Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

দিনে ১১শ’ কোটি টাকার লেনদেন মোবাইল ব্যাংকিংয়ে

দিনে ১১শ’ কোটি টাকার লেনদেন মোবাইল ব্যাংকিংয়ে
প্রতীকী
সেরাজুল ইসলাম সিরাজ
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

দৈনিক ১১শ’ ২০ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। যা বিগত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪০ কোটি টাকা বেশি বলে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস’র লেনদেন হিসাব করে এমন তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই মাসের ২১ কোটি ৪৭ লাখ লেনদেনে টাকার পরিমাণ ছিলো ৩৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। দিন প্রতি গড় লেনদেন হয়েছে ১১শ’ ২০ কোটি টাকা।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ওই মাসে মোট গ্রাহকের সংখ্যা ছিলো ৬ কোটি ৭৩ লাখ। যার মধ্যে ৩ কোটি ৩৪ লাখ সক্রিয় গ্রাহক। এ সময়ে এজেন্টের সংখ্যা ছিলো ৮ লাখ ৯৮ হাজার ৯৯৬ জন। অন্যদিকে জানুয়ারি মাসে ৩৭টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে দৈনিক গড়ে ৯৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। ই-কর্মাসের পরিমাণ পরিমাণ ছিলো সাড়ে ৪ কোটি টাকা। এই সেবার মাধ্যমে রেমিট্যান্স দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

তবে একই বছরের মার্চে এসে এজেন্ট ও লেনেদেন বাড়লেও কমে গেছে সক্রিয় গ্রাহক। মার্চে এজেন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ১৯ হাজার ১৯১। আর ওই মাসে সক্রিয় গ্রাহক পাওয়া গেছে ৩ কোটি ২৩ লাখ ৫৮ হাজার। যার মাধ্যমে মোট লেনদেন হয়েছে ৩৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এ সময়ে দৈনিক গড়ে ৬৭ লাখ ৪৪ হাজার লেনদেন হয়েছে বলে জানা গেছে।

কোন অ্যাকাউন্ট থেকে টানা তিন মাস লেনদেন না হলে নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্ট হিসেবে বিবেচিত হয়। হিসাব খোলা, পরিচালনা ও লেনদেনে আরও বেশি কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এখন একজন ব্যক্তি একটি সিম দিয়ে যেকোন মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় একটি মাত্র হিসাব চালু রাখতে পারবেন।

একজন গ্রাহক তার মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসে (এমএফএস) সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকার স্থিতি রাখতে পারবেন। এর আগে এই বিধিনিষেধ ছিল না। কোনো হিসাব থেকে ৫ হাজার বা তদুর্ধ্ব নগদ অর্থ জমা বা উত্তোলনে গ্রাহকের পরিচয়পত্র বা স্মার্টকার্ডের ফটোকপি প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যা এজেন্ট তার রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ করবেন। রেজিস্ট্রারে গ্রাহকের স্বাক্ষর বা টিপসই সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোন এজেন্ট এই ধরনের কার্যাদি যথাযথভাবে সম্পন্ন না করলে বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে এজেন্টশিপ বাতিল করারও নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশে বর্তমানে ১৬টি প্রতিষ্ঠানের মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের অনুমোদন রয়েছে। এক সময় মোবাইল ব্যাংকিংকে খুবই গুরুত্ব দেওয়া হলেও এখন ক্যাশলেস সোসাইটিকে বেশ কার্যকরী মনে করা হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে এই সেবা খুব একটা জনপ্রিয় হচ্ছে না। ধীরে ধীরে উন্নতি করলেও এর হার অনেক কম।

বর্তমানে শহরাঞ্চলে এটিএম সেবার পরিধি বাড়লেও উপজেলা ও গ্রামীণ হাটবাজারে সেভাবে বিস্তৃতি লাভ করেনি। আবার শহরেও গ্রাহকরাও এটিএম দিয়ে টাকা তুলে খরচ করতেই বেশি পছন্দ করছেন। কিন্তু প্রতিবেশী দেশ ভারত ও চীন ক্যাশলেস সোসাইটিতে অনেক দূর এগিয়ে রয়েছে। তাদের নাগরিকরা গাড়ির ভাড়াও কার্ডের মাধ্যমে পরিশোধে অভ্যস্থ হয়ে উঠছে।

