Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

এসবিসির পাওনা পরিশোধে ৪০ বিমা কোম্পানির গড়িমসি

এসবিসির পাওনা পরিশোধে ৪০ বিমা কোম্পানির গড়িমসি
সাধারণ বিমা করপোরেশন
মাহফুজুল ইসলাম
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

সরকারি প্রতিষ্ঠান সাধারণ বিমা করপোরেশনের (এসবিসি) পাওনা পরিশোধে গড়িমসি করছে ৪০টি নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি। বিমা কোম্পানিগুলোর কাছে ৫৭২ কোটি ৫৯ লাখ ৬৬ হাজার ৫০১ টাকা পাওনা রয়েছে এসবিসির।

পুনঃবিমার প্রিমিয়ামের এই টাকা ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে পরিশোধের কথা ছিল। কিন্তু চলতি বছরের ১৫ জুলাইয়ের মধ্যেও তা পরিশোধ করেনি বিমা কোম্পানিগুলো।

পাওনা টাকা আদায়ে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কাছে অভিযোগ করেছে এসবিসি কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তাতেও খুব বেশি ফল পায়নি সরকারি প্রতিষ্ঠানটি।

নিময় অনুসারে ঝুঁকি কমাতে কোম্পানিগুলোর বিমার ওপর শতভাগ পুনঃবিমা করার বিধান রয়েছে। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ সাধারণ বিমা করপোরেশনে করা বাধ্যতামূলক। বাকি ৫০ শতাংশ পুনঃবিমা কোম্পানি ইচ্ছা করলে বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে করতে পারে।

পুনঃবিমার এ আইন অনুসারে ৪০টি বিমা কোম্পানির কাছে ৫৭২ কোটি ৫৯ লাখ ৬৬ হাজার ৫০১ টাকা পাবে এসবিসি কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বিমা কোম্পানিগুলো দীর্ঘদিন ধরে টাকা পরিশোধ করছে না। এতে এসবিসির পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিমাখাতও। বিমা কোম্পানির প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন গ্রাহকরা।

এসবিসি’র ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) জাকির হোসেন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, নিয়ম অনুসারে কোম্পানিগুলো এসবিসিকে পুনঃবিমার প্রিমিয়াম বাবদ এই টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কোম্পানিগুলো টাকা দিতে গড়িমসি করছে।

তিনি বলেন, আমরা পাওনা টাকা দ্রুত আদায়ের লক্ষ্যে চেষ্টা করছি। পাশাপাশি বিমা কোম্পানিগুলোর ক্লেইমগুলো পরিশোধ করছি। যাতে বিমা কোম্পানিগুলো দ্রুত প্রিমিয়াম পরিশোধ করে। আইডিআরএ’র মনিটরিং টিমকে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত তথ্য অনুসারে, এসবিসি’র সবচেয়ে বেশি বকেয়া রয়েছে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের কাছে ৫৬ কোটি ৫০ লাখ ৬ হাজার ৫৯ টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা প্রগতি ইন্স্যুরেন্সের কাছে ৪৭ কোটি ৮৬ লাখ ৩৮ হাজার ৭৫৯ টাকা, তৃতীয় অবস্থানে থাকা কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্সের কাছে ৪২ কোটি ১২ হাজার ৩১ হাজার ৬৪৭ টাকা পাওনা রয়েছে।

এছাড়াও চতুর্থ স্থানে থাকা ইসলামিক ইসন্স্যুরেন্সের কাছে ৩৩ কোটি ৭১ লাখ ৭৬ হাজার ৮৩টাকা ও পঞ্চম স্থানে থাকা ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্সের কাছে ৩৩ কোটি ৫৭ লাখ ২৩ হাজার ৯৬৪ টাকা পাওনা রয়েছে।

ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের কাছে ৩৩ কোটি ৭৬ লাখ ১৭ হাজার ৮৩ টাকা, জনতার কাছে ৩৩ কোটি ৪২ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকা, পিপলস ইন্স্যুরেন্সের ৩২ কোটি ৭ লাখ ৩১ হাজার ৮৭৩ টাকা, কর্ণফুলীর কাছে ২৬ কোটি ৬৬ লাখ ১২ হাজার ৩৫৪ টাকা, মেঘনার কাছে ২৬ কোটি ৯৮ লাখ ৬২ হাজার ৭৮০ টাকা, রূপালী ইন্স্যুরেন্সের কাছে ২৪ কোটি ৫৯ লাখ ৮১ হাজার ৪০৬ টাকা, ইস্ট ল্যান্ডের কাছে ১৮ কোটি ৫৫ লাখ ৩৬ হাজার ১২৯ টাকা, এশিয়ার কাছে ১৮ কোটি ৪১ লাখ ৫৭ হাজার ৬২৪ টাকা, ইসলামী কমার্শিয়ালের কাছে ১৭ কোটি ৩৩ লাখ ৬৫ হাজার ১১ টাকা, বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কাছে ১৬ কোটি ৩৮ লাখ ৯২ হাজার টাকা, গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের কাছে ১৫ কোটি ৫৮ লাখ ২ হাজার ৪৩৭ টাকা পাওনা রয়েছে এসবিসির।

এছাড়াও এশিয়া প্যাসিফিকের কাছে ১৪ কোটি ৫৬ লাখ ২২ হাজার ১৯১ টাকা, এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সের কাছে ১৪ কোটি ৫৩ লাখ ৩৮ হাজার ৯৯১ টাকা, সোনার বাংলার কাছে ২ কোটি ৭৮ লাখ২০ হাজার ৯৭ টাকা, রিপাবলিকের কাছে ১৩ কোটি ২০ লাখ ৮৫ হাজার ২৫০ টাকা, মার্কেন্টাইলের কাছে ১৪ কোটি ৫৪ লাখ ৮৯ হাজার ৩৮০ টাকা, সিটি’র কাছে ৮ কোটি ৬৪ লাখ ৩ হাজার ৯০৮ টাকা, প্রভাতীর কাছে ১০ কোটি ৮৯ লাখ ১৭ হাজার ৭৬২ টাকা, দেশ ইন্স্যুরেন্সের কাছে ৮ কোটি ৮৪ লাখ ৯ হাজার টাকা ও রিলায়েন্সের কাছে ১২ কোটি ৯৪ লাখ ৩১ হাজার ৭৬৫ টাকা পাবে এসবিসি।

১০ কোটি টাকার নিচে পাওনা কোম্পানিগুলোর মধ্যে অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স, বিডি করপোরেশন, বিডি ন্যাশনাল, সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স, ক্রিস্টালের, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স, ইস্টার্ন, ফেডারেল,গ্লোবাল, নিটলের, নর্দান, প্যারামাউন্ট, ফনিক্সের, প্রাইম, তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, ইউনাইটেড, ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স, স্ট্যান্ডার্ড, সাউথ এশিয়ার, সিকদার ইন্স্যুরেন্স, সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্স, পূরবী ইন্স্যুরেন্স এবং সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের পাওনা রয়েছে এসবিসি'র।

নাম না প্রকাশের শর্তে একাধিক কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, সাধারণ বিমা করপোরেশনের কাছে বিমা দাবি পাওনা রয়েছে। পাওনাগুলো সমন্বয় করা হলে খুব বেশি টাকা বাকি থাকবে না।

আপনার মতামত লিখুন :

প্রাইম ব্যাংক-উত্তরা মোটরস-এর সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

প্রাইম ব্যাংক-উত্তরা মোটরস-এর সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, ছবি: সংগৃহীত

মোটরসাইকেল ফাইন্যান্সিং ও কার লোনে ক্রেতাদের বিশেষ সুবিধা দিতে উত্তরা মোটরস লিমিটেডের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে প্রাইম ব্যাংক।

সম্প্রতি, প্রাইম ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এ স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।

