মন্ত্রীর তিন মাসের আল্টিমেটাম ছয় মাসেও প্রক্রিয়াধীন

শাহজাহান মোল্লা, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
রাজউকের সিলগালা করা দেওয়া বিজেএমইএ ভবন

রাজউকের সিলগালা করা দেওয়া বিজেএমইএ ভবন

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীর ফুসফুস বলা হয় হাতিরঝিলকে। আর সেই হাতিরঝিলের বিষফোঁড়া বিজিএমইএ ভবন। নানা আলোচনা সমালোচনার পর অবশেষে সেই বিষফোঁড়া ভাঙার প্রাথমিক কাজ শুরু হয় গত এপ্রিল মাসে। প্রথমে ভবনের সকল অফিস অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর ভাঙার প্রক্রিয়া কী হবে কারা ভাঙবে, কে খরচ বহন করবে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বিজিএমইএ ভবন ভাঙার সার্বিক তথ্য তুলে ধরতে গত ১৭ এপ্রিল সচিবালয়ে নিজ দফতরে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ. ম রেজাউল করিম বলেছিলেন, আমাদের দেশেই এমন প্রযুক্তি আছে এক ঘণ্টার ভেতরে বিজিএমইএ ভবনটি ভেঙে স্তুপ আকারে জায়গাতে বসে পড়বে।”

ওই দিন মন্ত্রী আরও বলেছিলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যববহার করে বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে কার্যাদেশ দেওয়া হবে এবং তিন মাসের মধ্যে সরানো হবে ভবনের ধ্বংসস্তুপ। ভবন ভাঙতে উপযুক্ত দরদাতা প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করতে একটি বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়। ওই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ২৪ এপ্রিল ছিল দরপত্র জমাদানের শেষ সময় আর ২৫ এপ্রিল ঠিকাদার চূড়ান্ত হওয়ার কথা।

মন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী তিন মাস পার হয়ে ছয় মাস চলছে কিন্তু এখনো উপযুক্ত প্রতিষ্ঠানই চূড়ান্ত হয়নি। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৫টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দেয়। তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে সালাম অ্যান্ড ব্রাদার্স। এছাড়া দরপত্র জমা দেয় ফোরস্টার এন্টারপ্রাইজ, পি অ্যান্ড এস এন্টারপ্রাইজ, চন্দ্রপুরী এন্টারপ্রাইজ এবং সামিয়া এন্টারপ্রাইজ। এদের মধ্যে সালাম অ্যান্ড ব্রাদার্স সর্বোচ্চ ১ কোটি ৭০ লাখ টাকার সর্বোচ্চ দরদাতা।

তবে কে কাজ পাবে এখনো চূড়ান্ত হয়নি। মন্ত্রণালয় থেকে দরদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাঙার পদ্ধতি জানতে চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তাদের পদ্ধতি দেখে তবেই চূড়ান্ত হবে কোন প্রতিষ্ঠান বিজিএমইএ ভবন ভাঙার দায়িত্ব পাচ্ছে।

এবিষয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, “আমাদের সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠান সালাম অ্যান্ড ব্রাদার্স। কিন্তু চূড়ান্ত হয়নি কে কাজ পাবে, কারণ আমরা দরদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাঙার পদ্ধতি জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছি। তাদের কাছ থেকে সব জানার পর নির্দেশনা দেওয়া হবে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

২০১১ সালের ৩ এপ্রিল হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ বিজিএমইএ ভবনকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন।। চলতি বছর ১২ এপ্রিলের মধ্যে বিজিএমইএ ভবন ভাঙার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরবর্তিতে ১৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় ভবনটির বিভিন্ন কার্যালয়ে সিলগালা করে দেয় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-রাজউক।

প্রসঙ্গত, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে পাশ কাটিয়ে বেগুনবাড়ি খালের একাংশ ভরাট করে ২০০৬ সালে নির্মাণ করা হয় ১৫ তলা বিশিষ্ট বিজিএমই ভবন। যা উন্মুক্ত স্থান ও প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন-২০০০ এর পরিপন্থি।

আপনার মতামত লিখুন :