Barta24

রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

শেষ সময়ে বেশি দামেই মসলা কিনছেন ক্রেতারা

শেষ সময়ে বেশি দামেই মসলা কিনছেন ক্রেতারা
কোরবানির ঈদে বেড়েছে মসলার বিক্রি/ছবি: সুমন শেখ
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

আর মাত্র একদিন পর সারা দেশে উদযাপিত হবে কোরবানির ঈদ। হাতে সময় অল্প হওয়ায় রাজধানীর পশুর হাটের সঙ্গে মসলা বাজারেও বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়।

বাজারে ক্রেতাদের এমন ভিড় দেখে প্রতিবারের ন্যায় এবারও বাড়তি দামেই মসলা বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। এদিকে কোরবানি ঈদে মসলার চাহিদা বেশি থাকায় বাড়তি দামে বাধ্য হয়ে ক্রেতাদের মসলা কিনতে হচ্ছে।

শুক্রবার (৯ আগস্ট) রাজধানীর কারওয়ান বাজারের মসলা বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।

বিভিন্ন প্রকার মসলার খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী,  প্রতিকেজি আস্ত শুকনা মরিচ ১৬০ টাকা, আস্ত হলুদ ১৬০ টাকা, গুঁড়া হলুদ ১৭০ টাকা, আস্ত ধনিয়া ১১০ টাকা, ধনিয়া গুঁড়া ১৪০ টাকা, আস্ত জিরা ৩২০ টাকা, জিরার গুঁড়া ৪৪০ টাকা ও তেজপাতা ১২০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এসব মসলার প্রতিটিতে ঈদ উপলক্ষে ২০-৩০ টাকা বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে প্রতিকেজি দারুচিনি ৪২০ টাকা যা আগে ছিল ৩৫০ টাকা, এলাচ ২৮০০ টাকা যা আগে ছিল ২৪০০ টাকা, লবঙ্গ ১ হাজার টাকা, সাদা গোলমরিচ ৮০০ টাকা, কালো গোলমরিচ ৬০০ টাকা, জায়ফল ৬০০ টাকা, জয়ত্রী ২৪৫০ টাকা ও আলুবোখারা ৩৫০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া  কাঠবাদাম ৮৬০ টাকা, কিসমিস ৩৫০ টাকা ও চিনা বাদাম ১১৫ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

এ বিষয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবার কোরবানির ঈদের সময় ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে মসলার দাম বাড়িয়ে দেন। কোনো ধরণের তদারকি করা হয়নি বলে ব্যবসায়ীরা এভাবে দাম বাড়তে পারচ্ছে বলে ক্রেতারা অভিযোগ করেন।

কাওরান বাজারের কোরবানির ঈদ উপলক্ষে মসলা কিনতে আসা ক্রেতা মো.সুরুজ আলী বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, সকল প্রকার মসলার দাম সপ্তাহের ব্যবধানে বাড়িয়ে দিয়েছেন। কেজিপ্রতি মসলার দাম বেড়েছে ৩০-৪০ টাকা আবার কোনো ক্ষেত্রে ৩০০-৪০০ টাকা পর্যন্ত। কিন্তু এই বিষয়গুলো দেখার জন্য কেউ নেই। তাই আমাদের বাধ্য হয়ে কিনতে হচ্ছে।

তবে বরাবরের মতো মসলা ব্যবসায়ীরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, কোরবানি ঈদের সময় মসলার যোগান অনুযায়ী চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। তাই তাদের বেশি দাম দিয়ে কিনতে হয় বলে বিক্রিও হয় বেশি দামে।

এ বিষয়ে কারওয়ান বাজারের মসলা বিক্রেতা মো.  স্বপন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, প্রতি কেজি হলুদ, মরিচ ও দারুচিনি আমাদের বেশি দামে কিনে নিয়ে আসতে হয়েছে। এখন বেশি দামে না বিক্রি করলে আমার বাঁচব কিভাবে। আড়তদাররা দাম না কমালে আমরা কিভাবে কমাব।

