Barta24

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

জরিমানার পরও টি কে গ্রুপের ভেজাল তেল বাজারে 

জরিমানার পরও টি কে গ্রুপের ভেজাল তেল বাজারে 
ছবি: সংগৃহীত
শাহজাহান মোল্লা
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

র‌্যাবের অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানার পর ভেজাল মিশ্রিত সরিষার তেল ‘পুষ্টি’ বাজার থেকে তুলে নেওয়ার দাবি করেছে বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান টি কে গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে সরিষার তেল তুলে নেওয়ার দাবি করা হলেও গ্রাম পর্যায়ে আগের মতোই বিক্রি হচ্ছে। শহর পর্যায়েও এখনো বেশকিছু দোকানে সরিষার তেল বিক্রি হতে দেখা গেছে। আর সয়াবিন তেল শহর-গ্রাম সব জায়গায় বিক্রি হচ্ছে আগের মতই। তেল ক্রেতা, দোকানদার ও ডিলারদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

মেয়াদোত্তীর্ণ তেল নিয়ে পাইপ লাইনে দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে আবার বাজারে ছাড়ার অভিযোগে ৭৫ লাখ টাকার জরিমানা করা হয় টি কে গ্রুপকে। হাইকোর্ট থেকে নির্দেশনা আসে বাজার থেকে পুষ্টির সরিষার তেল তুলে নেওয়ার। এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় অনলাইন মাল্টিমিডিয়া বার্তা২৪.কম এ। এরপরও প্রায় আগের মতই ভেজাল মিশ্রিত তেল বিক্রি করে যাচ্ছে  টি কে গ্রুপ।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বাজারের ভেজাল তেল প্রায় আশিভাগ তুলে নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। তবে সরেজমিনে এখনো বাজারে পাওয়া গেছে  পুষ্টির ভেজাল তেল।  

ক্রেতারা প্রশ্ন তুলেছেন, পুষ্টি সয়াবিন তেল কারখানায় ভেজাল হলে বাজারের তেল কিভাবে  খাঁটি হয়? কীভাবে ভেজাল মিশ্রিত তেল বাজারে দিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করে যাচ্ছে টি কে গ্রুপ।

বেশ কয়েকজন ক্রেতা বলেছেন, রাজধানীসহ সারাদেশের মার্কেট ও সুপার শপগুলোতে এখনো বিক্রি হচ্ছে পুষ্টি সয়াবিন তেল। জরিমানা দিয়ে ভেজাল মিশ্রিত পুষ্টি সয়াবিন তেল কি খাঁটি হয়ে গেল? এমন হাজারো প্রশ্ন তুলছেন ক্রেতারা।

ভেজাল প্রমাণিত হওয়ায় পুষ্টির সরিষা তেল বাজার থেকে তুলে নিতে হাইকোর্টের নির্দেশনার পর রাজধানীর কিছু কিছু মার্কেট থেকে তেল ফেরত নিতে শুরু করেছে টি কে গ্রুপ। তবে গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেই তেল সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বুধবার (১৫ মে) রাজধানীর কাওরানবাজার এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে দোকানগুলোতে এখনো পুষ্টির সয়াবিন তেলের পাশাপাশি সরিষার তেলের বোতল রেখে দেওয়া হয়েছে।

কাওরান বাজার এলাকায় বাজার করতে আসা জাহিদুল ইসলাম নামের এক ভোক্তা অভিযোগ করে বলেন, সেদিন টিভিতে দেখেছি পুষ্টি সয়াবিন তেলের কারখানায় মেয়াদোত্তীর্ণ তেল প্রক্রিয়াজাত করে বাজারে সরবরাহ করছে। তাহলে আমরা এতদিন যে তেল খেয়েছি সেটা ভেজাল ছিল। এর জন্য আসলে তাদের কঠিন শাস্তি হওয়া দরকার।

তিনি বলেন, ওই দিন দেখার পর আমি আর পুষ্টি সয়াবিন তেল কিনছি না, কিন্তু সবাই তো আর আমার মত সচেতন না। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত বাজার থেকে ভেজাল তেল তুলে নেওয়া।

এদিকে হাইকোর্টের নির্দেশনার বার্তা২৪.কম এর পক্ষ থেকে এনিয়ে যোগাযোগ করা হয় একটি জেলার পুষ্টির ডিলারের সঙ্গে।

সেই ডিলার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,  আমাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে পুষ্টির সরিষার তেল। তবে আমাদের এখানে সেভাবে সরিষার তেল চলে না। যে দুই এক কার্টন আছে সেগুলো তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছি। তবে সয়াবিন তেল বাজারে আগের মতই রয়েছে।

এ বিষয়ে টি কে গ্রুপের হেড অব ব্রান্ড অ্যান্ড কমিনিউকেশন্স ইব্রাহিম খলিল বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘আমাদের সরিষার তেল বাজার থেকে তুলে নেওয়া শুরু করেছি। গত কয়েক দিনে প্রায় ৮০ শতাংশ তেল বাজার থেকে তুলে নিয়েছি। তবে সয়াবিন তেলে যেহেতু কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই তাই সেগুলো বাজারের আগের মতই আছে।

তবে এই মুহূর্তে বাজারে কি পরিমাণ পুষ্টির সয়াবিন তেল রয়েছে তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান দিতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটির কর্তারা। তবে তারা প্রতিদিন কয়েক লাখ কার্টন সয়াবিন তেল বাজারে ছাড়ছে বলেও জানান। 

উল্লেখ্য, গত ৫ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় পুষ্টি সয়াবিনের একটি কারখানায় র‌্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মেয়াদোত্তীর্ণ তেল বাজারজাত করণের দায়ে ৭৫ লাখ টাকা জরিমানা করে র‌্যাব-১০ এর ভ্রাম্যমাণ আদালত।

  আরও পড়ুন:মেয়াদোত্তীর্ণ তেল নিয়ে টি কে গ্রুপের ঔদ্ধত্য!

