Alexa

বিদেশি কোম্পানি একক ব্যবসা করতে পারবে না: অর্থমন্ত্রী

বিদেশি কোম্পানি একক ব্যবসা করতে পারবে না: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল / ছবি: বার্তা২৪

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ‘ট্রান্সফার প্রাইসিং হোক আর যাই হোক, এ দেশে বিদেশি বেশকিছু কোম্পানি কাজ করে। বিদেশি কোম্পানি এককভাবে ব্যবসা করতে পারবে না। কারণ এককভাবে বিদেশি কোম্পানি কাজ করে এমন কোম্পানি থেকে আমরা রাজস্ব পাই না। তাই বিদেশি কোনো কোম্পানি বাংলাদেশে কাজ করতে হলে তাদেরকে বাংলাদেশের কোনো কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে হবে। অন্তত আমরা যেন অর্ধেক রাজস্ব পাই।’

বৃহস্পতিবার (১৬ মে) সচিবালয়ে মানি লন্ডারিং সম্পর্কিত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

ব্যাংক ব্যবস্থা এবং আমদানি-রফতানির আড়ালেই অর্থপাচার হয় উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ‘অর্থপাচার ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। অর্থপাচার রোধে সকল আমদানি-রফতানিকৃত পণ্য যথাযথভাবে স্ক্যানিং করা হবে। পাশাপাশি ওভার অ্যান্ড আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের সঙ্গে জড়িতদের জরিমানার পাশাপাশি মামালা করা হবে। মামলার রায় অনুযায়ী তাদেরকে কঠোর শ্বাস্তির দেওয়া হবে।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘আমাদের অর্থ পাচার মূলত ব্যাংক ও এনবিআর এই দুই জায়গার মাধ্যমে হয়। এর বাইরে বড় আকারে মানি লন্ডারিংয়ের ব্যবস্থা নেই। মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে আমদানি-রফতানির মাধ্যমে এবং ব্যাংকের মাধ্যমে এলসি খোলার মধ্য দিয়ে অর্থ পাচার হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এছাড়া ওভার প্রাইসিং আর আন্ডার প্রাইসিং রোধে পিএসআই'র আদলে এনবিআরে একটি সেল খোলা হবে। তারা নেটের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন এলাকায় ঢুকে পণ্যের দাম জানবে। তারপর তারা রিপোর্ট করবে। ওই দামের চেয়ে ঊনিশ-বিশ হলে সমস্যা থাকবে না। তবে বেশি পার্থক্য থাকলে সেসব পণ্য বাজেয়াপ্ত করা হবে। এখানেই শেষ নয়, এটা পাথর, বালি, ইট-বালু হতে পারে। সেক্ষেত্রে যারা এর সঙ্গে জড়িত থাকবে এখন তাদেরকে একটা শুধুমাত্র জারিমানা করা হয়। আগামীতে জারিমানা করার পাশাপাশি আইন অনুযায়ী মামলা করা হবে। মামলার রায় অনুযায়ী তারদেরক কঠোর শ্বাস্তির মুখোমুখি করা হবে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘মানি লন্ডারিং এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন এ দুটোই রোধ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেই দিয়েছেন, আমরা আর দুর্নীতি চাই না। মানি লন্ডারিংও একটা দুর্নীতি। আর দুর্নীতির অর্থই সন্ত্রাসে অর্থায়ন হয়। সুতরাং এ দু ক্ষেত্রকেই না করতে হবে। এটা বাস্তবায়ন করার জন্য যেখানে মানি লন্ডারিংয়ের কিছু হয় এমন তথ্য থাকলেই বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সেটা বাস্তবায়ন করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এর আগে এ সংক্রান্ত কমিটির বৈঠক বছরে তিনটা হতো। এখন থেকে চারটা বৈঠক হবে। বৈঠকে পর্যালোচনা হবে বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো কতটা বাস্তবায়ন হলো।’

আপনার মতামত লিখুন :