সাধারণ বিমা করপোরেশনে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের বিমা

মাহফুজুল ইসলাম, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রথমবারের মত সাধারণ বিমা করপোরেশনের সঙ্গে ঝুঁকি কমাতে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর ‘ইন অরবিট’ (কক্ষ পথ) বিমা করছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এই বিমার প্রিমিয়াম ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৮১ হাজার ৩১৮ দশমিক ১৯ ইউরো, যা বাংলাদেশি দেশি টাকায় ৬ কোটি ৪৭ লাখ ২৫ হাজার ২২৮ দশমিক ৫ টাকা। সাধারণ বিমা করপোরেশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এ বছরের ১১ জুলাই থেকে ২০২০ সালের ১০ জুলাই পর্যন্ত এক বছরের জন্য ফ্রান্সের কোম্পানি থ্যালাস অ্যালেনিয়াকে বাদ দিয়ে দেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে করা হচ্ছে। এতে দেশের সম্পদ দেশেই থাকছে বলে মনে করেন বিমা সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র মতে, ১০ জুলাই ২০১৯ তারিখ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের বিমা চুক্তি শেষ। আর ১১ জুলাই থেকে সেই বিমা সাধারণ বিমা করপোরেশনের সঙ্গে চুক্তি বন্ধ হয়েছে। আগামী এক বছরের জন্য বিটিআরসিকে বিমা বাবদ ৬ লাখ ৮১ হাজার ৩১৮ দশমিক ১৯ ইউরো। এর মধ্যে শুধু প্রিমিয়াম বাবদ দিতে হবে ৫ লাখ ৯২ হাজার ৪৫০ দশমিক ৬০ ইউরো। যা টাকার অংকে ৫ কোটি ৬২ লাখ ৮২ হাজার ৮০৭ টাকা। তার সঙ্গে ভ্যাট দিতে হবে ৮৮ হাজার ৮৯৭ দশমিক ৫৯ ইউরো, যা টাকার অংকে ৮৪ লাখ ৪২ হাজার ৪১১ টাকা।

সার্বিক বিষয়ে সাধারণ বিমা করপোরেশনের ডেপুাটি জেনারেল ম্যানেজার (পুনঃবিমা) জাকির হোসেন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, অনেক চেষ্টার পর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের বিমা সাধারণ বিমা করপোরেশের সঙ্গে হচ্ছে। দেশের সম্পদ দেশে রাখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাতে দেশের বিমার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়বে। সাধারণ বিমা করপোরেশেনে দেশি বিমা কোম্পানির পাশাপাশি বিদেশি কোম্পানিগুলো বিমাগুলো বিমা করতে উৎসাহিত হবে।

তিনি বলেন, বিটিআরসি দায়িত্বে থাকা পরিচালক রিয়াজ-উল-কাদেরও আমাদের অনেক সহযোগিতা করেছেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে প্রথম স্যাটেলাইট নিয়ে কাজ শুরু হয় ২০০৭ সালে। সে সময় মহাকাশের ১০২ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে কক্ষপথ বরাদ্দ চেয়ে জাতিসংঘের অধীন সংস্থা আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নে (আইটিইউ) আবেদন করে বাংলাদেশ। কিন্তু বাংলাদেশের ওই আবেদনের ওপর ২০টি দেশ আপত্তি জানায়।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নির্মাণ চুক্তি: ২০১৫ সালের ১১ নভেম্বর ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেসের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ।

অর্থায়ন: বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট খরচ হচ্ছে ২ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে দিচ্ছে বহুজাতিক ব্যাংক এইচএসবিসি।

নির্মাণ: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটটি নির্মাণ করেছে ‘থ্যালাস অ্যালেনিয়া’ নামের প্রতিষ্ঠানটি। স্যাটেলাইটের কাঠামো তৈরি, উৎক্ষেপণ, ভূমি ও মহাকাশের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, ভূ-স্তরে দুটি স্টেশন পরিচালনার দায়িত্ব এ প্রতিষ্ঠানটির।

কেনা হয় কক্ষপথ: স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ এবং তা কক্ষপথে রাখার জন্য রাশিয়ার ইন্টারস্পুটনিকের কাছ থেকে কক্ষপথ (অরবিটাল স্লট) কেনা হয়। মহাকাশে এই কক্ষপথের অবস্থান ১১৯ দশমিক ১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে সম্পাদিত চুক্তির ভিত্তিতে প্রায় ২১৯ কোটি টাকায় ১৫ বছরের জন্য এই কক্ষপথ কেনা হয়।

জিও-স্টেশনারি স্যাটেলাইট: ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ কৃত্রিম উপগ্রহটি একটি জিও-স্টেশনারি স্যাটেলাইট বা ভূস্থির উপগ্রহ। এতে মোট ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে। এর মধ্যে ২০টি ট্রান্সপন্ডার বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য রাখা হবে। বাকি ২০টি বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির জন্য।

বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট কোম্পানি: মহাকাশে উৎক্ষেপণের পর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ পরিচালনার জন্য ‘বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড’ নামে একটি কোম্পানি গঠন করা হয়েছে।

উৎক্ষেপণকারী প্রতিষ্ঠান ও উৎক্ষেপণকারী রকেট: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নির্মাণ করে এ বছরের ৩০ মার্চ একটি বিশেষ উড়োজাহাজে উৎক্ষেপণকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছে দেয় থ্যালাম অ্যালেনিয়া স্পেস। মার্কিন রকেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স এই স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ করবে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরালে কেনেডি স্পেস সেন্টারে স্পেসএক্সের লঞ্চ প্যাড থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নিয়ে উড়বে ‘ফ্যালকন নাইন’ রকেট।

বাংলাদেশে গ্রাউন্ড স্টেশন: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের পর এর নিয়ন্ত্রণ নিতে গাজীপুরের তেলীপাড়া ও রাঙামাটির বেতবুনিয়ায় গ্রাউন্ড স্টেশন প্রস্তুত করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :