২০১৮-১৯ অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতি ৫৬ হাজার কোটি টাকা

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর চেয়ারম্যান

সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর চেয়ারম্যান

  • Font increase
  • Font Decrease

 

২০১৮-১৯ অর্থবছরের সংশোধিত রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫৬ হাজার ১৭১ কোটি টাকা কম আদায় হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া।

তিনি বলেন, বিদায়ী বছরে সরকারের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ২ লাখ ৮০ হাজার ৬৩ কোটি টাকা। এনবিআর এ সময়ে আহরণ করেছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৮৯২ কোটি টাকা।

বুধবার (৩১ জুলাই) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এনবিআর'র সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। এটা ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট পরবর্তী প্রথম সংবাদ সম্মেলন। এ সময় এনবিআর’র সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে না পারায় ১১ বছর পরে আবারও রাজস্ব আহরণের প্রবৃদ্ধিতে পিছিয়ে পড়েছে এনবিআর। রাজস্ব আহরণ কমার কারণ হিসেবে সংস্থাটির চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেছেন, চলতি অর্থবছরে বড় বড় প্রকল্প চালু, বিভিন্ন সেক্টরে ভ্যাট অব্যাহতি, বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে শুল্ক অব্যাহতি ও আয়করের ক্ষেত্রেও সরকার নির্ধারিত বিভিন্ন খাতে অব্যাহতি দেওয়ায় রাজস্ব প্রবৃদ্ধি কমেছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে এনবিআর থেকে সরকারের রাজস্ব আহরণ হয়েছিলো ৫২ হাজার ৫২৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। সেই সময় প্রবৃদ্ধি ছিল ১০ দশমিক ৭ শতাংশ, একইভাবে ২০০৯-১০ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল ১৮ দশমিক ১ শতাংশ, ২০১০-১১ অর্থবছরে ২৮ শতাংশ, ২০১১-১২ অর্থবছরে ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল।

এছাড়াও পরবর্তী বছরগুলোতে অর্থাৎ ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ, এরপরের বছরে ১০ দশমিক ৭ শতাংশ, তারপর যথাক্রমে ১২ দশমিক ৩ শতাংশ, ১৩ দশমিক ২ শতাংশ, ১১ দশমিক ৭ শতাংশ, ১৭.৯ শতাংশ। সর্বশেষ অর্থাৎ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রাজস্ব আহরণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ১০ দশমিক ৭ শতাংশ। যা আগের বছরের হিসেবের চেয়ে ৭ শতাংশ কম।

রাজস্ব আদায়ের ব্যাখ্যায় এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, গত অর্থবছরের ভ্যাটের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু খাতে যেমন গ্যাস, ইন্টারনেট, রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস শিল্প, সোলার মডিউল, ট্রাভেল এজেন্ট, বেবি লোশন, হাওয়াই চপ্পল ও কম্পিউটার যন্ত্রাংশে প্রায় ১৫ হাজার ১৯২ কোটি ৬ লাখ টাকার ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

কাস্টমসের ক্ষেত্রে মূলধনী যন্ত্রপাতি, ব্যাগেজ রুলস, মোবাইল ম্যানুফ্যাকচারিং, পোল্ট্রি রিলিফ গুডস, শিপ, বেজা ও কূটনৈতিক মিশনে প্রায় ১ হাজার ৫০২ কোটি টাকার আমদানি শুল্ক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, নতুন ভ্যাট আইন বাজেট পাশ হয়েছে। জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। নতুন আইন বাস্তবায়ন হওয়ার ফলে ভ্যাট আদায় বাড়বে। এজন্য ইএফডি ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। ইতোমধ্যে ইএফডি ক্রয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগামী ২ বছরের মধ্যে প্রায় ১০ লাখ ইএফডি বসানো হবে। এতে করে রাজস্ব আহরণ বাড়বে। একই সাথে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধে তৎপর হয়েছে এনবিআর। এজন্য ফাঁকিবাজ বন্ড প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। অন্যদিকে ভ্যাট ও শুল্ক ফাঁকি রোধে বিশেষ অভিযান অব্যাহত আছে।

বাজেট বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এবার ১ কোটি নতুন করদাতা তৈরির নির্দেশনা দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে চলতি অর্থবছরে এনবিআর ৬ লাখ ৭২ হাজার নতুন করদাতাকে করনেটে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে। এজন্য ২১৩টি জরিপ টিম গঠন করা হয়েছে। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ৪ লাখ ৭৬ হাজার ৪৬৫টি জরিপ সম্পন্ন হয়েছে। প্রাপ্ত জরিপের ভিত্তিতে ৩ লাখ ৩১ হাজার ২৭২ টিআইএন বরাদ্দ করে আয়কর নির্ধারণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে জরিপ কার্যক্রমের মাধ্যমে কর মামলা নিষ্পত্তি করে প্রায় ২৮ কোটি ৩৩ লাখ ৭ হাজার ১০৪ টাকা কর আহরণ করা হয়েছে।

এনবিআর চেয়ারম্যান আরও বলেন, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ এনবিআর আহরণ করে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকারের মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ৪ লাখ ৪২ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬শ’ কোটি টাকা এনবিআরকে আহরণ করতে হবে। অর্থাৎ গত অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা বেশি। এনবিআর আশা করছে সবাইকে সাথে নিয়ে রাজস্ব আহরণে এনবিআর এগিয়ে যাবে।

আপনার মতামত লিখুন :