Barta24

শনিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৯, ২ ভাদ্র ১৪২৬

English

২০১৯-২০২০ অর্থবছর

বাজেটে ভর্তুকি ৪৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে

বাজেটে ভর্তুকি ৪৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে
আগামী বাজেটে ভর্তুকির পরিমাণ বাড়বে/ ছবি: সংগৃহীত
আসিফ শওকত কল্লোল
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে সরকারের ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণ খাতে মোট বরাদ্দ প্রথমবারের মতো ৪৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। এটি চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে ছয় হাজার ৫০০ কোটি টাকা বেশি।

ভর্তুকিতে বরাদ্দ বাড়ার প্রধান কারণ হচ্ছে প্রবাসীদের পাঠানো টাকার উপর দুই শতাংশ প্রণোদনা আর দেশের গ্যাস খাতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজির) খাতে ভর্তুকি বাবদ আট হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

গত ২০ অর্থবছর মধ্যে এ খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। চলতি অর্থ বছরে এ খাতে বরাদ্দ ৩৮হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

অর্থ বিভাগ বলছে, প্রদর্শিত ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণ বাবদ প্রকৃত ব্যয় এর আগের অর্থবছরগুলোর তুলনায় বাড়লেও জিডিপির শতকরা হিসাবে তা অপরিবর্তিত রয়েছে।

সাধারণত, ভর্তুকি বেশি দেওয়া হয় কৃষি ও খাদ্য খাতে। আর প্রণোদনা বেশি দেওয়া হয় কৃষি, পোশাক রফতানি ও পাট খাতে। নগদ ঋণ দেওয়া হয়ে থাকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডসহ (পিডিবি) অন্যান্য সংস্থাকে।

তবে বিপিসি, পিডিবিকে যে নগদ ঋণ দেওয়া হয় সেগুলোকে এক ধরনের ভর্তুকি হিসেবেই দেখা হয়ে থাকে। কারণ এসব ঋণ সাধারণত সরকার ফেরত পায় না। যে কারণে পরে পুরো ঋণই অনুদান, ভর্তুকিতে রূপান্তরিত হয়। বেসরকারি খাত থেকে বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে বিদ্যুৎ পেতে পিডিবিকে ঋণ দেয় সরকার।

ভর্তুকি: আগামী অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি ভর্তুকি দেওয়া হবে বিদ্যুৎ খাতে। বিদ্যুতে ভর্তুকির পরিমাণ প্রাথমিকভাবে প্রাক্কলন করা হয়েছে ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছর এ খাতে ভর্তুকি রয়েছে ৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এর পরেই রয়েছে গ্যাস খাতের এলএনজি আমদানিতে ভর্তুকি, যার পরিমাণ আট হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এ পর্যন্ত এলএনজি আমদানি খাতে ভর্তুকি বাবদ পেট্রোবাংলাকে দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকা প্রদান করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

খাদ্যে ভর্তুকির পরিমাণ ধরা হচ্ছে চার হাজার ৫০০ কোটি টাকা। খাদ্যেও চলতি অর্থবছরের তুলনায় ১০৪ কোটি টাক বরাদ্দ কমছে। এ ছাড়া অন্যান্য খাতের জন্য ৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রাক্কলন করা হয়েছে।

প্রণোদনা: আগামী অর্থবছরের বাজেটে প্রণোদনার টাকার অংকে কোনো হেরফের হচ্ছে না। চলতি অর্থবছরের মতো আগামীতেও ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছে। কৃষি খাতের জন্য ৯ হাজার কোটি টাকা রাখার প্রস্তাব করা হচ্ছে। রফতানিতে নগদ প্রণোদনাও রাখা হচ্ছে চার হাজার কোটি টাকা। আর পাট খাতের জন্য ৫০০ কোটি টাকা।

নগদ ঋণ: নগদ ঋণ খাতে পাঁচ হাজার কোটি টাকা রাখা হচ্ছে। তবে এই এর মধ্যে বিপিসি ও পিডিবির জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হচ্ছে না। চলতি অর্থবছরেও এ দুই খাতে কোনো বরাদ্দ রাখেনি সরকার। বরং অন্যান্য খাতে পাঁচ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কম থাকায় গত কয়েক অর্থবছর ধরে বিপিসি কোনো ভর্তুকি দেয়নি সরকার। আগামী অর্থবছরেও তাই ধারাবাহিকতার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। আর বিদ্যুৎ খাতে পিডিবির ব্যবসায়িক পরিকল্পনা অনুযায়ী মূল্য সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে। তাই এ খাতে ভর্তুকি দেওয়া হবে না।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারের বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি দিতেই হয়। কিন্তু সেই টাকা কোথায় খরচ হচ্ছে তার নজরদারি বাড়াতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘যেখানে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার জন্য ভর্তুকি কমানো দরকার, সেখানে ভর্তুকি বাড়ছে এটা বোধ হয় গ্রহণযোগ্য নয়।’

পুনঃঅর্থায়ন: নানা অনিয়ম, দুর্নীতি আর খেলাপি ঋণের ভারে নুয়ে পড়া ব্যাংক খাত বাঁচাতে আবারো দেড় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। এই অর্থ মূলত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতির পূরণে ব্যয় করা হবে। জাতীয় সংসদে আগামী ১৩ জুন ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

সংকটে পড়া ব্যাংক খাতের ইমেজ উদ্ধারে সাম্প্রতিক সময়ে খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভালো ঋণগ্রহীতাদের জন্যও পৃথক সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের সুযোগ ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ না কমিয়ে আরও বাড়াবে।

সূত্র জানায়, ব্যাংক খাতে বর্তমানে প্রায় এক লাখ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ সৃষ্টি হয়েছে, যার বেশিরভাগরই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর। এসব ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটেও এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। আগামী অর্থবছরেও একই পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। তবে শেষ সময়ে এর পরিমাণ আরেকটু বাড়তে পারে বলে জানা গেছে।

সূত্রমতে, মূলধন ঘাটতি পূরণের জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংক সরকারের কাছে গত ফেব্রুয়ারিতে প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা চেয়েছিল। সরকার সেই সময় কিছু অর্থ ছাড়ও করেছে।

আপনার মতামত লিখুন :

অপরিকল্পিত ট্যানারি স্থানান্তরের কারণেই চামড়ার বাজারে ধস!

অপরিকল্পিত ট্যানারি স্থানান্তরের কারণেই চামড়ার বাজারে ধস!
পোস্তায় লবণ দিয়ে চামড়া সংরক্ষণ করা হচ্ছে, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

সাভারের হেমায়েতপুর থেকে ফিরে: রাজধানী ঢাকার হাজারীবাগ থেকে সাভারে অপরিকল্পিতভাবে ট্যানারি স্থানান্তরের কারণেই দেশের চামড়া শিল্প খাতে ধস নেমেছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ট্যানারি কেন্দ্রীক সমস্যার সমাধান না হলে এ শিল্পে পূর্ণ যৌবন ফিরবে না।

বুধবার (১৪ আগস্ট) সকালে সাভারের হেমায়েতপুরে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থার (বিসিক) শিল্প নগরীর ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

আরও পড়ুন: গত বছরের চামড়া মজুদ, নতুন চামড়া কেনার কদর নেই

ট্যানারি মালিকদের অভিযোগ, হঠাৎ করেই দেশের চামড়া শিল্পে ধস নামেনি। দীর্ঘ ৪-৫ বছর ধরে নানান অব্যবস্থাপনার কারণে চামড়া শিল্পে আজ এই দুরবস্থা। গত ৩০ বছর ধরে অনেক বিদেশি ক্রেতা বাংলাদেশ থেকে প্রক্রিয়াজাত চামড়া কেনেন। কিন্তু তারা এখন বাংলাদেশ বিমুখ। এটা হঠাৎ করে হয়নি। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার কারণে তারা আর এদেশ থেকে চামড়া নিতে চাইছেন না। তাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করতে না পারায় তারা অন্যদেশ থেকে চামড়া কিনছেন।

আরও পড়ুন: কাঁচা চামড়া রফতানিতে লাভবান হবেন পাইকারি..

