Barta24

বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

রবীন্দ্রনাথকে পুঁজি করে জাপান টোব্যাকোর অবৈধ বিজ্ঞাপন

রবীন্দ্রনাথকে পুঁজি করে জাপান টোব্যাকোর অবৈধ বিজ্ঞাপন
জাপান টোব্যাকোর বিজ্ঞাপনে কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি ব্যবহার/ ছবি: সংগৃহীত
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ব্যবহার করেছে এবার তামাক কোম্পানি। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জাপান ভ্রমণ ইতিহাস নিয়ে তারকা শিল্পী তাহসান খানের একটি অনুষ্ঠানের বিজ্ঞাপন প্রচারণা চলছে। বুধবারও দেশের প্রথমসারির দৈনিকগুলোতে এই বিজ্ঞাপনটি প্রচার করেছে জাপান টোব্যাকো বাংলাদেশ।

তামাক নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যমে এ ধরনের ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা অভূতপূর্ব ও নজিরবিহীন। এই প্রমোশনাল বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা হয়েছে জাপান টোব্যাকোর (জেটিআই) ব্রান্ড কালার ও স্লোগান ‘জাপানিজ কোয়ালিটি’। জাপান টোব্যাকো তাদের ব্রান্ড প্রমোশনের ক্ষেত্রে একই কালার এবং স্লোগান ব্যবহার করে থাকে। সুতরাং নিঃসন্দেহে বলা যায় এই অনুষ্ঠানটি মূলত জাপান টোব্যাকোর ব্রান্ড প্রমোশনের জন্যই তৈরি করা হয়েছে।

এদিকে বিজ্ঞাপনে জাপান টোব্যাকোর নাম বলা না হলেও বিভিন্ন স্থানে যেসব ক্যাম্পেইন চলছে ও বিপণন কর্মকর্তারা যে শার্ট গায়ে দিচ্ছেন, সেখানে 'জাপানিজ কোয়ালিটি' শ্লোগানের সঙ্গে জেটিআই এর লোগোও রয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী রুবেল আহমেদ বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ বাঙ্গালির চিন্তা ধারার একটি বড় জগৎ জুড়ে রয়েছে। সেখানে রবীন্দ্রনাথ এবং তার প্রতি মানুষের দূর্বলতাকে পুঁজি করে সিগারেট কোম্পানির বিজ্ঞাপন একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা। এটা যেমন বাঙ্গালি সংস্কৃতিকে অপমান করা, তেমনি মানুষকে ঠকিয়ে তামাকের প্রচারনা করা।’ এই ধরনের বিজ্ঞাপনে তারকা শিল্পী তাহসানের সংযুক্ত হওয়ার নিন্দাও করেন তিনি।

এদিকে তামাক নিয়ন্ত্রণে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা প্রজ্ঞার এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাপান টোব্যাকো বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশের পর থেকেই আইন ভঙ্গ করে বিভিন্ন উপায়ে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। তাহসান খান বর্তমান সময়ের একজন জনপ্রিয় শিল্পী এবং দেশের তরুণ সমাজের একজন আইকনও বটে। তামাক কোম্পানির অর্থায়নে তৈরি এ ধরনের অনুষ্ঠানে তার অংশগ্রহণ কোনোভাবেই কাম্য নয়, যা তরুণ সমাজকে তামাকপণ্যে আকৃষ্ট করতে পারে।

ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইনের ধারা ৫ অনুযায়ী, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো তামাকজাত দ্রব্য বা তামাকের ব্যবহার প্রবর্ধনের উদ্দেশে যে কোনো ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা নিষিদ্ধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। কোনো ব্যাক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠান আইনের এই বিধান লংঘন করলে অনুর্ধ্ব তিন মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হবে।

আইনি বিধি-নিষেধ এড়িয়ে এই ধরনের আগ্রাসী প্রচারণা জাপান টোব্যাকোর বিপণন কার্যক্রমের একটি অন্যতম কূটকৌশল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন :

মেয়েকে কোটি টাকার শেয়ার উপহার দিলেন অর্থমন্ত্রী

মেয়েকে কোটি টাকার শেয়ার উপহার দিলেন অর্থমন্ত্রী
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও তার মেয়ে নাফিসা কামাল, ছবি: সংগৃহীত

মেয়ে নাফিসা কামালকে কোটি টাকার শেয়ার উপহার দিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইনস্যুরেন্স কোম্পানির অন্যতম উদ্যোক্তা তিনি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ডিএসইর তথ্য মতে, অর্থমন্ত্রীর কাছে এশিয়া প্যাসিফিক ইনস্যুরেন্সের ৮ লাখ ৪৭ হাজার শেয়ার ছিল। তিনি গত ১৯ জুন সেই শেয়ার থেকে ৩ লাখ ৯০ হাজার শেয়ার উপহার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। যার বাজারমূল্য ১ কোটি ৪ লাখ ৫২ হাজার টাকার বেশি। বুধবার কোম্পানির শেয়ারের দাম ছিল ২৬ টাকা ৬০ পয়সা।

সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা শেয়ার ক্রয়, বিক্রয় কিংবা হস্তান্তর করতে চাইলে ঘোষণা দিতে হয়। ঘোষণার পর মেয়ে নাফিসা কামালকে শেয়ার উপহার দেওয়ার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে এশিয়া প্যাসিফিক ইনস্যুরেন্সে নাফিসা কামালের ধারণ করা শেয়ারের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৪৯ হাজার ৮০০টি।

বেসরকারি খাতের এই সাধারণ বিমা কোম্পানিটি ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। অর্থমন্ত্রী ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। তিনি একাধারে ২০০০ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত টানা ১০ বছর চেয়ারম্যান হিসেবে ছিলেন।

বর্তমানে মুস্তফা কামালের স্ত্রী কাসমিরী কামাল এ কোম্পানির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া তার দুই মেয়ে কাসফি কামাল ও নাফিসা কামাল এ কোম্পানির পরিচালক পদে রয়েছেন।

২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের তথ্যানুযায়ী, এ কোম্পানির ৪০ লাখ ১০ হাজার ৮০০ শেয়ারের মালিকানা রয়েছে অর্থমন্ত্রীর পরিবারের হাতে, যা কোম্পানির মোট শেয়ারের ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

বর্তমানে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে মোট ৪২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৩০ দশমিক ২০ শতাংশ এবং ২৭ দশমিক ৮ শতাংশ শেয়ার।

২০১৮ সালের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে এশিয়া প্যাসিফিক। সে সময় এ কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ১ টাকা ৫৭ পয়সা। চলতি হিসাব অনুযায়ী বছরের প্রথম প্রান্তিকে এই কোম্পানির ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৮১ পয়সা।

বাস-প্রাইভেট কারে ২৫ শতাংশ কর

বাস-প্রাইভেট কারে ২৫ শতাংশ কর
ছবি: সংগৃহীত

বাস, মিনিবাস, কোস্টার, ট্যাক্সিক্যাব, প্রাইমমুভার, ট্রাক, ট্যাংক-লরি, পিকআপ, হিউম্যান হলার, ম্যাক্সি বা মাল বহনকারী অটোরিকশার মালিকদের ওপর ২৫ শতাংশ কর আরোপ করা হয়েছে।

গত রোববার (২৩ জুন) এ সংক্রান্ত একটি গেজেট প্রকাশ করেছে জাতীয় রাজস্ব র্বোড (এনবিআর)। আগামী ১ জুলাই থেকে এই গেজেট কার্যকর হবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত গেজেটে বলা হয়, ৫২ সিটের অধিক বাস মালিককে বছরের ১৬ হাজার টাকা এবং ৫২ সিটের কম যাত্রীবাহী বাসকে বছরের ১১ হাজার ৫০০ টাকা আয়কর দিতে হবে।

তাপানুকূল লাক্সারি বাস প্রতিটির জন্য ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা, দোতলা বাস ও তাপানুকূল মিনিবাস/কোস্টার প্রতি ১৬ হাজার টাকা এবং অনান্য মিনিবাস ও কোস্টার প্রতিটির জন্য সাড়ে ৬ হাজার টাকা বছরের আয়কর দিতে হবে।

এছাড়াও কনটেইনার পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত প্রাইমমুভার প্রতিটির জন্য ২৪ হাজার, ৫ টনের অধিক ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রাক বা ট্যাংক-লরি প্রতিটির জন্য ১৬ হাজার, দেড় টন থেকে ৫ টনের মধ্যে ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ট্র্যাক বা ট্রাংক-লরি প্রতিটির জন্য ৯ হাজার ৫০০ টাকা, দেড় টনের কম ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ট্র্যাক, পিক-আপ সব ধরনের হিউম্যান হলার, ম্যাক্স বা মালবহনকারী বা যাত্রীবহণকারী অটোরিকশা প্রতি ৪ হাজার টাকা হারে আয়কর নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ট্যাক্সক্যাবের জন্য ১১ হাজার ৫০০ টাকা এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নয় এমন ট্যাক্সি ক্যাবের জন্য ৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র