Barta24

শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬

English

স্বর্ণের মেলা, রাজস্ব আসবে ৪০০ কোটি টাকা

স্বর্ণের মেলা, রাজস্ব আসবে ৪০০ কোটি টাকা
স্বর্ণ, ছবি: সংগৃহীত
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

দেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে স্বর্ণের মেলা। আগামী ২৩, ২৪, এবং ২৫ জুন ৩ দিনব্যাপী মেলা ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি জেলায় অনুষ্ঠিত হবে। এতে ৪০০ কোটি টাকা রাজস্ব পাবে বলে আশা করছে এনবিআর।

অবৈধ স্বর্ণকে কর দিয়ে বৈধ করার লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতি যৌথভাবে এই মেলার আয়োজন করছে।

রোববার (৯ জুন) জুয়েলারি সমিতির সাধারণ সম্পাদক দিলিপ কুমার আজগর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমাদের সমিতির মোট ১৮ প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা ভ্যাট দেয়। এই সদস্যদের মধ্যে যাদের অবৈধ স্বর্ণ রয়েছে তারা মেলায় সরকারকে নির্দিষ্ট হারে কর দিয়ে কালো সোনাকে সাদা করতে পারবে।’

তিনি বলেন, ‘মেলায় অন্তত ৪০০ কোটি টাকার রাজস্ব পাবে সরকার। ব্যবসায়ীরা ভরি প্রতি এক হাজার টাকা কর দিয়ে অবৈধ স্বর্ণ এবং স্বর্ণালঙ্কারকে বৈধ করতে পারবে। স্বর্ণের পাশাপাশি কাট ও পোলিশড ডায়মন্ড প্রতি ভরি ৬ হাজার টাকা করে কর দিয়ে অবৈধ স্বর্ণ বৈধ করার সুযোগ দিয়েছে এনবিআর।

এনবিআরের সদস্য (কর) কানুন কুমার বায় বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘দেশের সকল ব্যবসায়ীদের বৈধভাবে স্বর্ণ ব্যবসা করায় উৎসাহিত করতে এই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে যদি কোনো ব্যবসায়ী এই সুযোগ গ্রহণ না করে তবে তার জন্য আইন গত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

উল্লেখ্য, ২৮ মে মঙ্গলবার এনবিআর একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে, যাতে বলা হয়, কোনো স্বর্ণ ব্যবসায়ী বা স্বর্ণালঙ্কার প্রস্তুতকারী কর্তৃক অঘোষিত অমজুদকৃত এবং উক্ত নীতিমালার আওতায় ঘোষিত স্বর্ণ স্বর্ণালঙ্কার, কাট ও পোলিশড ডায়মন্ড এবং রৌপ্যের ওপর প্রদেয় আয়কর কমিয়ে প্রতি ভরি স্বর্ণ ও স্বর্ণালঙ্কারের জন্য ১ হাজার টাকা, প্রতি ক্যারেট কাট ও পোলিশড ডায়মন্ডের জন্য ৬ হাজার টাকা এবং প্রতি ভরি রৌপ্যের জন্য ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ডিলার স্বর্ণব্যবসায়ী বা স্বর্ণালঙ্কার প্রস্তুতকারীকে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে অঘোষিত এবং মওজুদকৃত স্বর্ণ ও স্বর্ণালঙ্কার, কাট ও পোলিশড ডায়মন্ড এবং রৌপ্য সম্পর্কে ঘোষণা দিয়ে কর পরিশোধ করতে হবে। এই প্রজ্ঞাপনের মেয়াদ আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বলবত থাকবে।

প্রজ্ঞাপনের আওতায় ঘোষিত স্বর্ণ ও স্বর্ণালঙ্কার, কাট ও পোলিশড ডায়মন্ড এবং রৌপ্যের বিস্তারিত তথ্য ও কর পরিশোধের চালান সংশ্লিষ্ট ডিলার, স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা স্বর্ণালঙ্কার প্রস্তুতকারীর আয়কর রিটার্নের সঙ্গে জমা দিতে হবে।

এই প্রজ্ঞাপনের আওতায় ঘোষিত স্বর্ণ ও স্বর্ণালঙ্কার, কাট ও পোলিশড ডায়মন্ড এবং রৌপ্যের পরিমাণ সংশ্লিষ্ট ডিলার, স্বর্ণ ব্যবসায়ী বা স্বর্ণালঙ্কার প্রস্তুতকারীর ব্যবসার হিসাব বইতে পৃথকভাবে মজুদ (Inventory) লিপিবদ্ধ করতে হবে। উক্ত মজুদ (Inventory) হতে বিক্রয়ের পরিমাণ (ভরি/ক্যারেট) ও মূল্য সংক্রান্ত তথ্য আয়কর রিটার্নের সঙ্গে জমা দিতে হবে। আর এগুলো জমা দিলে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স দিবে। তাতে তারা বৈধ উপায়ে বিদেশ থেকে স্বর্ণআমদানি করতে পারবে।

প্রজ্ঞাপনের আওতায় ঘোষিত এবং কর পরিশোধিত স্বর্ণ ও স্বর্ণালঙ্কার, কাট ও পোলিশড ডায়মন্ড এবং রৌপ্যের অর্জনমূল্য এবং অর্জনকালের ওপর আয়কর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কোনোরূপ প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।

আপনার মতামত লিখুন :

হঠাৎ চড়া পেঁয়াজ, কমেছে ইলিশের দাম

হঠাৎ চড়া পেঁয়াজ, কমেছে ইলিশের দাম
বাজারে বেড়েছে পেঁয়াজের দাম

ঈদের পর পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিক থাকলেও সপ্তাহের ব্যবধানে আবার বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম ১০ টাকা বেড়ে কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। আর ভারতীয় পেঁয়াজের দাম ১৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকায়। অন্যদিকে ছোট, বড় ও মাঝারি সব সাইজের ইলিশ মাছের সরবরাহ থাকায় দাম রয়েছে হাতের নাগালে।

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, সব ধরনের সবজি ও মাছ-মাংসের দাম তেমন বাড়েনি গত সপ্তাহের তুলনায়।

ঈদের দুই সপ্তাহ পরে কারওয়ান বাজারে কেজি প্রতি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, কাঁচা পেঁপে ৪০, বরবটি ৪০, পটল ৫০, ঢেঁড়শ ৫০, চিচিঙ্গা ৬০, গাজর ৮০, মিষ্টি কুমড়া ৪০, লাউ ৫০ টাকা পিস, কাকরোল ৫০, মুলা ৬০, কচু ৫০, টমেটো ১২০, কাঁচা মরিচ ১০০, কচুর লতি ৬০, রসুন ২০ টাকা বেড়ে ১৬০ টাকা, আদা ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/23/1566554616127.jpg

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী মো. মোশারফ হোসেন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, পেঁয়াজের মৌসুম শেষ হয়ে যাওয়া এবং ভারতে বন্যা হওয়ার ফলে হিলি বন্দরে পেঁয়াজের আমদানি কিছুটা কমেছে। ফলে বাজারে সরবরাহ কমেছে এবং পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। তবে সবজিসহ অন্যান্য পণ্য গত সপ্তাহের মতো স্বাভাবিক রয়েছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, ইলিশ মাছের সরবরাহ বেড়েছে দামও স্বাভাবিক রয়েছে। ১ কেজি ওজনের ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ১০০০ টাকায়, ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকায়, ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকায়। এছাড়াও সাইজ ভেদে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে ইলিশ মাছ।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/23/1566554679687.jpg

কারওয়ান বাজারের এক ক্রেতা জমিরউদ্দিন সরকার বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ঈদের পর আজই প্রথম বাজারে আসলাম। ইলিশ মাছ কিনেছি দাম কিছুটা কম মনে হলো। সবজির দাম খুব একটা বাড়েনি। তবে পেঁয়াজ এবং রসুনের দাম যথেষ্ট বাড়তি। ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন অজুহাতে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে—এটা বাজারের নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সপ্তাহের ব্যবধানে বাড়েনি কোন ধরনের মাংসের দাম। বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১২০ টাকা, পাকিস্তানি মুরগি ২৩০, লেয়ার মুরগি ২০০ ও দেশি মুরগি ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৫৫০ টাকা ও খাসির মাংস ৭৫০ টাকা, ছাগলের মাংস ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/23/1566554633597.jpg

মাংস ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইয়াসিন বলেন, কোরবানির পর এখনও তেমন চাহিদা বাড়েনি মাংসের। দামও আগের মতোই আছে। আশা করছি সামনের সপ্তাহ থেকে মাংসের চাহিদা বাড়তে পারে। তবে মাংসের দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই।

নুরু নবী নামে এক ক্রেতা বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, বাজারে দেখলাম হঠাৎ করেই পেঁয়াজের দামটা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দুই দিন পর পর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ানো ব্যবসায়ীদের একটা অভ্যাস হয়ে গেছে। যথাযথ মনিটরিং না হওয়ার ফলে ব্যবসায়ীরা এটা করার সুযোগ পান। কর্তৃপক্ষের এসব ব্যাপারে নজর আরও বাড়ানো উচিত। বাড়তি দামে পণ্য কিনতে হিমশিম খেতে হয় আমাদের।

