Alexa

ঈদে গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য বিজিএমইএ'র ৬০টি বাস

ঈদে গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য বিজিএমইএ'র ৬০টি বাস

গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য বিজেএমইএ'র পক্ষ থেকে বাসের ব্যবস্থা, ছবি: সংগৃহীত

ঈদে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য ৬০টি বিআরটিসি বাসের ব্যবস্থা করেছে তৈরি পোশাক কারখানা মালিকদের সংগঠন (বিজিএমইএ)। এই বাসগুলো আগামী ২, ৩, ৪ এবং ৫ জুন গাজীপুর চৌরাস্তাসহ রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা থেকে ছাড়া হবে। বিজিএমইএ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ঈদের কোনোরকম ভোগান্তি ও হয়রানি ছাড়াই যাত্রীরা যেন ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরতে পারেন সে লক্ষ্যে জোড়া লাগানো দুইবগি বিশিষ্ট ৬০টি (অর্থাৎ ১২০টি বাসের সমান) বিআরটিসি বাসের ব্যবস্থা নিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি ড. রুবানা হক। শ্রমিকদের কথা চিন্তা করে বিজিএমইএর প্রথম কোনো সভাপতি এমন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

বাসগুলোর জন্য গত ২২ মে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন বিজিএমইএর সভাপতি। একইদিন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) চেয়ারম্যানের কাছেও আবেদন করেন তিনি। তার আবেদনর প্রেক্ষিতে ৬০টি জোড়াবগি বিশিষ্ট বাস শ্রমিকদের বাড়ি ফেরার জন্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিআরটিসি।

এ বিষয়ে বিজিএমইএ’র সভাপতি ড. রুবানা হক বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেশিরভাগ নারী, তারা আমাদের সম্পদ। এই সেক্টরে কাজ করা শ্রমিকরা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ। তারা যাতে সুন্দরভাবে বাড়িতে পৌঁছাতে পারে সেই লক্ষ্যে কাজ করছি। কোনো শ্রমিককেই যাতে বেতন-বোনাস ছাড়া ঈদ করতে না হয়, সেই চেষ্টা করছি।'

তিনি বলেন, 'পাশাপাশি নিরাপদে যাতায়তের জন্য বিআরটিসির কাছে বাস চেয়েছি। বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ আমাদের ৬০টি বাস দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। ৬০টি বাস ১২০টির সমান। আশা করছি, শ্রমিকরা সুন্দরভাবে স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন।'

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিতে তিনি লেখেন, 'দেশের পোশাক শিল্পে প্রত্যক্ষভাবে ৪৫ লাখ এবং পরোক্ষভাবে দুই কোটি শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত রয়েছে। তাদের অবদানে রফতানি বাণিজ্যের ৮৩ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রা আসে দেশের অর্থনীতিতে। এই জনশক্তির বেশির ভাগই মুসলিম। ফলে ঈদের ছুটি শুরু হলে ঢাকা ও আশপাশের ৪৫ লাখ শ্রমিকরা বাস ট্রেন এবং লঞ্চের মাধ্যমে বাড়ি যেতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাতে বাস,ট্রেন এবং লঞ্চের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। বাড়ি যেতে ভোগান্তি এবং হয়রানির শিকার হতে হয়। তাই গার্মেন্টস শ্রমিকদের নিরাপদে বাড়ি ফিরতে বাস প্রদানের জন্য আপনার সহায়তা কামনা করছি।'

একই সঙ্গে কমলাপুর ও গাজীপুর থেকে ট্রেন এবং বরিশাল এলাকার শ্রমিকদের জন্য বিশেষ লঞ্চের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রেলপথ ও নৌ মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন জানান রুবানা হক। তবে ওই দুই মন্ত্রণালয় থেকে তেমন সাড়া মেলেনি বলেও জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :