Barta24

বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

বাংলাদেশিদের পদচারণায় জমজমাট কলকাতার ঈদ বাজার

বাংলাদেশিদের পদচারণায় জমজমাট কলকাতার ঈদ বাজার
বাংলাদেশিদের পদচারণায় জমজমাট কলকাতার ঈদ বাজার
ইসমাঈল হোসাইন রাসেল
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

কলকাতা ঘুরে: রমজান শেষেই মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। তাইতো দেশের শপিংমলের পাশাপাশি বাংলাদেশি ক্রেতাদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে কতকাতার ঈদবাজার। কলকাতার নিউমার্কেট, পার্ক স্ট্রিট, গড়িয়াহাট, ধর্মতলা, রাজাবাজার, বড় বাজার, পার্ক সার্কাস, সিটি মার্ট, সিটি সেন্টার,- সর্বত্রই এখন পুরোদমে চলছে ঈদের কেনাকাটা। যাতায়াত ও ভিসা সহজলভ্য হওয়ায় কলকাতার মার্কেটগুলোতে ভিড় জমান বাংলাদেশিরা।

কলকাতার মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, নারীদের পোশাক, আর জুতার মার্কেটে ক্রেতাদের ভিড় সবচেয়ে বেশি। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পাড় করছেন ক্রেতারা। বিশেষ করে নিউমার্কেটে বাংলাদেশি ক্রেতাদের ভিড় সবচেয়ে বেশি। অনেক ক্ষেত্রে কেনাকাটায় স্থানীয়দেরও ছাড়িয়ে যাচ্ছেন তারা।

নিউমার্কেট এরিয়ায় মেয়েদের জনপ্রিয় পোশাকের দোকান মিলানে গিয়ে দেখা গেছে, দোকানগুলোতে ভারতীয় অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম ক্রেতার সংখ্যা বাংলাদেশি ক্রেতার সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি। বাংলাদেশি যেসব ক্রেতারা সেখানে যাচ্ছেন তারা একসঙ্গে অনেক পোশাক কিনছেন। দাম কিছুটা কম হওয়ায় এখানে পোশাকের চাহিদা অনেক বেশি বলে ক্রেতারা জানান।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/24/1558678670809.jpg

মিলানের বিক্রেতা অভিষেক বার্তা২৪.কমকে বলেন, আমাদের এই দোকান থেকে প্রতিদিন অনেক পোশাক বিক্রি হয়। বাংলাদেশ থেকে যারা আসেন তারাও অনেক ড্রেস কিনে নিয়ে যান। তবে এখানকার মানুষরাও মিলানে পোশাক কিনতে আসেন। আমরা অনেক ছাড় দিয়ে বিক্রি করি, তাই বাংলাদেশি ক্রেতারা এখানেই বেশি আসেন।

কলকাতার বৃহত্তর জুতার মার্কেট শ্রীলেদার্স ঘুরে দেখা গেছে, নিউমার্কেটের সামনে শ্রীলেদার্স-এর দোতলা শো-রুমটিতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। যারমধ্যে অনেকেই বাংলাদেশি। ঘুরে ঘুরে অনেকেই পছন্দের জুতা কিনে নিচ্ছেন। কেউ আবার দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের ভিডিওকলের মাধ্যমে জুতার মডেল দেখিয়ে পছন্দেরটি বাছাই করছেন।

শ্রীলেদার্সে জুতা কিনতে আসা ধানমন্ডির বাসিন্দা নাহিদ শাওন বার্তা২৪.কমকে বলেন, চিকিৎসা সংক্রান্ত কারণে কলকাতায় এসেছি। এরই মাঝে কিছুটা ঈদের কেনাকাটা সেরে নিচ্ছে। বাংলাদেশের চেয়ে এখানে ভালো মানের জুতা কিছুটা কম দামে পাওয়া যায়। আর শ্রীলেদার্স ভালো ব্র্যান্ড, তাই পরিবারের সদস্যদের জন্য পছন্দ করে জুতা কিনে নিচ্ছি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/24/1558678691590.jpg

