Alexa

ভ্যাট নিয়ে দূরত্ব ঘোচাল অর্থ মন্ত্রণালয় ও এফবিসিসিআই

ভ্যাট নিয়ে দূরত্ব ঘোচাল অর্থ মন্ত্রণালয় ও এফবিসিসিআই

ছবি: বার্তা২৪

আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে ভ্যাট আইন। এই আইন কার্যকরের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় ও ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) মধ্যে যে দূরত্ব ছিল, তা ঘুচে গেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় পণ্যে ভ্যাট আরোপ করলেও দাম না বাড়াতে রাজি হয়েছে এফবিসিসিআই।

মঙ্গলবার (১৪ মে) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কার্যালয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে এফবিসিসিআইয়ের বৈঠক হয়। দুপুরে দেড় ঘণ্টার ওই বৈঠক শেষে তারা জানান, ভ্যাট নিয়ে উভয় পক্ষের দূরুত্ব আলোচনার মাধ্যমে দূর হয়েছে।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো পণ্যে ভ্যাট বাড়ছে না, বরং কমতে পারে। এর বাইরে অর্থ মন্ত্রণালয় ভ্যাটের এলাকা বাড়াবে। এক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয়কে সব ধরনের সহযোগিতা করবে এফবিসিসিআই।

কোন পণ্যে কত ভ্যাট বসছে, সেটা দেখার দাবি এতদিন জানিয়ে আসছিল এফবিসিসিআই। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘যেভাবে গণমাধ্যমে খবর আসছে, বিষয়টা সেরকম না। ফেডারেশনের সঙ্গে আমরা বসেছি, কথা বলছি, বুঝতে পারলাম ভুল বোঝাবুঝি কোথাও একটা হয়েছে। আমরা লেখালেখি করছি, তারাও লেখালেখি করছে। আমরা যেখানে যেভাবে শুরু করেছিলাম, আমরা সেভাবেই করব। তারা আশ্বস্ত করেছেন, তাদের কোনো আপত্তি নেই।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের একটি কথা ছিল, আমরা চূড়ান্ত করার পর তাদের একটা সুযোগ দেব দেখানোর জন্য। কিন্তু ভ্যাট আইনটি এমন একটি আইন, যেটি বাজেটে পাশ না করা পর্যন্ত, আমরা যা করলাম এটা নিয়ে আলোচনা করা যায় না। টেকনিক্যালি ডিফিক্যাল্টির কারণে আমরা সেটা করতে পারিনি।’

ভ্যাট নিয়ে দূরত্ব ঘোচাল অর্থ মন্ত্রণালয় ও ব্যবসায়ীরা

এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দীন বলেন, ‘মন্ত্রী আমাদের যে আশ্বাস দিয়েছেন, আমরা সেটার ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে চাই। আমাদের যিনি ট্যাক্স দিচ্ছেন তিনি কোনো অবস্থাতেই ব্যথা পাবেন না, কিন্তু ট্যাক্স দেবেন। আমরা সিস্টেমটাই ওভাবে ডেভেলপ করছি। আমাদের আস্থার জায়গাটা, তিনি (অর্থমন্ত্রী) বলেছেন, কোনো জায়গায় ট্যাক্স বৃদ্ধি পাবে না। বরং কিছু কিছু ক্ষেত্রে কমবে। সুতরাং এটাই আমাদের জন্য যথেষ্ট। কিন্তু নেট (এলাকা) তিনি বাড়াবেন। এটার জন্য যা যা করণীয় তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করব।’

তিনি বলেন, ‘নির্ধারিত কোনো সেক্টরে বা কোনো পণ্যে কোনো অসুবিধা হয়, সেটি নিশ্চয়ই তারা বিবেচনায় নেবেন। ওটার ওপর আমরা যথেষ্ট আস্থা রেখেছি।’

এর আগে প্রধান উদ্বেগের জায়গা ছিল- কোন পণ্যে কত রেট হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা মন্ত্রী পরিষ্কারভাবে বলেছেন, ওটা বাজেটের আগে যদি বলে দেন তাহলে অসুবিধা হবে। আপনাদের এটা বিবেচনায় নিতে হবে।’

এ সময় এক সংবাদকর্মী প্রশ্ন করেন, এফসিসিআই তো দীর্ঘদিন ধরে বাজেট প্রণয়ের সঙ্গে জড়িত। তাহলে আপনারা এমন দাবি কেন জানিয়েছিলেন যে, আপনাদের সব দেখিয়েই করতে হবে?

এর জবাবে এফসিসিআইয়ের এক প্রতিনিধি ওই সংবাদকর্মীর পরিচয় জানতে চান। তখন পরিচয় দিলে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘আপনাকে তো এর উত্তর মন্ত্রী মহোদয় বলেই দিয়েছেন। আপনি এভাবে বলতে পারেন না।’

তখন ওই সংবাদকর্মী বলেন, আমরা তো প্রশ্ন করতেই পারি। এ নিয়ে কিছুটা উত্তেজনা দেখা দিলে অর্থমন্ত্রীর মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

আপনার মতামত লিখুন :