হেমায়েতপুরের ট্যানারি পল্লীর এস বি শাহী ট্যানারির লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী মো. শাহজাহান ভূঁইয়া সাজু বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘হাজারীবাগে থাকতে বিদেশি ক্রেতাদের অনেক চাপ থাকতো। সে সময় দেশের চামড়া শেষ করে আমদানি করা চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে হতো। কিন্তু এখন গত বছরের চামড়াই বিক্রি করতে পারিনি। ক্রেতা না থাকলে বিক্রিও করবো কাদের কাছে।‘

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/16/1565939243399.jpg

তিনি আরও বলেন, ‘ক্রেতা হারানোর অন্যতম কারণ হাজারীবাগ থেকে অপরিকল্পিতভাবে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তর।’

শিফন হালদার নামে আরেক ট্যানারির মালিক বলেন, ‘ইউরোপ আর আমেরিকার ক্রেতারা না থাকায় চীনের ক্রেতারা সুযোগ নিচ্ছে। তারা ফুটপ্রতি চামড়া এক ডলারে অর্ডার দেয়। পরে চামড়া তৈরি হওয়ার পর এসে বলে ৭০ সেন্ট করে দেবে, না হলে আমাদের কাছ থেকে চামড়া নেবে না। ফলে লোকসান হলেও ক্রেতা ধরে রাখতে আমরা বাধ্য হয়ে তাদের কাছে চামড়া বিক্রি করি। এভাবে লোকসান দিতে থাকলে আমরা কতদিন টিকবো?’

আরও পড়ুন: কাঁচা চামড়া রফতানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের দিকে সরকার এক নোটিশে হাজারীবাগ থেকে ২২২টি ট্যানারি বন্ধ করে দেয়। তখন সাভারের হেমায়েতপুরে কিছুই হয়নি। এরপর দুই-তিন বছর সময় লাগলো হেমায়েতপুরের ট্যানারিপল্লী স্থানান্তর হতে। এই সময়ের মধ্যে ক্রেতারা বসে থাকেনি। নিজেদের চাহিদা পূরণ করতে তারা অন্য দেশের ব্যবসায়ীদের কাছে চলে গেছে। আর এরপর থেকেই ব্যবসায়ীদের লোকসান হচ্ছে। ফলে দেশের চামড়া শিল্পে ধস নামতে থাকে।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মালিক সাখাওয়াত উল্লাহ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘পাঁচ বছর আগে হেমায়েতপুরে ট্যানারিপল্লী চালু করা হলেও এখনও কাজ শেষ হয়নি। শিল্প নগরীর কেন্দ্রীয় পরিশোধন কেন্দ্র (সিইটিপি) এবং ডাম্পিং-এর কাজ শেষ হয়নি। এমনকি অবকাঠামোগত অনেক উন্নয়নও বাকি আছে। এছাড়া আমরা এখনও জমির লিজ বুঝে পাইনি। ফলে ব্যাংক ঋণ পাওয়া যাচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘অপরিকল্পিতভাবে ট্যানারি স্থানান্তর করায় সমস্যাগুলো সৃষ্টি হয়েছে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে আমরা মূলধারায় ফিরতে পারছি না। তাই ক্রেতারা চলে গেছেন অন্য দেশে। তবে এখনও সুযোগ আছে। সরকার যদি আগামী এক বছরের মধ্যে সব সমস্যা সমাধান করতে পারে, তাহলে দুই বছরের মধ্যে আমরা আবার আগের অবস্থায় ফিরতে পারব। চামড়ার বাজারও চাঙা হবে।’

