Barta24

বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

৩ লাখ বিমা দাবি পূরণে জীবন বিমা কোম্পানিগুলোর গড়িমসি

৩ লাখ বিমা দাবি পূরণে জীবন বিমা কোম্পানিগুলোর গড়িমসি
ছবি: সংগৃহীত
মাহফুজুল ইসলাম
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

মৃত্যু ও মেয়াদোত্তীর্ণ বিমাসহ পলিসি হোল্ডারদের পাঁচ ধরনের ২ লাখ ৯৫ হাজার ৭২৯টি বিমা দাবি দিতে গড়িমসি করছে ৩২ জীবন বিমা কোম্পানি। টাকার অংকে যার পরিমাণ ৬৭২ কোটি ৪৭ লাখ ১০ হাজার টাকা।

কষ্টে উপার্জিত গ্রাহকদের এ টাকা ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের পর ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও দাবি পূরণে কোম্পানিগুলো গড়িমসি করছে। বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

আইডিআরএ’র পরিচালক (উপ-সচিব) আবুল কাশেম মো. ফজলুল হক বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘বিমা খাতের ইমেজ সঙ্কট থেকে উত্তরণে বছরব্যাপী সচেতনতামূলক কার্যক্রম, প্রচার-প্রচারণা, বিমা মেলা এবং বিমা দাবি পরিশোধের বিষয়ে একের পর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যারা বিমা দাবি পরিশোধে গড়িমসি করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রতিবেদনে দেখা যায়, উল্লিখিত সময়ে পাঁচ ধরনের বিমা দাবির মধ্যে প্রথমত, কোম্পানিগুলো গ্রাহকদের ১০ হাজার ৭৬২টি মৃত্যু বিমা দাবি পরিশোধে গড়িমসি করছে। যা টাকার অঙ্কে দাঁড়িয়েছে ৯৪ দশমিক ২৭ কোটি।

দ্বিতীয়ত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কোম্পানির শাখা অফিস থেকে প্রধান অফিসে দৌড়ঝাঁপ করে জুতাক্ষয় করেছেন অনেকে। কিন্তু ১ লাখ ৬০ হাজার ৭২৪টি বিমা দাবি পরিশোধ করেনি কোম্পানিগুলো। একই সময়ে গ্রাহকরা স্যারেন্ডার করার পর ৬৭৫টি বিমা দাবি পাননি কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে।

এছাড়া সার্ভাইবেল বেনিফিটি (এসবি) নামের ৮৮ হাজার ৩১টি বিমার দাবি এবং ৬ হাজার ১৯৪টি গোষ্ঠী ও স্বাস্থ্য বিমা দাবি পরিশোধ করেনি কোম্পানিগুলো। অপর দিকে আগের বছরের প্রান্তিকের জেরে থাকাসহ মোট পৌনে ৩ লাখ বিমা দাবি পরিশোধ করেনি কোম্পানিগুলো।

আইডিআরএ’র তথ্য মতে, ২০১৮ সালে জীবন বিমা কোম্পানিগুলোর মোট দাবির সংখ্যা ছিল ২৩ লাখ ৮৪ হাজার ৩৭৬টি। এর মধ্যে ২১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১৭টি বিমা দাবি পরিশোধ করা হয়েছে। যা টাকার অঙ্কে ৬ হাজার ৬০৬ কোটি ৯৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

এর আগের বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালে ২৬ লাখ ০৬ হাজার ৬৭২টির মধ্যে ২১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১৭টি দাবি বাবদ গ্রাহকদের ৬ হাজার ৬৬২ কোটি ৭৬ লাখ ৭ হাজার টাকার পরিশোধ করেছে। অর্থাৎ ২০১৭ সালেও ৪ লাখ ৬০ হাজার ৭৬৫টি বিমা দাবি পরিশোধন করনি কোম্পানিগুলো।

দাবি পরিশোধ না করার দিক দিয়ে শীর্ষে রয়েছে প্রোগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সরকারি বিমা কোম্পানি জীবন বিমা করপোরেশন।
তৃতীয় স্থানে রয়েছে গোল্ডেন লাইফ ইন্স্যুরেন্স। চতুর্থ স্থানে রয়েছে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড। আর পঞ্চম স্থানে রয়েছে মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড।

অপর দিকে, একই সময়ে বিমা দাবি পরিশোধ করেছে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি। একইভাবে ডেল্টা লাইফ ও প্রাইম ইসলামী লাইফ বিমা কোম্পানিও দাবি পরিশোধ করে যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে আইডিআরএ’র সদস্য মো. বোরহান উদ্দিন আহমেদ বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘বিমা খাতে সাধারণ মানুষের আস্থা কম। এ খাতের প্রতি সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা বাড়াতে বিমা দাবি পরিশোধের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিমা দাবি দিচ্ছে না- গ্রাহকদের এ ধরনের অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

বিমা দাবি পরিশোধে বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে উল্লেখ করে বোরহান উদ্দিন আরও বলেন, ‘সেলের নাম দেওয়া হয়েছে বিমা দাবি নিষ্পত্তি কমিটি। আইডিআরএ’র বর্তমান কমিটি ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে দায়িত্ব নেয়। ফলে বিমা কোম্পানিগুলো দাবি পরিশোধে আগ্রহী হচ্ছে।’

আপনার মতামত লিখুন :

৫ ট্রেকহোল্ডারদের বিষয়ে জানতে চেয়েছে কমিশন

৫ ট্রেকহোল্ডারদের বিষয়ে জানতে চেয়েছে কমিশন
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

 

নিয়ম ভঙ্গকরা ৫ ট্রেকহোল্ডারদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। তা আগামী ৫ দিনের মধ্যে ডিএসইকে জানাতে বলেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) বিএসইসির ৬৯৪ তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিএসইসির নির্বাহী পরিচারক সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস, ১৯৮৭ এর রুলস ৩(৪) ভঙ্গ করা ৫ সিকিউরিটিজ হাউজ হল- সিনহা সিকিউরিটিজ হাউজ, এমডি ফখরুল ইসলাম সিকিউরিটিজ হাউজ লিমিটেড, এ এন এফ ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড, কমার্স ব্যাংক সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট এবং পিএইচপি স্টকস অ্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেড।

সংবাদ বিজ্ঞাপ্তিতে বলা হয়, ৩০ জুন ২০১৯ সমাপ্ত সময়ের নেট ক্যাপিটাল ব্যালেন্স রিপোর্ট স্টক এক্সচেঞ্জে দাখিল না করে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস, ১৯৮৭ এর রুলস ৩(৪) ভঙ্গ করেছে এই ৫ ট্রেকহোল্ডার।

সিকিউরিটিজ সংক্রান্ত বিধি ভঙ্গের জন্য সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস, ১৯৮৭ এর রুলস ৩(৫) অনুযায়ী উক্ত ট্রেকহোল্ডারদের বিরুদ্ধে ডিএসই কি ব্যবস্থা গ্রহন করেছে তা আগামী ৫ দিনের মধ্যে কমিশনকে জানাতে বলা হয়েছে।

 

 

এক এনআইডিতে একাধিক বিও বন্ধের সময়সীমা ২১ অক্টোবর

এক এনআইডিতে একাধিক বিও বন্ধের সময়সীমা ২১ অক্টোবর
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের লোগো

একই জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল নম্বর এবং ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে খোলা একাধিক বিও হিসাব বন্ধের সময়সীমা আগামী ২১ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) বিএসইসির ৬৯৪তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিএসইসির নির্বাহী পরিচারক সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, একই জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল নম্বর এবং ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে খোলা বিভিন্ন বিও হিসাব বন্ধের জন্য ২০ জুন এক সার্কুলারের মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দেওয়া হয়। এই সার্কুলারের সময় ২১ জুলাই শেষ হয়েছে।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে এই সময়সীমা ২১ অক্টোর ২০১৯ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে কোন কোন সদস্য এখনও সংশ্লিষ্ট আদেশ পরিচালনে ব্যর্থ হয়েছে তা ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জানাতে বলেছে বিএসইসি।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র