বাজার কলকাতার শোরুমেও বাড়তি ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দোতলা এই শোরুমটিতে ক্রেতাদের সমাগম রয়েছে চোখে পড়ার মতো। নারী-পুরুষ, শিশু সবার জন্যই রকমারি পোশাক মিলছে এখানে। দামও অন্যান্য জায়গার তুলনায় অনেকটাই কম। বাজার কলকাতায় কেনাকাটা করতে আসা বাংলাদেশি শামীম পাটোয়ারী বার্তা২৪.কমকে বলেন, কেনাকাটার জন্যই স্ত্রীকে নিয়ে কলকাতায় এসেছি। অন্যান্য জায়গার চেয়ে বাজার কলকাতায় স্বল্প মূল্যে অনেক ভালো মানের পোশাক পাওয়া যায়। আগেও এখান থেকে কেনাকাটা করেছি, তাই এবার স্ত্রীকে নিয়েও এখানে এসেছি। সবার জন্যই এখান থেকে কেনাকাটা করছি।

নিউমার্কেট, সিটি মার্ট, সিটি সেন্টারসহ শপিংমলগুলোতে শাড়ির দোকানেও রয়েছে উপচে পড়া ভিড়। স্বল্প মূল্য ভালো মানের ভারতীয় শাড়ি মিলছে শপিংমলগুলোতে। ঈদে কেন্দ্রীক কেনাকাটায় শাড়ির দোকানগুলো যোগ করছে ভিন্ন মাত্রা। অনেক দোকানে ক্রেতাদের শাড়ি দেখতেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। দাম যাই হোক মানের ক্ষেত্রে ছাড় দিতে রাজি নন ক্রেতারা।

কলকাতায় ঘড়ির বিখ্যাত ব্র্যান্ড ‘ফাস্টট্র্যাক‌‌' শোরুমে চলছে ২০ শতাংশ ছাড়। সেখানেও বাড়তি ক্রেতা সমাগম লক্ষ্য করা গেছে। ঢাকার মতিঝিল থেকে আগত শামিম আহমেদ বার্তা২৪.কমকে বলেন, আমাদের দেশের এই ব্র্যান্ডের ঘড়ির দাম অনেক বেশি। কিন্তু এখানে দাম কিছুটা কম। তার উপরে চলছে ২০ শতাংশ ছাড়। আর ঈদের নতুন পোশাকের পাশাপাশি নতুন ঘড়িও নেয়া হয়, তাই  ‘ফাস্টট্র্যাক‌‌'-এর দুটি ঘড়ি নিলাম। ঘড়ির ওয়ারেন্টিতে বাংলাদেশেও রিপেয়ারিংয়ের সুযোগের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে, তাই এখান থেকে নিলেও দেশে বসেই সার্ভিস নেয়া যাবে।

শোরুমের পাশাপাশি ভিড় রয়েছে ফুটপাতের দোকানগুলোতে। বিশেষ করে নারীদের গলার হার, মালা, হাতের চুড়ির দোকানগুলো ক্রেতাসমাগম অনেক বেশি। এছাড়াও নারীদের জামা-পাজামা, পুরষদের শার্ট-প্যান্ট-টিশার্টের দোকানেও ক্রেতা সমাগম চোখে পড়ার মতো।

কলকাতার নিউমার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির হিসাব অনুযায়ী, ঈদের সময়ে আগে নিউমার্কেট অঞ্চলে ঈদ কেনাকাটার প্রায় অর্ধেক ক্রেতাই হচ্ছেন বাংলাদেশি। বর্তমানে গড়ে প্রায় প্রতিদিন কয়েক হাজার বাংলাদেশি ক্রেতা বিভিন্ন জিনিস কেনার জন্য ভিড় জমাচ্ছেন নিউমার্কেট এলাকায়। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে আসা একশ্রেণির উঠতি প্রজন্ম ফ্যাশনেবল কেনাকাটায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন। সে ক্ষেত্রে নিউমার্কেট ছাড়াও ঈদ কেনাকাটার ভীড় ছড়িয়ে পড়েছে কলকাতার বিভিন্ন নামিদামি শপিংমলে।

কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ব্যবসায়ীদের দাবি, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবারের ঈদবাজার অনেকটাই ভালো। বিশেষ করে বাংলাদেশি ক্রেতার সংখ্যা প্রতিবছরই উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

 

আপনার মতামত লিখুন :

মেয়েকে কোটি টাকার শেয়ার উপহার দিলেন অর্থমন্ত্রী

মেয়েকে কোটি টাকার শেয়ার উপহার দিলেন অর্থমন্ত্রী
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও তার মেয়ে নাফিসা কামাল, ছবি: সংগৃহীত

মেয়ে নাফিসা কামালকে কোটি টাকার শেয়ার উপহার দিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইনস্যুরেন্স কোম্পানির অন্যতম উদ্যোক্তা তিনি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ডিএসইর তথ্য মতে, অর্থমন্ত্রীর কাছে এশিয়া প্যাসিফিক ইনস্যুরেন্সের ৮ লাখ ৪৭ হাজার শেয়ার ছিল। তিনি গত ১৯ জুন সেই শেয়ার থেকে ৩ লাখ ৯০ হাজার শেয়ার উপহার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। যার বাজারমূল্য ১ কোটি ৪ লাখ ৫২ হাজার টাকার বেশি। বুধবার কোম্পানির শেয়ারের দাম ছিল ২৬ টাকা ৬০ পয়সা।

সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা শেয়ার ক্রয়, বিক্রয় কিংবা হস্তান্তর করতে চাইলে ঘোষণা দিতে হয়। ঘোষণার পর মেয়ে নাফিসা কামালকে শেয়ার উপহার দেওয়ার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে এশিয়া প্যাসিফিক ইনস্যুরেন্সে নাফিসা কামালের ধারণ করা শেয়ারের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৪৯ হাজার ৮০০টি।

বেসরকারি খাতের এই সাধারণ বিমা কোম্পানিটি ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। অর্থমন্ত্রী ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। তিনি একাধারে ২০০০ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত টানা ১০ বছর চেয়ারম্যান হিসেবে ছিলেন।

বর্তমানে মুস্তফা কামালের স্ত্রী কাসমিরী কামাল এ কোম্পানির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া তার দুই মেয়ে কাসফি কামাল ও নাফিসা কামাল এ কোম্পানির পরিচালক পদে রয়েছেন।

২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের তথ্যানুযায়ী, এ কোম্পানির ৪০ লাখ ১০ হাজার ৮০০ শেয়ারের মালিকানা রয়েছে অর্থমন্ত্রীর পরিবারের হাতে, যা কোম্পানির মোট শেয়ারের ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

বর্তমানে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে মোট ৪২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৩০ দশমিক ২০ শতাংশ এবং ২৭ দশমিক ৮ শতাংশ শেয়ার।

২০১৮ সালের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে এশিয়া প্যাসিফিক। সে সময় এ কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ১ টাকা ৫৭ পয়সা। চলতি হিসাব অনুযায়ী বছরের প্রথম প্রান্তিকে এই কোম্পানির ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৮১ পয়সা।

বাস-প্রাইভেট কারে ২৫ শতাংশ কর

বাস-প্রাইভেট কারে ২৫ শতাংশ কর
ছবি: সংগৃহীত

বাস, মিনিবাস, কোস্টার, ট্যাক্সিক্যাব, প্রাইমমুভার, ট্রাক, ট্যাংক-লরি, পিকআপ, হিউম্যান হলার, ম্যাক্সি বা মাল বহনকারী অটোরিকশার মালিকদের ওপর ২৫ শতাংশ কর আরোপ করা হয়েছে।

গত রোববার (২৩ জুন) এ সংক্রান্ত একটি গেজেট প্রকাশ করেছে জাতীয় রাজস্ব র্বোড (এনবিআর)। আগামী ১ জুলাই থেকে এই গেজেট কার্যকর হবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত গেজেটে বলা হয়, ৫২ সিটের অধিক বাস মালিককে বছরের ১৬ হাজার টাকা এবং ৫২ সিটের কম যাত্রীবাহী বাসকে বছরের ১১ হাজার ৫০০ টাকা আয়কর দিতে হবে।

তাপানুকূল লাক্সারি বাস প্রতিটির জন্য ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা, দোতলা বাস ও তাপানুকূল মিনিবাস/কোস্টার প্রতি ১৬ হাজার টাকা এবং অনান্য মিনিবাস ও কোস্টার প্রতিটির জন্য সাড়ে ৬ হাজার টাকা বছরের আয়কর দিতে হবে।

এছাড়াও কনটেইনার পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত প্রাইমমুভার প্রতিটির জন্য ২৪ হাজার, ৫ টনের অধিক ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রাক বা ট্যাংক-লরি প্রতিটির জন্য ১৬ হাজার, দেড় টন থেকে ৫ টনের মধ্যে ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ট্র্যাক বা ট্রাংক-লরি প্রতিটির জন্য ৯ হাজার ৫০০ টাকা, দেড় টনের কম ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ট্র্যাক, পিক-আপ সব ধরনের হিউম্যান হলার, ম্যাক্স বা মালবহনকারী বা যাত্রীবহণকারী অটোরিকশা প্রতি ৪ হাজার টাকা হারে আয়কর নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ট্যাক্সক্যাবের জন্য ১১ হাজার ৫০০ টাকা এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নয় এমন ট্যাক্সি ক্যাবের জন্য ৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র