Barta24

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

৩ লাখ গ্রাহকের বিমা দাবি পূরণ করছে না কোম্পানিগুলো

৩ লাখ গ্রাহকের বিমা দাবি পূরণ করছে না কোম্পানিগুলো
বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ), ছবি: সংগৃহীত
মাহফুজুল ইসলাম
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

বিদায়ী বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালে দেশের বিমা খাতের কোম্পানিগুলোর গ্রস প্রিমিয়াম বাবদ আয় হয়েছে ১২ হাজার ৪১৬ কোটি ৪৭ লাখ ৬ হাজার টাকা। এর আগের বছর একই সময়ে আয় হয়েছিল ১১ হাজার ১৭৯ কোটি ৯৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা। অর্থাৎ বিমা কোম্পানিগুলোর বিদায়ী বছরে আয় হয়েছে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা।

কিন্তু তারপরও লাইফ ও নন-লাইফ মিলিয়ে ৭৯টি কোম্পানি বিদায়ী বছরে গ্রাহকের ৩ লাখ ৮ হাজার ৯৬৭টি বিমা দাবির ২ হাজার ৩৮২ কোটি ৪৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা পরিশোধে গড়িমসি করছে।

মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পাশাপাশি মৃত্যু, স্বাস্থ্য বিমা এবং সম্পদ বিমার দাবি গ্রাহকদের দিচ্ছে না কোম্পানিগুলো। গ্রাহকরা কোম্পানির কাছে দিনের পর দিন ধরনা দেওয়ার পরও বিমা দাবির অর্থ না পেয়ে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কাছে আবেদন করেছে। আইডিআরএ বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

আইডিআরএ’র পরিচালক (উপ-সচিব) আবুল কাশেম মো. ফজলুল হক বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘বিমা খাতের ইমেজ সঙ্কট থেকে উত্তরণে বছরব্যাপী সচেতনতামূলক কার্যক্রম, প্রচার-প্রচারণা, বিমা মেলা এবং বিমা দাবি পরিশোধের বিষয়ে একের পর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যারা বিমা দাবি পরিশোধে গড়িমসি করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আইডিআরএ’র তথ্য মতে, ২০১৮ সালে ৩২টি জীবন বিমা কোম্পানি এবং ৪৭টি সাধারণ বিমা কোম্পানির কাছে গ্রাহকদের দাবি ছিল ২৪ লাখ ২১ হাজার ৯৩৭টি। যা টাকার অংকের মোট বিমা দাবির পরিমাণ ১০ হাজার ১৬৫ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

তার মধ্যে ২১ লাখ ৩২ হাজার ৯৬০টি বিমা দাবির ৭ হাজার ৭৮৩ কোটি ৩১ লাখ ৮ হাজার টাকা পরিশোধ করেছে। অর্থাৎ ৩ লাখ ৮ হাজার ৯৬৭টি দাবির ২ হাজার ৩৮২ কোটি ৪৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করছে না কোম্পানিগুলো। যা মোট শতাংশের হিসেবে বিমা দাবির ২৪ শতাংশ।

দুই প্রকার বিমা কোম্পানির মধ্যে জীবন বিমা খাতের কোম্পানিগুলো ২ লাখ ৯৫ হাজার ৭২৯টি বিমার ৬৭২ কোটি ৪৭ লাখ ১০ হাজার টাকার দাবি পরিশোধ করেনি। যা জীবন বিমা কোম্পানির মোট ১০ শতাংশ।

অন্যদিকে সাধারণ বিমা কোম্পানিগুলো ১৩ হাজার ২৩৮টি বিমা দাবি পরিশোধ করেনি। যা টাকার অংকে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭০৭ কোটি ৩৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা। আর শতাংশের হিসেবে ৬০ শতাংশ।

দেশের বিমা খাতে সরকারি-বেসরকারি, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত-অতালিকাভুক্ত মোট ৭৯টি কোম্পানি রয়েছে। এর মধ্যে জীবন বিমা কোম্পানির সংখ্যা ৩২টি আর বাকি সব কয়টি কোম্পানি হচ্ছে সাধারণ বিমা কোম্পানি। এই বিমা কোম্পানিগুলোতে সারাদেশে ৭ হাজার ৮০৬টি শাখা রয়েছে। তাতে কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে ৩৯ হাজার ৯৫৪ জন। আর এজেন্ট রয়েছে ৪ লাখ ৩ হাজার ৬৭৮ জন।

