Barta24

বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬

English

৬৬২৭ গ্রাহকের বীমা দাবি পরিশোধ করছে না বায়রা লাইফ

৬৬২৭ গ্রাহকের বীমা দাবি পরিশোধ করছে না বায়রা লাইফ
বায়রা লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড/ ছবি: সংগৃহীত
মাহফুজুল ইসলাম
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

সব কাগজপত্র ঠিকঠাক থাকার পরও নোয়াখালীর ছয় হাজার ৬২৭ জন গ্রাহকদের বীমা দাবি পরিশোধ করছে না বায়রা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। টাকার অংকে যার পরিমাণ ২২ কোটি সাত লাখ টাকা।

উল্টো গ্রাহকদের এ টাকায় চেয়ারম্যান ও মুখ্য নির্বাহীসহ কর্মকর্তারা দামি ‘লেক্সাস গাড়ি’ ব্যবহারসহ বিলাসবহুল জীবন যাপন করছেন। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) বিশেষ প্রতিবেদেন এই তথ্য উঠে এসেছে।

শুধু নোয়াখালী নয়, দেশের উত্তরাঞ্চলের (বাগেরহাট, লালমনিরহাটের এবং কুড়িগ্রাম) ৪৫০ গ্রাহকের সব কাগজপত্র থাকার পরও মেয়াদোত্তীর্ণ বীমা দাবি পূরণে গড়িমসি করছে কোম্পানি। গ্রাহকরা বলছেন, দ্বিগুণ লাভ দেখিয়ে এজেন্টরা বীমা করিয়েছেন। মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় এখন সেই সব এজেন্টদেরও খুঁজে পাচ্ছেন না।

আইডিআরএর কাছে অভিযোগও করেছেন গ্রাহকরা। কিন্তু তাতেও বীমা দাবি পাচ্ছেন না গ্রামের দরিদ্র মানুষগুলো। টাকা ফেরত পেতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সামনে প্রতিদিন শত শত গ্রাহক ভিড় করছেন।

সার্বিক বিষয়ে আইডিআরএ‘র সদস্য বোরহান উদ্দিন আহমেদ বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘কোম্পানিটির বিরুদ্ধে বীমা দাবি পূরণ করছে না বলে মোটামুটি প্রমাণ পাওয়া গেছে। আমরা কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

আইডিআরএ’র প্রতিবেদন অনুসারে, নোয়াখালীর দত্তের হাট সার্ভিসিং সেলে পরিদর্শন করে দেখা যায় ৮৬১ জন বীমা গ্রাহকের এক কোটি ৮৩ লাখ ৮৫ হাজার ৬৯ টাকা মেয়াদোত্তীর্ণ বীমা দাবি পরিশোধ না করার কারণে গ্রহকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দেয়।

তদন্তে দেখা গেছে, গ্রাহকদের হাতে প্রিমিয়ামের রশিদ রয়েছে। কিন্তু কোম্পানির হিসাবের খাতায় এন্ট্রি নেই। সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে কোম্পানির এমডিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে। কিন্তু তাদের কোনো সাড়া মেলেনি। ফলে কোম্পানির প্রতি গ্রাহকদের আস্থা নষ্ট হচ্ছে।

কোম্পানির দাখিলকৃত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৮ সালে কোম্পানির মোট বীমা দাবির পরিমাণ ছিল ২৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। তার মধ্যে মাত্র সাত কোটি ৬৮ লাখ টাকা পরিশোধ করে। কিন্তু ২২ কোটি পাঁচ লাখ টাকা এখনো পরিশোধ করেনি। ২০১৭ সালেও উত্থাপিত দাবির ১২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। কিন্তু ১৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকা পরিশোধ করেনি।

অথচ বীমা আইন ২০১০-এর ৭২ ধারার বিধান অনুসারে দাবি উত্থাপন হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে বীমা গ্রাহকদের পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু কোম্পানি এ আইন ধারাবাহিকভাবে লঙ্ঘন করে গ্রাহকদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কোম্পানি ২০১৮ সালে নতুন পলিসি ইস্যু করে ছয় হাজার ২২৭টি। সর্বমোট চলমান পলিসির সংখ্যা ৪৯ হাজার ৭২৯টি, সেখানে পলিসি তামাদি হয়েছে ১৫ হাজার ৮৬৯টি। যা অস্বাভাবিক, ২০১৭ সালের তথ্যেও দেখা যায় নতুন পলিসি ইস্যু করে ছয় হাজার ২২৭টি। কিন্তু তামাদি হয়েছে ১৪ হাজার ১৮০টি পলিসি। পলিসি তামাদির কারণে বীমা গ্রাহক ও কোম্পানির উভয় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বীমা খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে বায়রা লাইফের ভারপ্রাপ্ত এমডি ওমর ফারুক ভূইয়ার সঙ্গে একাধিকরার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে কোম্পানির চেয়ারম্যান মো. আবুল বাশার বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘আমাদের কিছু সমস্যা হয়েছে। এগুলোর সমাধান চলছে।’

আপনার মতামত লিখুন :

জনতা ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান, সোনালী ব্যাংকের এমডি

জনতা ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান, সোনালী ব্যাংকের এমডি
বাঁ থেকে ড. জামালউদ্দিন আহমেদ ও আতাউর রহমান প্রধান, ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. জামালউদ্দিন আহমেদ এফসিএ।

অন্যদিকে, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন রুপালী ব্যাংকের এমডি ও সিইও আতাউর রহমান প্রধান।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে দেওয়া দুই চিঠিতে তাদের নিয়োগের কথা বলা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, মো. আতাউর রহমান প্রধানকে অগামী তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক সোনালী ব্যাংকের এমডি ও সিইও হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হলো।

অন্যদিকে, জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে ড. জামালউদ্দিন আহমেদকেও আগামী তিন বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে, ২০১৬ সালের ১৬ আগস্ট অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে তৎকালীন কর্মসংস্থান ব্যাংকের এমডি উবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদকে সোনালী ব্যাংকে, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের এমডি আতাউর রহমান প্রধানকে রূপালী ব্যাংকে এবং আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের এমডি মোহাম্মদ সামস-উল ইসলামকে অগ্রণী ব্যাংকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

৩৪৭০ কোটি টাকার ১২ প্রকল্প অনুমোদন

৩৪৭০ কোটি টাকার ১২ প্রকল্প অনুমোদন
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি তথ্য ভান্ডার রক্ষায় বিজিডি ই-গভ সিআইআরটি (কম্পিউটার ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম) এবং জিএনএস করস-এর নেটওয়ার্ক পরিধি সম্প্রসারণ প্রকল্পসহ মোট ১২ প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। টাকার অংকে প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৪৭০ কোটি ২০ লাখ টাকা।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান।

তিনি বলেন, ‘একনেক সভায় ১২টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৪৭০ কোটি ২০ লাখ টাকা।এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৩ হাজার ১৬৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৩০৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা খরচ করা হবে।

প্রকল্পগুলোর মধ্যে সাইবার আক্রমণ থেকে সরকারি তথ্য ভান্ডার রক্ষা ‘বিজিডি ই-গভ সিআইআরটি’ নামক প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে আইসিটি বিভাগ ও বিসিসি’র অধীনে।

প্রকল্পের প্রধান কাজগুলো হচ্ছে- বিভিন্ন ধরনের ৩৮টি সফটওয়্যার সংগ্রহ, ব্যক্তি পরামর্শক নিয়োগ, কম্পিউটার এক্সেসরিজ সংগ্রহ, অফিস ইক্যুপমেন্ট ও ফার্নিচার, বৈদেশিক ও স্থানীয় প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও কনফারেন্স আয়োজন এবং বিভিন্ন পর্যায়ের জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে।

প্রকল্পটির বিষয়ে বলা হয়েছে, সিআইআরটি’র কার্যক্রমকে পূর্ণাঙ্গ রুপ দিতে এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিটিক্যাল ইনফ্রাস্ট্রাকচারসহ ন্যাশনাল ডাটা সেন্টারকে নিরাপত্তা দিতে এ প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাকি প্রকল্পগুলোর মধ্যে- জিএনএস করস’র নেটওয়ার্ক পরিধি সম্প্রসারণ এবং টাইডাল স্টেশন আধুনিকীকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১১৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। থানচি-রিমকীর-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৮৫৩ কোটি টাকা। সুনামগঞ্জ-মদনপুর-দিরাই-শাল্লা-জলসুখা-আজমিরিগঞ্জ-হবিগঞ্জ মহাসড়কের শাল্লা-জলসুখা সড়কাংশ নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৭৬৯ কোটি টাকা। রাঙ্গামাটি সড়ক বিভাগের অধীন পাহাড়/ভূমি ধ্বসে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের বিভিন্ন কিলোমিটারে ড্রেনসহ স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২৪৯ কোটি ২৬ লাখ টাকা।

খুলনা কর ভবন নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৭১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। মধুমতি-নবগঙ্গা উপ-প্রকল্প পুনর্বাসন ও নবগঙ্গা নদী পুনঃখনন/ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবন পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৩০৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা।

মেঘনা নদীর ভাঙন হতে ভোলা জেলার চরফ্যাশন পৌর শহর সংরক্ষণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২৭৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। বাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার বড়িকান্দি হতে ধরাভাঙ্গা এমপি বাঁধ পর্যন্ত মেঘনা নদীর বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৭১ কোটি টাকা। ভূ উপরিস্থ পানির সর্বোত্তম ব্যবহার ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে নাটোর জেলায় সেচ সম্প্রসারণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৭৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। কৃষি বিপণন অধিদফতর জোরদারকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৬০ কোটি টাকা। উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর, বিশেষত নারীদের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত লবণাক্ততা মোকাবিলায় অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২৭৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র