কাঁচা চামড়া রফতানিতে লাভবান হবেন পাইকারি ব্যবসায়ী-আড়তদাররা

কাঁচা চামড়া রফতানিতে লাভবান হবেন পাইকারি ব্যবসায়ী-আড়তদাররা
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

গেল কোরবানির ঈদে পশুর চামড়া নিয়ে জল কম ঘোলা হয়নি। ন্যায্য দাম না পাওয়ায় অনেক জায়গায় চামড়া মাটিতে পুতে ফেলে নীরব প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে সরকার কাঁচা চামড়া রফতানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে চামড়া রফতানি করে লাভবান হবেন পাইকারি ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা। তবে সরকারের এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ট্যানারি মালিকরা।

জানা গেছে, ট্যানারি মালিকদের কাছে বিপুল পরিমাণ টাকা বাকি থাকায় কাঁচা চামড়া রফতানিতে আগ্রহী পাইকারি ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা।

তাদের দাবি, কাঁচা চামড়া রফতানি করা গেলে অন্তত ট্যানারি মালিকদের কাছে বছরের পর বছর টাকা বাকি রাখতে হবে না। আর দেশের মানুষও চামড়ার ন্যায্য মূল্য পাবেন। তবে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন পর্যায়ের শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। কারণ কাঁচা চামড়া রফতানি হলে তাদের আর প্রয়োজন পড়বে না। ফলে তারা বেকার হয়ে যেতে পারেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্ক্রিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হাজী মো. দেলোয়ার হোসেন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘কাঁচা চামড়া রফতানির সিদ্ধান্তে আমাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। বাইরের অনেক এজেন্সি ইতোমধ্যে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। কিন্তু আমাদের লাইসেন্স নাই। সরকার চাইলে ১০-১২ দিনের মধ্যে লাইসেন্স দিতে পারে। কাঁচা চামড়া রফতানি করা গেলে কোনো ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ট্যানারি মালিকদের অভিযোগ- কাঁচা চামড়া রফতানি হলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। কিন্তু আমরা তাদের ক্ষতি করতে চাইনি। শতকরা ৯০ ভাগ ট্যানারি মালিক ব্যবসায়ীদের টাকা বাকি রেখেছেন। ফলে এই পরিবর্তনের দায় তাদের নিতে হবে। কাঁচা চামড়া রফতানি শুরু হলে ট্যানারি মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সত্য। কিন্তু চামড়া ব্যবসায়ীদের জন্য একটা পথ বের হবে। আমরা আর কতদিন টাকা বাকি রেখে চলব? আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। আমরা চাচ্ছি কাঁচা চামড়া রফতানি হোক। চীনে কাঁচা চামড়ার অনেক চাহিদা আছে।’

পাইকারি চামড়া ব্যবসায়ী নিজামুল হক অ্যান্ড সন্সের মালিক মো. নিজামুল হক নজু বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘কাঁচা চামড়া রফতানি করা গেলে আমরা উপকৃত হব। কিন্তু রফতানি করবে কে? সরকার নাকি ব্যবসায়ীরা সেটা এখনো স্পষ্ট নয়। সরকার যদি আমাদের কাছ থেকে চামড়া কিনে রফতানি করে তাহলে আমরা বেশি উপকৃত হব।’

তিনি আরও বলেন, ‘চামড়া রফতানি হলে এই সেক্টরের শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাছাড়া ফিনিশড চামড়া তৈরি করতে অনেকে বিদেশ থেকে মেশিন কিনে এনেছেন। এখন এগুলোর কী হবে? তবে সরকার ফিনিশড চামড়ার সঙ্গে ব্লু (প্রাথমিক প্রক্রিয়াজাত করা) চামড়াও রফতানি করতে পারে।’

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ) সভাপতি শাহীন আহমেদ সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, কাঁচা চামড়া রফতানির সুযোগ দিলে শতভাগ দেশীয় এই শিল্প হুমকির মুখে পড়বে। এছাড়া চামড়া শিল্প নগরী সাত হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ ঝুঁকিতে পড়বে। ফলে অনেকে বেকার হয়ে পড়বেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র