বিদায়ী বছরে বিমা কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগ হয়েছে ৩৭ হাজার ২২৮ কোটি ৫৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এর আগের বিনিয়োগ হয়েছে ৩৬ হাজার ৫৩ কোটি ৭৫ লাখ ৩ হাজার।

ফলে সম্পদের পরিমাণও তিন হাজার কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার ৪২৭ কোটি ৪৭ লাখ ৬০ হাজার টাকায়। এর আগের বছর সম্পদের পরিমাণ ছিল ৪৭ হাজার ৭৮৩ কোটি ৬৩ লাখ ১০ হাজার টাকা। সম্পদ ও মুনাফা বাড়ায় বিমা কোম্পানিগুলো সরকারকে ২০১৮ সালে ভ্যাট ও ট্যাক্স পরিশোধ করেছে ১ হাজার ৫৬৫ কোটি ৬ লাখ টাকা।

সার্বিক বিষয়ে আইডিআরএ’র সদস্য মো. বোরহান উদ্দিন আহমেদ বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘বিমা খাতে সাধারণ মানুষের আস্থা কম। এ খাতের প্রতি সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা বাড়াতে বিমা দাবি পরিশোধের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিমা দাবি দিচ্ছে না- গ্রাহকদের এ ধরনের অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

বিমা দাবি পরিশোধে বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে উল্লেখ করে বোরহান উদ্দিন আরও বলেন, ‘সেলের নাম দেওয়া হয়েছে বিমা দাবি নিষ্পত্তি কমিটি। আইডিআরএ’র বর্তমান কমিটি ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে দায়িত্ব নেয়। ফলে বিমা কোম্পানিগুলো দাবি পরিশোধে আগ্রহী হচ্ছে।’

আপনার মতামত লিখুন :

৫ ট্রেকহোল্ডারদের বিষয়ে জানতে চেয়েছে কমিশন

৫ ট্রেকহোল্ডারদের বিষয়ে জানতে চেয়েছে কমিশন
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

 

নিয়ম ভঙ্গকরা ৫ ট্রেকহোল্ডারদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। তা আগামী ৫ দিনের মধ্যে ডিএসইকে জানাতে বলেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) বিএসইসির ৬৯৪ তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিএসইসির নির্বাহী পরিচারক সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস, ১৯৮৭ এর রুলস ৩(৪) ভঙ্গ করা ৫ সিকিউরিটিজ হাউজ হল- সিনহা সিকিউরিটিজ হাউজ, এমডি ফখরুল ইসলাম সিকিউরিটিজ হাউজ লিমিটেড, এ এন এফ ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড, কমার্স ব্যাংক সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট এবং পিএইচপি স্টকস অ্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেড।

সংবাদ বিজ্ঞাপ্তিতে বলা হয়, ৩০ জুন ২০১৯ সমাপ্ত সময়ের নেট ক্যাপিটাল ব্যালেন্স রিপোর্ট স্টক এক্সচেঞ্জে দাখিল না করে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস, ১৯৮৭ এর রুলস ৩(৪) ভঙ্গ করেছে এই ৫ ট্রেকহোল্ডার।

সিকিউরিটিজ সংক্রান্ত বিধি ভঙ্গের জন্য সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস, ১৯৮৭ এর রুলস ৩(৫) অনুযায়ী উক্ত ট্রেকহোল্ডারদের বিরুদ্ধে ডিএসই কি ব্যবস্থা গ্রহন করেছে তা আগামী ৫ দিনের মধ্যে কমিশনকে জানাতে বলা হয়েছে।

 

 

এক এনআইডিতে একাধিক বিও বন্ধের সময়সীমা ২১ অক্টোবর

এক এনআইডিতে একাধিক বিও বন্ধের সময়সীমা ২১ অক্টোবর
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের লোগো

একই জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল নম্বর এবং ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে খোলা একাধিক বিও হিসাব বন্ধের সময়সীমা আগামী ২১ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) বিএসইসির ৬৯৪তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিএসইসির নির্বাহী পরিচারক সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, একই জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল নম্বর এবং ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে খোলা বিভিন্ন বিও হিসাব বন্ধের জন্য ২০ জুন এক সার্কুলারের মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দেওয়া হয়। এই সার্কুলারের সময় ২১ জুলাই শেষ হয়েছে।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে এই সময়সীমা ২১ অক্টোর ২০১৯ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে কোন কোন সদস্য এখনও সংশ্লিষ্ট আদেশ পরিচালনে ব্যর্থ হয়েছে তা ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জানাতে বলেছে বিএসইসি।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র