Barta24

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

সুশাসনসহ পুঁজিবাজারে প্রয়োজন আরও প্রণোদনা

সুশাসনসহ পুঁজিবাজারে প্রয়োজন আরও প্রণোদনা
ছবি: বার্তা২৪.কম
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য একগুচ্ছ প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। স্থিতিশীল বাজার গঠনে কালো টাকা বিনিয়োগের সুবিধা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাসহ আরও প্রণোদনা প্রয়োজন বলে মনে করেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

তারা বলছেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে কোম্পানির রিজার্ভের ওপর ১৫ শতাংশ কর নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রণোদনা ছাড়া বাকি সবগুলো প্রণোদনা পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচক। তবে পুঁজিবাজারকে আরও স্থিতিশীল ও শক্তিশালী করতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে বাজেটে আরও অন্তত পাঁচ প্রণোদনা প্রয়োজন।’

এ বিষয়ে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কে এ এম মাজেদুর রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘পুঁজিবাজার সম্প্রসারণের স্বার্থে আবাসন ও শিল্পখাতের মতই কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ রাখা দরকার। এছাড়াও এসএমই মার্কেটের লেনদেনের ওপর উৎসে কর অব্যাহতি, তালিকাভুক্ত-অতালিকাভুক্ত কোম্পানির করপোরেট কর ১০ শতাংশের পরিবর্তে ২০ শতাংশ করা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে স্টক এক্সচেঞ্জের ট্রেডিং প্লাটফর্মের মাধ্যমে ট্রেজারি বিল এবং বন্ডের লেনদেনের ওপর কর অব্যাহতির বিষয়টি সুস্পষ্টকরণ, স্টক এক্সচেঞ্জের ট্রেক হোল্ডারদের কাছ থেকে উৎসে কর সংগ্রহের হার কমানো এবং ডিমিউচুয়ালাইজেশন পরবর্তী স্টক এক্সচেঞ্জকে কর অব্যাহতি দেওয়া দরকার।’

ডিএসইর চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল হাশেম বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে যেসব প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়ন হলে পুঁজিবাজারের উন্নয়ন সম্ভব। তবে আরও কিছু প্রণোদনা দরকার।’

তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য যেসব প্রস্তাব রাখা হয়েছে, তাতে বাজারে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হবে এবং জাতীয় অর্থনীতি আরো গতিশীল হবে। এসব প্রস্তাবনার মাধ্যমে বেসরকারি খাত আরো শক্তিশালী এবং বিকশিত হয়ে দেশে বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি হবে। যা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আরো আকৃষ্ট করবে।’

দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ভারপ্রাপ্ত এমডি গোলাম ফারুক বলেন, ‘ফ্ল্যাট বা জমি কেনা এবং ইকোনমিক জোনের মতো পুঁজিবাজারেও বিনা প্রশ্নে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগে দেওয়া দরকার। পাচার রোধ ও বিনিয়োগের স্বার্থে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনা প্রশ্নে নির্দিষ্ট পরিমাণ কর দেওয়া সাপেক্ষে পুঁজিবাজারেও বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করছি।’

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির বিদ্যমান কর হার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হলে ভালো কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হবে। পুঁজিবাজারকে সমৃদ্ধ করবে। তাতে রাজস্ব আদায়ও বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানির আয় তিন বছর করমুক্ত রাখা হলে অতালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো তালিকাভুক্ত হতে উৎসাহিত হবে। এতে পুঁজিবাজারে গুণগত মানসম্পন্ন শেয়ারের যোগান বাড়বে যা বাজারে লেনদেন বৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা আনতে ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। স্টক এক্সচেঞ্জে নতুন প্রবর্তিত এসএমই (SME) বোর্ড বাস্তবায়ন, একটি মানসম্মত করপোরেট কাঠামো এবং রিপোর্টিংয়ের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ কর বাড়ানোর জন্য SME কোম্পানিগুলোকে তিন বছর শূন্য রাখার প্রস্তাব করছি।’

‘ঘোষিত বাজেটে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লভ্যাংশ আয়কে করমুক্ত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। যা আমাদের প্রস্তাবিত সীমা এক লাখ টাকায় উন্নীত করার জন্য আবেদন করব’, যোগ করেন তিনি।

এদিকে সুশাসন নিয়ে প্রস্তাবিত বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘একটি শক্তিশালী অর্থনীতির জন্য পুঁজিবাজার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমাদের দেশের পুঁজিবাজারে আমরা সুশাসন দেখতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আয়ে দ্বৈত কর পরিহার করা হবে। পাশাপাশি পুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সহযোগিতার উদ্দেশে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে ৮৫৬ কোটি টাকার আবর্তনশীল অনুদান অব্যাহত থাকবে।’

আপনার মতামত লিখুন :

৫ ট্রেকহোল্ডারদের বিষয়ে জানতে চেয়েছে কমিশন

৫ ট্রেকহোল্ডারদের বিষয়ে জানতে চেয়েছে কমিশন
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

 

নিয়ম ভঙ্গকরা ৫ ট্রেকহোল্ডারদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। তা আগামী ৫ দিনের মধ্যে ডিএসইকে জানাতে বলেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) বিএসইসির ৬৯৪ তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিএসইসির নির্বাহী পরিচারক সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস, ১৯৮৭ এর রুলস ৩(৪) ভঙ্গ করা ৫ সিকিউরিটিজ হাউজ হল- সিনহা সিকিউরিটিজ হাউজ, এমডি ফখরুল ইসলাম সিকিউরিটিজ হাউজ লিমিটেড, এ এন এফ ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড, কমার্স ব্যাংক সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট এবং পিএইচপি স্টকস অ্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেড।

সংবাদ বিজ্ঞাপ্তিতে বলা হয়, ৩০ জুন ২০১৯ সমাপ্ত সময়ের নেট ক্যাপিটাল ব্যালেন্স রিপোর্ট স্টক এক্সচেঞ্জে দাখিল না করে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস, ১৯৮৭ এর রুলস ৩(৪) ভঙ্গ করেছে এই ৫ ট্রেকহোল্ডার।

সিকিউরিটিজ সংক্রান্ত বিধি ভঙ্গের জন্য সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস, ১৯৮৭ এর রুলস ৩(৫) অনুযায়ী উক্ত ট্রেকহোল্ডারদের বিরুদ্ধে ডিএসই কি ব্যবস্থা গ্রহন করেছে তা আগামী ৫ দিনের মধ্যে কমিশনকে জানাতে বলা হয়েছে।

 

 

এক এনআইডিতে একাধিক বিও বন্ধের সময়সীমা ২১ অক্টোবর

এক এনআইডিতে একাধিক বিও বন্ধের সময়সীমা ২১ অক্টোবর
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের লোগো

একই জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল নম্বর এবং ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে খোলা একাধিক বিও হিসাব বন্ধের সময়সীমা আগামী ২১ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) বিএসইসির ৬৯৪তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিএসইসির নির্বাহী পরিচারক সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, একই জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল নম্বর এবং ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে খোলা বিভিন্ন বিও হিসাব বন্ধের জন্য ২০ জুন এক সার্কুলারের মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দেওয়া হয়। এই সার্কুলারের সময় ২১ জুলাই শেষ হয়েছে।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে এই সময়সীমা ২১ অক্টোর ২০১৯ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে কোন কোন সদস্য এখনও সংশ্লিষ্ট আদেশ পরিচালনে ব্যর্থ হয়েছে তা ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জানাতে বলেছে বিএসইসি।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র