আপনার মতামত লিখুন :

বিনিয়োগের নতুন প্রস্তাব আসছে: প্রতিমন্ত্রী

বিনিয়োগের নতুন প্রস্তাব আসছে: প্রতিমন্ত্রী
ব্যবসা সম্মেলনে বক্তব্য দেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

প্রতিদিন বিনিয়োগের নতুন নতুন প্রস্তাব আসছে বলে জানিয়েছেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার।

তিনি বলেছেন, ‘দেশের বিনিয়োগে অনুকূল রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় থাকায় প্রতিদিন বিনিয়োগের নতুন নতুন প্রস্তাব আসছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ হার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।’

শনিবার (২০ জুলাই) রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় অনুষ্ঠিত জেএইচএম গ্রুপের ব্যবসা সম্মেলনে তিনি এসব একথা বলেন।

সংসদ সদস্য খাদিজাতুল আনোয়ার সনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শিল্প প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শিল্পখাতের বিকাশে বেসরকারি উদ্যোগে নতুন নতুন শিল্প স্থাপনকে সরকার সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করেছে। নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনে শিল্প মন্ত্রণালয় সব ধরনের সহায়তা প্রদান করছে। দেশে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে ঢাকায় একটি শিল্প বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ভারতের জেএইচএম গ্রুপ বাংলাদেশে বিনিয়োগ করায় শিল্প প্রতিমন্ত্রী তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে নতুন নতুন ভারী ও মাঝারি শিল্প স্থাপনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

জেএইচএম গ্রুপের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, পরিচালক ও প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির ও উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মেহেদী হাসান বিপ্লব এ সময় উপস্থিত ছিলেন। পরে শিল্প প্রতিমন্ত্রী জেএইচএম গ্রুপের শ্রেষ্ঠ ডিলারদের পুরস্কার প্রদান করেন।

সাড়ে চার লাখ নতুন পলিসির টাকা বিমা কোম্পানির পকেটে

সাড়ে চার লাখ নতুন পলিসির টাকা বিমা কোম্পানির পকেটে
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা তাহেরা বেগম একজন গৃহকর্মী। স্বামী সাজিম উদ্দিন রিকশা চালক। তিনি পপুলার লা্ইফ ইন্স্যুরেন্সে ২০১৩ সালে ‘একক বিমা’ করেন। টানা তিনটি কিস্তিও দিয়েছেন। কিন্তু এরপর এজেন্ট আর খোঁজ খবর নেয়নি। একবছর পর সংশ্লিষ্ট শাখায় যোগাযোগ করলে তারা জানান, নতুন করে পলিসি করতে হবে। আগের পিলিসির মেয়াদ শেষ।

একই কথা বলেছেন, ফারইস্ট ইসলামী লাইফের পলিসি হোল্ডার রূপা সাহা। তিনি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘২০০৯ সালে আমি চট্টগ্রাম শাখায় বিমা করেছিলাম। আড়াই বছর পলিসির টাকা কিস্তি পরিশোধও করি। কিন্তু এরপর এজেন্ট কিস্তি নিতে না আসায় আর খোঁজ নেওয়া হয়নি। কিন্তু ২০১৫ সালে বকেয়া কিস্তি পরিশোধ করতে গেলে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন নিয়ম কানুন দেখিয়ে নতুন করে পলিসি করতে বলে।’

গত এক বছরে এভাবেই নতুন সাড়ে চার লাখ পলিসির টাকা দেশের ৩২টি জীবন বিমা কোম্পানির পকেটে যাচ্ছে। গ্রাহকদের টাকা কোম্পানি কর্তৃপক্ষ বাড়ি-গাড়ি ভাড়াসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় দেখিয়ে লুটে নিচ্ছে। বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপকক্ষের (আইডিআরএ) সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

