রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের বিমাও এসবিসির সঙ্গে

মাহফুজুল ইসলাম, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
ভবিষ্যতের রূপপুর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

ভবিষ্যতের রূপপুর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

  • Font increase
  • Font Decrease

সম্পদের ঝুঁকি কমাতে সাধারণ বিমা করপোরেশনের (এসবিসি) সঙ্গে বিমা করেছে রূপপুর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট (আরএনপিপি) কর্তৃপক্ষ। এটি দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিমা। সাধারণ বিমা করপোরেশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, আরএনপিপি প্রকল্প-১ ও ২ এর নামে মোট ১ হাজার ২৬৫ কোটি ইউএস ডলারের বিমা করা হয়েছে। তার জন্য চার কিস্তিতে প্রিমিয়াম বাবদ ৪ কোটি ৮৭ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ ইউএস ডলার সমপরিমাণ অর্থ দিতে হবে সাধারণ বিমাকে।

অর্থাৎ ৮৪ দশমিক ৫০ টাকা প্রতি ডলারে মূল্য হলে ১১ জুলাই ২০১৯ সালের ডলারের মূল্য অনুসারে এসবিসিকে দিতে হবে ৪১১ কোটি ৬২ লাখ ৯০ হাজার ৭৫০ টাকা। আর তাতে ১ হাজার ২৬৫ কোটি ইউএস ডলার অর্থাৎ ১ লাখ ৬ হাজার ৮৯২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পাবে আরএনপিপি কর্তৃপক্ষ।

দু’টি ইউনিটের বিমার মধ্যে প্রথম ইউনিটের বিমা মেয়াদ শুরু হয়েছে ২০১৭ সালের আগস্ট মাস থেকে। থাকবে ২০২৩ সালের অক্টোবর পর্যন্ত। এরপরও আরো ২৪ মাস কোনো ধরনের সমস্যা হলে তার ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

একইভাবে ইউনিট-২ এর বিমার মেয়াদ শুরু হয়েছে ২০১৭ সালের ১ অগাস্ট থেকে, চলবে ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর পর্যন্ত। এরপরও আরও ২৪ মাস কোনো সমস্যা হলে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

সার্বিক বিষয়ে এসবিসির ডেপুাটি জেনারেল ম্যানেজার (পুনঃবিমা) জাকির হোসেন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, বিদেশিরা তো মনে করেছিল বাংলাদেশের এতো বড় বিমা করার সক্ষমতা নেই। সাধারণ বিমা করপোরেশন বিমাটি করতে পারায় একদিকে দেশের সম্পদ দেশেই রইল। অন্যদিকে বিদেশিরাও জানল যে, বাংলাদেশের বিমা করার সক্ষমতা আছে। তাতে দেশের মানুষের মধ্যে এসবিসির প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়বে। এটা আমাদরে বড় অর্জন।

পাওয়ারে সেক্টরের কোম্পানিগুলোর মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। তারাও দেশি কোম্পানির সঙ্গে বিমা করতে উৎসাহিত হবে বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক কেন্দ্রের মূল নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ২০১৭ সালেন ৩০ নভেম্বর। প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশের একক বৃহত্তম প্রকল্প এটি এবং কেন্দ্রটির মূল পর্যায়ের উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ পারমাণবিক জগতে প্রথম পা রাখবে। পাবনায় পদ্মা নদীর পাড়ে রাশিয়ান রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন নেতৃত্ব দিচ্ছে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ। দুই ইউনিটের বর্তমান বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদন হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

রূপপুর প্রকল্পের পেছনের তথ্য:

১৯৬১: পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রথম উদ্যোগ গ্রহণ।

১৯৬২-১৯৬৮: পাবনা জেলার ঈশ্বরদী থানার পদ্মা নদী তীরবর্তী রূপপুরকে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্থান হিসাবে নির্বাচন এবং প্রকল্পের জন্য ২৬০ একর ও আবাসিক এলাকার জন্য ৩২ একর জমি অধিগ্রহণ।

১৯৬৯-১৯৭০: ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বাতিল করে দেয়।

১৯৭৭-১৯৮৬: একনেক কর্তৃক পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র (১২৫ মেগাওয়াট) নির্মাণ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প অনুমোদন, কিন্তু বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন বাতিল।

১৯৮৭-১৯৮৮: জার্মানি ও সুইজারল্যান্ডের দু’টি কোম্পানির দ্বিতীয়বার ফিজিবিলিটি স্টাডির আলোকে ৩০০-৫০০ মেগা-ওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের সুপারিশ।

১৯৯৭-২০০০: বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান ড. এম.এ ওয়াজেদ মিয়া কর্তৃক ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ।

২০০৯: পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য প্রাথমিক কার্যাবলী ও পারমাণবিক অবকাঠামো উন্নয়নের কার্যক্রম শুরু। এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও রাশান ফেডারেশনের স্টেট অ্যাটমিক এনার্জি করপোরেশনের (রোসাটোম) মধ্যে 'পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার' বিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর।

২০১০: বাংলাদেশ সরকার এবং রাশান ফেডারেশন সরকারের মধ্যে ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি স্বাক্ষর। নভেম্বরে জাতীয় সংসদে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য সিদ্ধান্ত প্রস্তাব গ্রহণ।

২০১১: বাংলাদেশ এবং রাশান ফেডারেশন সরকারের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন সংক্রান্ত আন্তঃরাষ্ট্রীয় সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর।

২০১৩: অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রথম পর্যায় কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন।

২০১৬: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের মূল পর্যায়ের কার্যাবলী সম্পাদনের জন্য বাংলাদেশ সরকার এবং রাশান ফেডারেশন সরকারের মধ্যে স্টেট ক্রেডিট চুক্তি স্বাক্ষর।

আরও পড়ুন: সাধারণ বিমা করপোরেশনে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের বিমা

আপনার মতামত লিখুন :