Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

নতুন সরকারের ব্যতিক্রমী বাজেট

নতুন সরকারের ব্যতিক্রমী বাজেট
বাজেট অধিবেশনে প্রবেশ করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, ছবি: সংগৃহীত
শাহজাহান মোল্লা
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা
জাতীয় সংসদ ভবন থেকে


  • Font increase
  • Font Decrease

 

দেশের সংসদীয় ইতিহাসে একটি অনন্য নজির সৃষ্টি হলো। সাধারণত সরকারের আর্থিক আয়-ব্যয়ের হিসাব সম্বলিত বাজেট দিয়ে থাকেন অর্থমন্ত্রী। এর আগে কখনোই অর্থমন্ত্রীর ছাড়া অন্য কাউকে বাজেট দিতে দেখা যায়নি।

এবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের অসুস্থতার কারণে জাতীয় সংসদে তার পক্ষে বাজেটের সিংহভাগই উত্থাপন করেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা।

সংসদীয় ইতিহাসে প্রধানমন্ত্রীর বাজেট উপস্থাপনায় অংশগ্রহণের ঘটনা এই প্রথম। বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) বিকেল ৪টা ১০ মিনিট থেকে ৪টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত মোট আধা ঘণ্টা অবশিষ্ট বাজেট বক্তব্য শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা দীর্ঘক্ষণ টেবিল চাপড়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। তবে হাসপাতাল থেকে সরাসরি সংসদে এসে প্রচণ্ড অসুস্থ অবস্থায়ই প্রথম এক ঘণ্টা বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। এ সময় স্পিকারের পরনে ছিল হলুদ শাড়ি। বাজেট পেশ উপলক্ষে অধিবেশন কক্ষ ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। সংসদ গ্যালারি থেকে ভিআইপি লাউঞ্চ সবখানেই ছিল উপচে পড়া ভিড়। বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিজের জীবনের প্রথম বাজেট প্রস্তাবনা পড়তে শুরু করেন অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল। ‘সমৃদ্ধির সোপানে বাংলাদেশ, সময় এখন আমাদের’ এই শিরোনামে পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন শুরু করেন তিনি।

তবে অসুস্থতার কারণে ঠিকমতো বাজেট বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারছিলেন না অর্থমন্ত্রী। পাশ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং 0সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী তাকে বার বার সহযোগিতা করছিলেন। কিন্তু বিকেল ৪টার দিকে একটু বেশিই অসুস্থ হয়ে পড়েন অর্থমন্ত্রী। তিনি চোখে ওষুধ দেওয়ার জন্য স্পিকারের কাছে পাঁচ/সাত মিনিট সময় চান। ওই সময়ে উপস্থিত কয়েকজন চিকিৎসক তার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করেন। কিন্তু চোখে ওষুধ দেওয়ার পরও শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় বাকি বাজেট বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনুরোধ করেন অর্থমন্ত্রী।

এতে অধিবেশনের চিত্রই পাল্টে যায়। সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাকি বাজেট উপস্থাপনের প্রস্তাবকে পূর্ণ সমর্থন জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী দাঁড়িয়ে প্রস্তাবিত বাজেটের বাকি অংশটুকু উপস্থাপনের জন্য স্পিকারের অনুমতি চান। স্পিকার অনুমতি দিয়ে বলেন, ‘আপনি দাঁড়িয়ে বা বসে বাজেট উপস্থাপন করতে পারেন।’

বাজেট উপস্থাপনের জন্য ফ্লোর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অর্থমন্ত্রী খুবই অসুস্থ। তার চোখে অপারেশন হয়েছে। ১৫ মিনিট পর পর তার চোখে ড্রপ দিতে হয়। আমারও চোখে অপারেশন হয়েছে, ঠাণ্ডা লেগেছে। কথা বলতে গেলে কাশি আসে। এটাই হচ্ছে আমাদের দুর্ভাগ্য। তারপরও আপনি (স্পিকার) অনুমতি দিলে বাজেটের বাকিটা আমি উপস্থাপন করব।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বাজেট উপস্থাপন শুরু করলে টেবিল চাপড়ে তাকে অভিনন্দন জানান সংসদ সদস্যরা।

তবে বাজেট বক্তৃতার বইয়ের অনেকাংশেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে কিছু বক্তব্য রয়েছে। সেসব অংশ পড়ার সময় প্রধানমন্ত্রী হেসে স্পিকারকে বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, এটি আমার বক্তব্য নয়, এটি হচ্ছে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য। বাজেট বক্তৃতায় যেখানে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে, সেটি আমি পড়ব কি না?’ জবাবে স্পিকার বাজেট বক্তৃতায় যেভাবে রয়েছে সেভাবেই উপস্থাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান। প্রধানমন্ত্রী বাজেট উপস্থাপন শেষ করলে স্পিকার বলেন, বাজেটের অপঠিত অংশগুলো পঠিত বলে গণ্য করা হলো।

বাজেট বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী ব্যাগ থেকে ওষুধ বের করে নিজের চোখে নিজেই ড্রপ দেন। সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য, সিনিয়র নেতা থেকে শুরু করে বিরোধী দলের নেতারাও প্রধানমন্ত্রীর আসনের সামনে এসে তার এই দৃঢ়তার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

উৎসব মুখর পরিবেশ
বাজেট অধিবেশন উপলক্ষে রীতিমতো উৎসব মুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় জাতীয় সংসদে। অতীতের মতো কোনো রাজনৈতিক দলের বর্জন নেই। বরং নিকট ইতিহাসের মধ্যে এবারই সরকার ও বিরোধী দল মিলে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে দেশের ৪৮তম বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। শুধু অধিবেশনই নয়, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আকারের এই বাজেট উপস্থাপন প্রত্যক্ষ করতে ভিভিআইপি, ভিআইপি ও দর্শক গ্যালারি সব জায়গাই ছিল কানায় কানায় পরিপূর্ণ।

দেশের ৪৮তম বাজেট পেশ উপলক্ষে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের সরব উপস্থিতি ছিল সংসদ অধিবেশনে। উৎসব মুখর পরিবেশে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়।

শুরুতেই অর্থমন্ত্রী নিজের অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে পুরো সময় না দাঁড়িয়ে মাঝে মধ্যে বসে বাজেট উপস্থাপন করার অনুমতি চান স্পিকারের কাছে। স্পিকার তাকে অনুমতি দিলে শুরুতেই অর্থমন্ত্রীর অনুরোধে বাংলাদেশ শীর্ষক একটি দীর্ঘ প্রমাণ্যচিত্র তুলে ধরা হয়। প্রামাণ্যচিত্রে পাকিস্তান আমলে বাঙালি জাতির ওপর বৈষম্য, শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম, দীর্ঘ নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা অর্জন, পরবর্তী স্বৈরশাসকদের দুঃশাসন শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টানা তিন মেয়াদে দেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন-অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির সোপানে অগ্রযাত্রার চিত্র তুলে ধরা হয়।

এদিকে বাজেট বক্তৃতার আগে সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রতি বছর বাজেট উত্থাপনের আগে রেওয়াজ অনুযায়ী এই বৈঠকটি সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদন পাওয়ার পর বাজেট বিলে স্বাক্ষর করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

উৎসব মুখর সংসদে বাজেট বক্তৃতা শুনতে আসেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সংসদে নিজ কক্ষে বসে বাজেট উপস্থাপন প্রত্যক্ষ করেন তিনি। এর আগে রাষ্ট্রপতিকে সংসদ ভবনে স্বাগত জানান সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ছাড়াও প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা জেনারেল (অব.) তারেক সিদ্দিকী,পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চোধুরী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল, কূটনীতিক, সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বাজেট বক্তৃতা দেখেন।

pm
অসুস্থ থাকায় অর্থমন্ত্রীর হাত ধরে রাখেন একজন (বায়ে), ডানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ছবি: সংগৃহীত

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কালো সুটকেস হাতে বেলা পৌনে ৩টায় বাজেট অধিবেশনে প্রবেশ করেন অর্থমন্ত্রী। মঙ্গলবার হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। বৃহস্পতিবার হাসপাতাল থেকে সরাসরি সংসদ ভবনে আসেন অর্থমন্ত্রী। তারপরও তার চেহারায় ছিল উচ্ছ্বাস। বাজেট বক্তৃতার মাঝে মাঝে সরকারি দলের সদস্যরা টেবিল চাপড়ে অর্থমন্ত্রীকে উৎসাহ যোগান।

কঠোর নিরাপত্তা
বাজেট পেশ উপলক্ষে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় নেওয়া হয় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বৈধ পাস ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি সংসদ ভবন এলাকায়। এমনকি দর্শক গ্যালারিতে পাস ইস্যুতেও ছিল কড়াকড়ি। র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-পুলিশসহ গোয়েন্দা সংস্থার বিপুল সংখ্যক সদস্য পুরো ভবনে নিরাপত্তার ঘেরাটোপ গড়ে তোলেন। বাজেট বক্তৃতার পরে আমন্ত্রিত অতিথিরা যাতে নির্বিঘ্নে বের হতে পারেন সেজন্য সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার পিজিয়ন হলের গেটটিও খোলা রাখা হয়। আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও করা হয় আলাদাভাবে।

অর্থ বিল উত্থাপন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাজেট বক্তৃতা শেষ হলে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল দাঁড়িয়ে অর্থ বিল- ২০১৯ সংসদে উত্থাপন করেন। সরকারের আর্থিক প্রস্তাবগুলো কার্যকর এবং কিছু আইন সংশোধনের লক্ষ্যে বিলটি উত্থাপন করা হয়। সংসদের কার্যউপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিলটি আগামী ৩০ জুন পাস হবে। এর আগে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সরকার ও বিরোধী দলীয় সদস্য ৪৫ ঘণ্টা আলোচনা করবেন।

আপনার মতামত লিখুন :

পুঁজিবাজারের সূচকে মিশ্র প্রবণতা

পুঁজিবাজারের সূচকে মিশ্র প্রবণতা
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার (২৫ আগস্ট) সূচকের মিশ্র প্রবণতায় চলছে এদিনের লেনদেন কার্যক্রম। এদিন বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ডিএসই’র প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৪ পয়েন্ট এবং সিএসইর প্রধান সূচক সিএসসিএক্স কমেছে ৩৬ পয়েন্ট।

এছাড়াও একই সময়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২১৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

ডিএসই ও সিএসই’র ওয়েবসাইট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ডিএসই

এদিন ডিএসইতে লেনদেনের শুরুতে সূচক বাড়ে। লেনদেনের শুরু হয় সাড়ে ১০টায়, শুরুতেই সূচক কমে যায়। প্রথম ৫ মিনিটেই ডিএসইএক্স সূচক বাড়ে ১৪ পয়েন্ট। এরপর থেকে সূচক বাড়ার প্রবণতা বাড়তে থাকে। বেলা ১০টা ৪০ মিনিটে সূচক বাড়ে ১৯ পয়েন্ট। বেলা ১০টা ৪৫ মিনিটে সূচক ২০ পয়েন্ট বাড়ে। বেলা ১০টা ৫০ মিনিটে সূচক ১৮ পয়েন্ট বাড়ে। বেলা ১০টা ৫৫ মিনিটে সূচক ১৭ পয়েন্ট বাড়ে। বেলা ১১টায় সূচক ১৪ পয়েন্ট বড়ে এবং বেলা পৌনে একটায় সূচক ২ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ৫ হাজার ২৩৪ পয়েন্টে।

অন্যদিকে, ডিএসই-৩০ সূচক ৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে এক হাজার ৮৪৬ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহসূচক ১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে এক হাজার ২০৫ পয়েন্টে।

এদিন বেলা পৌনে ১টা পর্যন্ত ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২৩৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। একই সময়ে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৩৫টির, কমেছে ১৫৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৬২টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।

এদিন বেলা পৌনে ১টা পর্যন্ত ডিএসইতে দাম বৃদ্ধি পাওয়া শীর্ষ দশ কোম্পানির তালিকায় আছে- কেডিএস অ্যাকসেসরিজ, সিলকো ফার্মা, ওরিয়ন ফার্মা, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, বেক্সিমকো লিমিটেড, ইউনাইটেড পাওয়ার, মুন্নু সিরামিকস, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, সায়হাম কটন এবং জেএমআই সিরিঞ্জ।

সিএসই

অন্যদিকে, একই সময়ে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সাধারণ সূচক (সিএসইএক্স) ৪১ পয়েন্ট কমে ৯ হাজার ৬৯২ পয়েন্টে, সিএসই-৩০ সূচক ৬৪ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৯ পয়েন্টে এবং সিএএসপিআই সূচক ৬৮ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৯৭২ পয়েন্টে অবস্থান করে।

এদিন বেলা পৌনে ১টা পর্যন্ত সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৮ কোটি ৯১ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট।

একই সময়ে দাম বাড়ার ভিত্তিতের সিএসই’র শীর্ষ কোম্পানিগুলো হলো- কেডিএল অ্যাকসেসরিজ, সিটি জেনারেল ইনস্যুরেন্স, হাক্কানী পাল্প, সিলকো ফার্মা, কেবিপিপি, ইউনাইটেড পাওয়ার, প্রগতী লাইফ ইনস্যুরেন্স, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, প্যারামাউন্ট ইনস্যুরেন্স এবং ফাস ফাইন্যান্স।

রিং সাইন টেক্সটাইলের আইপিও অনুমোদন বাতিল চায় বিনিয়োগকারীরা

রিং সাইন টেক্সটাইলের আইপিও অনুমোদন বাতিল চায় বিনিয়োগকারীরা
রিং সাইন টেক্সটাইল, ছবি: সংগৃহীত

বস্ত্র খাতের রিং সাইন টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অনুমোদন বাতিল চায় বিনিয়োগকারীরা। অনুমোদিত মূলধন লাফিয়ে বাড়ার পাশাপাশি মাত্রা অতিরিক্ত প্লেসমেন্ট থাকায় কোম্পানির আইপিওর অনুমোদন বাতিল চেয়েছে বিনিয়োগকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক খায়রুল হোসেনের কাছে গত ২২ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) আইপিওর অনুমোদন বাতিল চেয়ে চিঠি দিয়েছে সংগঠনটি। একই চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক বিভাগ, ডিএসই ও সিএসই কর্তৃপক্ষের কাছে।

৩৩ লাখ বিনিয়োগকারীদের পক্ষে উল্লেখ করে সংগঠনের সভাপতি মিজানুর রশিদ চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক সাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, ‘প্রসপেক্টাস অনুসারে ২০১৩ সালে রিং সাইনের মূলধন ছিল ১৩৭ কোটি ২৩ লাখ ৪২ হাজার ২০০ টাকা। এরপর প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রি করে ১৪৭ কোটি ৮২ লাখ ৬ হাজার টাকা উত্তোলন করেছে। এখন আবারও নতুন করে আইপিওর মাধ্যমে ১৫০ কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমোদন পেলো কোম্পানিটি।’

‘বিনিয়োগকারীদের প্রশ্ন হলো- ১৩৭ কোটি টাকা দিয়ে যাত্রা শুরু হওয়া কোম্পানির প্লেসমেন্টের মাধ্যমে প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা তুলে নেওয়ার পর ১৫০ কোটি টাকাসহ মোট ২৯৭ কোটি ৮২ লাখ ৬ হাজার উত্তোলনের অনুমোদন পেল কিভাবে?’

‘অন্যান্য কোম্পানির মতোই যদি এই প্লেসমেন্ট শেয়ার তারা ৩০-৪০ টাকা করে বিক্রি করে দিয়ে চলে যায় তাহলে মার্কেট থেকে অতিরিক্ত ৫০০ কোটি টাকা উধাও হয়ে যাবে।’

আরও পড়ুন: রিং সাইনের আইপিও আবেদন শুরু ২৫ আগস্ট

‘পুঁজিবাজারের ক্রান্তিকালে নতুন করে বিশাল এই অর্থ ইস্যুয়ার কোম্পানির পকেটে চলে গেলে এই টাকা কখনো আর বাজারে আসবে না। কোম্পানির প্রসপেক্টাসের ৩১৭ পৃষ্ঠায় (কম্পারিজন রেশিও উইথ দ্যা ইন্ডাস্ট্রিজ এভারেজ অফ দ্যা সেইম পিরিয়ড) কোম্পানি নিজেই স্বীকার করে নিচ্ছে, তাদের বর্তমান অবস্থার অনেক কিছুই ‘ইন্ডাস্ট্রিজ এভারেজ’ থেকে অনেক কম।’

‘এখন পুঁজিবাজারে দুর্দশা চলছে। বিশেষ করে টেক্সটাইলের অবস্থা সবচাইতে করুণ। এই দুর্দশার মধ্যে কীভাবে কোম্পানিটি শুধু আইপিওর মাধ্যমে ১৫০ কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমোদন পেল।’

‘এর আগের আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আসা অ্যাপোলো ইস্পাত, ফ্যামিলি টেক্স, ইউনাইটেড এয়ার, সিএন টেক্স, রিজেন্ট টেক্স, তুংহাই নিটিংসহ অনেক অনেক কোম্পানির দুর্নীতির কথা সকলের জানা। এই কোম্পানিটি আইপিওর মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করার পর অ্যাপোলো ইস্পাতের ফ্যামিলি টেক্স এবং ইউনাইটেড এয়ারের মতোই অবস্থা হবে না তার কোনো গ্যারান্টি নেই।’

‘সুতরাং বিষয়গুলো বিবেচনা করে রিং সাইন টেক্সটাইলের আইপিওর অনুমোদন বাতিল করা হোক। অন্যথায় এর বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হবো।’

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘বর্তমান কমিশন যতো আইপিওর অনুমোদন দিয়েছে তার বেশিরভাগই খারাপ কোম্পানি। এই রিং সাইন কোম্পানির অবস্থাও খারাপ, ভুয়া প্রসপেক্টাস তৈরি করে পুঁজিবাজার থেকে টাকা উত্তোলন করছে কোম্পানিটি। পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে কোম্পানিটির আইপিওর আবেদন বাতিল চাই।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘নিয়ম মেনেই আইপিওর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যৌক্তিক কারণ হলে প্রয়োজনে বাতিল করা হবে।’

উল্লেখ্য, কোম্পানিটি ১০ টাকা দামের ১৫ কোটি শেয়ার ছেড়ে বাজার থেকে ১৫০ কোটি টাকা উত্তোলনের লক্ষ্যে রোববার (২৫ আগস্ট) থেকে আইপিওর আবেদনের সাবস্ক্রিপশন শুরু হবে। চলবে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। উত্তোলিত অর্থ দিয়ে যন্ত্রপাতি ও কলকব্জা কেনা, ঋণ পরিশোধ এবং আইপিওর খরচ বাবদ ব্যয় করবে কোম্পানিটি।

অনুমোদিত ৪৪০ কোটি টাকার অনুমোদিত মূলধন কোম্পানিটিকে আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ১৫০ কোটি টাকা উত্তোলনের জন্য চলতি বছরের ১২ মার্চ কমিশন অনুমোদন দেয়।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র