মসলার খুচরা বিক্রেতা মো.সালাম বলেন, আমরা ছোট ব্যবসায়ী। দাম বাড়ানোর সিন্ডিকেট হয় বড় পর্যায়ে। বড় বড় ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ালে আমাদেরও বাড়াতে হয়। 

এ বিষয়ে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর সভাপতি গোলাম রহমান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, 'কোরবানির ঈদকে ঘিরে মসলার বাজারে যে সিন্ডিকেট হয়, তাতেই দাম বাড়ে। সরকারের উচিৎ এসব সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে দামের বিষয়ে নজর রাখা। কিন্তু দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করা হচ্ছে না বলে প্রতি কোরবানির ঈদের আগে মসলার দাম বাড়ানো হয়।

আপনার মতামত লিখুন :

পুঁজিবাজারে সূচক বাড়ছে

পুঁজিবাজারে সূচক বাড়ছে
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

টানা ৯ দিন ঈদের ছুটির পর দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) শুরু হয়েছে লেনদেন। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার উভয় পুঁজিবাজারে সূচক বেড়ে চলছে এদিনের লেনদেন কার্যক্রম। এদিন সোয়া ১১টা পর্যন্ত ডিএসই’র প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৭ পয়েন্ট এবং সিএসইর প্রধান সূচক সিএসসিএক্স বেড়েছে ২৬ পয়েন্ট।

এছাড়াও একই সময়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৬৭ কোটি ৮৬ লাখ টাকা এবং সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩ কোটি ২ লাখ টাকা।

ডিএসই ও সিএসই’র ওয়েবসাইট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

ডিএসই

এদিন ডিএসইতে লেনদেনের শুরুতে সূচক বাড়ে। লেনদেনের শুরু হয় সাড়ে ১০টায়, শুরুতেই সূচক কমে যায়। প্রথম ৫ মিনিটেই ডিএসইএক্স সূচক বাড়ে ১৬ পয়েন্ট। এরপর থেকে সূচক বাড়ার প্রবণতা কমতে থাকে। বেলা ১০টা ৪০ মিনিটে সূচক বাড়ে ১৪ পয়েন্ট। বেলা ১০টা ৪৫ মিনিটে সূচক ১৭ পয়েন্ট বাড়ে। বেলা ১০টা ৫০ মিনিটে সূচক ২০ পয়েন্ট বাড়ে। বেলা ১০টা ৫৫ মিনিটে সূচক ১১ পয়েন্ট বাড়ে। বেলা ১১টায় সূচক ৫ বাড়ে এবং বেলা সোয়া ১১টায় সূচক ৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ২০৮ পয়েন্টে।

অন্যদিকে, ডিএসই-৩০ সূচক প্রায় এক পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে এক হাজার ৮৩৭ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহসূচক ২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে এক হাজার ১৯৪ পয়েন্টে।

এদিন বেলা সোয়া ১১টা পর্যন্ত ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৬৭ কোটি ৮৬ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। একই সময়ে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৭৬টির, কমেছে ৮১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫১টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।

এদিন বেলা সোয়া ১১টা পর্যন্ত ডিএসইতে দাম বৃদ্ধি পাওয়া শীর্ষ দশ কোম্পানির তালিকায় আছে- কেপিসিএল, জেএমআই সিরিঞ্জ, ইউনাইটেড পাওয়ার, মুন্নু সিরামিকস, কপারটেক, বঙ্গজ, মুন্নু স্টাফলারস, গ্লোবাল ইনস্যুরেন্স, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন এবং লিবরা ইনফিউশন।

সিএসই

অন্যদিকে, একই সময়ে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সাধারণ সূচক (সিএসইএক্স) ২৬ পয়েন্ট বেড়ে ৯ হাজার ৬৮৭ পয়েন্টে, সিএসই-৩০ সূচক ২২ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ১ পয়েন্টে এবং সিএএসপিআই সূচক ৪৪ পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ৯৪১ পয়েন্টে অবস্থান করে।

এদিন বেলা সোয়া ১১টা পর্যন্ত সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩ কোটি ২ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট।

