Alexa

ঋণখেলাপিদের ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ

ঋণখেলাপিদের ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ

ছবি: সংগৃহীত

নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কারণ দেখিয়ে ঋণখেলাপিদের গণহারে ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ছোট, মাঝারি বা বড় সব ঋণখেলাপিই পুনঃতফসিলের সুযোগ পাবেন।

খেলাপিরা শুধু, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮, তার ঋণের স্থিতি ধরে পুনঃতফসিলের সুবিধার জন্য সার্কুলার জারির ৯০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে আবেদন করতে পারবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি এবং নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) থেকে বৃহস্পতিবার (১৬ মে) খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে সার্কুলার জারি করেছে। কেদ্রীয় ব্যাংকের মহা ব্যবস্থাপক এ কে এম আমজাদ হোসেন স্বাক্ষরিত তিন পৃষ্ঠায় একগুচ্ছ সুবিধা দেওয়ার কথা বলেও বাংলাদেশ ব্যাংক শুধু ঋণখেলাপিদের একবারই এ সুবিধা দেবে।

আবার আরোপিত সুদের ক্ষেত্রেও খেলাপিরা বিশেষ ছাড় পাচ্ছেন। খেলাপি ঋণের ওপর আরোপিত সুদের স্থগিত অংশ (সাসপেন্ডেড) মাফ পাবেন খেলাপিরা। এতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমলেও ব্যাংকের তহবিল ব্যয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ ঋণের সুদের মাধ্যমে তহবিল ব্যয় নির্বাহ করা হয়। আর এ আশঙ্কা দূর করতে ব্যাংকগুলোর কস্ট অব ফান্ডে (তহবিল ব্যয়) রিলিফ বা ছাড় দেওয়া হবে। তবে খেলাপিদের ঋণের কস্ট অব ফান্ডের ওপর নির্ধারণ ১ জানুয়ারি হবে।

সার্কুলারে ঋণখেলাপিদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। বলা হয়েছে, ঋণখেলাপিদের ওপর অনারোপিত সুদ সম্পূর্ণ মাফ করে দেওয়া হবে। এই বিষয়টি হচ্ছে, ঋণখেলাপি হওয়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ব্যাংক হিসাব করেছে ঠিকই, কিন্তু তার সুদের হিসাব এখনো ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে তোলা হয়নি, এমন সুদ সম্পূর্ণ মাফ করে দেওয়া হবে।

খাতগুলোর খেলাপি ঋণ বিবেচনায় নেওয়া হবে তা হলো- ট্রেডিং খাত, খাদ্যদ্রব্য, ভোজ্য তেল, জাহাজ শিল্প, অকৃষি খাতের খেলাপি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি।

খেলাপিদের ঋণের সুদ হার গণনা হবে ৯ শতাংশ সরল সুদে। ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিলেই ঋণ পুনঃতফসিলের জন্য আবেদন করতে পারবে খেলাপিরা। ঋণ পরিশোধে এক বছর গ্রস পিরিয়ডসহ মোট ১০ বছর সময় পাবে তারা। এই এক বছরে কোনো ঋণ পরিশোধ করতে হবে না।

ছোট, মাঝারি ও বড় ঋণ খেলাপির ধরন যা-ই থাকুক না কেন, সবাই এসব সুবিধা নিতে পারবেন। স্বাধীনতার পর থেকে যারা ঋণখেলাপি তারাও এ সুবিধার আওতায় আসবেন। এক্ষেত্রে তাদের খেলাপি ঋণের হিসাব হবে ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের এককালীন হিসাবায়ন ভিত্তিতে।

কোনো ঋণখেলাপি যদি মনে করে এককালীন ঋণ পরিশোধ করে খেলাপির তালিকা থেকে বেরিয়ে যাবে, তাহলে সে ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে সার্কুলারে। বলা হয়েছে, এ ক্ষেত্রে ঋণখেলাপিরা ঋণ পরিশোধের জন্য এক বছর পর্যন্ত সময় পাবে। এককালীন পরিশোধের জন্য ৯ শতাংশ হারে সুদ আরোপ করা হবে। সময় দেওয়া হবে ছয় মাস। এর মধ্যে পরিশোধ করতে না পারলে আরো ছয় মাস অতিরিক্ত সময় পাবে ঋণখেলাপিরা। যদি কোনো ঋণখেলাপি অতিরিক্ত সময়ের মধ্যেও পরিশোধ করতে না পারে তাহলে ৯ শতাংশ সুদের সঙ্গে আরো ২ শতাংশ সুদ আরোপ করা হবে।

সার্কুলার জারির পর থেকেই ঋণখেলাপিরা এতে উল্লেখ করা বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। তবে এজন্য সার্কুলার জারির ৯০ দিনের মধ্যে তাদের আবেদন করতে হবে। যে ব্যাংকে গ্রাহক খেলাপি হয়েছে সে ব্যাংকে তাদের আবেদন করতে হবে। আবেদনে গ্রাহককে কেন তার ঋণ খেলাপি হয়েছে, তা উল্লেখ করতে হবে। কারণ ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিরা এ সুবিধার বাইরে থাকবেন। ৯০ দিন পর সার্কুলারের মেয়াদ শেষ বলে গণ্য হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

অর্থনীতি এর আরও খবর