Alexa

বাজেটে তরুণদের জন্য বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব

বাজেটে তরুণদের জন্য বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব

‘যুব জনগোষ্ঠীর জন্য বিনিয়োগ: বাজেটে প্রতিফলন কী?’ নামে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠান/ছবি: বার্তা২৪.কম

আসছে বাজেটে দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ বাড়ানোর প্রয়োজন। কারণ তরুণরা পর্যাপ্ত বরাদ্দের অভাবে বিনিয়োগ করতে করতে পারছে না। পাশাপাশি আবার সমন্বয়, বাস্তবায়ন, উদ্ভাবন ও তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধির কার্যক্রমের ঘাটতিও প্রকট।

একশনএইড বাংলাদেশ ‘যুব জনগোষ্ঠীর জন্য বিনিয়োগ: বাজেটে প্রতিফলন কী?’ নামে একটি গবেষণায় এমন চিত্র উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার (২১মে) ঢাকার পুরান পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম-এ আয়োজিত একটি আলোচনা অনুষ্ঠানে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। একশনএইড বাংলাদেশ ও ইকোনোমিক রিপোটার্স ফোরাম যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যাপ্ত বাজেটের অভাব এবং বিদ্যমান বরাদ্দকৃত বাজেটে যুব উন্নয়নমূলক খাতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা না থাকায় তরুণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন বাঁধাগ্রস্ত হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উন্নয়নে যুব শক্তিতে সুপরিকল্পিত বিনিয়োগ প্রয়োজন। তা নাহলে দেশ ও সমাজ একটি স্থায়ী ক্ষতির সম্মুখীন হবে। যেটি হবে জাতীয় সংকট।

গবেষণায় বলা হয়, ২০১৮ সালের বাজেটে এই ২২টি মন্ত্রণালয়ের জন্য বাজেটে মোট বরাদ্দ ছিলো ১ কোটি ৬৬ লাখ কোটি টাকা যা পরবর্তীতে ২১দশমিক ৬ শতাংশ কমে ১ কোটি ৩৭ লাখ কোটিতে নেমে আসে। একই সময় মূল জাতীয় বাজেট চার লাখ কোটি থেকে ৭ দশমিক ৮১ শতাংশ কমে ৩ কোটি ৭২ লাখ কোটিতে নেমে আসে, অর্থাৎ সামগ্রিক বাজেটের তুলনায় এই ২২টি মন্ত্রণালয়ের বাজেট কমার হার বেশি।

গবেষণায় দেখা গেছে, মন্ত্রণালয়গুলোতে নানাভাবে, আলাদাভাবে বা যৌথভাবে তরুণদের জন্য বাজেট বরাদ্দ করা হয়। কিন্তু সুনির্দিষ্টভাবে তরুণদের জন্য পরিকল্পনা নেই। আবার মন্ত্রণায়গুলোর এই বাজেট ও কর্মকাণ্ডের মধ্যে সমন্বয়েরও ঘাটতি আছে। গবেষণাপত্রটি তুলে ধরেন ইংরেজী দৈনিক দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস পত্রিকার প্ল্যানিং এডিটর আসজাদুল কিবরিয়া।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক মহাপরিচালক ড. মুস্তাফা কে মুজেরী বলেন, তরুণরাই আমাদের দেশ ও সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। অথচ আমাদের দেশের বাজেটে যুব উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ অবহেলিত। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মস্থান-এর মত গুরুত্বপূর্ণ খাতে যে পরিমাণ বরাদ্দ দরকার তা করা হচ্ছে না।

প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সাথে অগ্রসর হওয়া চতুর্থ শিল্প বিপ্লবেও পিছিয়ে পড়ছে আমাদের তরুণরা। পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি হচ্ছে না। ফলে একটি অনিশ্চিত ভবিষ্যত সৃষ্টি হচ্ছে আমাদের তরুণদের সামনে।

একশনএইড বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, “বিশাল জনগোষ্ঠীর তরুণদের অপর্যাপ্ত বাজেট ও সরকারি ব্যয় সম্পর্কিত নীতিমালার অভাব দীর্ঘমেয়াদী জনমিতির সুফল আদায়ের ক্ষেত্রে ক্ষতিকারক হতে পারে এবং দেশের প্রথম জনমিতিক সুবিধাকে একটি দু:স্বপ্নে পরিণত করতে পারে।

বিজিএমইএ-র সভাপতি রুবানা হক বাংলাদেশে তরুণদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তার মতে, মানসিক স্বাস্থ্য, উদ্দীপনার অভাব, দক্ষতার ঘাটতি ও যুগোপযোগী শিক্ষার অভাব বর্তমানে তরুণদের প্রধান সমস্যা।

 

আপনার মতামত লিখুন :