক্রি হচ্ছে।

টাউনহলের মুদি দোকানদার রমজান আলী বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'আমরা তো জানিনা এসব পণ্য ভেজাল ও নিম্নমানের ঘোষণা করা হয়েছে । কোম্পানিগুলো তো আমাদের কিছু জানায় নি। আমরা মাল কিনি বিক্রি করি আমাদের তো এগুলো জানবার কথা না।'

বাজার করতে আসা নিলয় হাসানের কাছে জানতে চাইলে বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'এসিআই এর মত এরকম নামিদামি কোম্পানির পণ্য যদি ভেজাল ও নিম্নমানের হয় আমাদের মত সাধারণ ক্রেতারা ভরসা রাখবে কাদের উপরে। তাই আমি মনে করি অচিরেই এ সব নামিদামি কোম্পানি বন্ধ করে দেয়া উচিত অপসারণ করা উচিত এদের নিম্নমানের পণ্যগুলো বাজার থেকে।'

টাউন হলের আরেক ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'আপনারা আমাদের কাছে কেন এসেছেন। যেসব কোম্পানিগুলো এসব নিম্নমানের পণ্য উৎপাদন করে এবং আমাদের সাপ্লাই দেয় না তাদের কাছে যান। আমরা সাধারণ বিক্রেতা ক্রেতারা চাই আমরা বিক্রি করি, এখানে আমাদের কোন লাভ নাই। আর সরকার যদি এসব পণ্য নিষিদ্ধ করে থাকে আমরা অবশ্যই সে সব পণ্য বিক্রি করব না।সবার আগে কোম্পানিগুলোর উৎপাদন বন্ধ করুন তাহলে বাজারে নিম্নমানের পণ্য আসবে না।'

সরকারি চাকরি করেন মোহাম্মদ রাজা মিয়া নিত্য প্রয়োজনীয় বাজার করতে এসেছেন জানতে চাইলে বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'বিএসটিআই যদি এসব পণ্য নিম্নমানের ঘোষণা করে থাকে তাহলে বাজারে আসছে কিভাবে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও নজরদারি করা উচিত। জনগণকে ভেজাল মুক্ত পণ্য নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্ব।'

মোহাম্মদপুর মুদির দোকানদার মিম এন্টারপ্রাইজের মালিক নজরুল ইসলাম বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'আমি শুনেছি কিছু পণ্যকে নিম্নমানের ঘোষণা করা হয়েছে। আমার দোকানে কিছু এসব পণ্য আছে। তবে খুব শীঘ্রই কোম্পানিকে এসব পণ্য ফেরত দিবো। তবে এসব পণ্য যে নিম্নমানের তা কোম্পানি থেকে আমাদের জানানো হয়নি।'

বাজার করতে আসা মৌসুমি আক্তার বার্তা২৪.কম-কে অভিযোগ করে বলেন, 'রমজান আসলেই এমন তোড়জোড় দেখা যায়। যেসব বড় বড় প্রতিষ্ঠানের পণ্য নিম্নমানের তাদের কিছুই হবে না। দুইদিন পরে আবার এসব পণ্য ঠিকই বাজারে পাওয়া যাবে।'

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বার্তা২৪.কম-কে বলেন, '৫২টি পণ্য ভেজাল ঘোষণা করে বাতিল করা অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। যেসব কোম্পানি ভোক্তাদের জন্য মানসম্পন্ন পণ্য সরবরাহ করেন না তাদের জন্য এটা অশনিসংকেত এবং ভোক্তাদের জন্য সুবার্তা।'

এদিকে গত ৩ মে ও ৪ মে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, বিএসটিআই সম্প্রতি ২৭ ধরনের ৪০৬টি খাদ্য পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেছে। এর মধ্যে ৩১৩টি পণ্যের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে যেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫২টি পণ্য নিম্নমানের ও ভেজাল রয়েছে। গত ২ মে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের এ রিপোর্ট প্রকাশ করে বিএসটিআই।

আরও পড়ুন: প্রাণ-এসিআইসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫২ ভেজাল পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ

আপনার মতামত লিখুন :