খায়রুলের দুর্নীতি ও অর্থ পাচার খবরের প্রতিবাদ বিএসইসির

খায়রুলের দুর্নীতি ও অর্থ পাচার খবরের প্রতিবাদ বিএসইসির
বিএসইসি

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেনের বিরুদ্ধে ‘অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারসহ দুর্নীতির তদন্তে নেমেছে দুদক খবরের প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএসইসি।

প্রতিবাদে বলা হয়, খায়রুল হোসেনের অর্থ আত্মসাৎ ও পাচার নিয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।

যা গত ২১ ও ২২ আগস্ট বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমসহ জাতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমের সংবাদের শিরোনাম ছিলো-খায়রুলের দুর্নীতি ও অর্থ পাচারে তদন্তে নেমেছে দুদক।

এসব সংবাদের কারণে কমিশনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপতৎপরতার চেষ্টাকে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মূখপাত্র মো. সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আরও:  খায়রুলের দুর্নীতি ও অর্থ পাচারে তদন্তে নেমেছে দুদক

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাসমূহকে অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এতে এক বা একাধিক সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি কোন ভিত্তিহীন অভিযোগ করলেই তা প্রমাণিত বলে ধরে নেওয়া যায় না। এ ধরনের কল্পিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে বহুল প্রচারিত পত্রিকাসমূহ ফলাও করে প্রচার এবং পদত্যাগের দাবি অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক। একইসাথে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চরম ব্যত্যয়। ফলে কমিশন সংশ্লিষ্ট সকল মহল থেকে এ জাতীয় সংবেদনশীল বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করে।

বিএসইসি প্রতিষ্ঠানলগ্ন থেকেই দেশের পুঁজিবাজার এবং অর্থনৈতিক উন্ননয়নের লক্ষ্যে অত্যন্ত সুনামের সাথে কাজ করে আসছে। কমিশনের কোন চেয়ারম্যান, কমিশনার বা কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী অর্থ বা কোন সুবিধার ভিত্তিতে কোন কাজ করেছে এ ধরণের কোন অভিযোগ কখনই উত্থাপিত হয় নাই। কারো এরূপ কোন অভিযোগ কমিশনে দাখিল করলে কমিশন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণে অঙ্গীকারবদ্ধ।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, যেকোন দেশের পুঁজিবাজারের প্রধান কাজ হচ্ছে দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি পুঁজির সরবাহ নিশ্চিত করা। আইপিওসহ বিভিন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলো বাজার থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করে থাকে। কমিশন নিজ উদ্যোগে কাউকে পুঁজিবাজার হতে অর্থ উত্তোলনের জন্য বাধ্য করে না। একইভাবে কোন বিনিয়োগকারীকেও পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য উদ্ধুদ্ধ করে না। আগ্রহী ইস্যুয়ার প্রতিষ্ঠানসমূহ ইস্যু ম্যানেজারের সহায়তায় পাবলিক ইস্যুর (আইপিও) জন্য আবেদন করলে কমিশন প্রযোজ্য আইন অনুসারে সকল শর্ত পূরণ করেছে কিনা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি দাখিল করেছি কিনা এবং সকল তথ্য সন্নিবেশিত হয়েছে কিনা তা যাচাই বাছাই করে। বিধি মোতাবেক সকল শর্ত পূরণ সাপেক্ষেই শুধুমাত্র পুঁজি উত্তোলনের অনুমোদন প্রদান করা হয়ে থাকে। ইস্যু অনুমোদনের ক্ষেত্রে কমিশন কোন মূল্য নির্ধারণ করে না এবং ইস্যুকৃত সিকিউরিটিজ এর ভবিষ্যত মূল্য কি হবে তার নিশ্চয়তাও প্রদান করে না। সারা বিশ্বের শেয়ারবাজারে বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী কমিশন তথ্য প্রকাশ এবং বিদ্যমান আইনের ভিত্তিতে ইস্যু অনুমোদন করে থাকে। চেয়ারম্যান একাকী কোনো আইপিও অনুমোদন দেন না। সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিশনারের মাধ্যমে চেয়ারম্যান এর মাসে সুপারিশ প্রেরণের পরে, চেয়ারম্যান কমিশনে উপস্থাপনের নির্দেশনা দেয়। পরে কমিশন সভায় সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন দেয়া হয়।

