১৭ দফা ঘোষণার মধ্য দিয়ে শেষ হলো ব্লু-ইকোনমি সম্মেলন

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
সম্মেলন শেষে সংবাদ সম্মেলন করা হয়, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

সম্মেলন শেষে সংবাদ সম্মেলন করা হয়, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য অটুট রেখে সম্পদ আহরণের প্রতিজ্ঞা নিয়ে ১৭ দফা ঘোষণার মধ্য দিয়ে শেষ হলো ব্লু-ইকোনমি বা সমুদ্র অর্থনীতি বিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে তৃতীয় ইন্ডিয়ান ওসেন রিম অ্যাসোসিয়েশন (আইওআরএ) ব্লু-ইকোনমি মিনিস্টারিয়েল কনফারেন্সের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেনের সভাপতিত্বে মন্ত্রী পর্যায়ের এ সম্মেলন
শেষ হয় বিকেলে।

এরপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের সচিব রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) এম খোরশেদ আলম ও আইওআরএর সেক্রেটারি জেনারেল রাষ্ট্রদূত ড. নমভোয় এন নকওয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ১৭ দফা ঘোষণার কথা জানান।

ভারত মহাসাগরীয় দেশগুলোর প্রতি একে অপরের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে ড. নমভোয় এন নকওয়ে বলেন, ‘১৯৯৭ সালে নেলসন ম্যান্ডেলার হাতে গড়া ইন্ডিয়ান ওসেন রিম অ্যাসোসিয়েশনকে আবার জোরদার করার সময় এসেছে। এটিকে একটি সক্রিয় সংস্থায় রূপান্তর করতে হবে, যেটি ব্যবসার সুযোগ উন্মুক্ত করবে। ২২ সদস্যের রাষ্ট্রের মধ্যে শুল্কমুক্ত বাণিজ্যের ব্যবস্থা করতে হবে।’

বিশ্বায়ন বিরোধী উদ্যোগগুলোতে প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। নিজেদের অর্থনীতির বিকাশ ঘটাতে পারে এমন সহযোগিতার গুরুত্বের দিকে নজর রাখতে বিভিন্ন ধারণা ভাগাভাগি করে নেওয়া এবং মতবিনিময় করা দরকার বলেও মনে করেন তিনি।

কীভাবে পরিষেবা, পণ্য, বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তির প্রচার করতে হবে সে সম্পর্কে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালে এসব দেশের পণ্য ও পরিষেবার দ্বি-মুখী বাণিজ্য মাত্র ৪.৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। তবে এটি বিশ্ব বাণিজ্যের মাত্র ২.৫ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব করে। এর মধ্যে তিনটি দেশের ৮০ শতাংশ আধিপত্য রয়েছে। এতে ভারসাম্য আনতে হবে।’

অনেকের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও নারী বিষয়ক মন্ত্রী মেরিস পেইন, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভাদ জারিফ, শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী তিলক মারাপানা, সিসিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেরি ফর, কেনিয়ার কৃষি ও মৎস্যমন্ত্রী মাওয়াংগী কিউনজুরি, মরিশাসের সমুদ্র অর্থনীতি বিষয়ক মন্ত্রী প্রেমদূত কুঞ্জ, মাদাগাস্কারের কৃষিমন্ত্রী রানা রিভেলো ফানোমেজানসোয়া-লুসিয়ান, মালদ্বীপের মেরিন রিসোর্স অ্যান্ড এগ্রিকালচার মিনিস্টার হাসান রশিদ, সাউথ আফ্রিকার পরিবেশ, বন ও মৎস্যমন্ত্রী মাখোতসু মাগদিলিন-সাথিউ, সোমালিয়ার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আব্দুল কাদির আহমেদ খায়ের আবদি, থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা (ডেপুটি মিনিস্টার) পর্নপিমল কাঞ্চানালাক, কমোরসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাউফ মোহাম্মেদ আল আমিন এতে অংশ নেন।

এ সম্মেলনে আইওআরএর ২২টি সদস্য রাষ্ট্র এবং নয়টি ডায়ালগ পার্টনারসহ মোট ৩১টি রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা যোগ দিয়েছেন। সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের সাতজন পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ১২ জন মন্ত্রী অংশ নেন।

আইওআরএ সদস্য দেশগুলো হলো অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, কোমোরোস, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, কেনিয়া, মাদাগাস্কার, মালয়েশিয়া, মরিশাস, মোজাম্বিক, ওমান, সিসিলি, সিঙ্গাপুর, সোমালিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, তানজানিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন।

আপনার মতামত লিখুন :