একই সময়ে দাম বাড়ার ভিত্তিতের সিএসই’র শীর্ষ কোম্পানিগুলো হলো- বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স, পিএফ ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড, এসইএমএলএফবিএসএলজিএফ, এসইএমএল এলইসিএমএফ, এসইএমএল আইবিবিএল এসএফ, এসিআই ফর্মুলা, সিটি জেনারেল ইনস্যুরেন্স, প্যারামাউন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ, হাক্কানি পাল্প এবং মোজাফফর হোসেন স্পিনিং।

আরও পড়ুন: বিমা কোম্পানির শেয়ারে নজর বিনিয়োগকারীদের

কিছু কিছু স্থানে চামড়া নষ্ট হয়েছে: শিল্প সচিব

কিছু কিছু স্থানে চামড়া নষ্ট হয়েছে: শিল্প সচিব
বক্তব্য রাখছেন শিল্প সচিব মো.আব্দুল হালিম, ছবি: সংগৃহীত

চামড়া যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করার ফলে কিছুকিছু স্থানে মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা কাঁচা চামড়া নষ্ট করে ফেলেছেন বলে স্বীকার করেছেন শিল্প সচিব মো.আব্দুল হালিম। তবে এটি সমগ্র দেশের চিত্র নয় বলে মন্তব্য করেছেন।

তিনি বলেন, ‘অন্যান্য স্থানের চামড়া যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিভাগীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।’

শনিবার (১৭ আগস্ট) সাভারে চামড়া শিল্পনগরীতে চামড়া শিল্প সংক্রান্ত বিভিন্ন অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন তিনি।

শিল্প সচিব বলেন, 'লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের মানদণ্ডে মোট ১ হাজার ৩৬২টি পয়েন্ট রয়েছে। এরমধ্যে ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ও ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্টের জন্য ২০০ পয়েন্ট। লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের সার্টিফিকেট অর্জনে অবশিষ্ট পয়েন্টগুলোর প্রতি মনোযোগী হবার আহ্বান জানান শিল্প সচিব।’

আব্দুল হালিম বলেছেন, ‘সাভার ট্যানারি শিল্পনগরীর সিইটিপি সম্পূর্ণ চালু রয়েছে। কোরবানির সময় ট্যানারিগুলো সারা বছরের সরবরাহের অর্ধেক চামড়া সংগ্রহ করে। তাই আগামী দু'-তিন মাস এই শিল্প নগরী ট্যানারিগুলো পূর্ণ গতিতে চলবে। পিক সিজনে উৎপাদিত চামড়ার আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার স্বার্থে সব ট্যানারিকে একসঙ্গে কাজ না করে নিজেদের মধ্যে সময় নির্ধারণ করে কাজ করার আহ্বান জানান শিল্প সচিব।'

সভায় বিসিকের চেয়ারম্যান মোশতাক হাসান, প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী জিতেন্দ্রনাথ পাল, বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল জলিল, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্লাহ, বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ দিলজাহান ভূঁইয়া এবং সাভারের উপজেলা নির্বাহী অফিসার পারভেজুর রহমান, সাভারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ এফ এম সায়েদ উপস্থিত ছিলেন।

সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় সাভার ট্যানারি শিল্প নগরী ভালোভাবে কাজ করছে। শিল্প নগরীর সিইটিপি'র চারটি ইউনিটই যথাযথভাবে কাজ করছে। শিগগিরি লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের মানদণ্ড অর্জন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। চামড়ার গুণগত মান ভালো থাকলে সরকার নির্ধারিত মূল্যে ট্যানারিগুলো চামড়া ক্রয় করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বুয়েটের অধ্যাপক আব্দুল জলিল বলেন, ‘কিছু কিছু ট্যানারি ক্রোম বর্জ্য আলাদাভাবে না ফেলায় ক্রোমের সাথে অন্যান্য জিনিস চলে আসছে।’

তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতি মেট্রিকটন চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে ট্যানারিগুলো ২৫ হাজার লিটার পানি ব্যবহার করতে পারবে। বর্তমানে সাভার ট্যানারি শিল্প নগরীর ট্যানারিগুলো একই পরিমাণ চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে ৪০ হাজার লিটার পানি ব্যবহার করছে। এতে করে সিইটিপি'র ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। ডিপ টিউবওয়েলে মিটার লাগানো হলে পানির অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র