প্রাইম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী রাহেল আহমেদ এবং উত্তরা মোটরস লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউর রহমানের উপস্থিতিতে প্রাইম ব্যাংকের কনজিউমার ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান এএনএম মাহফুজ এবং উত্তরা মোটরস-এর পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) এবিএম হুমায়ুন কবির, এফসিএমএ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। এ সময় উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এই চুক্তির ফলে প্রাইম ব্যাংক ও উত্তরা মোটরস যৌথভাবে মোটরসাইকেল ফাইন্যান্সিং ও কার লোনে ক্রেতাদের বিশেষ সেবা ও সুবিধা প্রদান করবে। উত্তরা মোটরস বাংলাদেশে ভারতের বাজাজ অটো লিমিটেড-এর একমাত্র পরিবেশক।

৭ দিনের মধ্যে ৪ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংককে পরিকল্পনা জমা দেওয়ার নির্দেশ

৭ দিনের মধ্যে ৪ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংককে পরিকল্পনা জমা দেওয়ার নির্দেশ
চার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর সভা/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ব্যাংকের উচ্চ পর্যায়ে নতুন নেতৃত্ব এসেছে। আগামী দিনে নতুন নেতৃত্ব কিভাবে ব্যাংক পরিচালনা করবে, তার একটি পরিকল্পনা পরবর্তী সাতদিনের মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

রোববার (২৫ আগস্ট) দুপুরে শেরে ই বাংলা নগরস্থ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে চার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সোনালী, রূপালী, জনতা ও অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে আলোচনা সভায় এ নির্দেশ দেন অর্থমন্ত্রী। সভা শেষে বিকালে সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

মুস্তফা কামাল বলেন, ‘দুই সপ্তাহ পর তাদের দেওয়া কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আবার বসে বিস্তারিত আলোচনা করব। যদিও সংখ্যা চারটি কিন্তু ব্যাংকিং সেক্টরে তাদের অবস্থান বড়। যেমন আমানত খাতে প্রায় ২৫ শতাংশ এ চারটি ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘চার ব্যাংকের কাছে সরকারের চাহিদা হলো খেলাপি ঋণ বাড়াতে পারবে না। ন্যূনতম ১৫ শতাংশ মুনাফা করতে হবে। তারা যে ঋণ দেবে, তার জামানতগুলো যেন এনক্যাশেবল হয় দায়িত্ব নিয়ে সেই কাজটি করবে।’

তিনি জানান, এবার বাজেটে ব্যাংকগুলোর জন্য বরাদ্দ আছে। তবে সামনে আর বরাদ্দ রাখা হবে না। জনগণকে সেবা দিয়ে আয় করেই ব্যাংকগুলোকে চলতে হবে।

ব্যাংকের তারল্য সংকট নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এক্সচেঞ্জ খাতে আজ পর্যন্ত আমাদের তারল্য প্রায় ৯২ হাজার কোটি টাকা।’

খেলাপি ঋণের বিষয়ে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘নন-পারফর্মিং লোন কমার কোনো সুযোগ নেই। কারণ নন-পারফর্মিং লোনের জন্য যে এক্সিট প্লানটা দিয়েছিলাম সেটি এখনো কার্যকর করতে পারিনি। কিছুটা জটিলতা আছে।’

আগামীতে রফতানি কমার শঙ্কার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনীতিতে যদি কোনো সংকট আসে, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় আপার এন্ডগুলো। মিড ও লোয়ার এন্ড ততটা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। আমাদের অর্থনীতিকে মিড ও লোয়ার এন্ডে দেখি। এজন্য এখানে ক্ষতি হওয়ার কারণ নেই। আমাদের পুঁজি বাজারেও বাইরের কোনো পুঁজি নেই। সুতরাং আমাদের ক্ষতি হওয়ার শঙ্কা নেই।’

সভায় উপস্থিত ছিলেন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম, ইআরডি সচিব মনোয়ার আহমেদ, অর্থ-সচিব আবদুর রউফ তালুকদার, সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জিয়াউল হাসান সিদ্দিকী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আতাউর রহমান প্রধান, জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান জামালউদ্দিন আহমেদ, রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ, অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ শামস উল ইসলাম প্রমুখ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র