Alexa

৬৬২৭ গ্রাহকের বীমা দাবি পরিশোধ করছে না বায়রা লাইফ

৬৬২৭ গ্রাহকের বীমা দাবি পরিশোধ করছে না বায়রা লাইফ

বায়রা লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড/ ছবি: সংগৃহীত

সব কাগজপত্র ঠিকঠাক থাকার পরও নোয়াখালীর ছয় হাজার ৬২৭ জন গ্রাহকদের বীমা দাবি পরিশোধ করছে না বায়রা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। টাকার অংকে যার পরিমাণ ২২ কোটি সাত লাখ টাকা।

উল্টো গ্রাহকদের এ টাকায় চেয়ারম্যান ও মুখ্য নির্বাহীসহ কর্মকর্তারা দামি ‘লেক্সাস গাড়ি’ ব্যবহারসহ বিলাসবহুল জীবন যাপন করছেন। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) বিশেষ প্রতিবেদেন এই তথ্য উঠে এসেছে।

শুধু নোয়াখালী নয়, দেশের উত্তরাঞ্চলের (বাগেরহাট, লালমনিরহাটের এবং কুড়িগ্রাম) ৪৫০ গ্রাহকের সব কাগজপত্র থাকার পরও মেয়াদোত্তীর্ণ বীমা দাবি পূরণে গড়িমসি করছে কোম্পানি। গ্রাহকরা বলছেন, দ্বিগুণ লাভ দেখিয়ে এজেন্টরা বীমা করিয়েছেন। মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় এখন সেই সব এজেন্টদেরও খুঁজে পাচ্ছেন না।

আইডিআরএর কাছে অভিযোগও করেছেন গ্রাহকরা। কিন্তু তাতেও বীমা দাবি পাচ্ছেন না গ্রামের দরিদ্র মানুষগুলো। টাকা ফেরত পেতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সামনে প্রতিদিন শত শত গ্রাহক ভিড় করছেন।

সার্বিক বিষয়ে আইডিআরএ‘র সদস্য বোরহান উদ্দিন আহমেদ বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘কোম্পানিটির বিরুদ্ধে বীমা দাবি পূরণ করছে না বলে মোটামুটি প্রমাণ পাওয়া গেছে। আমরা কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

আইডিআরএ’র প্রতিবেদন অনুসারে, নোয়াখালীর দত্তের হাট সার্ভিসিং সেলে পরিদর্শন করে দেখা যায় ৮৬১ জন বীমা গ্রাহকের এক কোটি ৮৩ লাখ ৮৫ হাজার ৬৯ টাকা মেয়াদোত্তীর্ণ বীমা দাবি পরিশোধ না করার কারণে গ্রহকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দেয়।

তদন্তে দেখা গেছে, গ্রাহকদের হাতে প্রিমিয়ামের রশিদ রয়েছে। কিন্তু কোম্পানির হিসাবের খাতায় এন্ট্রি নেই। সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে কোম্পানির এমডিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে। কিন্তু তাদের কোনো সাড়া মেলেনি। ফলে কোম্পানির প্রতি গ্রাহকদের আস্থা নষ্ট হচ্ছে।

কোম্পানির দাখিলকৃত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৮ সালে কোম্পানির মোট বীমা দাবির পরিমাণ ছিল ২৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। তার মধ্যে মাত্র সাত কোটি ৬৮ লাখ টাকা পরিশোধ করে। কিন্তু ২২ কোটি পাঁচ লাখ টাকা এখনো পরিশোধ করেনি। ২০১৭ সালেও উত্থাপিত দাবির ১২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। কিন্তু ১৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকা পরিশোধ করেনি।

অথচ বীমা আইন ২০১০-এর ৭২ ধারার বিধান অনুসারে দাবি উত্থাপন হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে বীমা গ্রাহকদের পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু কোম্পানি এ আইন ধারাবাহিকভাবে লঙ্ঘন করে গ্রাহকদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কোম্পানি ২০১৮ সালে নতুন পলিসি ইস্যু করে ছয় হাজার ২২৭টি। সর্বমোট চলমান পলিসির সংখ্যা ৪৯ হাজার ৭২৯টি, সেখানে পলিসি তামাদি হয়েছে ১৫ হাজার ৮৬৯টি। যা অস্বাভাবিক, ২০১৭ সালের তথ্যেও দেখা যায় নতুন পলিসি ইস্যু করে ছয় হাজার ২২৭টি। কিন্তু তামাদি হয়েছে ১৪ হাজার ১৮০টি পলিসি। পলিসি তামাদির কারণে বীমা গ্রাহক ও কোম্পানির উভয় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বীমা খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে বায়রা লাইফের ভারপ্রাপ্ত এমডি ওমর ফারুক ভূইয়ার সঙ্গে একাধিকরার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে কোম্পানির চেয়ারম্যান মো. আবুল বাশার বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘আমাদের কিছু সমস্যা হয়েছে। এগুলোর সমাধান চলছে।’

আপনার মতামত লিখুন :