পিপলস লিজিংয়ের অবসায়ন: আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

  • Font increase
  • Font Decrease

বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডকে অবসায়ন (লিকুইডেশন) করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১০ জুলাই) বিকেলে বাংলাদেশে ব্যাংকের কসফারেন্স কক্ষে গণমাধ্যমকর্মীদের এই তথ্য জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম। এসময় নির্বাহী পরিচালক মো. শাহ আলম উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে অবসায়ন করা হবে। প্রতিষ্ঠানটির আমানতের পরিমাণ ২ হাজার ৩৬ কোটি টাকা। সম্পদের পরিমাণ ৩ হাজার ২৪৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ সম্পদের চাইতে আমানতের পরিমাণ বেশি।

তিনি জানান, আমরা আমানতকারীদের অর্থ ফিরিয়ে দেব। কাজেই কোনো আমানতকারীর দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়ার কারণ নেই।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, ২০১৪ সালে তদন্ত করে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য আমরা জানতে পারি। যেখানে পরিচালনা বোর্ডের অনেক সদস্যের অনিয়ম পাওয়া যায়। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক চিঠি দিয়ে পরিচালনা বোর্ড ভেঙে নতুন বোর্ড গঠন করে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয়।

‘এত কিছুর পরও প্রতিষ্ঠানটির উন্নতি করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে আমানতকারীদের স্বার্থরক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি অবসায়নের জন্য আমরা অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেই। গত ২৬ জুন মন্ত্রণালয় অবসায়ন করতে অনুমতি দেয়। পরে অবসায়নের জন্য আদালতে যাওয়ার উদ্যোগ নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।’

‘অবসায়ন হলেও আমানতকারীদের আতঙ্কের কিছু নেই’ উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, আমাদের কাছে যে হিসাব রয়েছে, এতে প্রতিষ্ঠানটির আমানতের তুলনায় সম্পদের পরিমাণ বেশি রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমানে আমানত দুই হাজার ৩৬ কোটি টাকা। এর বিপরীতে সম্পদ রয়েছে তিন হাজার ২৩৯ কোটি টাকা।'

পিপলস লিজিংয়ের মতো অন্যান্য যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সংকটে রয়েছে তাদেরও অবসায়ন করা হবে কি-না, জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শাহ আলম জানান, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব আমাদের অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকের। এজন্য যা যা করা দরকার আইন অনুযায়ী তা-ই করা হবে। আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমরা আমানতকারী ও শেয়ারহোল্ডারদের আশ্বস্ত করতে চাই যে, তারা যেন কোনো বিপদে না পড়েন সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক সজাগ রয়েছে।

আমানতকারীরা কতদিনের মধ্যে অর্থ ফেরত পাবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পাওয়ার পর থেকে আমরা কাজ শুরু করেছি। ইতোমধ্যে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত আমরা এ কার্যক্রম সম্পন্ন করব। তবে যেহেতু আমরা আদালতে যাচ্ছি, এটা এখন আদালতের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা আমানতকারীদের অর্থ যত দ্রুত সম্ভব দেওয়ার চেষ্টা করব।

আমানতকারীদের শতভাগ অর্থ ফেরত দেওয়া হবে কি-না, জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়, এটাও সিদ্ধান্ত নেবেন আদালত।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে এই প্রথম আর্থিক কোনো প্রতিষ্ঠানের অবসায়ন হলো। দেশে বর্তমানে ৩২টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ৫৭টি ব্যাংক রয়েছে। বুধবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বন্ধের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই অনেক আমানতকারী পিপলস লিজিংয়ের অফিসে আসছেন। কিন্তু তথ্য জানানোর মত কোনো কর্মকর্তা অফিসে নেই।

আরও পড়ুন: পিপলস লিজিংয়ের অবসায়ন

আপনার মতামত লিখুন :