আপনার মতামত লিখুন :

রফতানি প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রার ৫.৩৯ শতাংশ বেশি: বাণিজ্যমন্ত্রী

রফতানি প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রার ৫.৩৯ শতাংশ বেশি: বাণিজ্যমন্ত্রী
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশী, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

২০১৮-১৯ অর্থবছরে রফতানির লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ বেশি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশী।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের রফতানি লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত অর্জন বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৭-১৮ অর্থবছরে রফতানি (পণ্য ও সেবা খাত) আয়ের পরিমাণ ছিল ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মোট রফতানির ৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিপরীতে রফতানি আয়ের পরিমাণ ৪৬ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্জন হয়েছে। যা আগের অর্থবছরের তুলনায় রাফতানি বৃদ্ধির হার ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি।

তিনি আরও বলেন, ‘সেবা খাতে এ বছর রফতানির পরিমাণ ৫ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার প্রবৃদ্ধির হার ১০ দশমিক ৫৫ শতাংশ। আর তৈরি পোশাক খাতে রফতানির পরিমাণ ৩৪ দশমিক ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা মোট রফতানির ৮৪ দশমিক ১৮ শতাংশ।

সব ধরনের পণ্যের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম না বাড়ানোর বিষয়ে আমরা নির্দেশনা দিয়েছি। ভারত থেকে পেঁয়াজ আসছে না বলে দাম কিছুটা বেড়েছে। আমরা সে বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি।’

কোরবানিতে পেঁয়াজের দাম বাড়বে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘টিসিবির মাধ্যমে ভারত ও চীন থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হবে। কোরবানির আগে পেঁয়াজের যথেষ্ট মজুদ থাকবে। ফলে ঈদে পেঁয়াজের দাম বাড়বে না।’

‘সব সেক্টর রফতানি পণ্যে সমান সুবিধা পাবে’

‘সব সেক্টর রফতানি পণ্যে সমান সুবিধা পাবে’
সালমান এফ রহমান

সব ধরনের পণ্য বিদেশে রফতানিতে উৎসাহিত করতে তৈরি পোশাক খাতের মতই সব খাতের পণ্য রফতানিতে সমান সুবিধা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) রাজধানীর পল্টনে বাংলাদেশি রফতানি পণ্যের বহুমুখীকরণ শীর্ষক ওয়ার্কশপে এ কথা বলেন তিনি।

ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশন (আইএসসি) ও ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে।

সালমান এফ রহমান বলেন, রফতানি পণ্য বহুমুখী করতে হবে, তবে সেটা পোশাককে বাদ দিয়ে নয়। পোশাকে আমরা দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছি। আরো উন্নতির সুযোগ আছে। পাশাপাশি অন্য খাতের রফতানি বাড়াতে উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি বলেন, পোশাকের মত সব রফতানি খাত সমান সুযোগ পাবে। অতীতে আমরা সেই সুযোগ দিতাম না। এবার সে সুবিধা পাবে। এ বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

সালমান এফ রহমান বলেন, আমাদের গার্মেন্টসের পণ্যের বহুমুখীকরণ হয়েছে। পাশাপাশি গার্মেন্টস পণ্যের বাজারেরও বহুমুখীকরণ হয়েছে। আগে আমরা আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে রফতানি করতাম, এখন বিশ্বের অনেক দেশে গার্মেন্টস পণ্য রফতানি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, তবে শিল্পের এক খাত থেকে যখন আমরা অন্য খাতে যাচ্ছি, তখনই আমাদের অভিজ্ঞতার অভাব দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে আমাদের শ্রমিক সংকট না হলেও ম্যানেজারের সংকট হয়। সেই অভিজ্ঞতার অভাবে আমরা বাইরে থেকে ম্যানেজার আনি। আশা করি, ভবিষ্যতে এ সংকট থাকবে না।

দেশে উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে উপজেলা পর্যায়ে কারিগরি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হচ্ছে। নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে প্রশিক্ষক বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। নতুন এই উদ্যোক্তাদের ৬৪ জেলায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। উদ্যোক্তাদের স্লোগান হচ্ছে, ‘চাকরি চাই না, চাকরি দিতে চাই’, বলেন সালমান এফ রহমান।

ইআরএফ’র নিজস্ব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্কশপে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি সাইফ ইসলাম দিলাল। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ইআরএফের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সিনিয়র ইকোনমিস্ট মাশরুর রিয়াজ ও বেসরকারি খাত বিশেষজ্ঞ হোসনা ফেরদৌস।

সালমান এফ রহমান জানান, আগামী অক্টোবরের শেষ নাগাদ ওয়ার্ল্ড ব্যাংক যখন ইজ অব ডুইং বিজনেসের র্যাং কিং ঘোষণা করবে, আশা করছি বাংলাদেশের র্যাং কিং ডাবল ডিজিটে থাকবে। যদি আমাদের আশা পূর্ণ হয়, তাহলে এটি বাংলাদেশের রফতানি পণ্য বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করা সম্ভব হবে। বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিডা), বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন অথরিটি (বেজা), বেপজা ও হাইটেক পার্ক এসব জায়গায় যারা বিনিয়োগ করবে, তারা ওয়ান স্টপ সার্ভিসের সুবিধা পাবে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র