বাজেটে সুবিধা আদায়ে ব্যবসায়ীদের দৌড়ঝাঁপ

মাহফুজুল ইসলাম, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নতুন (২০১৯-২০২০) অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার বাকি মাত্র কয়েকদিন। এই বাজেটে বিশেষ প্রণোদনা, কর ছাড়সহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা আদায়ে শেষ মুহূর্তে চলছে ব্যবসায়ীদের দৌড়ঝাঁপ।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং বিটিএমএ, ডিবিএ এবং বিএমবিএসহ সব সেক্টরের নেতারা জাতীয় রাজস্ব র্বোড (এনবিআর), পরিকল্পনা ও অর্থ মন্ত্রণালয় এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কার‌্যালয় পর‌্যন্ত তদবির চালাচ্ছেন।

আসছে বাজেটে ১৪ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনার দাবি তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএ’র।

বিজিএমইএ’র সভাপাতি ড. রুবানা হক বার্তা২৪.কমকে বলেন, পোশাক খাত এখন সঙ্কটাপন্ন অবস্থার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করছে। এই সঙ্কট কাটাতে না পেরে সম্প্রতি বেশ কিছু কারখানা বন্ধ হয়েছে। ফলে চাকরি হারিয়েছেন সাড়ে ১০ হাজার শ্রমিক। আরো কিছু কারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তাই পোশাক খাতকে টিকিয়ে রাখতে বাজেটে ১৪ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা চাচ্ছি। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে, সর্বোপরি অর্থনীতি এর সুফল ভোগ করবে।

এ বিষয়ে নাম না প্রকাশের শর্তে এনবিআরের এক সদস্য বার্তা২৪.কমকে বলেন, বাজেটে আড়াই হাজার কোটি টাকার একটি ফান্ড রাখা হচ্ছে। এর বাইরে আর কোনো ফান্ড পোশাক খাতের জন্য বরাদ্দ রাখা হবে না।

করপোরেট কর ও ব্যক্তি শ্রেণীর করমুক্ত আয়সীমা আড়াই লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে সাড়ে তিন লাখ টাকা করার দাবি জানিয়েছেন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) প্রেসিডেন্ট শেখ ফজলে ফাহিম।

তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেন, সাধারণ জনগণের স্বার্থে ব্যক্তি শ্রেণীর করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো দরকার। গত চার বছর ধরে ব্যক্তি আয়কর সীমা একই রাখা হয়েছে। অথচ এই সময়ে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে। ফলে এটি আড়াই লাখ টাকা রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তাই এটি বাড়িয়ে সাড়ে তিন লাখ টাকা করা হোক।

নারী ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সী করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা তিন লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে চার লাখ টাকা করা ও প্রতিবন্ধী করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা চার লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ লাখ টাকা করা দরকার বলেও মনে করেন তিনি।

এছাড়া প্যাকেজ ভ্যাটের পরিবর্তে ক্ষুদ্র, গ্রামীণ উদ্যোগ ও কুটির শিল্পের জন্য টার্নওভার করের আওতায় সব পর্যায়ে অব্যাহতির সীমা বাৎসরিক ৩৬ লাখ টাকার পরিবর্তে ৫০ লাখ টাকায় উন্নীত করার দাবি জানান তিনি।

ফজলে ফাহিম বলেন, এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও মন্ত্রণালয়ে কথা বলেছি, তারা বাজেটে এসব দাবির প্রতিফলনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী বার্তা২৪.কমকে বলেন, পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে করপোরেট কর ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ২২ শতাংশ করা ও পুঁজিবাজারের অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ ও নন ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির ক্ষেত্রে সাড়ে ৩২ শতাংশ করার করা দরকার।

এছাড়াও পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত নয় এমন বিদেশি কোম্পানির প্রত্যাবাসনযোগ্য মুনাফার ওপর করপোরেট কর ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করা প্রয়োজন। সম্প্রতি এগুলো বাজেটে রাখার জন্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) একটি টিম অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন।

বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) প্রেসিডেন্ট নাসির আহমেদ চৌধুরী বলেন, মার্চেন্ট ব্যাংকের করপোরেট কর সাড়ে ৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করছি। এছাড়াও পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত ও তালিকা-বহির্ভূত ব্যাংক বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের করপোরেট কর অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাবও করছেন বলে জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :