Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বাজেট ২০১৯-২০

আঞ্চলিক বরাদ্দ না থাকায় আশাহত খুলনাবাসী

আঞ্চলিক বরাদ্দ না থাকায় আশাহত খুলনাবাসী
খুলনা মহানগরী, ছবি: বার্তা২৪
মানজারুল ইসলাম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
খুলনা


  • Font increase
  • Font Decrease

২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ: সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’ শীর্ষক ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেছে সরকার। এতে বেকারত্ব দূরীকরণ, সামাজিক নিরাপত্তা, আমদানি ও রপ্তানিকারকদের সুবিধা ছাড়া নানা বিষয় ভালোভাবেই দেখছেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ। তবে আঞ্চলিক বরাদ্দ না থাকায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন দক্ষিণাঞ্চল বিশেষ করে খুলনার মানুষ।

পাশাপাশি সুন্দরবন রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি রুখতে উপকূলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে থোক বরাদ্দের দাবি খুলনাবাসীর।

আর পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ক্রমবর্ধমান ব্যবসা বাণিজ্যের উন্নয়ন, হযরত খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণে অর্থ বরাদ্দ, মংলা বন্দরের আধুনিকায়নসহ সর্বনিম্ন আয়কর বৃদ্ধির দাবি স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের।

Khulna City

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব আশরাফ উজ জামান বার্তা২৪.কমকে বলেন, খুলনার জন্য আঞ্চলিক বরাদ্দ না থাকায় হতাশ আমরা। বাজেটে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল বরাবরই বঞ্চিত। প্রস্তাবিত বাজেটে খুলনাসহ এ অঞ্চলের জন্য কোনো চমক নেই। শিল্পাঞ্চলখ্যাত খুলনার পাটকলের অস্থিরতা দূরীকরণে বিশেষ পদক্ষেপ এবং এ অঞ্চলের পর্যটন কেন্দ্রের উন্নয়নে আমরা জেলা বাজেটের দাবি জানিয়ে আসলেও তা কার্যকর হয়নি কখনো।

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন আন্দোলনের চেয়ারম্যান শেখ মো. নাসির উদ্দিন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ঘোষিত এ বাজেট উচ্চ বিলাসী। এ বাজেট দুর্নীতিবাজদের সাহায্য করবে, অপরদিকে বাজেটের ঘাটতি জনগণের উপরে পড়বে। এ যেন মরার উপরে খড়ার ঘা! গরিব মারার বাজেট দিয়ে দেশ ও জাতির উন্নয়ন হবে না। বাজেটে খুলনাঞ্চলের উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানাই।

এদিকে বনাঞ্চল রক্ষায় বাজেটে কোনো বরাদ্দ না থাকায় সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়নকর্মীরাও হতাশা প্রকাশ করেছেন। সুন্দরবন রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি রক্ষায় উপকূলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে থোক বরাদ্দের দাবি উঠেছে।

Khulna City

উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়ন সংস্থা রূপান্তরের নির্বাহী পরিচালক স্বপন গুহ বার্তা২৪.কমকে বলেন, সুন্দরবন রক্ষা ও সুন্দরবন কেন্দ্রিক জীবিকা নির্বাহ করা মানুষের জন্য বাজেটে কোনো বরাদ্দ নেই। সুন্দরবন রক্ষার জন্য বন বিভাগের পক্ষ থেকে বরাদ্দের দাবি জানালেও তা বাজেটে আনা হয়নি। এছাড়া উপকূলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তেমন কোনো চমক নেই। এসব এলাকার মানুষের জন্য ‘ওয়াটার ফর অল’ কার্যক্রমেও কোনো বরাদ্দ নেই। আমরা আশা করছি, সংশোধিত বাজেটে সুন্দরবন রক্ষা ও উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়নের বিশেষ বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হবে।

খুলনার ব্যবসায়ী নেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট ব্যবসাবান্ধব ও উন্নয়নমুখী। ব্যবসার পরিধি সম্প্রসারণ ও অর্থনীতির উন্নয়নে এ বাজেট হবে মডেল। যুবক শ্রেণীর উন্নয়নে এ বাজেট কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তবে অগ্রযাত্রার সাথে তাল মিলিয়ে এ বাজেটে আরো কিছু সংযোজন করলে ভালো হতো। ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণীর মানুষের আয়করের সর্বনিম্ন সীমা আড়াই থেকে সাড়ে তিন লাখ করার দাবি জানাই।

আপনার মতামত লিখুন :

পুঁজিবাজারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান বিনিয়োগকারীরা

পুঁজিবাজারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান বিনিয়োগকারীরা
ডিএসই'র সামনে বিনিয়োগকারীদের মানববন্ধন, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ চান বিনিয়োগকারীরা। পুঁজিবাজারে দরপতনের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবারও (১৮ জুলাই) মতিঝিলের রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনকালে এ কথা বলেন তারা।

আগেরদিনের ন্যায় দুপুর ২টার দিকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন বিনিয়োগকারীরা। বেলা ৩টায় শেষ হয় এ কর্মসূচি।

তারা বলেন, 'একটি জটিল অবস্থা বিরাজ করছে পুঁজিবাজারে। এমন অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কী পদক্ষেপ নেবেন, তা দেখার বিষয়। তবে প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপ বিনিয়োগবান্ধব হবে বলেই আমরা আশা রাখি।'

এর ফলে টানা সাতদিনের মতো মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন বিনিয়োগকারীরা। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ঐক্যপরিষদের সভাপতি বলেন, 'আমরা প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দেব'।

প্রতিদিনের মতোই 'খায়রুল তুই রাজাকার, কমিশনের গদি ছাড়' স্লোগানে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক খায়রুল হোসেনের পদত্যাগসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছেন তারা।

গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো হচ্ছে- নতুন করে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) অনুমোদন ও প্লেসমেন্ট বন্ধ, ১০ হাজার কোটি টাকার নতুন ফান্ড গঠন, বোনাস শেয়ার ও রাইট শেয়ার দেওয়া বন্ধ ইত্যাদি।

বিক্ষোভে বিনিয়োগকারীরা বলেন, 'চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত পুঁজিবাজারে পতন অব্যাহত রয়েছে। শুরু থেকেই আমরা বাজারের পতন ঠেকাতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে আসছি। কিন্তু এতেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। কেউই আমাদের দিকে নজর দিচ্ছে না।'

বিনিয়োগকারীরা বলেন, 'সত্যিকার অর্থে যদি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতায় কাজ করত তবে এতদিন পুঁজিবাজারে স্থিরতা চলে আসত।'

বাজারের এই দুর্দশা ফেরাতে চলমান অস্থিরতা দূর করতে আবারও বিএসইসির প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বিনিয়োগকারীরা।

পুঁজিবাজারে সূচকের ওঠানামা

পুঁজিবাজারে সূচকের ওঠানামা
ছবি: প্রতীকী

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সপ্তাহের পঞ্চম ও শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সূচকের ওঠানামা প্রবণতায় লেনদেন চলছে। এদিন বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ডিএসই’র প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ১ পয়েন্ট এবং সিএসইর প্রধান সূচক সিএসসিএক্স কমেছে ৮ পয়েন্ট।

এছাড়াও একই সময়ে ডিএসইতে ৮৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকার মোট লেনদেন হয়েছে এবং সিএসইতে ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে।

ডিএসই ও সিএসই’র ওয়েবসাইট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ডিএসই

এদিন ডিএসইতে লেনদেনের শুরুতে সূচক বাড়ে। লেনদেনের শুরু হয় সকাল সাড়ে ১০টায়, শুরুতেই সূচক কমে যায়। প্রথম ৫ মিনিটেই ডিএসইএক্স সূচক বাড়ে ৬ পয়েন্ট। সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে সূচক বাড়ে ১৪ পয়েন্ট। ১০টা ৪৫ মিনিটে সূচক ১৫ পয়েন্ট বেড়ে যায়। এরপর থেকে সূচক কমতে থাকে। ১০টা ৫০ মিনিটে সূচক বাড়ে ৬ পয়েন্ট। ১০টা ৫৫ মিনিটে সূচক ১ পয়েন্ট বেড়ে যায়। এরপর সূচক গত কার্যদিবসের চেয়ে নেতিবাচক হতে শুরু করে। বেলা ১১টায় সূচক ১ পয়েন্ট কমে এবং বেলা ১১টা ১০ মিনিটে ডিএসইএক্স কমে ৬ পয়েন্ট। কিন্তু এরপর সূচক আবার বাড়তে থাকে। বেলা সাড়ে ১১টায় ডিএসইএক্স ১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ১৩৪ পয়েন্টে।

অন্যদিকে, ডিএসই-৩০ সূচক ২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করেছে এক হাজার ৮৩২ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহসূচক এক পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করেছে এক হাজার ১৭৮ পয়েন্টে।

এদিন বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৮৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের। একই সময়ে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ১১৪টির, কমেছে ১৫৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৬১টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।

এদিন বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ডিএসইতে দাম বৃদ্ধি পাওয়া শীর্ষ দশ কোম্পানির তালিকায় আছে- ফরচুন সু, সি পার্ল রিসোর্ট, সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্স, বিকন ফার্মা, ন্যাশনাল পলিমার, রানার অটোমোবাইল, নিটল ইন্স্যুরেন্স, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ, ইউনাইটেড পাওয়ার এবং সিলকো ফার্মা।

সিএসই

অন্যদিকে, একই সময়ে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সাধারণ সূচক (সিএসইএক্স) ৮ পয়েন্ট কমে ৯ হাজার ৫৫০ পয়েন্টে, সিএসই-৩০ সূচক ১২ পয়েন্ট কমে ১৩ হাজার ৯৩৪ পয়েন্টে এবং সিএএসপিআই সূচক ১৬ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৭১৪ পয়েন্টে অবস্থান করে।

এদিন বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সিএসইতে ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের লেনদেন হয়েছে।

একই সময়ে দাম বাড়ার ভিত্তিতে সিএসই’র শীর্ষ কোম্পানিগুলো হলো- এসইএমএল আইবিবিএল ফান্ড, স্কয়ার টেক্সটাইল, ন্যাশনাল ফিড মিল, শিফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, এশিয়া ইন্স্যুরেন্স, ট্রাস্ট ব্যাংক, শাইনপুকুর সিরামিকস, এশিয়া প্যাসিফিক ইন্স্যুরেন্স, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স এবং ডোরিন পাওয়ার।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র