কোনও কোম্পানিতে বিনিয়োগ করলে ঝুঁকির কি সম্ভাবনা আছে, তা যাছাই বাছাই করে বিনিয়োগকারীগণ যেন জেনে-বুঝে বিনিয়োগ করতে পারেন, সে জন্য প্রসপেক্টাসে কোম্পানি এবং এর ব্যবসা সংক্রান্ত সকল তথ্য সন্নিবেশিত হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। এ সকল তথ্য যথাযথ আছে কিনা তা নিশ্চিতকরণের দায়িত্ব ইস্যুয়ার, নিরীক্ষক, ইস্যু ম্যানেজার, ক্রেডিট রেটিং কোম্পানিসহ বিভিন্ন পক্ষের। কোন দেশের কোন নিয়ন্ত্রক সংস্থাই প্রসপেক্টাসে সন্নিবেশিত তথ্যের সঠিকতা নিরুপণ করে না। দাখিলকৃত কাগজপত্রের ভিত্তিতে প্রসপেক্টাসে সকল তথ্য প্রকাশিত হয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কমিশনের।

কমিশন ও এক্সচেঞ্জে আইপিও আবেদনের সাথে সাথেই কোম্পানির ওয়েব সাইটে খসড়া প্রসপেক্টাস প্রকাশ করা হয়ে থাকে। যা সকলের জন্য উন্মুক্ত। কোন আইপিওতে বিনিয়োগকারীদের আবেদন যদি ৬৫ শতাংশের কম হয়ে থাকে, তবে আইপিওটি বাতিল হয়ে যায়। আর ৬৫ শতাংশের উপরে কিন্তু ১০০ শতাংশের নিচে হলে, অবলেখক প্রতিষ্ঠানসমূহ অবশিষ্ট অংশ ক্রয় করে। তবে বিগত ১০ বছরের আইপিওর আবেদন বিশ্লেষণে ৭৮ গুণ (বা ৭৮০০ শতাংশ) পর্যন্ত অধিক হারে জমা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোন আইপিও লেনদেন শুরুর সময় ইস্যু মূল্যের নিম্নে ছিল না। সেখানে অন্যান্য দেশে অনেক কোম্পানির শেয়ার লেনদেন শুরুর দিনেই ইস্যু মূল্যের নিচে নেমে যায়। বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে ২০১৭ সালে ২৩ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার লেনদেন শুরুর দিনে ইস্যু মূল্যের নিচে ছিল, আর ২০১৮ সালে এর পরিমাণ ছিল ৩৬ শতাংশ। আলিবাবা, ফেসবুক, উবারসহ অন্যান্য অনেক স্বনামধন্য কোম্পানির ক্ষেত্রেই এই ঘটনা ঘটেছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিগত ১০ বছরে আইপিওর মাধ্যমে তালিকাভুক্ত ৮৮টি কোম্পানির মধ্যে ৯টির শেয়ারের বর্তমান বাজার দর অভিহিত মূল্যের নিম্নে। যা এই সময়ে মোট ইস্যুর মাত্র ১০ শতাংশ। যেখানে আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে এর পরিমাণ ৬১ শতাংশ। পরবর্তীতে সেকেন্ডারি মার্কেটে কোন শেয়ারের দর কি হবে তা নির্ধারিত হয় যোগান এবং চাহিদার ভিত্তিতে। কমিশনের এ ক্ষেত্রে কিছুই করণীয় নেই। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে কমিশনের কাজ বাজারে অনিয়ম বা কারসাজি হলে তা শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং নিয়মিতভাবে করা হচ্ছে। কমিশনের চেয়ারম্যান, কমিশনার এবং কর্মচারীদের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বা লেনদেন নিষিদ্ধ থাকায়, চেয়ারম্যান বা তার পরিবারের সদস্যদের নামে কোন বিও হিসাব নেই এবং তালিকাভুক্ত বা অ-তালিকাভুক্ত কোন কোম্পানিতে কোন ধরণের বিনিয়োগ নেই। কোম্পানিসমূহ আইপিওর মাধ্যমে যে অর্থ উত্তোলন করে থাকে, তার প্রতিটি টাকা কোন খাতে ব্যয় হবে তা প্রসপেক্টাসে প্রকাশ করা হয়ে থাকে এবং পরবর্তীতে উক্ত অর্থ ব্যবহারের প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করতে হয়। কাজেই আইপিওর অর্থ আত্মসাৎ বা লুটপাটের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

এর আগে গত ৭ আগস্ট অভিযোগের আলোকে দুদকের পক্ষ থেকে বিএসইসির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, বিভিন্ন গোষ্ঠীর যোগসাজশে দুর্বল কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও অনুমোদনের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে বিক্রির ব্যবস্থা করে দিয়ে ‘অর্থ আত্মসাৎ ও পাচার’। দুদকের পরিচালক (মানিলন্ডারিং) গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরীকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তাঁকে ‘অতিদ্রুত গোপনীয়ভাবে’ অনুসন্ধান শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র