Barta24

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

‘নিষিদ্ধ’ সেমাই তিন নামে বাজারজাত করছে প্রাণ

‘নিষিদ্ধ’ সেমাই তিন নামে বাজারজাত করছে প্রাণ
রাজশাহীতে অবস্থিত প্রাণ এগ্রো লিমিটেডের ফ্যাক্টরি, ছবি: বার্তা২৪.কম
হাসান আদিব
স্টাফ করেসপন্ডেট
বার্তা২৪.কম
রাজশাহী


  • Font increase
  • Font Decrease

নিম্নমানের ভেজাল ৫২টি পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার ও ধ্বংসের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। 'নিষিদ্ধ' ওই ভেজাল পণ্যগুলোর মধ্যে প্রাণের লাচ্ছা সেমাইও ছিল। আদালতের ওই নির্দেশনার পরও রাজশাহীতে প্রাণ গ্রুপের লাচ্ছা সেমাই উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ অব্যাহত রাখা হয়েছে।

শুধু তাই নয়, কৌশলে তারা একই ফ্যাক্টরিতে উৎপাদিত লাচ্ছা সেমাই তিন নামে বাজারজাত করছে। রাজশাহীর সপুরায় বিসিক শিল্প নগরীতে অবস্থিত ‘প্রাণ এগ্রো ফুড লিমিটেড’ ফ্যাক্টরিতে উৎপাদিত হচ্ছিল এসব সেমাই।

আরও পড়ুন: প্রাণ-এসিআইসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫২ ভেজাল পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ

কাঁচামাল, তৈরির জনশক্তি ও সব উপকরণ এক থাকলেও মোড়কীকরণের সময় তা কখনও হয়ে যাচ্ছে ‘প্রাণ লাচ্ছা সেমাই’, কখনও ‘মোঘল লাচ্ছা’ কিংবা ‘মিস্টার লাচ্ছা সেমাই’। একই ফ্যাক্টরিতে উৎপাদন হলেও তিন নামে ব্র্যান্ডিং করে ভিন্ন ভিন্ন মূল্যে ক্রেতাদের ধোঁকাও দিয়ে আসছিল প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডাডর্স অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) পরীক্ষায় নিম্নমান প্রমাণিত হওয়ার পরও রাজশাহীতে প্রাণ গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ‘প্রাণ এগ্রো ফুড লিমিটেড’ লাচ্ছা সেমাইয়ের উৎপাদন ও বাজারজাত অব্যাহত রেখেছে। এমন খবরে মঙ্গলবার (১৪ মে) বিকেলে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

‘নিষিদ্ধ’ সেমাই তিন নামে বাজারজাত করছে প্রাণ

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিসান বিন মাজেদ ও আরাফাত আমান আজিজের নেতৃত্বে অভিযানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া উৎপাদিত ও বাজারজাতকরণের উদ্দেশে ফ্যাক্টরিতে রাখা লাচ্ছা সেমাই জব্দ করা হয়। পরে তা ধ্বংস করা হবে বলে জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত আমান আজিজ বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'তারা আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে প্রাণ এগ্রো ফুড লি. পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করছিল। খবর পেয়ে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে গিয়ে আমরা দেখেছি- তারা একই কাঁচামাল ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে লাচ্ছা সেমাই তৈরি করছে। অথচ তা ভিন্ন ভিন্ন নামে মোড়কীকরণ করা হচ্ছে। যা স্পষ্ট প্রতারণা।'

তিনি আরও বলেন, 'প্রাণ এগ্রো ফুডের ওই ফ্যাক্টরিতে ব্যবহৃত ও পোড়া তেল, তারা সঠিক প্রক্রিয়ায় নষ্ট না করে; উন্মুক্তস্থানে ফেলে দেয়। যা পরিবেশের ক্ষতি করছে। কাজটি আইনেরও পরিপন্থী। আমরা তাদেরকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এর আওতায় ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছি।'

আর ফ্যাক্টরির পাশেই বিসিক শিল্প এলাকায় অবস্থিত রাতুল বেকারিকে উৎপাদিত খাদ্যে অস্বাস্থ্যকর রং মেশানোর দায়ে ভোক্তা আইনে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জনস্বার্থে, জনকল্যাণে ও জননিরাপত্তায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত আমান।

এদিকে, এ বিষয়ে রাজশাহী প্রাণ এগ্রো ফুডের অফিসিয়াল দু’টি নম্বরে কয়েক দফা কল করা হলেও রিসিভ করেনি। পরে সাংবাদিক পরিচয়ে এসএমএস পাঠালে প্রতিউত্তর আসে ‘রং নম্বর’।

প্রতিষ্ঠানে কর্মরত একজন ‘সেলস ম্যান’ নাম-পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘সামনে ঈদ এখন সেমাই ব্যবসার মৌসুম। আদালত নির্দেশ দিলেও কোম্পানির উচ্চপর্যায় থেকে রাজশাহী অফিসকে কাজ চালিয়ে যেতে বলেছেন। ঈদের আগেই সব ঠিক হয়ে যাবে। তাই সেমাই তৈরি ও মোড়কের কাজ পুরোদমে চলছে।’

আপনার মতামত লিখুন :

রফতানি প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রার ৫.৩৯ শতাংশ বেশি: বাণিজ্যমন্ত্রী

রফতানি প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রার ৫.৩৯ শতাংশ বেশি: বাণিজ্যমন্ত্রী
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশী, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

২০১৮-১৯ অর্থবছরে রফতানির লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ বেশি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশী।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের রফতানি লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত অর্জন বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৭-১৮ অর্থবছরে রফতানি (পণ্য ও সেবা খাত) আয়ের পরিমাণ ছিল ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মোট রফতানির ৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিপরীতে রফতানি আয়ের পরিমাণ ৪৬ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্জন হয়েছে। যা আগের অর্থবছরের তুলনায় রাফতানি বৃদ্ধির হার ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি।

তিনি আরও বলেন, ‘সেবা খাতে এ বছর রফতানির পরিমাণ ৫ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার প্রবৃদ্ধির হার ১০ দশমিক ৫৫ শতাংশ। আর তৈরি পোশাক খাতে রফতানির পরিমাণ ৩৪ দশমিক ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা মোট রফতানির ৮৪ দশমিক ১৮ শতাংশ।

সব ধরনের পণ্যের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম না বাড়ানোর বিষয়ে আমরা নির্দেশনা দিয়েছি। ভারত থেকে পেঁয়াজ আসছে না বলে দাম কিছুটা বেড়েছে। আমরা সে বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি।’

কোরবানিতে পেঁয়াজের দাম বাড়বে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘টিসিবির মাধ্যমে ভারত ও চীন থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হবে। কোরবানির আগে পেঁয়াজের যথেষ্ট মজুদ থাকবে। ফলে ঈদে পেঁয়াজের দাম বাড়বে না।’

‘সব সেক্টর রফতানি পণ্যে সমান সুবিধা পাবে’

‘সব সেক্টর রফতানি পণ্যে সমান সুবিধা পাবে’
সালমান এফ রহমান

সব ধরনের পণ্য বিদেশে রফতানিতে উৎসাহিত করতে তৈরি পোশাক খাতের মতই সব খাতের পণ্য রফতানিতে সমান সুবিধা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) রাজধানীর পল্টনে বাংলাদেশি রফতানি পণ্যের বহুমুখীকরণ শীর্ষক ওয়ার্কশপে এ কথা বলেন তিনি।

ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশন (আইএসসি) ও ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে।

সালমান এফ রহমান বলেন, রফতানি পণ্য বহুমুখী করতে হবে, তবে সেটা পোশাককে বাদ দিয়ে নয়। পোশাকে আমরা দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছি। আরো উন্নতির সুযোগ আছে। পাশাপাশি অন্য খাতের রফতানি বাড়াতে উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি বলেন, পোশাকের মত সব রফতানি খাত সমান সুযোগ পাবে। অতীতে আমরা সেই সুযোগ দিতাম না। এবার সে সুবিধা পাবে। এ বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

সালমান এফ রহমান বলেন, আমাদের গার্মেন্টসের পণ্যের বহুমুখীকরণ হয়েছে। পাশাপাশি গার্মেন্টস পণ্যের বাজারেরও বহুমুখীকরণ হয়েছে। আগে আমরা আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে রফতানি করতাম, এখন বিশ্বের অনেক দেশে গার্মেন্টস পণ্য রফতানি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, তবে শিল্পের এক খাত থেকে যখন আমরা অন্য খাতে যাচ্ছি, তখনই আমাদের অভিজ্ঞতার অভাব দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে আমাদের শ্রমিক সংকট না হলেও ম্যানেজারের সংকট হয়। সেই অভিজ্ঞতার অভাবে আমরা বাইরে থেকে ম্যানেজার আনি। আশা করি, ভবিষ্যতে এ সংকট থাকবে না।

দেশে উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে উপজেলা পর্যায়ে কারিগরি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হচ্ছে। নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে প্রশিক্ষক বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। নতুন এই উদ্যোক্তাদের ৬৪ জেলায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। উদ্যোক্তাদের স্লোগান হচ্ছে, ‘চাকরি চাই না, চাকরি দিতে চাই’, বলেন সালমান এফ রহমান।

ইআরএফ’র নিজস্ব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্কশপে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি সাইফ ইসলাম দিলাল। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ইআরএফের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সিনিয়র ইকোনমিস্ট মাশরুর রিয়াজ ও বেসরকারি খাত বিশেষজ্ঞ হোসনা ফেরদৌস।

সালমান এফ রহমান জানান, আগামী অক্টোবরের শেষ নাগাদ ওয়ার্ল্ড ব্যাংক যখন ইজ অব ডুইং বিজনেসের র্যাং কিং ঘোষণা করবে, আশা করছি বাংলাদেশের র্যাং কিং ডাবল ডিজিটে থাকবে। যদি আমাদের আশা পূর্ণ হয়, তাহলে এটি বাংলাদেশের রফতানি পণ্য বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করা সম্ভব হবে। বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিডা), বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন অথরিটি (বেজা), বেপজা ও হাইটেক পার্ক এসব জায়গায় যারা বিনিয়োগ করবে, তারা ওয়ান স্টপ সার্ভিসের সুবিধা পাবে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র