Alexa

জামদানি শিল্পনগরী হবে পর্যটন নগরী

জামদানি শিল্পনগরী হবে পর্যটন নগরী

বিসিক ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ১০ দিনব্যাপী ‘জামদানি পণ্যের প্রদর্শনী ও মেলা ২০১৯’ মেলায় মন্ত্রীরা, ছবি: বার্তা২৪.কম

নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত জামদানি শিল্প এলাকাকে পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মাজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। এ বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন পাট ও বস্ত্র এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (১৬ মে) বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ১০ দিনব্যাপী ‘জামদানি পণ্যের প্রদর্শনী ও মেলা ২০১৯’ মেলায় মন্ত্রীরা একমত পোষণ করেন।

মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী বলেন, এই এলাকাকে মানসম্মত পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। যেখানে আলাদা জামদানি মেলা হবে। দেশের সমস্ত জায়গায় জামদানি শাড়ি ছড়িয়ে পড়বে। এই শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা তাদের ন্যায্য পাওনা পাবেন।

শিল্প সচিবকে পর্যটন নগরী করতে একটি পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘সচিব সাহেব জামদানি শিল্পনগরীকে যাতে আমরা পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে পারি তার জন্য পরিকল্পা গ্রহণ করুন। শিল্পমন্ত্রণালয় থেকে সর্বাত্মক সহায়তা করা হবে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/16/1558009702842.jpg

শিল্পমন্ত্রী বলেন, এই এলাকার প্রতিটি গ্রামে আমি গিয়েছি। তাদের জীবনযাত্রার মান সম্পর্কে আমি জানি। এখানে যারা কাজ করেন তারা সবাই আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল। তারা জামদানি শাড়ি বিক্রি করে পেট চালাতে পারে না। এসময় ১০দিন ব্যাপী যে মেলা হচ্ছে তাতে যেনো কেনাবেচা ভালো হয়, এজন্য ব্যাপক প্রচার প্রচারণার আহ্বান জানান  তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক) বলেন, জামদানি শাড়ি আমাদের জাতীয় ঐতিহ্য। এই শাড়ির মডেল আমাদের প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বের দরবারে বেশ  প্রশংসিত। তবুও এই শিল্পে জড়িতরা শাড়ির প্রকৃত মূল্য পায় না। তার কারণ দেশ-বিদেশ থেকে লোকেরা এখানে আসে না। দীর্ঘ জ্যাম (যানজট) পেরিয়ে নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জ ও সোনারগাঁয়ে ক্রেতারা যেতে চায় না। যারা আসেন তারাও আবার বসার জায়গা না পেয়ে হতাশ। ফলে দিনদিন এই শিল্প নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই আমরা এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে শিল্প, বস্ত্র এবং সংস্কৃত মন্ত্রণালয় মিলে সহায়তা দিয়ে জামদানি নগরীকে পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/16/1558009756655.jpg

তিনি বলেন, এজন্য জায়গা প্রয়োজন হলে সেটারও ব্যবস্থা করা হবে। এখানে পাট মন্ত্রণালয়ের অন্তত ২০ শতাংশ জমি অনাবাদি পড়ে আছে। এই জমি ফাঁকা না রেখে আমরা তিন মন্ত্রণালয় মিলে জামদানি শিল্পকে পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলব।

এ সময় শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার বলেন, এই শিল্পকে ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণের জন্য সহায়তা করা হবে। যাতে আরো গুণগতমান বাড়ে। বিদেশে শাড়ি রফতানি করে বৈদেশিক আয় বৃদ্ধি করা যায়।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, জামদানি শিল্পে জড়িতরা আর্থিকভাবে স্বচ্ছল নয়। একটি শাড়ি বানাতে এক সপ্তাহ থেকে একমাস পর্যন্ত সময় লাগে। তাদের ঋণ সহায়তা দিয়ে সহায়তা করা দরকার।

বিসিকের চেয়ারম্যান মো. মোশতাক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন শিল্প সচিব আব্দুল হালিম। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে মেলা ঘুরে দেখেন মন্ত্রীরা। ১০ দিন ব্যাপী মেলায় এবার ২৫টি স্টল অংশ নিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

অর্থনীতি এর আরও খবর