আইডিআরএ’র তথ্য মতে, ২০১৭ সালে সরকারি-বেসরকারি ৩২ বিমা কোম্পানির পলিসির সংখ্যা ছিল ১০ লাখ ৭৪ হাজার ৭৭টি। ২০১৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৩৯ হাজার ৪২টিতে। ফলে এক বছরে নতুন পলিসির সংখ্যা বেড়েছে ৪ লাখ ৬৫ হাজার ৫টি। টাকার অংকে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা।

অবাক করার বিষয় হলো, গত এক বছরে বিমা কোম্পানিগুলোতে নতুন পলিসি ইস্যু বেড়েছে মাত্র ৭ হাজার। ২০১৭ সালে পলিসির সংখ্য ছিল ১৮ লাখ ২৫ হাজার ৬০৯টি। ২০১৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৩২ হাজার ৫৩৭টিতে। অর্থাৎ বিমা কোম্পানিরগুলো নতুন করে পলিসি করতে আগ্রহী নয় বরং গ্রাহকদের অর্থ লুপাটের নেশায় নিমজ্জিত।

এদিকে বিমা কোম্পানির এই অবস্থানকে ‘অত্যন্ত হতাশাব্যাঞ্জক’ বলে মনে করে আইডিআরএ কর্তৃপক্ষ। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির এক প্রতিবেদেনে উল্লেখ করা হয়েছে, বেশিরভাগ পলিসিরই প্রথম বর্ষ প্রিমিয়াম দেওয়ার পর দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষে তামাদি হয়ে যাচ্ছে। প্রথম পলিসি নেওয়ার পর এজেন্টরা আর গ্রাহকদের কাছে যাচ্ছেন না। তারা প্রথম বর্ষের কমিশন নিয়েই নতুন পলিসি খুঁজছেন।

আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পলিসি হারিয়ে গেলেও কোম্পানির পক্ষ থেকে এজেন্টদের তদারকি করা হচ্ছে না। ফলে নির্দিষ্ট সময় পর পলিসিগুলো তামাদি হয়ে যাচ্ছে। তাতে বিমা কোম্পানির পকেটে যাচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা। এ অবস্থা থেকে উত্তোরণে গ্রাহকদের সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

আইডিআরএ’র প্রতিবেদন অনুযায়ী বিদায়ী বছরের তামাদি বিমার শীর্ষে রয়েছে প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডে। দ্বিতীয় স্থানে প্রাইম ইসলামী লাইফ, তৃতীয় স্থানে মেটলাইফ ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড। এরপর যথাক্রমে- হোমল্যান্ড লাইফ, রুপালী লাইফ, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ, পপুলার লাইফ, সন্ধানী লাইফ, পদ্মা ইসলামী লাইফ, সানফ্লাওয়ার, ডেল্টা লাইফ, প্রগতি লাইফ, মেঘনা লাইফ, সানলাইফ, জেনিথ ইসলামী লাইফ, ডায়মন্ড লাইফ, প্রটেক্টিভ ইসলামী লাইফ, বায়রা লাইফ, গোল্ডেন লাইফ, ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ, এনআরবি গ্লোবাল, মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ, যমুনা লাইফ, আলফা ইসলামী লাইফ, বেস্ট লাইফ, সোনালী লাইফ, স্বদেশ লাইফ, গার্ডিয়ান লাইফ এবং চ্যাটার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড।

সার্বিক বিষয়ে আইডিআরএ নির্বাহী পরিচালক খলিল আহেমেদ বার্তাটোয়েন্টফোর.কম-কে বলেন, ‘বিমার ওপর সাধারণ মানুষের অস্থা নেই। তাই কোম্পানির তামাদি পলিসি সংখ্যা বাড়ছে। বিমা সেক্টরকে আস্থায় ফেরাতে তামাদি পলিসির সংখ্যা কমিয়ে আনতে হবে। এটি নিয়ে কাজ করছি।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র